Al-Hijr
আল-হিজর: 39
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
قَالَ رَبِّ بِمَآ أَغْوَيْتَنِى لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
English Translations
[Iblees] said, "My Lord, because You have put me in error, I will surely make [disobedience] attractive to them [i.e., mankind] on earth, and I will mislead them all
[Iblis (Satan)] said: "O my Lord! Because you misled me, I shall indeed adorn the path of error for them (mankind) on the earth, and I shall mislead them all.
He said, “My Lord, since You made me go astray, I swear that I shall beautify for them (evils) on the earth, and shall lead all of them astray,
Iblis said: "My Lord! In the manner You led me to error, I will make things on earth seem attractive to them and lead all of them to error,
He said: My Lord! Because Thou hast sent me astray, I verily shall adorn the path of error for them in the earth, and shall mislead them every one,
(Iblis) said: "O my Lord! because Thou hast put me in the wrong, I will make (wrong) fair-seeming to them on the earth, and I will put them all in the wrong,-
বাংলা অনুবাদ
সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আপনি আমাকে ভ্রান্তপথে ঠেলে দিলেন, কাজেই আমিও পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকাজকে অবশ্য অবশ্যই সুশোভিত করে দেখাব আর তাদের সবাইকে অবশ্য অবশ্যই বিভ্রান্ত করব।
সে বলল, ‘হে আমার রব, যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই যমীনে আমি তাদের জন্য (পাপকে) শোভিত করব এবং নিশ্চয় তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করব’।
সে বললঃ হে আমার রাব্ব! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করলেন তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপ কাজকে শোভনীয় করে তুলব এবং আমি তাদের সকলকে বিপথগামী করব।
সে বলল, ‘হে আমার রব! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করলেন সে জন্য অবশ্যই আমি যমীনে মানুষের কাছে পাপকাজকে শোভন করে তুলব এবং অবশ্যই আমি তাদের সবাইকে বিপথগামী করব,
সে বলল: ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে জন্য আমাকে বিপথগামী করেছেন সেজন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকর্মকে অবশ্যই শোভন করে তুলব এবং আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করব,
৩৯. ইবলিস বললো: হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আমাকে আপনি পথভ্রষ্ট বলে সাব্যস্ত করেছেন সেহেতু আমি দুনিয়াতে তাদের সামনে গুনাহগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবো। আর আমি তাদের সবাইকে সঠিক পথ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করবো।
তাফসীর
৩৯-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা ইবলীসের অবাধ্যতা ও হঠকারিতার খবর দিতে গিয়ে। বলছেন যে, সে শপথ করে বলেঃ “হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আপনি আমাকে বিপথগামী করলেন সে হেতু আমি পৃথিবীতে বনি আদমের নিকট আপনার বিরোধিতা ও অবাধ্যতামূলক কাজকে শোভনীয় করে তুলবো এবং তাদেরকে উৎসাহিত করে আপনার বিরুদ্ধাচরণে জড়িয়ে ফেলবো। সকলকেই পথ ভষ্ট করতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। তবে হ্যা যারা আপনার খাটি ও একনিষ্ট বান্দা তাদের উপর আমার কোন হাত থাকবে না। যেমন অন্য এক জায়গায় মহান আল্লাহ ইবলীসের উক্তি উদ্ধৃত করেনঃ “বলুন, তাকে (আদম, আঃ কে) যে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করলেন, কেন?
কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তা হলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তার বংশধরদেরকে কর্তৃত্বাধীন করে ফেলবো।” উত্তরে আল্লাহ তাআলা তাকে ধমকের সুরে বলেনঃ “এটাই আমার নিকট পৌছার সরল পথ। অর্থাৎ তোমাদের সকলকে আমারই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর আমি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মের বিনিময় প্রদান করবো। ভাল হলে ভাল বিনিময় হবে এবং মন্দ হলে মন্দ বিনিময় হবে। যেমন আল্লাহ তাআলার উক্তি রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।” (৮৯:১৪)।(আরবি) শব্দটি একটি কিরআতে (আরবি) ও রয়েছে। যেমন অন্য একটি আয়াতে আছেঃ (আরবি) (৪৩:১৪) তখন এর অর্থ হবে বুলন্দ বা উচ্চ।
কিন্তু প্রথম কিরআতটিই প্রসিদ্ধতর।ঘোষিত হচ্ছেঃ ‘বিভ্রান্তদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ছাড়া আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকবে না। এটা হচ্ছে ‘ইসতিসনা মুনকাতা। ইয়াযীদ ইবনু কুসাইত (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবীদের মসজিদ তাঁদের গ্রামের বাইরে থাকতো যখন তারা তাঁদের প্রতিপালকের নিকট থেকে কোন বিশেষ বিষয় জানতে চাইতেন তখন সেখানে গিয়ে তাঁরা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারণকৃত নামায আদায় করতেন। অতঃপর প্রার্থনা জানাতেন। একদিন একজন নবী তাঁর মসজিদে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় আল্লাহর শত্রু অর্থাৎ ইবলীস তাঁর ও তাঁর কিবলার মাঝে বসে পড়ে।
তখন ঐ নবী তিন বার বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।” তখন আল্লাহর শত্রু নবীকে বলেঃ “কি করে আপনি আমার (অনিষ্ট) থেকে মুক্তি পেয়ে থাকেন। সেই খবর আমাকে দিন।” নবী (আঃ) তখন তাকে বলেনঃ “তুমি বরং আমাকে খবর দাও কিভাবে তুমি বণী আদমের উপর জয়যুক্ত হয়ে থাকো।” শেষ পর্যন্ত একে অপরকে সঠিক খবর বলে দেয়ার চুক্তি হয়ে যায়। নবী (আঃ) তাকে বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “নিশ্চয় বিভ্রান্তদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ছাড়া আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন কর্তত্ব থাকবে না।” তখন আল্লাহর দুশমন (ইবলীস) বলেঃ “এটা তো আমি আপনার জন্মেরও পূর্ব হতে জানি।” তার এ কথা শুনে নবী (আঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ “যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তবে তুমি আল্লাহর শরণাপন্ন হবে, তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আল্লাহর শপথ! তোমার আগমনের আভাস পাওয়া মাত্রই আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকি।” আল্লাহর শত্রু তখন বলেঃ “আপনি সত্য বলেছেন। এর দ্বারাই আপনি আমার (কুমন্ত্রণা) হতে। মুক্তি পেয়ে থাকেন।” অতঃপর নবী (আঃ) তাকে বলেনঃ “এবার কিভাবে তুমি বনী আদমের উপর জয়যুক্ত হয়ে থাকো। সেই খবর আমাকে প্রদান। করো।” সে বলেঃ “আমি ক্রোধ ও কুপ্রবৃত্তির সময় তাকে পাকড়াও করে থাকি।” (এটা ইবনু জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই তোমার অনুসারীদের সবারই নির্ধারিত স্থান হবে জাহান্নাম। যেমন কুরআন কারীমে এ সম্পর্কে রয়েছেঃ “দলসমূহের কেউ এটাকে অমান্য করলে তার নির্ধারিত স্থান হবে জাহান্নাম।”এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “ওর (জাহান্নামের) সাতটি দরজা রয়েছে।
নিজ নিজ প্রত্যেক দরজার জন্যে পৃথক পৃথক দল আছে। প্রত্যেক দরজা দিয়ে গমনকারী ইবলীসী দল নির্ধারিত রয়েছে নিজ নিজ আমল অনুযায়ী তাদের জন্যে দরজা বন্টন করা আছে।হযরত আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ) তাঁর এক ভাষণে বলেনঃ “জাহান্নামের দরজাগুলি এইভাবে রয়েছে অর্থাৎ একের উপর একটি। ঐ গুলি রয়েছে সাতটি। একটির পর একটি করে সাতটি দরজা পূর্ণ হয়ে যাবে।” হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, সাতটি স্তর রয়েছে। ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) সাতটি দরজার নিম্নরূপ নাম বলেছেনঃ (১) জাহান্নাম, (২) লাযা, (৩) হুতামাহ (৪) সাঈর, (৫) সাকার, (৬) জাহীম এবং (৭) হাবীয়াহ। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
