Al-Waqi'ah
আল-ওয়াকিয়া: 19
56 আল-ওয়াকিয়া Al-Waqi'ah · 96 আয়াত الواقعة
মূল আরবি
لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
English Translations
No headache will they have therefrom, nor will they be intoxicated -
Wherefrom they will get neither any aching of the head, nor any intoxication.
from which they will neither suffer headache, nor will they be intoxicated,
a drink by which their minds will not be clouded nor will it cause drunkenness;
Wherefrom they get no aching of the head nor any madness,
No after-ache will they receive therefrom, nor will they suffer intoxication:
বাংলা অনুবাদ
তা পান করলে মাথা ঘুরবে না, জ্ঞানও লোপ পাবে না
তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে।
সেই সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবেনা, তারা জ্ঞানহারাও হবেনা।
সে সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না, তারা জ্ঞানহারাও হবে না---
সেই সূরা পানে তাদের মাথা ব্যথা হবে না, তারা জ্ঞান হারাও হবে না।
১৯. এটি দুনিয়ার মদের মতো নয়। ফলে তা মাথা ব্যথা সৃষ্টি করবে না। আর না তাতে বিবেক লোপ পাবে।
তাফসীর
56:13
সে সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না, তারা জ্ঞানহারাও হবে না--- [১]
[১] يُصَدَّعُوْنَ শব্দটি صدع থেকে উদ্ভুত। অর্থ মাথা ব্যথা। দুনিয়ার সুরা অধিক মাত্রায় পান করলে মাথাব্যথা ও মাথাঘোরা দেখা দেয়। জান্নাতের সুরা এই সুরা-উপসর্গ থেকে পবিত্র হবে। [ফাতহুল কাদীর কুরতুবী] আর يبزفون এর আসল অর্থ কুপের সম্পূর্ণ পানি উত্তোলন করা। এখানে অর্থ জ্ঞানবুদ্ধি হারিয়ে ফেলা, বা বিরক্তি বোধ করা। মহান আল্লাহ জান্নাতবাসীদের যে সমস্ত পানীয় দ্বারা সম্মানিত করবেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সুরা। কিন্তু সেগুলো কখনো দুনিয়ার মদের মত হবে না। দুনিয়ার মদ বিবেক নষ্ট করে, মাথা ব্যথা সৃষ্টি করে, পেট ব্যথার উদ্রেক করে, শরীর অসুস্থ করে, রোগ-ব্যাধি টেনে আনে। [ফাতহুল কাদীর]
মহান আল্লাহ বলেন, “তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপূর্ণ পাত্রে শুভ্ৰ উজ্জ্বল, যা হবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকবে না এবং তাতে তারা মাতালও হবে না।” [সূরা আস-সাফফাত:৪৫-৪৭]
অন্য আয়াতে বলেছেন, “মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্তঃ তাতে আছে নির্মল পানির নাহর, আছে দুধের নহর যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর, আছে পরিশোধিত মধুর নহর।” [সূরা মুহাম্মদ:১৫]
তাছাড়া সেটা পান করে তারা জ্ঞানহারাও হবে না। আবার পান করতে বিরক্তি বোধও হবে না। বলা হয়েছে, “তারা তাতে মাতালও হবে না” [সূরা আস-সাফফাত:৪৭]
আলোচ্য সূরার আয়াতেও সে সুরার গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, “তাদের সেবায় ঘোরাফিরা করবে চির-কিশোরেরা, পানপত্র, কুজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে, সে সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না, তারা জ্ঞানহারাও হবে না। [সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ১৭-১৯]
