Al-Mu'minun

আল-মুমিনুন: 105

23:105
টেক্সট কপি
23 আল-মুমিনুন Al-Mu'minun · 118 আয়াত المؤمنون

মূল আরবি

أَلَمْ تَكُنْ ءَايَـٰتِى تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ

English Translations

Sahih International

[It will be said], "Were not My verses recited to you and you used to deny them?"

Muhsin Khan

"Were not My Verses (this Quran) recited to you, and then you used to deny them?"

Taqi Usmani

(It will be said to such people), “Were My verses not used to be recited to you and you used to reject them?”

Abul Ala Maududi

"Are you not those to whom My revelations were recited, and you dubbed them as lies?"

Pickthall

(It will be said): Were not My revelations recited unto you, and then ye used to deny them?

Yusuf Ali

"Were not My Signs rehearsed to you, and ye did but treat them as falsehood?"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

(তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতগুলো আবৃত্তি করা হত না? তোমরা সেগুলোকে মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘আমার আয়াতসমূহ কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হত না?’ তারপর তোমরা তা অস্বীকার করতে’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি হতনা? অথচ তোমরা ওগুলি অস্বীকার করতে!

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হত না? তারপর তোমরা সেসবে মিথ্যারোপ করতে।

ফাতহুল মাজীদ

তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হত না? অথচ তোমরা ওগুলো অস্বীকার করতে।

মুখতাসার

১০৫. তাদেরকে ধমক দিয়ে বলা হবে: দুনিয়াতে কি তোমাদেরকে কুর‘আনের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শুনানো হয়নি?! তখন কিন্তু তোমরা সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১০৫-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর: কাফিরদেরকে তাদের কুফরী, পাপ ও সত্য-প্রত্যাখ্যানের কারণে কিয়ামতের দিন যে ভীতি প্রদর্শন করা হবে ও ধমক দেয়া হবে এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে।তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ আমি তোমাদের নিকট রাসূল পাঠিয়েছিলাম, তোমাদের উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছিলাম, তোমাদের সন্দেহ। দূর করে দিয়েছিলাম, তোমাদের কোনই যুক্তি-প্রমাণ অবশিষ্ট রাখিনি। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেন রাসূলদের পরে লোকদের জন্যে আল্লাহর উপর কোন বাদানুবাদের সুযোগ না থাকে।” (৪: ১৬৫) আর এ জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি শাস্তি প্রদানকারী নই।” (১৭:১৫) তিনি আরো বলেনঃ (আরবী) পর্যন্ত।

অর্থাৎ “যখনই তাতে (জাহান্নামে) কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তাদেরকে রক্ষীরা জিজ্ঞেস করবেঃ তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসেনি? তারা বলবেঃ অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাদেরকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্ল। "ই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা তো মহা-বিভ্রান্তিতে রয়েছে। তারা আরো বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না। তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে; সুতরাং অভিশাপ জাহান্নামীদের জন্যে।” (৬৭: ৮-১১)এ জন্যেই তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়।তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক!

এই আগুন হতে আমাদেরকে উদ্ধার করুন এবং পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন। অতঃপর আমরা যদি পুনরায় কুফরী করি তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হবো ও শাস্তির যোগ্য হয়ে যাবো। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা তাদের উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি, এখন বের হওয়ার কোন পথ আছে কি? তোমাদের এই শাস্তি তো এই জন্যে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তখন তোমরা তাকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহর শরীক স্থির করা হলে তোমরা তা বিশ্বাস করতে; বস্তুতঃ সমুচ্চ, মহান আল্লাহরই সমস্ত কর্তৃত্ব।” (৪০:১১-১২) অর্থাৎ এখন তোমাদের জন্যে সব পথই বন্ধ।

আমলের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন হলো প্রতিদান প্রদানের সময়। তাওহীদের সময় তোমরা শিরক করেছিলে। সুতরাং এখন অনুশোচনা করে কি লাভ?

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হত না? তারপর তোমরা সেসবে মিথ্যারোপ করতে [১]।

[১] অর্থাৎ দুনিয়ায় আমার নবী ক্রমাগতভাবে তোমাদের বলেছেন যে, দুনিয়ার জীবন নিছক হাতে গোনা কয়েকটি পরীক্ষার ঘণ্টা মাত্র। একেই আসল জীবন এবং একমাত্র জীবন মনে করে বসো না। আসল জীবন হচ্ছে আখেরাতের জীবন। সেখানে তোমাদের চিরকাল থাকতে হবে। এখানকার সাময়িক লাভ ও স্বাদ-আহলাদের লোভে এমন কাজ করো না যা আখেরাতের চিরন্তন জীবনে তোমাদের ভবিষ্যত ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু তখন তোমরা তার কথায় কান দাওনি। তোমরা এ আখেরাতের জগত অস্বীকার করতে থেকেছো। তোমরা মৃত্যুপরের জীবনকে একটি মনগড়া কাহিনী মনে করেছো। তোমরা নিজেদের এ ধারণার উপর জোর দিতে থেকেছো যে, জীবন-মৃত্যুর ব্যাপারটি নিছক এ দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং এখানে চুটিয়ে মজা লুটে নিতে হবে।

