Al-Hijr
আল-হিজর: 26
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ مِن صَلْصَـٰلٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ
English Translations
And We did certainly create man out of clay from an altered black mud.
And indeed, We created man from sounding clay of altered black smooth mud.
Indeed We created man from a ringing clay made of decayed mud.
Surely We brought man into being out of dry ringing clay which was wrought from black mud,
Verily We created man of potter's clay of black mud altered,
We created man from sounding clay, from mud moulded into shape;
বাংলা অনুবাদ
আমি কাল শুষ্ক ঠনঠনে মাটির গাড়া থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছি।
আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠনঠনে, কালচে কাদামাটি থেকে।
আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি ছাঁচে ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হতে।
আর অবশ্যই আমরা মানুষ সৃষ্টি করেছি গন্ধযুক্ত কাদার শুস্ক ঠনঠনে কালচে মাটি থেকে,
আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি গন্ধযুক্ত কর্দমার শুষ্ক ঠনঠনা মৃত্তিকা হতে,
২৬. নিশ্চয়ই আমি আদমকে শুকনো কাদামাটি থেকে তৈরি করেছি। যাকে বাজালে তা বাজে। যে মাটি থেকে তাঁকে তৈরি করা হয়েছে তা দীর্ঘ অবস্থানের দরুন কালো ও দুর্গন্ধময় হয়ে গিয়েছিলো।
তাফসীর
২৬-২৭ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ) এবং হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন, এখানে দ্বারা শুষ্ক মাটিকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির মত শুষ্ক মৃত্তিকা হতে। আর তিনি জ্বিনকে সৃষ্টি করেছেন নিধূম অগ্নি শিখা হতে।” (৫৫:১৪-১৫) মুজাহিদ (রঃ)হতে এটাও বর্ণিত আছে, গন্ধযুক্ত (আরবি) মাটিকে বলাহয়। (আরবি) বলা হয় মসৃণকে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এটা হচ্ছে সিক্ত মাটি। অন্যান্যেরা বলেন, ওটা হচ্ছে গন্ধযুক্ত ও ঠাসা মাটি।মহান আল্লাহ বলেনঃ “মানুষের পূর্বে আমি জ্বিনকে প্রখর শিখাযুক্ত অগ্নি থেকে সৃষ্টি করেছি।” (আরবি) বলা হয় আগুনের গরম তাপকে এবং (আরবি) বলা হয় দিনের গরমকে।
এটাও বর্ণিত আছে যে, জ্বিনকে যে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে তার সত্তর ভাগের একভাগ হচ্ছে দুনিয়ার আগুনের তেজ। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, জ্বিনকে আগুনের হল্কা বা শিখা হতে অর্থাৎ অতি উত্তম আগুন হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমর ইবনু দীনার (রঃ) বলেন, জ্বিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে সূর্যের আগুন থেকে। সহীহ হাদীসে এসেছেঃ “ফেরেশতাদেরকে নূর হতে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। শিখাযুক্ত অগ্নি হতে, আর আদমকে (আঃ) তা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে যা তোমাদের সামনে বর্ণিত হয়েছে।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে ও মুসনাদে আহমাদে হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে) এই আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে হযরত আদমের (আঃ) ফযীলত ও শরাফত এবং তাঁর সৃষ্টির উপাদানের পবিত্রতার বর্ণনা দেয়া।
আর অবশ্যই আমরা মানুষ সৃষ্টি করেছি গন্ধযুক্ত কাদার শুস্ক ঠনঠনে কালচে মাটি হতে [১],
[১] মানুষের আদি উৎস সম্পর্কে কুরআন বলছে, সরাসরি মৃত্তিকার উপাদান থেকে তার সৃষ্টিকর্ম শুরু হয়।
(صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَاٍ مَّسْنُوْنٍ)
“শুকনো কালো ঠনঠনে পচা মাটি” শব্দাবলীর মাধ্যমে একথা ব্যক্ত করা হয়েছে। (حَمَاٍ) বলতে আরবী ভাষায় এমন ধরনের কালো কাদা মাটিকে বুঝায় যার মধ্যে দুৰ্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে গেছে, যাকে আমরা নিজেদের ভাষায় পংক বা পাঁক বলে থাকি অথবা অন্য কথায় বলা যায়, যা মাটির গোলা বা মন্ড হয়ে গেছে। [সা'দী] (مَّسْنُوْنٍ) শব্দের দুই অর্থ হয়। একটি অর্থ, পরিবর্তিত, অর্থাৎ এমন পচা, যার মধ্যে পচন ধরার ফলে চকচকে ও তেলতেলে ভাব সৃষ্টি হয়ে গেছে। [সা'দী] আর দ্বিতীয় অর্থ, চিত্রিত। অর্থাৎ যা একটি নির্দিষ্ট আকৃতি ও কাঠামোতে রুপান্তরিত হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] (صَلْصَالٍ) বলা হয় এমন পচা কাদাকে যা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠনঠন করে বাজে। [এর জন্য আরও দেখুন, বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর]