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, দুনিয়ার মদের চারটি খারাপ গুণ রয়েছে। মাতলামী, মাথাব্যথা, বমি ও পেশাব। পক্ষান্তরে জান্নাতের সুরা এগুলো থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র থাকবে। [কুরতুবী] অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ জান্নাতের সুরা সম্পর্কে বলেন যে, “তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করানো হবে; ওটার মোহর মিসকের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।” [সূরা আল-মুতাফফিফীন: ২৫-২৭]
[সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬): আয়াত ১৭ থেকে ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং ‘মাওদুন’ (কারুকার্যময় বুননকৃত) আসন: যার উপরিভাগ বুননকৃত বস্ত্রের ন্যায়। আর এ থেকেই ‘ওয়াদিন’ শব্দের উৎপত্তি, যা হলো চামড়ার ফিতার তৈরি এমন একটি আবরণ যা একটির ভেতরে অন্যটি প্রবেশ করিয়ে বুনা হয়। এ প্রসঙ্গেই জনৈক কবি বলেছেন:‘আপনার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে সেই উটটি, যার পেটের বন্ধনী ঢিলে হয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।’ (তারা সেখানে হেলান দিয়ে বসবে) অর্থাৎ সেই আসনসমূহের ওপর (মুখোমুখি হয়ে) অর্থাৎ কেউ কারো পিঠ দেখবে না, বরং আসনগুলো তাদের নিয়ে চারদিকে ঘুরতে থাকবে। এটি মুমিন ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও পরিজনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অর্থাৎ তারা মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসবে।
মুজাহিদ ও অন্যান্য মুফাসসিরগণ একথাই বলেছেন। কালবি বলেন: প্রতিটি আসনের দৈর্ঘ্য হবে তিনশ হাত; যখন কোনো আল্লাহর বান্দা সেটিতে বসতে চাইবে তখন সেটি নিচু হবে, আর যখন সে তাতে বসবে তখন সেটি আবার উপরে উঠে যাবে। [সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬): আয়াত ১৭ থেকে ২৬]তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা (১৭) পানপাত্র, জগ ও স্বচ্ছ ঝরনার সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে (১৮) যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানও হারাবে না (১৯) এবং তাদের পছন্দমতো ফলমূল নিয়ে (২০) আর তাদের রুচিমতো পাখির মাংস নিয়ে (২১)আর থাকবে ডাগরচোখা হুরগণ (২২) যেন তারা আবরণে রক্ষিত মুক্তা (২৩) তারা যা করত, তার পুরস্কারস্বরূপ (২৪) তারা সেখানে শুনবে না কোনো অসার কথা কিংবা কোনো পাপবাক্য (২৫) কেবল ‘সালাম আর সালাম’ ধ্বনি ছাড়া (২৬)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা) অর্থাৎ এমন কিশোর যারা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না—একথা মুজাহিদ বলেছেন।
হাসান ও কালবি বলেন: তারা কখনো বৃদ্ধ হবে না এবং তাদের কোনো পরিবর্তন হবে না। এ প্রসঙ্গে ইমরুল কায়েসের একটি পঙ্ক্তি রয়েছে:‘সুখী ও চিরঞ্জীব ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই কি আনন্দ লাভ করতে পারে... যার দুশ্চিন্তা অতি সামান্য এবং যার রাত ভীতিহীনভাবে অতিবাহিত হয়?’সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: ‘মুখাল্লাদুন’ অর্থ অলঙ্কারে সজ্জিত কিশোর। কানের দুলকে ‘খালাদাহ’ এবং গয়নার সমষ্টিকে ‘খিলদাহ’ বলা হয়। কারো মতে এর অর্থ হলো যারা কঙ্কণ পরিহিত; ফারা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। জনৈক কবি বলেন:‘এবং রূপার অলঙ্কারে সজ্জিত চিরঞ্জীবরা, যাদের কোমরগুলো যেন বালির ঢিবির চূড়া।’(১).
