Al-Mu'minun

আল-মুমিনুন: 100

23:100
23 আল-মুমিনুন Al-Mu'minun · 118 আয়াত المؤمنون

আরবি

لَعَلِّىٓ أَعْمَلُ صَـٰلِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّآ ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَا ۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ

English Translations

Sahih International

That I might do righteousness in that which I left behind." No! It is only a word he is saying; and behind them is a barrier until the Day they are resurrected.

Muhsin Khan

"So that I may do good in that which I have left behind!" No! It is but a word that he speaks, and behind them is Barzakh (a barrier) until the Day when they will be resurrected.

Taqi Usmani

so that I may act righteously in that (world) which I have left behind.” Never! It is simply a word he utters, and in front of such people there is a barrier till the day when they will be resurrected.

Abul Ala Maududi

that I have left behind. I am likely to do good." Nay, it is merely a word that he is uttering. There is a barrier behind all of them (who are dead) until the Day when they will be raised up.

Pickthall

That I may do right in that which I have left behind! But nay! It is but a word that he speaketh; and behind them is a barrier until the day when they are raised.

Yusuf Ali

"In order that I may work righteousness in the things I neglected." - "By no means! It is but a word he says."- Before them is a Partition till the Day they are raised up.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি করিনি। কক্ষনো না, এটা তো তার একটা কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত।

রাওয়াই আল-বায়ান

যেন আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি পূর্বে করিনি। না এটা হবার নয়; এটাতো তার একটা উক্তি মাত্র; তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি।’ না, এটা হওয়ার নয়। এটা তো তার একটি বাক্য মাত্র যা সে বলবেই। তাদের সামনে বার্‌যাখ থাকবে উত্থান দিন পর্যন্ত।

ফাতহুল মাজীদ

যাতে আমি সৎ কর্ম করতে পারি যা আমি পূর্বে করিনি।’ কখনো না। এটা একটি উক্তি মাত্র যা সে বলেছে। তাদের সম্মুখে মৃত্যুর পর হতে রয়েছে বারযাখ বা কবরের জীবন উত্থান দিবস পর্যন্ত‎।

মুখতাসার

১০০. যাতে আমি সেখানে ফিরে গিয়ে নেক আমল করতে পারি। বলা হবে: কখনোই না। তুমি যা কামনা করছো ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং এটি একটি কথার কথা যা সে বললো। তাকে যদি দুনিয়ার জীবনে ফেরত দেয়া হয় তাহলে সে তার ওয়াদা পুরা করবে না। বস্তুতঃ এ মৃতরা পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যকার একটি আড়ালে অবস্থান করবে। তারা আর সেখান থেকে নিজেদের হারানো জিনিস ফিরে পেতে এবং নষ্ট কর্ম সংশোধনের জন্য দুনিয়াতে ফিরে আসতে পারবে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

23:99

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি [১]।’ না, এটা হবার নয়। এটা তো তার একটি বাক্য মাত্র যা সে বলবেই [২]। তাদের সামনে বার্‌যাখ [৩] থাকবে উত্থান দিন পর্যন্ত।

[১] অর্থাৎ মৃত্যুর সময় যখন কাফের ব্যক্তি আখেরাতের আযাব অবলোকন করতে থাকে, তখন এরূপ বাসনা প্রকাশ করে, আফসোস, আমি যদি পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে যেতাম এবং সৎকর্ম করে এই আযাব থেকে রেহাই পেতাম। [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতেও এসেছে, “আর আমরা তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগে। অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে, 'হে আমার রব! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ দিতাম ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!’ আর যখন কারো নির্ধারিত কাল উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ্‌ তাকে কিছুতেই অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা আমল কর আল্লাহ্‌ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।’’ [সূরা আল-মুনাফিকূনঃ ১০-১১] আরও এসেছে, “আর সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে বের করুন, আমরা যা করতাম তার পরিবর্তে সৎকাজ করব।’ আল্লাহ্‌ বলবেন, ‘আমরা কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্ৰহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্ৰহণ করতে পারতো? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। কাজেই শাস্তি আস্বাদন কর; আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” [সূরা ফাতিরঃ ৩৭] কিন্তু তাদের সে চাওয়া পূরণ করা হবে না। [ইবন কাসীর]

[২] অর্থাৎ ফেরত পাঠানো হবে না। নতুন করে কাজ শুরু করার জন্য তাকে আর দ্বিতীয় কোন সুযোগ দেয়া যেতে পারে না। তাছাড়া যদি তাদের কথামত তাদেরকে পাঠানোও হতো তারপরও তারা আবার অন্যায় করত। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “আর তারা আবার ফিরে গেলেও তাদেরকে যা করতে নিষেধ করা হয়েছিল আবার তারা তাই করত” [সূরা আল-আন‘আমঃ ২৮] [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]

[৩] ‘বারযাখ’ এর শাব্দিক অর্থ অন্তরায় ও পৃথককারী বস্তু। দুই অবস্থা অথবা দুই বস্তুর মাঝখানে যে বস্তু আড়াল হয় তাকে বারযাখ বলা হয়। [ফাতহুল কাদীর] এ কারণেই মৃত্যুর পর কেয়ামত ও হাশার পর্যন্ত কালকে বারযাখ বলা হয়। কারণ এটা দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের জীবনের মাঝখানে সীমা প্রাচীর। আয়াতের অর্থ এই যে, মরণোম্মুখ ব্যক্তির ফেরেশতাদেরকে দুনিয়াতে পাঠানোর কথা বলা শুধু একটি কথা মাত্র, যা সে বলতে বাধ্য। কেননা, এখন আযাব সামনে এসে গেছে। কিন্তু এখন এই কথার ফায়দা নেই। কারণ, সে বারযাখে পৌঁছে গেছে। বারযাখ থেকে দুনিয়াতে ফিরে আসে না এবং কেয়ামত ও হাশর-নশরের পূর্বে পুনর্জীবন পায় না, এটাই নিয়ম।