Al-Hijr

আল-হিজর: 76

15:76
টেক্সট কপি
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر

মূল আরবি

وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍ مُّقِيمٍ

English Translations

Sahih International

And indeed, they [i.e., those cities] are [situated] on an established road.

Muhsin Khan

And verily! They (the cities) were right on the highroad (from Makkah to Syria i.e. the place where the Dead Sea is now).

Taqi Usmani

Surely, it (their city) is located on the straight road.

Abul Ala Maududi

The place (where this occurred) lies along a known route.

Pickthall

And lo! it is upon a road still uneffaced.

Yusuf Ali

And the (cities were) right on the high-road.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এটি মানুষের চলাচল পথের পাশেই বিদ্যমান।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর নিশ্চয়ই তা পথের পাশেই বিদ্যমান ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ওটা লোক চলাচলের পথপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর নিশ্চয় তা লোক চলাচলের পথের পাশেই বিদ্যমান।

ফাতহুল মাজীদ

আর তা লোক চলাচলের পথের-পার্শ্বে এখনও বিদ্যমান।

মুখতাসার

৭৬. বস্তুতঃ লুত সম্প্রদায়ের এলাকাটি মানুষের চলার পথেই রয়েছে। যা তার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া মুসাফিররা সহজেই দেখতে পায়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

15:73

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর নিশ্চয় তা লোক চলাচলের পথের পাশেই বিদ্যমান [১]।

[১] এ আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা সেসব জনপদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। (لَبِسَبِيْلٍ مُّقِيْمٍ) শব্দটির কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. মুজাহিদ ও দাহহাক বলেন, এর অর্থ চিহ্নিত জনপদে পরিণত হয়েছে। কাতাদা বলেন, স্পষ্ট পথে। কাতাদা থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, যমীনের এক প্রান্তে। [ইবন কাসীর] ইবনে কাসীর আরও বলেন,

এই সাদূম জনপদটিতে যে বিপদ ঘটে গেছে, যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন পরিবর্তন ঘটেছে, পাথর নিক্ষিপ্ত হয়েছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা পচা দুৰ্গন্ধময় খারাপ সাগরে পরিণত হয়েছে, যা আজও একই অবস্থায় বিদ্যমান। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তোমরা তো তাদের ধ্বংসাবশেষগুলো অতিক্রম করে থাক সকালে ও সন্ধ্যায়। তবুও কি তোমরা বোঝ না?" সূরা আস-সাফফাত: ১৩৭-১৩৮]

কারণ, আরব থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে এ জনপদ অবস্থিত। আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন, এগুলোতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার অপার শক্তির বিরাট নিদর্শনাবলী রয়েছে। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা এসব জনপদ সম্পর্কে আরো বলেছেন যে,

(لَمْ تُسْكَنْ مِّنْۢ بَعْدِهِمْ اِلَّا قَلِيْلًا)

অর্থাৎ এসব জনপদ আল্লাহর আযাবের ফলে জনশূন্য হওয়ার পর সামান্য কিছু ছাড়া বাকীগুলো পুনর্বার আবাদ হয়নি (সূরা কাসাস-৫৮)

এ বিবরণ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা এসব জনপদ ও তাদের ঘর-বাড়ীকে ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য শিক্ষার উপকরণ করেছেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এসব স্থান অতিক্রম করেছেন, তখন আলাহর ভয়ে তার মস্তক নত হয়ে গেছে এবং তিনি সওয়ারীর উটকে দ্রুত হাকিয়ে সেসব স্থান পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। [দেখুন, ইবন হিব্বান: ৬১৯৯]

তার এ কর্মের ফলে একটি সুন্নত প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তা এই যে, যেসব স্থানে আল্লাহ তা'আলার আযাব এসেছে, সেগুলোকে তামাশার ক্ষেত্রে পরিণত করা খুবই পাষাণ হৃদয়ের কাজ। বরং সেগুলো থেকে শিক্ষা লাভ করার পস্থা এই যে, সেখানে পৌছে আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তির কথা চিন্তা করতে হবে এবং অন্তরে তার আযাবের ভীতি সঞ্চার করতে হবে।

কুরআনুল কারীমের বক্তব্য অনুযায়ী লুত 'আলাইহিস সালামের ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদসমূহ আজো আরব থেকে সিরিয়াগামী রাস্তার পার্শ্বে জর্দানের এলাকায় সমুদ্রের উপরিভাগ থেকে যথেষ্ট নীচের দিকে একটি বিরাট এলাকা নিয়ে রয়েছে। এর একটি বিরাট পরিধিতে বিশেষ এক প্রকার পানি সাগরের আকার ধারণ করে আছে। এ পানিতে কোন মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি প্রাণী জীবিত থাকতে পারে না। এ জন্যেই একে মৃত সাগর ও লুত সাগর’ নামে অভিহিত করা হয়। অনুসন্ধানের পর জানা গেছে যে, এতে পানির অংশ খুব কম এবং তেল জাতীয় উপাদান অধিক পরিমাণে বিদ্যমান এবং লবনের পরিমাণও; তাই এতে কোন সামুদ্রিক প্রাণী জীবিত থাকতে পারে না।

