Al-Hijr
আল-হিজর: 87
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَـٰكَ سَبْعًا مِّنَ ٱلْمَثَانِى وَٱلْقُرْءَانَ ٱلْعَظِيمَ
English Translations
And We have certainly given you, [O Muḥammad], seven of the often repeated [verses] and the great Qur’ān.
And indeed, We have bestowed upon you seven of Al-Mathani (the seven repeatedly recited Verses), (i.e. Surat Al-Fatiha) and the Grand Quran.
We have given you the seven oft-repeated verses and the glorious Qur’ān.
We have indeed bestowed on you the seven oft-repeated verses and the Great Qur'an.
We have given thee seven of the oft-repeated (verses) and the great Qur'an.
And We have bestowed upon thee the Seven Oft-repeated (verses) and the Grand Qur'an.
বাংলা অনুবাদ
আমি তোমাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ আবৃত্ত সপ্ত আয়াত আর মহা কুরআন।
আর আমি তো তোমাকে দিয়েছি পুনঃপুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন।
আমিতো তোমাকে দিয়েছি সাত আয়াত যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয় এবং দিয়েছি মহান কুরআন।
আর আমরা তো আপনাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন।
আমি তোমাকে বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (সূরা ফাতিহা) এবং এ মহাগ্রন্থ কুরআন দিয়েছি।
৮৭. আর আমি আপনাকে সূরা ফাতিহা দিয়েছি। যাতে সাতটি আয়াত রয়েছে এবং যেটিকে পুরো কুর‘আনুল-আযীম বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
তাফসীর
৮৭-৮৮ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ “হে নবী (সঃ)! আমি যখন তোমাকে কুরআন কারীমের ন্যায় অবিনশ্বর ও চিরস্থায়ী সম্পদ দান করেছি। তখন তোমার জন্যে মোটেই শোভনীয় নয় যে, তুমি কাফিরদের পার্থিব ধনসম্পদের প্রতি লোভনীয় দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে। এ সব কিছু তো ক্ষণস্থায়ী মাত্র। শুধু পরীক্ষা স্বরূপ কয়েকদিনের জন্যে মাত্র তাদেরকে এগুলি দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে তোমার পক্ষে এটাও সমীচীন নয় যে, তুমি তাদের ঈমান না আনার কারণে দুঃখিত, হবে। হ্যা, তবে তোমার উচিত যে, তুমি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ও কোমল হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে লোক সকল!
তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল আগমন করেছে, যার কাছে তোমাদের কষ্ট প্রদান কঠিন ঠেকে, যে তোমাদের শুভাকাংখী এবং যে মুমিনদের উপর অত্যন্ত দয়ালু।”(আরবি) সম্পর্কে একটি উক্তি তো এই যে, এর দ্বারা কুরআন কারীমের প্রথম দিকের দীর্ঘ ৭(সাত)টি সূরাকে বুঝানো হয়েছে। সূরা গুলিহচ্ছেঃ বাকারা, আল-ইমরান, নিসা, মায়েদাহ, আনআম, ‘আরাফ এবং ইউসুফ। কেননা, এই সূরাগুলিতে ফারায়িয, হুদূদ, ঘটনাবলী এবং নির্দেশনাবলী বিশেষ পন্থায় বর্ণনা রয়েছে। অনুরূপভাবে দৃষ্টান্তসমূহ, খবরসমূহ এবং উপদেশাবলীও বহুল পরিমাণে রয়েছে। কেউ কেউ সূরায়ে ‘আরাফ পর্যন্ত ছ’টি সূরা গণনা করে সূরায়ে আনফাল ও তাওবা’কে সপ্তম সূরা বলেছেন।
তাঁদের মতে এই দু'টি সূরা মিলিতভাবে একটি সূরাই বটে।হযরত ইবনু আব্বাসের (রাঃ) উক্তি এই যে, একমাত্র হযরত মূসা (আঃ) এগুলির মধ্যে দু'টি সূরা লাভ করেছিলেন। আর আমাদের নবী (সঃ) ছাড়া বাকী অন্যান্য নবীদের কেউই এগুলি প্রাপ্ত হন নাই। একটা উক্তি রয়েছে যে, প্রথমতঃ হযরত মূসা (আঃ) ছ'টি লাভ করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি তার প্রতি অবতারিত লিখিত ফলকগুলি ছুঁড়ে ফেলেছিলেন তখন দুটি উঠে। গিয়েছিল এবং চারটি রয়েছিল। একটি উক্তি এই আছে যে, “কুরআন আযীম দ্বারাও এটাই উদ্দেশ্য।যিয়াদ (রঃ) বলেনঃ “এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি তোমাকে সাতটি অংশ দিয়েছি।” সেগুলি হচ্ছেঃ “আদেশ, নিষেধ, শুভসংবাদ, ভয়, দৃষ্টান্ত, নিয়ামত রাশির হিসাব এবং কুরআনিক খবরসমূহ”।
