Al-Hijr

আল-হিজর: 91

15:91
টেক্সট কপি
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر

মূল আরবি

ٱلَّذِينَ جَعَلُوا۟ ٱلْقُرْءَانَ عِضِينَ

English Translations

Sahih International

Who have made the Qur’ān into portions.

Muhsin Khan

Who have made the Quran into parts. (i.e. believed in a part and disbelieved in the other).

Taqi Usmani

who had split the divine recitation (Scriptures) into bits.

Abul Ala Maududi

those who had split up their Qur'an into pieces.

Pickthall

Those who break the Qur'an into parts.

Yusuf Ali

(So also on such) as have made Qur'an into shreds (as they please).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যারা কুরআনকে (নিজেদের খেয়াল খুশিমত) ভাগ ভাগ করে ফেলেছে (যেটা ইচ্ছে মানছে, যেটা ইচ্ছে অমান্য করছে)।

রাওয়াই আল-বায়ান

যারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করেছিল।* * ‘বিভিন্ন অংশে ভাগ করেছিল, অর্থাৎ কুরআনকে তারা বিভিন্ন নামে ও বিভিন্ন অভিধায় চি‎‎হ্নত করত, যেমন কেউ বলত, এটি যাদু, কেউ বলত, কবিতা, আবার কেউ বলত, গণকদের গণনা ইত্যাদি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।

ফাতহুল মাজীদ

যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে (তাদের প্রবৃত্তি অনুসারে)।

মুখতাসার

৯১. যারা কুর‘আনকে বিভিন্নভাবে দুর্নাম করে বলে: এটি যাদু, জ্যোতিষ বিদ্যা কিংবা কবিতা।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

15:89

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে [১]।

[১] (عِضِيْنَ) শব্দের অর্থ করা হয়েছে, বিভক্ত। শব্দটির অন্য অর্থঃ জাদু, গল্প। [বাগভী] এ অর্থের সমর্থনে সীরাত গ্রন্থে এসেছে যে, ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ কুরাইশের এক সমাবেশে হাজির হয়ে বললঃ হজ্জের মওসুম শুরু হয়ে গেছে। চতুর্দিক থেকে মানুষ এখন তোমাদের কাছে আসবে। এদিকে তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) সম্পর্কে তারা জেনে গেছে। তাই তোমরা তার ব্যাপারে একজোট হয়ে একটি মত পোষণ কর। তারা বললঃ তুমিই বল। সে বললঃ তোমরাই বল। তখন তারা বললঃ আমরা বলব সে গণক। তখন সে বললঃ সে গণক নয়। তখন তারা বললঃ আমরা বলব সে পাগল। সে বললঃ না, সে তো পাগল নয়। তারা বললঃ আমরা বলব সে কবি।

সে বলল, না সে কবিও নয়। তারা বললঃ আমরা বলব সে যাদুকর। সে বললঃ না, সে যাদুকরও নয়। তখন তারা বললঃ তাহলে আমরা কি বলব? সে বললঃ আল্লাহর শপথ! তার কথায় আছে মাধুর্য, তোমরা যা-ই বল না কেন বুঝা যাবে যে তোমাদের কথাই বাতিল। তবে তার কথা যাদুকরের কাছাকাছি। এ কথার উপরই সবাই সেখান থেকে চলে গেল। আর এদিকে আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করলেনঃ

“যারা কুরআন সম্পর্কে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, কাজেই শপথ আপনার রবের! আমরা তাদের সবাইকে প্রশ্ন করবই, সে বিষয়ে, যা তারা করে।” [বাগভী; সীরাতে ইবনে হিশাম]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

যেমন আমরা অবতীর্ণ করেছি বিভাজনকারীদের উপর। বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো যেমন আমরা বিভাজনকারীদের উপর অবতীর্ণ করেছি, অর্থাৎ আযাব বা শাস্তি; আর আমরাই আপনার পক্ষ থেকে বিদ্রূপকারীদের জন্য যথেষ্ট হয়েছি। অতএব আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা উচ্চকণ্ঠে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকুন যারা সীমালঙ্ঘন করেছে। কেননা আমরা আপনার পক্ষ থেকে ঐসব নেতাদের মোকাবেলায় যথেষ্ট হয়েছি যাদের থেকে আপনি নানাবিধ কষ্ট পেতেন। "বিভাজনকারী" (মুকতাসিমীন) শব্দটির ব্যাখ্যায় সাতটি ভিন্ন অভিমত রয়েছে: প্রথম— মুকাতিল ও ফাররা বলেন: তারা ছিল ষোলোজন ব্যক্তি যাদেরকে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা হজ্জের মৌসুমে পাঠিয়েছিলেন।