আজকাল প্রত্নতত্ত্ববিভাগের পক্ষ থেকে এখানে কিছুসংখ্যক আবাসিক দালান-কোঠা ও হোটেল নিৰ্মাণ করা হয়েছে। আখেরাত থেকে উদাসীন বস্তুবাদী মানুষ একে পর্যটন ক্ষেত্রে পরিণত করে রেখেছে। তারা নিছক তামাশা হিসেবে এসব এলাকা দেখার জন্য গমন করে। এহেন উদাসীনতার প্রতিকারার্থে কুরআনুল কারীম অবশেষে বলেছেঃ

(اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّلْمُتَوَسِّمِيْنَ)

অর্থাৎ, এসব ঘটনা ও ঘটনাস্থল প্রকৃতপক্ষে অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন মুমিনদের জন্য শিক্ষাদায়ক। একমাত্র ঈমানদাররাই এ শিক্ষা দ্বারা উপকৃত হয় এবং অন্যরা এসব স্থানকে নিছক তামাশার দৃষ্টিতে দেখে চলে যায়।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৭৬ থেকে ৭৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে মুয়াবিয়া যখন বিচারপতি ছিলেন, তখন তাঁর প্রতিবাদে আমাদের শায়েখ ফখরুল ইসলাম আবু বকর আল-শাশী একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন। তিনি সেটি নিজ হাতে লিখে আমাকে দান করেছিলেন। সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত, কেননা বিধানের উৎসসমূহ শরীয়তের দৃষ্টিতে সুপরিচিত এবং অকাট্য দলিলাদি দ্বারা লব্ধ; দেহতত্ত্ব বা অন্তর্দৃষ্টি (ফিরাসা) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। ‌‌[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৭৬ থেকে ৭৯]নিশ্চয়ই তা (ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদসমূহ) এক বিদ্যমান পথে অবস্থিত। (৭৬) নিশ্চয়ই এতে মুমিনদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। (৭৭) আর নিশ্চয়ই আইকাহর অধিবাসীরা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।

(৭৮) অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। আর এ উভয় জনপদই প্রকাশ্য রাজপথে বিদ্যমান। (৭৯)আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই তা) অর্থাৎ লুত (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের জনপদসমূহ। (এক বিদ্যমান পথে) অর্থাৎ হে মুহাম্মদ, সিরিয়া যাওয়ার পথে আপনার কওমের জন্য তা সুপরিচিত পথে অবস্থিত। (নিশ্চয়ই এতে মুমিনদের জন্য নিদর্শন রয়েছে) অর্থাৎ সত্যবাদীদের জন্য এতে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। (আর নিশ্চয়ই আইকাহর অধিবাসীরা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী) এর দ্বারা শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর কওমকে বুঝানো হয়েছে; তারা ছিল ঘন বন, উদ্যান এবং ফলবান বৃক্ষের সান্নিধ্যে বসবাসকারী।

'আইকাহ' অর্থ ঘন বন বা ঝোপঝাড়, যা অনেক বৃক্ষের সমষ্টি; এর বহুবচন হলো 'আইক'। বর্ণিত আছে যে, তাদের গাছগুলো ছিল সদাবিল্ব বা গুল্মজাতীয় বৃক্ষ। কবি নাবিগা বলেছেন:তিনি কোনো ঘন বনের কবুতরের ডানার অগ্রভাগ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করেন … বরফের ন্যায় শুভ্র দাঁত, যার মাড়িতে সুরমা মাখানো হয়েছে।কারও মতে, 'আইকাহ' হলো গ্রামের নাম। আবার কেউ বলেছেন এটি শহরের নাম। আবু উবাইদাহ বলেছেন: 'আইকাহ' ও 'লাইকাহ' হলো তাদের শহর, যেমন মক্কার ক্ষেত্রে 'বাক্কাহ' ব্যবহৃত হয়। শুআইব (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর কওমের কাহিনী ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। (আর এ উভয় জনপদই প্রকাশ্য রাজপথে বিদ্যমান) অর্থাৎ যা আপন সত্তায় সুস্পষ্ট পথ; অর্থাৎ লুত (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের শহর এবং আইকাহর অধিবাসীদের এলাকা, যা অতিক্রমকারীরা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে।

‌‌[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৮০]আর নিশ্চয়ই হিজর-বাসীরা রাসূলদের প্রতি মিথ্যাচার করেছিল। (৮০)'হিজর' শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়: তন্মধ্যে একটি হলো কাবার হিজর (হাতিম)। আবার হারাম বা নিষিদ্ধ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং এক দুর্ভেদ্য প্রতিবন্ধক" অর্থাৎ যা নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত। 'হিজর' অর্থ আকল বা বুদ্ধিও হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য"। আবার 'হিজর' অর্থ জামার বুক বা কোলও হয়, তবে 'ফাতহা' যোগে (হাজর) উচ্চারণ অধিক শুদ্ধ। 'হিজর' অর্থ মাদি ঘোড়াও হয়। আর 'হিজর' হলো সামুদ জাতির আবাসস্থল, আর এখানে এটাই উদ্দেশ্য।(১).

দেখুন ৭ম খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা।(২). দেখুন ১৩তম খণ্ড, ৫৮ পৃষ্ঠা।(৩). দেখুন ২০তম খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা।