Al-Hijr

আল-হিজর: 44

15:44
টেক্সট কপি
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر

মূল আরবি

لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَٰبٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ

English Translations

Sahih International

It has seven gates; for every gate is of them [i.e., Satan's followers] a portion designated."

Muhsin Khan

"It (Hell) has seven gates, for each of those gates is a (special) class (of sinners) assigned.

Taqi Usmani

It has seven gates. For each gate there is a group apportioned from them.”

Abul Ala Maududi

There are seven gates in it, and to each gate a portion of them has been allotted.

Pickthall

It hath seven gates, and each gate hath an appointed portion.

Yusuf Ali

To it are seven gates: for each of those gates is a (special) class (of sinners) assigned.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তার সাতটা দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্য তাদের মধ্যে শ্রেণী নির্দিষ্ট আছে।’

রাওয়াই আল-বায়ান

‘তার সাতটি দরজা রয়েছে। প্রতিটি দরজার জন্য রয়েছে তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণী’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ওর সাতটি দরযা আছে, প্রত্যেক দরযার জন্য পৃথক পৃথক দল আছে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘সেটার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য (শয়তানের অনুসারীদের) নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে।’

ফাতহুল মাজীদ

তার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য পৃথক পৃথক শ্রেণি আছে।’

মুখতাসার

৪৪. জাহান্নামের সাতটি দরজা দিয়ে তারা প্রবেশ করবে। প্রত্যেক দরজার জন্য ইবলিসের অনুসারীদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে যারা সেখান দিয়ে প্রবেশ করবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

15:39

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘সেটার সাতটি দরজা আছে [১], প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য (শয়তানের অনুসারীদের) নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে [২]।’

[১] এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হলো যে, জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে, তাছাড়া এ ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীসও রয়েছে। [দেখুনঃ সহীহ ইবনে হিববানঃ ৪৬৬৩]

এ গুলো অপরাধ অনুসারে শাস্তি দেয়ার জন্য একই জাহান্নামের বিভিন্ন স্তর। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জাহান্নামের দরজা সাতটি, সেগুলো একটির উপরে আরেকটি প্রথমটি পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয়টি তারপর তৃতীয়টি, এভাবে সবগুলো পূর্ণ হবে। ইকরিমা বলেন, জাহান্নামের সাত দরজার অর্থ, সাত তলা। ইবন জুরাইজ বলেন, প্রথমটি জাহান্নাম, দ্বিতীয়টি লাযা, তৃতীয়টি হুতামা, চতুর্থটি সায়ীর, পঞ্চমটি সাকার, ষষ্ঠটি জাহীম, আর সপ্তমটি হা-ওয়ীয়াহ [ইবন কাসীর]

[২] যেসব গোমরাহী ও গোনাহের পথ পাড়ি দিয়ে মানুষ নিজের জন্য জাহান্নামের পথের দরজা খুলে নেয় সেগুলোর প্রেক্ষিতে জাহান্নামের এ দরজাগুলো নির্ধারিত হয়েছে। যেমন কেউ নাস্তিক্যবাদের পথ পাড়ি দিয়ে জাহান্নামের দিকে যায়। কেউ যায় শির্কের পথ পাড়ি দিয়ে, কেউ মুনাফিকীর পথ ধরে, কেউ প্রবৃত্তি পূজা, কেউ অশ্লীলতা ও ফাসেকী, কেউ জুলুম, নিপীড়ন ও নিগ্রহ, আবার কেউ ভ্ৰষ্টতার প্রচার ও কুফরীর প্রতিষ্ঠা এবং কেউ অশ্লীলতা ও নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপের প্রচারের পথ ধরে জাহান্নামের দিকে যায়। আবার জাহান্নামেও তাদের শাস্তির পর্যায় হবে ভিন্ন ভিন্ন। হাদীসে এসেছে, “তাদের কাউকে কাউকে আগুন দু গোড়ালী পর্যন্ত আক্রমন করবে। আবার কারো কারো হবে কোমর পর্যন্ত। আর কারো কারো গর্দান পর্যন্ত পাকড়াও করবে"। [মুসলিমঃ ২৮৪৫]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৪৩ থেকে ৪৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমি বলি: হয়তো কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন: আল্লাহ তাআলা আদম ও হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম) এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন: "অতঃপর শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটাল", এবং তাঁর নবীর একদল সাহাবী সম্পর্কে বলেছেন: "শয়তান তাদের কোনো কোনো কৃতকর্মের কারণে তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল।"এর উত্তর ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আর তা হলো শয়তানের তাদের অন্তরের ওপর কোনো আধিপত্য নেই, না তাদের ঈমানের আবাসের ওপর, আর না সে তাদেরকে এমন কোনো পাপে নিপতিত করে যার পরিণতি কবুল না হওয়ার দিকে ধাবিত হয়। বরং তওবা সেই পাপকে দূরীভূত করে এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন তাকে মুছে দেয়।

আর আদমের (জান্নাত থেকে) বের হওয়া তাঁর কৃতকার্যের জন্য কোনো শাস্তি ছিল না, যেমনটি ইতিপূর্বে সূরা আল-বাকারার বর্ণনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে আলোচনা সূরা আলে ইমরানে অতিবাহিত হয়েছে। অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই" এর সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যাদেরকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আবার সম্ভাবনা রয়েছে এটি অধিকাংশ সময় ও অবস্থার ক্ষেত্রে। কখনো শয়তানের এই আধিপত্য বিস্তারের মধ্যে কষ্ট লাঘব এবং দুশ্চিন্তা দূর করার হেতু থাকতে পারে, যেমনটি বেলালের সাথে করা হয়েছিল; যখন শয়তান তাকে দোল দিচ্ছিল যেমন শিশুকে দোল দেওয়া হয়, যতক্ষণ না সে ঘুমিয়ে পড়ে।

ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন এবং সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত তারা জাগ্রত হলেন না। তারা ভীত হয়ে পড়লেন এবং বললেন: আমাদের সালাতে এই অবহেলার কাফফারা কী হবে? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন: "নিদ্রারত অবস্থায় কোনো অবহেলা নেই।" ফলে তাদের দুশ্চিন্তা দূর হলো। (তবে তাদের ব্যতীত যারা তোমার অনুসরণ করবে পথভ্রষ্টদের মধ্য হতে) অর্থাৎ বিভ্রান্ত ও মুশরিকদের মধ্য হতে। অর্থাৎ তার আধিপত্য কেবল এদের ওপরেই; যার দলিল হলো: "তার আধিপত্য তো কেবল তাদের ওপর যারা তাকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে এবং যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে।" দ্বিতীয় মাসআলা- এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াতটি আধিক্য থেকে অল্পের এবং অল্প থেকে আধিক্যের ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) বৈধ হওয়ার দলিল।

যেমন কেউ বলল: এক দিরহাম বাদে দশ। অথবা বলল: নয় বাদে দশ। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: অর্ধেকের বেশি বা তার কম পরিমাণ ব্যতীত ব্যতিক্রম করা জায়েজ নয়। আর সমষ্টি থেকে অধিকাংশকে বাদ দেওয়া সঠিক নয়। আমাদের দলিল হলো এই আয়াতটি, কারণ এতে ইবাদগণের (বান্দাদের) মধ্য হতে 'পথভ্রষ্টদের' ব্যতিক্রম করা হয়েছে এবং পথভ্রষ্টদের মধ্য হতে ইবাদগণের ব্যতিক্রম করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সমষ্টি হতে সামান্য অংশ বা অধিকাংশ অংশের ব্যতিক্রম করা বৈধ। ‌‌[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৪৩ থেকে ৪৪]এবং অবশ্যই জাহান্নাম তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি স্থান।

(৪৩) এর সাতটি দরজা রয়েছে; প্রতিটি দরজার জন্য তাদের মধ্য থেকে পৃথক পৃথক অংশ নির্ধারিত রয়েছে। (৪৪)(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১ ও পৃষ্ঠা ৩২১ এবং খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪।(২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪৩।(৩). 'ইয়া' পাণ্ডুলিপিতে: ক্ষমা।(৪). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১ ও পৃষ্ঠা ৩২১ এবং খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪।(৫). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪৩। [ ..... ](৬). দ্রষ্টব্য: এই খণ্ডের ১৭৫ পৃষ্ঠা।