তারা মক্কার বহিঃপথসমূহ (১), গিরিপথ ও প্রশস্ত রাস্তাগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল। তারা ঐসব পথে যাতায়াতকারীদের বলত: আমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবি নিয়ে বের হয়েছে তার দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না, কারণ সে পাগল। কখনও তারা বলত জাদুকর, কখনও কবি, আবার কখনও গণক। তাদের "বিভাজনকারী" বলা হয়েছে কারণ তারা এই পথগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট মৃত্যু দান করেছিলেন। তারা ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাকে মসজিদের দরজায় বিচারক হিসেবে বসিয়েছিল; যখন কেউ তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, সে বলত: ঐ লোকগুলো সত্যই বলেছে।

দ্বিতীয়— কাতাদাহ বলেন: তারা কুরাইশ কাফেরদের একটি দল যারা আল্লাহর কিতাবকে ভাগ করে নিয়েছিল; তারা এর কিছু অংশকে কবিতা, কিছু অংশকে জাদু, কিছু অংশকে গণকগিরি এবং কিছু অংশকে পূর্ববর্তীদের উপকথা বলে অভিহিত করত। তৃতীয়— ইবনে আব্বাস বলেন: তারা ছিল আহলে কিতাব, যারা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান এনেছিল এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করেছিল। ইকরিমাও অনুরূপ বলেছেন: তারা আহলে কিতাব, আর তাদের বিভাজনকারী বলা হয়েছে কারণ তারা বিদ্রূপ করত; তাদের কেউ কেউ বলত: এই সূরাটি আমার জন্য আর এই সূরাটি তোমার জন্য। এটিই চতুর্থ অভিমত। পঞ্চম— কাতাদাহ বলেন: তারা তাদের কিতাবকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছিল এবং তা পৃথক, বিক্ষিপ্ত ও বিকৃত করেছিল।

ষষ্ঠ— যায়েদ ইবনে আসলাম বলেন: এর দ্বারা সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে, যারা তাঁকে হত্যার ব্যাপারে শপথ নিয়েছিল, তাই তাদের বিভাজনকারী বলা হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলল, আমরা অবশ্যই রাতে তাকে ও তার পরিবারকে আক্রমণ করব।" সপ্তম— আখফাশ বলেন: তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কসম বা শপথের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিয়েছিল এবং তার ওপর পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। আরও বলা হয়েছে যে, তারা ছিল আস ইবনে ওয়ায়েল, উতবাহ ও শায়বাহ ইবনে রাবীআ, আবু জাহল ইবনে হিশাম, আবু বখতরী ইবনে হিশাম, নযর ইবনে হারিস, উমাইয়্যাহ ইবনে খালাফ এবং মুনাব্বিহ ইবনুল হাজ্জাজ; মাওয়ারদী এটি উল্লেখ করেছেন।

‌‌[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৯১]যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে (৯১)এটি বিভাজনকারীদের বিশেষণ। বলা হয়েছে: এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং এর খবর (বিধেয়) হলো "আমি অবশ্যই তাদের প্রশ্ন করব"। 'ইযীন' (عضين) এর একবচন হলো 'ইযাতুন' (عضة), যা 'আদদাইতুশ শাইআ তা'দিয়াতান' (عضيت الشيء تعضية) থেকে উদ্ভূত যার অর্থ আমি তা বিভক্ত করেছি; আর প্রতিটি বিভক্ত অংশই হলো 'ইযাতুন'। কেউ কেউ বলেছেন: এটি মূলে ছিল...(১). 'আ'কাব' হলো মক্কার পরবর্তী ঐসব রাস্তা যেখান দিয়ে মানুষ আসত; 'আনকাব' হলো পাহাড়ের গিরিপথ এবং 'ফিজাজ' হলো প্রশস্ত রাস্তা।(২). দেখুন: খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২১৬।