Al-Hijr
আল-হিজর: 34
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
قَالَ فَٱخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ
English Translations
[Allāh] said, "Then depart from it, for indeed, you are expelled.
(Allah) said: "Then, get out from here, for verily, you are Rajim (an outcast or a cursed one)." [Tafsir At-Tabari]
He said, “Then, get out of here, for you are an outcast,
The Lord said: "Then get out of here; you are rejected,
He said: Then go thou forth from hence, for lo! thou art outcast.
(Allah) said: "Then get thee out from here; for thou art rejected, accursed.
বাংলা অনুবাদ
তিনি বললেন, ‘বেরিয়ে যাও এখান থেকে, কারণ তুমি হলে অভিশপ্ত।
তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও, তুমি বিতাড়িত’।
(আল্লাহ) বললেনঃ তাহলে তুই এখান হতে বের হয়ে যা, কারণ তুই অভিশপ্ত।
তিনি বললেন, তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, কারণ নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত;
তিনি বললেন: ‘ তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, কারণ তুমি তো অভিশপ্ত;
৩৪. আল্লাহ তা‘আলা ইবলিসকে বললেন: তুমি জান্নাত থেকে বেরিয়ে যাও। কারণ, তুমি আমার রহমত থেকে বিতাড়িত।
তাফসীর
অতঃপর আল্লাহ তাআলা নিজের শাসনের নির্দেশ জারী করলেন যা কখনো টলতে পারে না। তিনি ইবলীসকে নির্দেশ দিলেনঃ ‘তুমি এই উত্তম ও মর্যাদা সম্পন্ন দল থেকে দূর হয়ে যাও। তুমি অভিশপ্ত হয়ে গেলে। কিয়ামত পর্যন্ত তোমার উপর সব সময় লানত বর্ষিত হতে থাকবে। বর্ণিত আছে যে, তৎক্ষণাৎ তার আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং সে বিলাপ করতে শুরু করে। দুনিয়ার সমস্ত শোক ও বিলাপের সূচনা হয়েছে ইবলীসের ঐ বিলাপ থেকেই। সে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত হয়ে ফিরতে থাকে এবং হিংসার আগুনে দগ্ধিভূত হয়ে আকাংখা প্রকাশ করে যে, তাকে যেন কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হয়। এটাকেই পুনরুত্থান দিবস বলা হয়েছে। তার আবেদন কবুল করা হয়। এবং তাকে অবকাশ দেয়া হয়।
তিনি বললেন, তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, কারণ নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত;
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৩২ থেকে ৩৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ইমাম শাফেঈর অভিমত অনুযায়ী, 'ব্যতিক্রম' (ইস্তিসনা) সূচক শব্দ একই জাতীয় এবং ভিন্ন জাতীয় উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তারা সেখানে কোনো অসার বা পাপের কথা শুনবে না। কেবল ‘সালাম’ ‘সালাম’ ধ্বনি ছাড়া।" এখানে তিনি অসার কথার মধ্য থেকে ‘সালাম’কে ব্যতিক্রম করেছেন। তদ্রূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর ফেরেশতারা সকলেই সিজদা করল। কিন্তু ইবলিস ব্যতীত।" এখানে ইবলিস ফেরেশতাদের দলভুক্ত ছিল; (তবে) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ইবলিস ব্যতীত, সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে তার রবের আদেশ অমান্য করল।" জনৈক কবি বলেছেন:এমন এক জনপদ যেখানে কোনো সঙ্গী নেই … কেবল পুরুষ হরিণ এবং সাদা উট ছাড়া।এখানে তিনি 'সঙ্গী' থেকে পুরুষ হরিণ এবং সাদা উটকে ব্যতিক্রম করেছেন।
নাবেগার উক্তিও অনুরূপ:আমি কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই শপথ করেছি … আমার কোনো জ্ঞান নেই তবে সাথীর প্রতি সুধারণা রয়েছে। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৩২ থেকে ৩৫]তিনি বললেন, ‘হে ইবলিস! তোমার কী হলো যে তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না?’ (৩২) সে বলল, ‘আমি এমন কোনো মানুষের প্রতি সিজদাবনত হওয়ার নই যাকে আপনি শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন যা ছিল পচা কাদা হতে রূপান্তরকৃত।’ (৩৩) তিনি বললেন, ‘তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত।’ (৩৪) ‘আর বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার ওপর অভিশাপ রইল।’ (৩৫)মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি বললেন, হে ইবলিস!
তোমার কী হলো) অর্থাৎ কোন বিষয়টি তোমাকে বাধা দিল? (সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতে) অর্থাৎ সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে। (সে বলল, আমি এমন কোনো মানুষের প্রতি সিজদাবনত হওয়ার নই যাকে আপনি শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন যা ছিল পচা কাদা হতে রূপান্তরকৃত) এর মাধ্যমে সে তার অহংকার ও হিংসা প্রকাশ করেছে এবং দাবি করেছে যে সে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কারণ সে আগুনের তৈরি আর আগুন কাদাকে খেয়ে ফেলে (ভস্মীভূত করে), যেমনটি পূর্বে ‘সূরা আল-আ'রাফ’-এ বর্ণিত হয়েছে। (তিনি বললেন, তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও) অর্থাৎ আকাশমণ্ডলী থেকে, অথবা জান্নাতুল আদন থেকে, অথবা ফেরেশতাদের দল থেকে।
(নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত) অর্থাৎ তুমি উল্কাপিণ্ড দ্বারা বিতাড়িত। আবার বলা হয়েছে: অভিশপ্ত ও দুর্ভাগা। এর সবটুকু ইতিপূর্বে সূরা আল-বাকারা ও আল-আ'রাফে সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। (আর তোমার ওপর অভিশাপ রইল) অর্থাৎ আমার অভিশাপ, যেমনটি সূরা ‘ছোয়াদ’-এ বর্ণিত হয়েছে।(১). ১৭ খণ্ড, ২০৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(২). এই খণ্ডের ৪১৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৩). লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নাবেগার উক্তিটি উল্লেখ করেননি, অথবা সম্ভবত প্রতিলিপিকারকের ভুলের কারণে তা বাদ পড়েছে। যেন তিনি কবির এই পঙক্তির দিকে ইঙ্গিত করছেন:আমি কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই শপথ করেছি … আমার কোনো জ্ঞান নেই তবে সাথীর প্রতি সুধারণা রয়েছে।সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবে এই পঙক্তিটিকে 'ইস্তিসনা-এ মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম)-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের পরবর্তী শব্দে 'নসব' হওয়ার সপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।
কারণ 'সুধারণা' 'জ্ঞানের' অন্তর্ভুক্ত নয়। 'মাছনাওয়্যাহ' অর্থ হলো শপথের মধ্যে ব্যতিক্রম করা। এর অর্থ হলো: আমি আমার শপথে কোনো ব্যতিক্রম (ইনশাআল্লাহ বলা) ছাড়াই হলফ করেছি যে, আমার কাছে আমার সাথীর প্রতি সুধারণাই জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যা শপথ করার কারণ হয়েছে। (সিবওয়াইহ-এর কিতাব দ্রষ্টব্য)।(৪). ৭ম খণ্ড, ১৭০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৫). ১৫ খণ্ড, ২২৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
