Al-Waqi'ah
আল-ওয়াকিয়া: 18
56 আল-ওয়াকিয়া Al-Waqi'ah · 96 আয়াত الواقعة
মূল আরবি
بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
English Translations
With vessels, pitchers and a cup [of wine] from a flowing spring -
With cups, and jugs, and a glass from the flowing wine,
with bowls and jugs and a goblet of pure wine,
with goblets and ewers and a cup filled with a drink drawn from a running spring,
With bowls and ewers and a cup from a pure spring
With goblets, (shining) beakers, and cups (filled) out of clear-flowing fountains:
বাংলা অনুবাদ
পানপাত্র, কেটলি আর ঝর্ণার প্রবাহিত স্বচ্ছ সুরায় ভরা পেয়ালা নিয়ে,
পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে,
পান-পাত্র, কুজা ও প্রস্রবন নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে।
পানপাত্র, জগ ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে।
পানপাত্র, ঘটি ও শরাবে পরিপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে, (এরা হাজির হবে।)
১৮. তারা এদের পার্শ্ব দিয়ে জান্নাতের অবারিত ঝর্না থেকে মদের কাপ, পেয়ালা ও বাটি নিয়ে প্রদক্ষিণ করবে।
তাফসীর
56:13
পানপাত্র, জগ ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে [১]।
[১] أَكْوَابٌ শব্দটি كُوْبٌ এর বহুবচন। অর্থ গ্লাসের ন্যায় পানপাত্র। أَبَارِيْقٌ শব্দটি إِبْرِيْقٌ এর বহুবচন। এর অর্থ কুজা। এ জাতীয় পাত্রে ধরার ও বের করার জায়গা থাকে। كأس এর অর্থ সুরা পানের পেয়ালা। যদি পানীয় না থাকে তখন তাকে كأس বলা হয় না। معين এর উদ্দেশ্য এই যে, এই পানীয় একটি ঝর্ণা থেকে আনা হবে। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর; ইবন কাসীর]
জান্নাতের পানপত্র, কুজা, পেয়ালা এ সবই সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী হবে। নামে এক হলেও গুণাগুণে হবে আলাদা। তাদের এ সমস্ত সরঞ্জামাদি হবে স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত। মহান আল্লাহ বলেন, “স্বর্ণের থালা ও পানিপাত্ৰ নিয়ে তাদেরকে প্ৰদক্ষিণ করা হবে" |সূরা আয-যুখরুফ: ৭১]
আরও বলেন, “তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানপাত্ৰে--- রজতশুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে।” [সূরা আল-ইনসান: ১৫]
হাদীসেও এ সমস্ত পাত্রের বর্ণনা এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মুমিনের জন্য জান্নাতে এমন একটি তাঁবু থাকবে, যা এমন একটি মুক্তা দিয়ে তৈরী হয়েছে যে মুক্তার মাঝখানে খালি করা হয়েছে। ... আর রৌপ্যের দু'টি জান্নাত থাকবে সেগুলোর পেয়ালা ও অন্যান্য প্রসাধনী সবই রৌপ্যের। অনুরূপভাবে দু'টি স্বর্ণ নির্মিত জান্নাত থাকবে, যার পেয়ালা ও অন্যান্য প্রসাধনী সবই স্বর্ণের।” [বুখারী: ৪৮৭৮, মুসলিম: ১৮০]
[সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬): আয়াত ১৭ থেকে ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং ‘মাওদুন’ (কারুকার্যময় বুননকৃত) আসন: যার উপরিভাগ বুননকৃত বস্ত্রের ন্যায়। আর এ থেকেই ‘ওয়াদিন’ শব্দের উৎপত্তি, যা হলো চামড়ার ফিতার তৈরি এমন একটি আবরণ যা একটির ভেতরে অন্যটি প্রবেশ করিয়ে বুনা হয়। এ প্রসঙ্গেই জনৈক কবি বলেছেন:‘আপনার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে সেই উটটি, যার পেটের বন্ধনী ঢিলে হয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।’ (তারা সেখানে হেলান দিয়ে বসবে) অর্থাৎ সেই আসনসমূহের ওপর (মুখোমুখি হয়ে) অর্থাৎ কেউ কারো পিঠ দেখবে না, বরং আসনগুলো তাদের নিয়ে চারদিকে ঘুরতে থাকবে। এটি মুমিন ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও পরিজনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অর্থাৎ তারা মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসবে।
মুজাহিদ ও অন্যান্য মুফাসসিরগণ একথাই বলেছেন। কালবি বলেন: প্রতিটি আসনের দৈর্ঘ্য হবে তিনশ হাত; যখন কোনো আল্লাহর বান্দা সেটিতে বসতে চাইবে তখন সেটি নিচু হবে, আর যখন সে তাতে বসবে তখন সেটি আবার উপরে উঠে যাবে। [সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬): আয়াত ১৭ থেকে ২৬]তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা (১৭) পানপাত্র, জগ ও স্বচ্ছ ঝরনার সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে (১৮) যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানও হারাবে না (১৯) এবং তাদের পছন্দমতো ফলমূল নিয়ে (২০) আর তাদের রুচিমতো পাখির মাংস নিয়ে (২১)আর থাকবে ডাগরচোখা হুরগণ (২২) যেন তারা আবরণে রক্ষিত মুক্তা (২৩) তারা যা করত, তার পুরস্কারস্বরূপ (২৪) তারা সেখানে শুনবে না কোনো অসার কথা কিংবা কোনো পাপবাক্য (২৫) কেবল ‘সালাম আর সালাম’ ধ্বনি ছাড়া (২৬)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা) অর্থাৎ এমন কিশোর যারা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না—একথা মুজাহিদ বলেছেন।
হাসান ও কালবি বলেন: তারা কখনো বৃদ্ধ হবে না এবং তাদের কোনো পরিবর্তন হবে না। এ প্রসঙ্গে ইমরুল কায়েসের একটি পঙ্ক্তি রয়েছে:‘সুখী ও চিরঞ্জীব ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই কি আনন্দ লাভ করতে পারে... যার দুশ্চিন্তা অতি সামান্য এবং যার রাত ভীতিহীনভাবে অতিবাহিত হয়?’সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: ‘মুখাল্লাদুন’ অর্থ অলঙ্কারে সজ্জিত কিশোর। কানের দুলকে ‘খালাদাহ’ এবং গয়নার সমষ্টিকে ‘খিলদাহ’ বলা হয়। কারো মতে এর অর্থ হলো যারা কঙ্কণ পরিহিত; ফারা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। জনৈক কবি বলেন:‘এবং রূপার অলঙ্কারে সজ্জিত চিরঞ্জীবরা, যাদের কোমরগুলো যেন বালির ঢিবির চূড়া।’(১).
এখানে সর্বনামটি উষ্ট্রীকে নির্দেশ করছে; কবি বুঝাতে চেয়েছেন যে, দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে উটটি শীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।(২). ‘আকাউয’ হলো ‘কাউয’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বালির ছোট স্তূপ বা ঢিবি। এখানে নারীদের কোমরের নিম্নাংশের সাথে এর তুলনা করা হয়েছে।