এখানে সর্বনামটি উষ্ট্রীকে নির্দেশ করছে; কবি বুঝাতে চেয়েছেন যে, দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে উটটি শীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।(২). ‘আকাউয’ হলো ‘কাউয’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বালির ছোট স্তূপ বা ঢিবি। এখানে নারীদের কোমরের নিম্নাংশের সাথে এর তুলনা করা হয়েছে।
আমার বান্দাদের, আমার যিয়ারতকারীদের, আমার প্রতিবেশীদের এবং আমার প্রতিনিধিদের জন্য। হে আমার ফেরেশতারা! তোমরা আমার বান্দাদের কাছে যাও এবং তাদের আহার করাও।অতঃপর তাদের সামনে পাখির গোশত পেশ করা হলো, যা দেখতে বখত উটের কুঁজের মতো বড় বড়, যাতে কোনো পালক বা হাড় নেই। তারা আহার করল। এরপর মহামহিম রব পর্দার আড়াল থেকে তাদের সম্বোধন করে বললেন: স্বাগত আমার বান্দাদের, আমার যিয়ারতকারীদের, আমার প্রতিবেশীদের এবং আমার প্রতিনিধিদের প্রতি। তারা আহার করেছে, এখন তাদের পান করাও।তখন সুরক্ষিত মুক্তার ন্যায় কিশোর সেবকরা স্বর্ণ ও রৌপ্যের পানপাত্র নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হলো।
তাতে ছিল বিভিন্ন প্রকারের সুস্বাদু পানীয়, যার শেষ অংশের স্বাদ ছিল প্রথম অংশের মতোই। (সে পানীয় পান করলে তাদের মাথা ধরবে না এবং তারা জ্ঞানও হারাবে না) (সূরা ওয়াকিয়াহ, আয়াত ১৯)।অতঃপর মহামহিম রব পর্দার আড়াল থেকে পুনরায় ডাক দিয়ে বললেন: স্বাগত আমার বান্দাদের, আমার যিয়ারতকারীদের, আমার প্রতিবেশীদের এবং আমার প্রতিনিধিদের প্রতি। তারা আহার করেছে এবং পান করেছে, এখন তাদের ফলমূল পরিবেশন করো।তখন ইয়াকুত ও প্রবাল খচিত বড় বড় থালায় করে তাদের নিকট সেই পরিপক্ব তাজা খেজুর আনা হলো যার গুণগান আল্লাহ করেছেন; যা দুধের চেয়েও বেশি সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশি মিষ্টি।তারা তা ভক্ষণ করল।
এরপর রব পর্দার আড়াল থেকে ডাক দিলেন: স্বাগত আমার বান্দাদের, আমার যিয়ারতকারীদের, আমার প্রতিবেশীদের এবং আমার প্রতিনিধিদের প্রতি। তারা আহার করেছে, পান করেছে এবং ফলমূলও আস্বাদন করেছে; এবার তাদের পোশাক পরিয়ে দাও।তখন জান্নাতের ফলসমূহ থেকে তাদের জন্য রহমানের নূরে উজ্জ্বল কারুকার্যময় পোশাকসমূহ বের হয়ে এল এবং তাদের তা পরিয়ে দেওয়া হলো।অতঃপর মহামহিম রব পর্দার আড়াল থেকে ডাক দিয়ে বললেন: স্বাগত আমার বান্দাদের, আমার যিয়ারতকারীদের, আমার প্রতিবেশীদের এবং আমার প্রতিনিধিদের প্রতি। তারা আহার করেছে, পান করেছে, ফলমূল খেয়েছে এবং পোশাকও পরিধান করেছে; এখন তাদের সুগন্ধি মাখিয়ে দাও।তখন 'মুছিরা' নামক একটি সুগন্ধি বায়ু শুভ্র কস্তুরীর সুবাস নিয়ে তাদের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলো এবং কোনো প্রকার ধূলিকণা বা কালিমামুক্ত হয়ে তাদের চেহারায় স্নিগ্ধ পরশ বুলিয়ে দিল।
এরপর মহামহিম রব পর্দার আড়াল থেকে বললেন: স্বাগত আমার বান্দাদের, আমার যিয়ারতকারীদের, আমার প্রতিবেশীদের এবং আমার প্রতিনিধিদের প্রতি। তারা আহার করেছে, পান করেছে, ফলমূল খেয়েছে, পোশাক পরেছে এবং সুগন্ধি লাভ করেছে। আমার মর্যাদার শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সামনে প্রকাশিত হব যাতে তারা আমার দিকে তাকাতে পারে।এটাই হলো দান ও অতিরিক্ত অনুগ্রহের চূড়ান্ত প্রাপ্তি।অতঃপর রব তাদের সামনে প্রকাশিত হলেন এবং বললেন: "হে আমার বান্দারা, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা আমার দিকে তাকাও, আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।"তখন জান্নাতের প্রাসাদ ও বৃক্ষরাজি চারবার 'সুবহানাকা' (আপনি পবিত্র) বলে উচ্চধ্বনি করে উঠল এবং উপস্থিত সকলেই সিজদায় লুটিয়ে পড়ল।
তখন রব তাদের ডেকে বললেন: "হে আমার বান্দারা! তোমরা মস্তক উত্তোলন করো। কেননা এটি কর্মের ঘর নয় এবং কষ্টের স্থানও নয়; বরং এটি প্রতিদান ও সওয়াবের ঘর। আমার মর্যাদার শপথ! আমি এটি কেবল তোমাদের জন্যই সৃষ্টি করেছি। দুনিয়ার জীবনে তোমরা যে মুহূর্তেই আমাকে স্মরণ করেছ, আমি আমার আরশের ওপর থেকে তোমাদের স্মরণ করেছি।"ইবনে মারদুওয়াইহ আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন, জিবরাঈল আমাকে জানিয়েছেন: কোনো ব্যক্তি যখন জান্নাতী হূরের নিকট প্রবেশ করবে, তখন সে তাকে আলিঙ্গন ও করমর্দনের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানাবে।
সে তার যে আঙুল দিয়েই তাকে স্পর্শ করুক না কেন—যদি তার একটি আঙুলও প্রকাশিত হতো, তবে তার উজ্জ্বলতা সূর্য ও চন্দ্রের আলোকে ম্লান করে দিত। আর যদি তার চুলের একটি গুচ্ছও প্রকাশিত হতো, তবে তার সুগন্ধে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সব কিছু মোহিত হয়ে যেত। সেই ব্যক্তি যখন তার সাথে পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে, তখন হঠাৎ উপর থেকে তার ওপর একটি নূর প্রতিভাত হবে। সে মনে করবে মহান আল্লাহ বুঝি তাঁর সৃষ্টির ওপর দৃষ্টিপাত করেছেন। এমন সময় এক হূর তাকে ডেকে বলবে, "হে আল্লাহর ওলী! আমাদের মাঝে কি আপনার কোনো পাওনা নেই?" সে বলবে, "হে সুন্দরী, তুমি কে?" সে বলবে, "আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন—'আর আমার নিকট রয়েছে আরও অতিরিক্ত' (সূরা কাফ, আয়াত ৩৫)।" তখন সে তার দিকে ফিরে যাবে এবং সেখানে এমন সৌন্দর্য ও পূর্ণতা দেখতে পাবে যা প্রথমজনের মাঝে ছিল না।
এরপর সে যখন তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকবে, তখন পুনরায় উপর থেকে তার ওপর এক নূর প্রতিভাত হবে। তখন অন্য এক হূর তাকে ডেকে বলবে, "হে আল্লাহর ওলী! আমাদের মাঝে কি আপনার কোনো অংশ নেই?" সে বলবে, "হে রূপসী, তুমি কে?" সে বলবে, "আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন—'কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের নয়ন প্রীতিকর কী কী পুরস্কার লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ' (সূরা সাজদাহ, আয়াত ১৭)।" এভাবে সে এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীর দিকে স্থানান্তরিত হতে থাকবে।
