Al-Waqi'ah

আল-ওয়াকিয়া: 22

56:22
টেক্সট কপি
56 আল-ওয়াকিয়া Al-Waqi'ah · 96 আয়াত الواقعة

মূল আরবি

وَحُورٌ عِينٌ

English Translations

Sahih International

And [for them are] fair women with large, [beautiful] eyes,

Muhsin Khan

And (there will be) Houris (fair females) with wide, lovely eyes (as wives for the pious),

Taqi Usmani

And (for them there will be) houris, having lovely big eyes,

Abul Ala Maududi

and there shall be wide-eyed maidens,

Pickthall

And (there are) fair ones with wide, lovely eyes,

Yusuf Ali

And (there will be) Companions with beautiful, big, and lustrous eyes,-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর (সেখানে থাকবে) ডাগর ডাগর উজ্জ্বল সুন্দর চোখওয়ালা সুন্দরীরা,

রাওয়াই আল-বায়ান

আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হুর –

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূর,

ফাতহুল মাজীদ

আর (তাদের জন্য থাকবে) সুন্দর চক্ষুধারী হূর,

মুখতাসার

২২. তাদের উদ্দেশ্যে জান্নাতে রয়েছে পদ্মলোচন চেহারাবিশিষ্ট রমণী।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

56:13

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূর

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬): আয়াত ১৭ থেকে ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং ‘মাওদুন’ (কারুকার্যময় বুননকৃত) আসন: যার উপরিভাগ বুননকৃত বস্ত্রের ন্যায়। আর এ থেকেই ‘ওয়াদিন’ শব্দের উৎপত্তি, যা হলো চামড়ার ফিতার তৈরি এমন একটি আবরণ যা একটির ভেতরে অন্যটি প্রবেশ করিয়ে বুনা হয়। এ প্রসঙ্গেই জনৈক কবি বলেছেন:‘আপনার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে সেই উটটি, যার পেটের বন্ধনী ঢিলে হয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।’ (তারা সেখানে হেলান দিয়ে বসবে) অর্থাৎ সেই আসনসমূহের ওপর (মুখোমুখি হয়ে) অর্থাৎ কেউ কারো পিঠ দেখবে না, বরং আসনগুলো তাদের নিয়ে চারদিকে ঘুরতে থাকবে। এটি মুমিন ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও পরিজনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অর্থাৎ তারা মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসবে।

মুজাহিদ ও অন্যান্য মুফাসসিরগণ একথাই বলেছেন। কালবি বলেন: প্রতিটি আসনের দৈর্ঘ্য হবে তিনশ হাত; যখন কোনো আল্লাহর বান্দা সেটিতে বসতে চাইবে তখন সেটি নিচু হবে, আর যখন সে তাতে বসবে তখন সেটি আবার উপরে উঠে যাবে। ‌‌[সূরা আল-ওয়াকিয়া (৫৬): আয়াত ১৭ থেকে ২৬]তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা (১৭) পানপাত্র, জগ ও স্বচ্ছ ঝরনার সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে (১৮) যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানও হারাবে না (১৯) এবং তাদের পছন্দমতো ফলমূল নিয়ে (২০) আর তাদের রুচিমতো পাখির মাংস নিয়ে (২১)আর থাকবে ডাগরচোখা হুরগণ (২২) যেন তারা আবরণে রক্ষিত মুক্তা (২৩) তারা যা করত, তার পুরস্কারস্বরূপ (২৪) তারা সেখানে শুনবে না কোনো অসার কথা কিংবা কোনো পাপবাক্য (২৫) কেবল ‘সালাম আর সালাম’ ধ্বনি ছাড়া (২৬)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা) অর্থাৎ এমন কিশোর যারা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না—একথা মুজাহিদ বলেছেন।

হাসান ও কালবি বলেন: তারা কখনো বৃদ্ধ হবে না এবং তাদের কোনো পরিবর্তন হবে না। এ প্রসঙ্গে ইমরুল কায়েসের একটি পঙ্ক্তি রয়েছে:‘সুখী ও চিরঞ্জীব ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই কি আনন্দ লাভ করতে পারে... যার দুশ্চিন্তা অতি সামান্য এবং যার রাত ভীতিহীনভাবে অতিবাহিত হয়?’সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: ‘মুখাল্লাদুন’ অর্থ অলঙ্কারে সজ্জিত কিশোর। কানের দুলকে ‘খালাদাহ’ এবং গয়নার সমষ্টিকে ‘খিলদাহ’ বলা হয়। কারো মতে এর অর্থ হলো যারা কঙ্কণ পরিহিত; ফারা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। জনৈক কবি বলেন:‘এবং রূপার অলঙ্কারে সজ্জিত চিরঞ্জীবরা, যাদের কোমরগুলো যেন বালির ঢিবির চূড়া।’(১).

এখানে সর্বনামটি উষ্ট্রীকে নির্দেশ করছে; কবি বুঝাতে চেয়েছেন যে, দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে উটটি শীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।(২). ‘আকাউয’ হলো ‘কাউয’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বালির ছোট স্তূপ বা ঢিবি। এখানে নারীদের কোমরের নিম্নাংশের সাথে এর তুলনা করা হয়েছে।