(আরবি) দ্বিতীয় উক্তি এই যে, দ্বারা সূরায়ে ফাতেহা’কে বুঝানো হয়েছে, যার সাতটি আয়াত রয়েছে। বিসমিল্লাহসহ এই সাতটি আয়াত। সুতরাং ভাবার্থ হচ্ছেঃ “এগুলি দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাকে বিশিষ্ট করেছেন। এটা দ্বারা কিতাবকে শুরু করা হয়েছে এবং প্রত্যেক রাকআতে এটা পঠিত হয়, তা ফরয, নফল ইত্যাদি যেই নামাযই হোক না কেন।” ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) এই উক্তিটিই পছন্দ করেছেন এবং এই ব্যাপারে যে হাদীসগুলি বর্ণিত হয়েছে সেগুলিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমরা ঐ সমূদয় হাদীস সূরায়ে ফাতেহার ফযীলতের বর্ণনায় এই তাফসীরের শুরুতে লিখে দিয়েছি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্যেই।এই জায়গায় ইমাম বুখারী (রাঃ) দুটি হাদীস এনেছেন।
একটি হাদীসে হযরত আবু সাঈদ মুআল্লা (রাঃ) বলেনঃ “একদা আমি নামায পড়ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সঃ) এসে আমাকে ডাক দেন। কিন্তু আমি (নামাযে ছিলাম বলে) তাঁর কাছে গেলাম না। নামায শেষে যখন আমি তাঁর কাছে হাজির হই তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “ঐ সময়েই তুমি আমার কাছে আস নাই কেন?” আমি উত্তরে বললামঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি নামাযে ছিলাম।” তিনি বললেনঃ “আল্লাহ তাআলা কি (আরবি) (হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) যখন তোমাদেরকে ডাক দেন তখন তোমরা তাদের তাকে সাড়া দাও) (৮:২৪) এ কথা বলেন নাই? জেনে রেখো যে, মসজিদ হতে বের হওয়ার পূর্বেই আমি তোমাকে কুরআন।
কারীমের একটি খুব বড় সূরার কথা বলবো।” কিছুক্ষণ পর যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, তখন আমি তাঁকে ঐ ওয়াদাটি স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি তখন বললেনঃ “ওটা হচ্ছে (আরবি) এই সূরাটি। এটাই হচ্ছে (আরবি) এবং এটাই বড় কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।”অন্য হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরায়ে ফাতেহাই হলো (আরবি) এবং এটাই কুরআনে আযীম। সুতরাং এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যে, (আরবি) এবং (আরবি) দ্বারা সূরায়ে ফাতেহাকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু এটাও মনে রাখা উচিত যে, এটা ছাড়া অন্যটাও উদ্দেশ্য হতে পারে এবং এহাদীসগুলি ওর বিপরীত নয়, যখন অন্যগুলোতেও এই মূল তত্ত্ব পাওয়া যাবে।
যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস্য এবং যা পুনঃপুনঃ আবৃত্তি করা হয়।” (৩৯:২৩) সুতরাং এই আয়াতে সম্পূর্ণ কুরআনকে বলা হয়েছে এবং ও বলা হয়েছে। কাজেই এটা এক দিক দিয়ে এবং অন্য দিক দিয়ে হলো। আর কুরআন আযীমও এটাই। যেমন নিম্নের রিওয়াইয়াত দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়ঃ রাসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “যে মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার উপর স্থাপিত ওটা কোন্ মসজিদ?” উত্তরে তিনি নিজের মসজিদের (মসজিদে নববী) দিকে ইশারা করেন। অথচ এটাও প্রমাণিত বিষয় যে, ঐ আয়াতটি কুবার মসজিদ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়।