কাজেই এখন আর অনুশোচনা করে কী লাভ। তখনই ছিল সাবধান হবার সময় যখন তোমরা দুনিয়ার কয়েক দিনের জীবনের ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে এখানকার চিরন্তন জীবনের লাভ বিসর্জন দিচ্ছিলে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ১০৪ হতে ১০৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

"নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না; আর যদি তা নেক কাজ হয়, তবে তিনি তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর নিকট থেকে মহাপুরস্কার দান করেন।" [সূরা আন-নিসা: ৪০]। আর যদি সে হতভাগা হয়, তবে ফেরেশতারা বলেন: হে রব! তার পুণ্যসমূহ শেষ হয়ে গেছে এবং পাওনাদাররা এখনো অবশিষ্ট আছে। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমরা তাদের আমলসমূহ থেকে গ্রহণ করো এবং তা তার পাপের সাথে যুক্ত করে দাও এবং তার জন্য জাহান্নামের একটি পরওয়ানা লিখে দাও)। ‌‌[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ১০২ হতে ১০৩]সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম (১০২)। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে (১০৩)।এ দুটির আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

‌‌[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ১০৪ হতে ১০৫]আগুন তাদের চেহারাগুলোকে দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা বিশিষ্ট (১০৪)। তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো না? তখন তো তোমরা সেগুলো অস্বীকার করতে (১০৫)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (আগুন তাদের চেহারাগুলোকে দগ্ধ করবে)। বলা হয়ে থাকে "তানফাহু" শব্দটিও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন তাঁর বাণী: "যদি আপনার রবের আযাবের সামান্য তপ্ত বাতাস তাদের স্পর্শ করে..." [সূরা আল-আম্বিয়া: ৪৬]। তবে "তালফাহু" শব্দটি অধিক তীব্রতা প্রকাশ করে। বলা হয়: আগুন বা লু-হাওয়া তার উত্তাপ দিয়ে তাকে দগ্ধ করেছে।

আর যখন কাউকে তলোয়ার দিয়ে হালকা আঘাত করা হয়, তখন বলা হয় "লাফাহতুহু বিস-সাইফ"। (এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা বিশিষ্ট)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তারা হবে বিমর্ষ চেহারা বিশিষ্ট। ভাষাবিদগণ বলেন: "কুলুহ" হলো বিমর্ষ অবস্থায় মুখ বিকৃত হওয়া। আর "কালিহ" সেই ব্যক্তি যার ওষ্ঠাধর গুটিয়ে গেছে এবং দাঁত বের হয়ে আছে। আ'মাশ (রহ.) বলেছেন:তারই রয়েছে এমন শ্রেষ্ঠত্ব যার কোনো উপমা নেই … যখন চোয়াল থেকে দাঁত বের হয়ে বীভৎস রূপ নেয়।শব্দটি "কালাহা-কুলুহুন-কিলাহান" রূপে ব্যবহৃত হয়। "তার চেহারা কতই না কুৎসিত!"—এখানে চেহারা বলতে মুখ এবং তার চারপাশকে বোঝানো হয়।

আর অত্যন্ত কঠিন সময়কেও "দাহরুন কালিহ" বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে: "তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা বিশিষ্ট" বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যার চেহারা বীভৎস হয়ে গেছে, ওষ্ঠাধর সংকুচিত হয়ে গেছে এবং যার ক্ষত থেকে পুঁজ গড়িয়ে পড়ছে। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: আপনি কি আগুনে ঝলসানো সেই পশুর মাথার দিকে তাকিয়েছেন যার দাঁতগুলো বের হয়ে আছে এবং ঠোঁটগুলো গুটিয়ে গেছে? তিরমিযী শরীফে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা বিশিষ্ট" সম্পর্কে বলেছেন: (আগুনের উত্তাপে চেহারা এমন বিকৃত হবে যে, তার উপরের ঠোঁট সংকুচিত হয়ে মাথার মাঝখান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং নিচের ঠোঁট ঝুলে নাভি স্পর্শ করবে)।

তিনি বলেন: এটি একটি হাসান সহীহ গরীব হাদীস।(১). খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৯৪ এবং পরবর্তী দ্রষ্টব্য।(২). খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৬৬ দ্রষ্টব্য।(৩). খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৯২ এবং পরবর্তী দ্রষ্টব্য।(৪). অভিধানে এরূপই রয়েছে। আর মূল পাঠে "হাকিকাতান" রয়েছে, যা মূলত লিপিকারের প্রমাদ বা বিকৃতি।