এ শব্দাবলী থেকে পরিষ্কার জানা যাচ্ছে যে, গাজানো কাদা মাটির গোলা বা মন্ড থেকে প্রথমে প্রথম মানুষকে বানানো হয় এবং তা তৈরী হবার পর যখন শুকিয়ে যায় তখন তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়।
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ২৫]নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা তাদের একত্রিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (২৫)মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা তাদের একত্রিত করবেন) অর্থাৎ হিসাব ও প্রতিফল প্রদানের জন্য। (নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ) এর ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে «১»। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ২৬]এবং অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে, যা ছিল পরিবর্তিত পচা কাদা হতে। (২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালামকে (শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে)। অর্থাৎ শুষ্ক মাটি থেকে; এটি ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্যদের বর্ণনা।
‘সালসাল’ হলো: সেই বিশুদ্ধ মাটি যা বালুর সাথে মিশ্রিত করা হয়েছে, ফলে শুকিয়ে যাওয়ার পর তা ঠনঠন শব্দ করে; আর যখন তা আগুনে পোড়ানো হয়, তখন তা পোড়ামাটি বা ঠিকরি হয়—এটি আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণিত। এটিই অধিকাংশ মুফাসসিরের অভিমত। ভাষাবিদগণ কাব্য থেকে উদ্ধৃত করেছেন:পরিক্রমণকারী সেই দ্রুতগামীর ন্যায় যা থেকে শব্দ বের হয় «২» মুজাহিদ বলেন: এটি দুর্গন্ধযুক্ত মাটি, এবং কিসায়ী এই মতটিই পছন্দ করেছেন। তিনি বলেন: এটি আরবদের এই উক্তি থেকে এসেছে—‘গোশত দুর্গন্ধযুক্ত হয়েছে’ (সাল্লা বা আসাল্লা), চাই তা রান্না করা হোক বা কাঁচা, যখন তাতে পচন ধরে।
হুতাইয়াহ বলেন:তিনি এমন এক যুবক যিনি স্বীয় পাত্রের সবটুকু অকাতরে দান করেন … দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়ার কারণে উৎপন্ন দুর্গন্ধ তাঁর নিকট গোশতকে অপবিত্র করে না।আর ‘সাল্লাল’ ও ‘মিসলাল’ মাটি মানে হলো—এমন মাটি যাতে করাঘাত করলে লোহার মতো শব্দ তৈরি হয়। জমহুর বা অধিকাংশ উলামার মতে, মানুষ সৃষ্টির উপাদান প্রথমে ছিল মাটি, অর্থাৎ বিক্ষিপ্ত কণা, তারপর তা ভেজানো হলো ফলে কাদায় পরিণত হলো, এরপর তা দীর্ঘক্ষণ রাখা হলো যতক্ষণ না তাতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলো এবং তা ‘হামায়িন মাসনুন’ বা পরিবর্তিত কৃষ্ণবর্ণ পচা কাদায় পরিণত হলো, এরপর তা শুকিয়ে ‘সালসাল’ বা শুকনো ঠনঠনে মাটিতে পরিণত হলো।
সূরা বাকারায় এর বর্ণনা «৩» অতিক্রান্ত হয়েছে। ‘হামা’ হলো কালো কাদা, অনুরূপভাবে ‘হামআহ’ (মিম সাকিন সহ) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। আপনি বলতে পারেন: আমি কূপের কাদা পরিষ্কার করেছি। আর যদি বলেন ‘কূপটি কাদাময় হয়ে গেছে’, তবে তা হরকত বা স্বরচিহ্ন সহকারে উচ্চারিত হবে। ইবনে সিক্কীত থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘আমি তাতে কাদা নিক্ষেপ করেছি’ অর্থে ‘আহমাআতুহা’ বলা হয়। আবু উবায়দাহ বলেন: ‘হামআহ’ (মিমের সুকুন সহ) শব্দটি ‘কামআহ’ শব্দের মতো। এর বহুবচন হলো ‘হামা’, যেমন ‘তামরাহ’ এর বহুবচন ‘তামর’। আর ‘হামা’ হলো মূল শব্দ বা মাসদার, যেমন ‘হালাউ’ ও ‘জাযাউ’, পরবর্তীতে বস্তুকে এই নামেই অভিহিত করা হয়েছে।
আর ‘মাসনুন’ অর্থ পরিবর্তিত। ইবনে আব্বাস বলেন: (তা হলো সিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত মাটি।)(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৭ এবং পৃষ্ঠা ২৭৯।(২). এটি কবিতার শেষ অর্ধাংশ। পূর্ণ কবিতাটি লিসানুল আরব গ্রন্থে এভাবে রয়েছে:এক শক্তিশালী উষ্ট্রী, যখনই সে চাবুকের শব্দ পায় তখনই সে দ্রুত ছুটে চলে … যেমন কোনো চঞ্চল শৃঙ্খলিত প্রাণীর দৌড়। (৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৭ এবং পৃষ্ঠা ২৭৯।