সুতরাং নিয়ম এই যে, কোন জিনিসের উল্লেখ অন্য জিনিসকে অস্বীকার করে না, যদি ওর মধ্যেও ঐরূপ গুণ থাকে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে কুরআন পেয়ে নিজেকে অন্য কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী মনে করে না।” এই হাদীসের তাফসীরে বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কুরআন পেলো অথচ এটা ছাড়া অন্য কিছু থেকে বেপরোয়া হলো না সে মুসলমান নয়। এই তাফসীর সম্পূর্ণরূপে সঠিক বটে, কিন্তু এই হাদীসের দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয়। এ হাদীসের সঠিক ভাব ও উদ্দেশ্য আমরা আমাদের এই তাফসীরের শুরুতে বর্ণনা করেছি।হযরত আবু রাফে’ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহর (সঃ) বাড়ীতে এক মেহমান আগমন করে।
ঐ দিন তার বাড়ীতে কিছুই ছিল না। তিনি রজব মাসে পরিশোধের অঙ্গীকারে একজন ইয়াহূদীর কাছে কিছু আটা ধার চাইতে পাঠান। কিন্তু ইয়াহূদী বলেঃ “আমার কাছে কোন জিনিস বন্ধক রাখা ছাড়া আমি ধার দেবো না।” ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমি আকাশবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমানতদার এবং যমীনবাসীদের মধ্যেও। সে যদি আমাকে ধার দিতো অথবা বিক্রী করতো তবে আমি অবশ্য অবশ্যই ওটা আদায় করে দিতাম।” তখন (আরবি) এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। (এ হাদীসটি ইবনু আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) তাঁকে যেন পার্থিব জগতের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলা হয়েছে। হযরত ইবনু আ স (রাঃ) বলেনঃ “মানুষের জন্যে এটা নিষিদ্ধ যে, সে কারো ধন-সম্পদের প্রতি লোভের দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে।
আল্লাহ পাক যে বলেছেনঃ “আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি এর দ্বারা সম্পদশালী কাফিরদেরকে বুঝানো হয়েছে”।
আর আমরা তো আপনাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত ও মহান কুরআন [১]।
[১] অর্থাৎ সূরা ফাতিহার সাতটি আয়াত। এর প্রমাণ হলো আবু সাঈদ আল-মু'আল্লা বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেনঃ আমি সালাত আদায় করছিলাম এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছ দিয়ে গমন করার সময় আমাকে ডাকলেন। আমি আসলাম না। সালাত শেষ করে তার কাছে আসলে তিনি বললেনঃ আমার ডাকে সাড়া দিতে তোমাকে কে নিষেধ করল? আমি বললামঃ আমি সালাত আদায় করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ "আল্লাহ কি বলেননিঃ হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিও”? তারপর তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে মাসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা কি তা জানিয়ে দেব না? তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন তখন আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বললেনঃ “আলহামদু লিল্লাহ রাব্বিল আলামীন”
এটাই “সাবউল মাসানী" বা সাতটি আয়াত যা বার বার পড়া হয়, এবং কুরআনে কারীম যা আমাকে দেয়া হয়েছে।” [বুখারীঃ ৪৭০৩]
অন্য বর্ণনায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “উম্মুল কুরআন" বা সূরা আল-ফাতিহা হলো “সাবাউল মাসানী" এবং মহান কুরআন। [বুখারীঃ ৪৭০৪]
তবে কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন দু’শ আয়াত বিশিষ্ট সাতটি বড় বড় সূরা। অর্থাৎ আল-বাকারাহ, আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়েদাহ, আল-আনআম, আল-আরাফ ও ইউনুস অথবা আল-আনফাল ও আততাওবাহ। [বাগভী; ইবন কাসীর] কিন্তু পূর্ববতী আলেমগণের অধিকাংশই এ ব্যাপারে একমত যে, এখানে সূরা ফাতিহার কথাই বলা হয়েছে। যা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হাদীসের ভাষ্যসমূহ থেকে এটাও প্রমাণিত হয় যে, এখানে মহান কুরআন বলেও সূরা আল-ফাতিহাকেই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। সে হিসেবে সূরা ফাতেহাকে মহান কুরআন" বলার মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সূরা ফাতিহা এক দিক দিয়ে সমগ্র কুরআন। কেননা ইসলামের সব মূলনীতি এতে ব্যক্ত হয়েছে। [কুরতুবী] যদিও কোন কোন মুফাসসিরের মতে, কুরআনকে ভিন্নভাবে উল্লেখ করার অর্থ হলো,
“আমরা আপনাকে সাবউল মাসানী" সূরা ফাতেহা এবং পূর্ণ কুরআন দান করেছি। তখন দুটির অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হবে ।
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৮৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
(আমরা আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা যথাযথ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে সৃষ্টি করিনি) অর্থাৎ যা অবসান ও বিলুপ্তির অভিমুখী। আবার বলা হয়েছে: অর্থাৎ সৎকর্মশীলকে পুরস্কার এবং মন্দকর্মীকে শাস্তি প্রদানের জন্য, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই, যাতে তিনি মন্দকর্মীদের তাদের কৃতকর্মের ফল প্রদান করেন এবং যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করেন।" (আর নিশ্চয়ই কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী) অর্থাৎ তা অবশ্যই সংঘটিত হবে, তখন প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে। (অতএব আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করুন) যেমনটি বলা হয়েছে: "এবং তাদেরকে সুন্দরভাবে পরিহার করুন।" অর্থাৎ হে মুহাম্মদ!
আপনি তাদেরকে মার্জনা করুন এবং সুন্দরভাবে ক্ষমা করুন; পরবর্তীতে এটি যুদ্ধের নির্দেশ সম্বলিত আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। কাতাদাহ (র.) বলেন: আল্লাহর এই বাণী দ্বারা এটি রহিত হয়েছে—"অতএব তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও পাকড়াও করো এবং হত্যা করো।" আর নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "আমি তোমাদের কাছে বিনাশ নিয়ে এসেছি এবং আমি ফসল কাটার (সংগ্রামের) জন্য প্রেরিত হয়েছি, বীজ বপনের জন্য নয়।" একথা ইকরিমাহ ও মুজাহিদ (র.) বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: এটি রহিত হয়নি, বরং এটি তাঁর নিজের অন্তরে তাদের প্রতি ক্ষমার আদেশ ছিল।
হাসান (র.) ও অন্যান্যদের মতে, ‘সাফহ’ বা ক্ষমা অর্থ হলো উপেক্ষা করা। (নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালকই মহাস্রষ্টা) অর্থাৎ সৃষ্টিজগত এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী। (তিনি সর্বজ্ঞ) আনুগত্যকারী এবং মুনাফিকদের সম্পর্কে তিনি সম্যক পরিজ্ঞাত। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৮৭]আমি আপনাকে সাতটি পুনঃপুনঃ পঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন দান করেছি (৮৭)‘সাবউল মাছানি’ (সাতটি পুনঃপুনঃ পঠিত আয়াত) সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ বলেছেন: এটি হলো সূরা ফাতিহা। একথা আলী ইবনে আবী তালিব, আবু হুরায়রা, রাবী ইবনে আনাস, আবুল আলিয়া, হাসান (র.) প্রমুখগণ বলেছেন।
এটি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উবাই ইবনে কাব এবং আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রা.)-এর হাদিসের মাধ্যমে বিভিন্ন শক্তিশালী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সূরা ফাতিহার তাফসিরে ইতিপূর্বে এটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আলহামদুলিল্লাহ (সূরা ফাতিহা) হলো উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব এবং সাবউল মাছানি।" তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস। এটি একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা, যা পূর্বে সূরা ফাতিহার আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কবি বলেছেন:আমি তোমাদের কসম দিচ্ছি কুরআন অবতীর্ণকারীর নামে … যা উম্মুল কিতাব এবং সাবউল মাছানি।ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এটি হলো দীর্ঘ সাতটি সূরা: বাকারা, আলে ইমরান, নিসা, মায়িদাহ, আনআম, আরাফ এবং আনফাল ও তাওবাহ একত্রে, যেহেতু এই দুই সূরার মাঝে বিসমিল্লাহ নেই। ইমাম নাসায়ী বর্ণনা করেছেন(১). জিলদ ১৭, পৃষ্ঠা ১০৫ দেখুন।(২). জিলদ ১৯, পৃষ্ঠা ৪৪ দেখুন।(৩). জিলদ ৫, পৃষ্ঠা ৩১০ দেখুন।(৪). মূল পাণ্ডুলিপি ও তাবারির তাফসিরে এভাবেই রয়েছে। তবে ‘আল-জামেউস সগির’ কিতাবে "জিহাদের মাধ্যমে" শব্দ এসেছে।(৫). মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।(৬). জিলদ ১, পৃষ্ঠা ১০৮ দেখুন।
ইবনে নাসর এবং ইবনে জারির তাঁর 'তহজীব' গ্রন্থে মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা রমজানের শেষ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।"ইবনে আবি শাইবা, তাবারানি, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকি 'দালাইল' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রমজান মাসে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাকে স্বপ্নযোগে বলা হলো: ‘আজকের রাতটি লাইলাতুল কদর।’ আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় উঠলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তাঁবুর একটি রশি আঁকড়ে ধরে তাঁর কাছে আসলাম। তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। আমি রাতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলাম এবং দেখলাম তা ছিল তেইশতম রাত।
ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বলেন: শয়তান প্রতিদিন সূর্যের সাথে উদিত হয়, কেবল লাইলাতুল কদরের সকাল ছাড়া। কারণ সেদিন সূর্য উদিত হয় শুভ্র উজ্জ্বল অবস্থায়, যার কোনো প্রখর কিরণ থাকে না।মুহাম্মদ ইবনে নাসর এবং হাকেম (যিনি একে সহিহ বলেছেন) নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রমজানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তেইশতম রাতে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কিয়াম করলাম (নামাজ পড়লাম)। এরপর পঁচিশতম রাতে তাঁর সাথে অর্ধরাত পর্যন্ত কিয়াম করলাম। এরপর সাতাশতম রাতে তাঁর সাথে এত দীর্ঘ সময় কিয়াম করলাম যে, আমাদের আশঙ্কা হচ্ছিল যে আমরা ‘ফালাহ’ পাব না—আপনারা যেটিকে সাহরি বলে থাকেন।
আর আপনারা তেরো তারিখের অবশিষ্ট সপ্তম রাতকে লাইলাতুল কদর বলেন, আর আমরা সাতাশতম রাতকে সপ্তম রাত (শেষ দিক থেকে) বলি। আমরা কি অধিক সঠিক নাকি আপনারা?মুহাম্মদ ইবনে নাসর আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা রমজান মাসের শেষ দশকের অবশিষ্ট রাতগুলোর মধ্যে পঞ্চম, সপ্তম এবং নবম রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।"বুখারি তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: উমর (রা.) নবী (সা.)-এর সাহাবীদের লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: নিশ্চয়ই আমার রব ‘সাত’ সংখ্যাকে পছন্দ করেন (যেমন তিনি বলেছেন: ‘আমি আপনাকে সাতটি পুনঃপঠিত আয়াত দান করেছি’ - সূরা আল-হিজর: আয়াত ৮৭)।
বুখারি বলেন, এর বর্ণনাসূত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।তায়ালিসি, আহমাদ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলেছেন: "তা সাতাশতম অথবা উনত্রিশতম রাত। আর নিশ্চয়ই সেই রাতে পৃথিবীতে ফেরেশতাদের সংখ্যা কঙ্করের (নুড়িপাথর) সংখ্যার চেয়েও বেশি হয়।"মুহাম্মদ ইবনে নাসর আবু মাইমুন-এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
