Al-Mu'minun

আল-মুমিনুন: 76

23:76
টেক্সট কপি
23 আল-মুমিনুন Al-Mu'minun · 118 আয়াত المؤمنون

মূল আরবি

وَلَقَدْ أَخَذْنَـٰهُم بِٱلْعَذَابِ فَمَا ٱسْتَكَانُوا۟ لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ

English Translations

Sahih International

And We had gripped them with suffering [as a warning], but they did not yield to their Lord, nor did they humbly supplicate, [and will continue thus]

Muhsin Khan

And indeed We seized them with punishment, but they humbled not themselves to their Lord, nor did they invoke (Allah) with submission to Him.

Taqi Usmani

We have already seized them with punishment, but they did not turn humble to their Lord, nor do they supplicate in humility,

Abul Ala Maududi

(They are such) that We seized them with chastisement (and yet) they did not humble themselves before their Lord, nor do they entreat

Pickthall

Already have We grasped them with punishment, but they humble not themselves unto their Lord, nor do they pray,

Yusuf Ali

We inflicted Punishment on them, but they humbled not themselves to their Lord, nor do they submissively entreat (Him)!-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট নত হল না, আর তারা কাকুতি মিনতিও করল না।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর অবশ্যই আমি তাদেরকে আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম, তবুও তারা তাদের রবের কাছে নত হয়নি এবং বিনীত প্রার্থনাও করে না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা ধৃত করলাম, কিন্তু তারা তাদের রবের প্রতি বিনত হলনা এবং কাতর প্রার্থনাও করলনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, তারপরও তারা তাদের রবের প্রতি বিনত হল না এবং কাতর প্রার্থনাও করল না।

ফাতহুল মাজীদ

আমি তাদেরকে শাস্তি‎ দ্বারা পাকড়াও করলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনীত হল না এবং কাতর প্রার্থনাও করে না।

মুখতাসার

৭৬. আমি তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেছি এরপরও তারা নিজেদের প্রতিপালকের সামনে বিনয়ী ও অবনত হয়নি। না তারা বিপদ নাযিলের সময় তা উঠিয়ে নেয়ার জন্য তাঁকে বিনয়ের সাথে ডেকেছে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৭৬-৮৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা ধৃত করলাম অর্থাৎ আমি তাদের দুষ্কর্মের কারণে তাদেরকে কষ্ট ও বিপদে জড়িত করে ফেললাম, কিন্তু এতেও তারা না কুফরী পরিত্যাগ করলো, না তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনত হলো। বরং তখন তারা কুফরী ও বিভ্রান্তির উপর অটল থাকলো। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের কাছে যখন আমার শাস্তি এসে গেল তখন কেন তারা বিনীতভাবে আমার দিকে ঝুঁকে পড়লো না। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেছে।” (৬:৪৩) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই আয়াতে এ দুর্ভিক্ষের বর্ণনা রয়েছে যা কুরায়েশদের উপর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে না মানার কারণে পতিত হয়েছিল, যার অভিযোগ নিয়ে আবু সুফিয়ান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট গমন করেছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেনঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)!

আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে ও আত্মীয়তার সম্পর্কের মাধ্যম দিয়ে বলছি যে, (দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়ে এখন) আমরা গোবর ও রক্ত খেতে শুরু করে দিয়েছি।” তখন আল্লাহ তা'আলা (আরবী) এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। সুনানে নাসাঈতেও এটা বর্ণিত হয়েছে) এ কথাও বর্ণিত আছে যে, কুরায়েশদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের উপর বদ দু'আ করে বলেছিলেনঃ “হে আল্লাহ! হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর যুগের মত এদের উপর সাত বছরের দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন! (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে)হযরত আমর ইবনে কাইসান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত অহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রঃ)-কে বন্দী করা হলে তথায় একজন নব যুবক তাঁকে বলেনঃ “হে আবু আবদিল্লাহ (রঃ)!