কাতাদা (রঃ) বলেন, এগুলি হবে আমল হিসেবে মনযিল। যেমন একটি দরজা ইয়াহূদীদের, একটি খৃস্টানদের, একটি সাবেঈদের, একটি মাজুসদের, একটি মুশরিকদের, একটি কাফিরদের, একটি মুনাফিকদের এবং একটি একত্ববাদীদের। কিন্তু একত্ববাদীদের মুক্তি লাভের আশা রয়েছে। আর বাকী সব নিরাশ হয়ে যাবে।হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে। ওগুলির মধ্যে একটি দরজা ঐ লোকদের জন্যে যারা আমার উম্মতের বিরুদ্ধে তরবারী ধারণ করেছে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ “আগুন জাহান্নামবাসীদের কারো কারো হাঁটু পর্যন্ত ধরবে, কারো ধরবে কোমর পর্যন্ত এবং কারো ধরবে কাঁধ পর্যন্ত।
মোট কথা, এ সব তাদের আমল অনুপাতে হবে।
সে বলল, ‘হে আমার রব! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করলেন সে জন্য অবশ্যই আমি যমীনে মানুষের কাছে পাপকাজকে শোভন করে তুলব এবং অবশ্যই আমি তাদের সবাইকে বিপথ গামী করব [১],
[১] অর্থাৎ যেভাবে আপনি এ নগণ্য ও হীন সৃষ্টিকে সিজদা করার হুকুম দিয়ে আমাকে আপনার হুকুম অমান্য করতে বাধ্য করেছে ঠিক তেমনিভাবে এ মানুষদের জন্য আমি দুনিয়াকে এমন চিত্তাকর্ষক ও মনোমুগ্ধকর জিনিসে পরিণত করে দেবো যার ফলে তারা সবাই এর দ্বারা প্রতারিত হয়ে আপনার নাফরমানী করতে থাকবে, আখেরাতের জবাবদিহির কথা ভুলে যাবে। অথবা আয়াতের অর্থ, নাফরমানিকে তাদের কাছে এমন চিত্তাকর্ষক করে তুলব যে, তারা আপনার নির্দেশ ভুলে যাবে। [ফাতহুল কাদীর] ইবলীসের এ ঘোষণা কুরআনের অন্যান্য স্থানেও এসেছে। [যেমন, সূরা আল-আরাফঃ ১৬-১৭, সূরা আন-নিসাঃ ১১৮, সূরা আল-ইসরাঃ ১৬২]
শয়তান তার এ সমস্ত দাবীকে অনেকটাই সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ “তাদের সম্বন্ধে ইবলীস তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল, ফলে তাদের মধ্যে একটি মু'মিন দল ছাড়া সবাই তার অনুসরণ করল" [সূরা সাবাঃ ২০]
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৩৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৩৬ থেকে ৩৮]সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! তবে আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন (৩৬)। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত (৩৭)। নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত (৩৮)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! তবে আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন) ইবলিসের এই প্রার্থনা আল্লাহ তাআলার কাছে তার উচ্চ মর্যাদার প্রতি আস্থার কারণে ছিল না, কিংবা সে যে দোআ কবুলের যোগ্য ছিল তেমনটিও নয়। বরং সে তার আজাব বিলম্বিত করার আবেদন করেছিল নিজের দুর্দশা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, যেমনটি নাজাতের ব্যাপারে নিরাশ ব্যক্তি করে থাকে।
আর পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ চাওয়ার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য ছিল যেন তাকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়; কারণ কিয়ামতের দিন কোনো মৃত্যু নেই এবং তার পরেও নেই। (তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিলম্বিতদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: (এর দ্বারা উদ্দেশ্য প্রথম ফুৎকার), অর্থাৎ যখন সমস্ত সৃষ্টি মৃত্যুবরণ করবে। আবার বলা হয়েছে: 'নির্ধারিত সময়' হলো এমন এক সময় যার জ্ঞান আল্লাহ নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন এবং যা ইবলিসের অজানা। সুতরাং ইবলিস মৃত্যুবরণ করবে এবং এরপর তাকে পুনরায় জীবিত করা হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সব বিনাশশীল (১)"। ইবলিসের সাথে আল্লাহ তাআলার কথোপকথন সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি—তিনি তাঁর রাসূলের মাধ্যমে তার সাথে কথা বলেছেন। দ্বিতীয়টি—তিনি শাস্তির কঠোরতা প্রকাশের জন্য তার সাথে কথা বলেছেন, সম্মান প্রদর্শন বা নৈকট্য প্রদানের জন্য নয়। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৩৯]সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই জমিনে তাদের সামনে (পাপকাজকে) সুশোভিত করব এবং আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব (৩৯)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (সে বলল: হে আমার প্রতিপালক!
আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই জমিনে তাদের সামনে সুশোভিত করব) পথভ্রষ্টতা ও সুশোভিত করার অর্থ সূরা আল-আরাফে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে (২)। আর এখানে তার সুশোভিত করা দুইভাবে হতে পারে: হয় পাপকাজের মাধ্যমে, অথবা দুনিয়ার চাকচিক্যে তাদের এমনভাবে মগ্ন রাখার মাধ্যমে যেন তারা আনুগত্যমূলক কাজ থেকে বিমুখ থাকে। আর (আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব) এর অর্থ হলো—আমি অবশ্যই তাদের হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত করব। আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ দাররাজ আবু সামহ থেকে, তিনি আবু হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইবলিস বলল, হে প্রতিপালক!
আপনার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ! বনী আদমের দেহে যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, ততক্ষণ আমি তাদের পথভ্রষ্ট করতে থাকব। তখন প্রতিপালক বললেন, আমার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ! তারা যতক্ষণ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, ততক্ষণ আমিও তাদের ক্ষমা করতে থাকব।"(১). দেখুন: খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ১৬৪।(২). দেখুন: খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৭৪ এবং ১৯৫।
ইবনে জারির আবুল আলিয়া থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন—আবুল আলিয়ার এ বিষয়ে সংশয় ছিল—তিনি বলেন: মিরাজের রাতে নবী (সা.) পথের ওপর একটি কাঠখণ্ডের নিকট উপস্থিত হলেন, যার পাশ দিয়ে কোনো কাপড় অতিক্রম করলেই সেটিকে সে ছিঁড়ে ফেলছিল এবং কোনো বস্তু অতিক্রম করলেই সেটিকে সে বিদ্ধ করছিল।তিনি (সা.) বললেন, হে জিবরাঈল! এটি কী? তিনি বললেন, এটি আপনার উম্মতের এমন এক সম্প্রদায়ের উদাহরণ, যারা রাস্তার ওপর বসে এবং পথরোধ করে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "আর তোমরা প্রতিটি পথে ভয় দেখানোর জন্য বসে থেকো না।"ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শায়খ সুদ্দি থেকে আল্লাহর বাণী "আর তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: আমাদের জন্য তোমাদের শিরকে ফিরে যাওয়া সমীচীন নয়, "আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করার পর। আর আমাদের তাতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়, যদি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ চান।" আল্লাহ শিরক চান না, তবে এর অর্থ হলো: যদি আল্লাহ এমন কিছু জেনে থাকেন (যা ঘটবে), কারণ তাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যপ্ত করে আছে।যুবাইর ইবনে বাক্কার 'আল-মুওয়াফফাকিয়াত' গ্রন্থে জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি কাদারিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কসম! তারা তেমন কথা বলেনি যেমন আল্লাহ বলেছেন, নবীগণ বলেছেন, জান্নাতবাসীরা বলেছেন, জাহান্নামবাসীরা বলেছেন, এমনকি তাদের ভাই ইবলিস যেমন বলেছিল তেমনটিও তারা বলেনি।আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তোমরা কোনো ইচ্ছা পোষণ করো না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন" (সুরা ইনসান, আয়াত: ৩০)।
শোয়াইব (আ.) বলেছিলেন: "আর তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, যদি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ চান।" জান্নাতবাসীরা বলেছিলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা পথ পেতাম না" (সুরা আরাফ, আয়াত: ৪৩)। জাহান্নামবাসীরা বলেছিল: "কিন্তু কাফিরদের ওপর শাস্তির বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে" (সুরা জুমার, আয়াত: ৭১)। আর ইবলিস বলেছিল: "হে আমার প্রতিপালক, আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন" (সুরা হিজর, আয়াত: ৩৯)।ইবনে আবি শায়বা, আব্দ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম, 'আল-ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা' গ্রন্থে ইবনুল আনবারি এবং 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে বায়হাকি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি "হে আমাদের প্রতিপালক!
আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফয়সালা করে দিন" আয়াতটিতে 'ফাতহ' শব্দের অর্থ বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না আমি যি-ইয়াযানের কন্যাকে বলতে শুনলাম: "এসো, আমি তোমার সাথে মুফাতাহা (বিবাদ মীমাংসা) করি", অর্থাৎ আমি তোমার কাছে বিচার প্রার্থনা করি।ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে "হে আমাদের প্রতিপালক! ফয়সালা করে দিন" আয়াতটি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এর অর্থ হলো বিচার বা ফয়সালা করুন।ইবনে আবি হাতিম সুদ্দি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'আল-ফাতহ' মানে হলো বিচার বা মীমাংসা। এটি একটি ইয়ামানি পরিভাষা।
যখন তাদের কেউ বিবাদের মীমাংসা করতে চায়, তখন সে বলে: "এসো আমি তোমার সাথে মুফাতাহা করি।"ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শায়খ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে "যেন তারা সেখানে কখনো বসবাসই করেনি" আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এর অর্থ হলো যেন তারা সেখানে কখনো আবাদ বা জীবনযাপন করেনি।
তিনি বলেছেন: তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তাঁর বাণী: নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ
প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: এই সূরাটি একটি উপদেশ; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।মহান আল্লাহর বাণী: আর আল্লাহ না চাইলে তোমরা কোনো ইচ্ছা পোষণ করতে পারো না
ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ ক্বাদারিয়াদের অভিসম্পাত করেছেন এবং তিনি তা কার্যকর করেছেন; আল্লাহ ক্বাদারিয়াদের অভিসম্পাত করেছেন এবং তিনি তা কার্যকর করেছেনআল্লাহ ক্বাদারিয়াদের অভিসম্পাত করেছেন এবং তিনি তা কার্যকর করেছেনতারা আল্লাহ যা বলেছেন তেমনটি বলেনি, ফেরেশতাগণ যা বলেছেন তেমনটি বলেনি, নবীগণ যা বলেছেন তেমনটি বলেনি, জান্নাতবাসীরা যা বলেছে তেমনটি বলেনি, জাহান্নামবাসীরা যা বলেছে তেমনটি বলেনি এবং শয়তান যা বলেছে তেমনটিও বলেনিআল্লাহ বলেছেন: আর আল্লাহ না চাইলে তোমরা কোনো ইচ্ছা পোষণ করতে পারো না
।
ফেরেশতাগণ বলেছেন: আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই
(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩২)। নবীগণ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে বলেছেন: আমি যদি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হতে চাই, তবে আমার হিতাকাঙ্ক্ষা তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না যদি আল্লাহ তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে চান
(সূরা হূদ, আয়াত: ৩৪)। জান্নাতবাসীরা বলেছে: আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা পথ পেতাম না
(সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৪৩)। জাহান্নামবাসীরা বলেছে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর প্রবল হয়েছিল
(সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ১০৬)। আর শয়তান বলেছে: {হে আমার প্রতিপালক!
যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন...} (সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৩৯)ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে শিহাবের সূত্রে সালিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন তখন বলতেন: যা কিছু আসার তা নিকটবর্তী, যা আসবে তার জন্য কোনো দূরত্ব নেই। কারো তাড়াহুড়োর কারণে আল্লাহ তাড়াহুড়ো করেন না; আল্লাহ যা চান তা-ই হয়, মানুষ যা চায় তা নয়। মানুষ এক বিষয় চায় আর আল্লাহ অন্য বিষয় চান; আল্লাহ যা চান তা-ই সংঘটিত হয়, যদিও মানুষ তা অপছন্দ করেআল্লাহ যা নিকটবর্তী করেছেন তা দূরে সরানোর কেউ নেই এবং আল্লাহ যা দূরে সরিয়ে দিয়েছেন তা নিকটবর্তী করার কেউ নেই; আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না।