আপনার মনোরঞ্জনের জন্যে আমি কিছু কবিতা পাঠ করাবো কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “এখন আমরা আল্লাহর শাস্তির মধ্যে রয়েছি। আর যারা এরূপ অবস্থাতেও আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে না তাদের বিরুদ্ধে কুরআন কারীমে অভিযোগ করা হয়েছে।” অতঃপর তিনি ক্রমান্বয়ে তিনটি রোযা রাখেন (মাঝে ইফতার না করে)। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “হে আবু আবদিল্লাহ! এটা কিরূপ রোযা (যাতে আপনি মাঝে ইফতার করেননি)?” জবাবে তিনি বলেনঃ “আমাদের জন্যে একটি নতুন বিষয় উদ্ভাবন করা হয়েছে, সুতরাং আমরাও একটা নতুন বিষয় উদ্ভাবন করলাম। অর্থাৎ আমাদেরকে বন্দী করে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে, সুতরাং আমরাও ইবাদতে বাড়াবাড়ি করলাম।” (মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে এটা বর্ণনা করা হয়েছে)এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ অবশেষে যখন আমি তাদের জন্যে কঠিন শাস্তির দর্য খুলে দেই তখনই তারা এতে হতাশ হয়ে পড়ে।

অর্থাৎ যে শাস্তির কথা তারা কল্পনাও করেনি সেই শাস্তি আকস্মিকভাবে যখন তাদের উপর এসে পড়ে তখন তারা পরিত্রাণ লাভে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে।আল্লাহ তা'আলা মানুষকে অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। তিনি চক্ষু, কর্ণ, অন্তঃকরণ এবং জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে তার একত্ব ও ব্যাপক ক্ষমতা এবং একচ্ছত্র আধিপত্য অনুধাবন করতে পারে। কিন্তু যতই নিয়ামত বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই শুকরগুযারী কমে যাচ্ছে। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।” আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) তোমার চাহিদা থাকলেও অধিকাংশ লোকই মুমিন নয়।" (১২:১০৩)।অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর বিরাট সাম্রাজ্য এবং মহাশক্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন এবং তোমাদেরকে তাঁরই নিকট একত্রিত করা হবে।

প্রথমে তিনি সৃষ্টি করেছেন, মৃত্যুর পরে পুনরায় তিনিই সৃষ্টি করবেন। ছোট, বড়, পূর্বের ও পরের কেউই অবশিষ্ট থাকবে না। পচা সড়া হাড়কে জীবিতকারী এবং মানুষকে মৃত্যুদানকারী একমাত্র তিনিই। তাঁর হুকুমেই দিন যাচ্ছে রাত্রি আসছে এবং রাত্রি যাচ্ছে দিন আসছে। সুশৃংখলভাবে একটার পর একটা আসছে ও যাচ্ছে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সৃর্ষে পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম ; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করে।” (৩৬:৪০) তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ তবুও কি তোমরা বুঝবে না? এতো বড় বড় নিদর্শন দেখেও কি তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে চিনবে না?

তিনি যে মহা-ক্ষমতাবান ও অসীম জ্ঞানের অধিকারী এটা তোমাদের মেনে নেয়া উচিত।এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ এতদসত্ত্বেও তারা বলে, যেমন বলেছিল তাদের পূর্ববর্তীরা। প্রকৃত কথা এই যে, এ যুগের কাফির ও পূর্ববর্তী যুগের কাফিরদের অন্তর একই। তাদের ও এদের উক্তির মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। ঐ উক্তি হলোঃ “আমাদের মৃত্যু ঘটলে এবং আমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হলেও কি পুনরুত্থিত হবো? এটা বোধগম্য নয়। এই প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দেয়া হয়েছে এবং অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও এই প্রতিশ্রুতিই দেয়া হয়েছিল। এটা তো সে কালের উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।

কিন্তু আমরা সে মৃত্যুর পরে কাউকেও জীবিত হতে দেখিনি।” এর দ্বারা তারা বুঝাতে চেয়েছে যে, পুনরুত্থান সম্ভব নয়। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(তারা বলে, আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবো) গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও? তারা বলে, তাই যদি হয় তবে তো এটা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। এটা তো শুধু এক বিকট আওয়াজ, তখনই ময়দানে তাদের আবির্ভাব হবে।” (৭৯: ১১-১৪) আর এক জায়গায় মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু হতে?

অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী। আর সে আমার সামনে উপমা রচনা করে অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়; বলে, অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করবে কে যখন ওটা পচে গলে যাবে? বলঃ ওর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি এটা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।” (৩৬:৭৭-৭৯)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, তারপরও তারা তাদের রব-এর প্রতি অবনত হল না এবং কাতর প্রার্থনাও করল না [১]।

[১] পূৰ্ববতী আয়াতে মুশরিকদের সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে, তারা আযাবে পতিত হওয়ার সময় আল্লাহ্‌র কাছে ফরিয়াদ করে। আমি যদি তাদের ফরিয়াদের কারণে দয়াপরবশ হয়ে আযাব সরিয়ে দেই, তবে মজ্জাগত অবাধ্যতার কারণে আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার পরক্ষণেই ওরা আবার নাফরমানীতে মশগুল হয়ে যাবে। এ আয়াতে তাদের এমনি ধরণের এক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদেরকে একবার এক আযাবে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দো‘আর বরকতে আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তারা আল্লাহ্‌র কাছে নত হয়নি এবং শির্ককেই আঁকড়ে ধরে থাকে। মূলতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাবাসীদের উপর দুর্ভিক্ষের আযাব দেয়ার জন্য দো‘আ করেছিলেন।

ফলে কুরাইশরা ঘোরতর দুর্ভিক্ষে পতিত হয় এবং মৃত জন্তু, কুকুর ইত্যাদি খেতে বাধ্য হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে আবু সুফিয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হয় এবং বলেঃ আমি আপনাকে আত্মীয়তার কসম দিচ্ছি। আপনি কি একথা বলেননি যে, আপনি বিশ্ববাসীদের জন্যে রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে আমি একথা বলেছি এবং বাস্তবেও তাই। আবু সুফিয়ান বললঃ স্বগোত্রের প্রধানদেরকে তো বদর যুদ্ধে তরবারী দ্বারা হত্যা করেছেন। যারা জীবিত আছে, তাদেরকে ক্ষুধা দিয়ে হত্যা করছেন। আল্লাহ্‌র কাছে দো‘আ করুন, যাতে এই আযাব আমাদের উপর থেকে সরে যায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো‘আ করলেন। ফলে, তৎক্ষণাৎ আযাব খতম হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই উক্ত আয়াত নাযিল হয়। আয়াতে বলা হয়েছে যে, আযাবে পতিত হওয়া এবং আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তারা তাদের পালনকর্তার সামনে নত হয়নি। বাস্তব ঘটনা তাই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দো‘আয় দুর্ভিক্ষ দূর করা হলো কিন্তু মক্কার মুশরিকরা তাদের শির্ক ও কুফরে পূর্ববৎ অটল রইল। [সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ১৭৫৩ (মাওয়ারিদুজ্জামআন)]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ৭৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আল-মুবররাদ বলেন: 'খারজ' হলো ক্রিয়ামূল, আর 'খরাজ' হলো বিশেষ্য। নজর ইবনে শুমাইল বলেন: আমি আবু আমর ইবনুল আলা-কে 'খারজ' ও 'খরাজ'-এর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'খরাজ' হলো তা যা তোমার ওপর অপরিহার্য করা হয়েছে, আর 'খারজ' হলো তা যা তুমি স্বেচ্ছায় দান করেছ। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, 'খারজ' হলো ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রদেয় কর, আর 'খরাজ' হলো ভূমির কর। প্রথম উক্তিটি আস-সা'লাবী এবং দ্বিতীয়টি আল-মাওয়ারদী উল্লেখ করেছেন। ‌‌[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ৭৩ থেকে ৭৪]আর আপনি তো অবশ্যই তাদেরকে এক সরল পথের দিকে আহ্বান করছেন।

(৭৩) আর নিশ্চয়ই যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত। (৭৪)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আপনি তো অবশ্যই তাদেরকে এক সরল পথের দিকে আহ্বান করছেন) অর্থাৎ একটি সুদৃঢ় দ্বীনের দিকে। ভাষাগতভাবে 'সিরাত' অর্থ হলো পথ; সুতরাং দ্বীনকে পথ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, তাই এটি জান্নাতের দিকে যাওয়ার পথ। (আর নিশ্চয়ই যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না) অর্থাৎ পুনরুত্থানে। (তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত) বলা হয়েছে: এটি প্রথমটির মতোই। আরও বলা হয়েছে: তারা জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত, এমনকি তারা জাহান্নামে গিয়ে পৌঁছাবে।

পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্ষেত্রে 'নাকাবা' ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয় যখন কেউ পথ থেকে সরে যায় এবং অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ থেকেই বাতাসকে 'নাকাবাত' বলা হয় যখন তা তার গতিপথে স্থির থাকে না। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বাতাস হলো 'আন-নাকবা'। ‌‌[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ৭৫]আর আমি যদি তাদের প্রতি দয়া করতাম এবং তাদের ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিতাম, তবে তারা তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে হঠকারিতা করত। (৭৫)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি যদি তাদের প্রতি দয়া করতাম এবং তাদের ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিতাম) অর্থাৎ যদি আমি তাদেরকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দিতাম এবং তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ না করিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করতাম (তবে তারা তাদের অবাধ্যতায় হঠকারিতা করত)।

আস-সুদ্দী বলেন: তাদের পাপাচারে। (বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত) আল-আমাশ বলেন: তারা ইতস্তত ঘুরে বেড়াত। ইবনে জুরাইজ বলেন: "আর আমি যদি তাদের প্রতি দয়া করতাম" অর্থাৎ দুনিয়াতে, "এবং তাদের ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিতাম" অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা থেকে, "তবে তারা হঠকারিতা করত" অর্থাৎ তারা অবিচল থাকত "তাদের অবাধ্যতায়" তথা তাদের পথভ্রষ্টতায় ও সীমালঙ্ঘনে, "বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত" অর্থাৎ তারা দোদুল্যমান থাকত এবং লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরত। ‌‌[সূরা আল-মুমিনুন (২৩): আয়াত ৭৬]আর আমি তো তাদেরকে আজাব দিয়ে পাকড়াও করেছি, তবুও তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে বিনীত হলো না এবং তারা বিনীতভাবে প্রার্থনাও করছে না।

(৭৬)

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

হান্নাদ এবং ইবনে জারীর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কাউসারের ঝরনাধারার শব্দ শুনতে পছন্দ করে, সে যেন তার দুই আঙুল নিজ কানে প্রবেশ করায়।"ইবনে জারীর এবং ইবনে আসাকির মুজাহিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কাউসার হলো দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ।"হান্নাদ, ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে আসাকির ইকরিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কাউসার হলো আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন অর্থাৎ নবুওয়াত, কল্যাণ এবং কুরআন।"ইবনে আবি হাতিম হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কাউসার হলো কুরআন।"ইবনে আবি হাতিম, হাকেম, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এই সূরা অবতীর্ণ হলো— নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: "এই 'নাহিরা' (কুরবানি/নহর) কী, যার নির্দেশ আমার রব আমাকে দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "এটি জবেহ বা কুরবানি নয়, বরং তিনি আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি যখন নামাযের জন্য তাহরীমা বাঁধবেন তখন হাত উত্তোলন করুন—যখন তাকবীর বলবেন, যখন রুকুতে যাবেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলবেন; কারণ এটিই আমাদের নামায এবং সপ্তাকাশে অবস্থানরত ফেরেশতাদের নামায।

আর প্রতিটি জিনিসেরই একটি সৌন্দর্য আছে, আর নামাযের সৌন্দর্য হলো প্রতি তাকবীরের সময় হাত তোলা।"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "হাত তোলা হলো সেই বিনম্রতার অন্তর্ভুক্ত যা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: (অতঃপর তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনীত হয়নি এবং কাতর প্রার্থনাও করেনি) (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৭৬)।" ইবনে জারীর আবু জাফর (রহ.) থেকে আল্লাহর বাণী: সুতরাং আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি হলো নামায। আর এবং কুরবানি (নহর) করুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন: নামাযের শুরুতে প্রথম তাকবীর বলার সময় হাত তোলা।ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণী: সুতরাং আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানি করুন প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, আপনি যখন নামাযের জন্য তাকবীর বলবেন তখন আপনার হাত আপনার কণ্ঠনালী বা বুকের উপরের অংশ বরাবর উত্তোলন করবেন, আর সেটিই হলো 'নাহর'।"ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে, বুখারী তাঁর 'তারীখ'-এ, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, দারা কুতনী তাঁর 'আফরাদ' গ্রন্থে, আবু শেখ, হাকেম, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী: সুতরাং আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানি করুন প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর মাঝখানের ওপর রাখা, অতঃপর তা বুকের ওপর স্থাপন করা।"আবু শেখ এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।ইবনে আবি হাতিম, ইবনে শাহীন তাঁর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন...