Al-Mu'minun
আল-মুমিনুন: 69
23 আল-মুমিনুন Al-Mu'minun · 118 আয়াত المؤمنون
মূল আরবি
أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا۟ رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُۥ مُنكِرُونَ
English Translations
Or did they not know their Messenger, so they are toward him disacknowledging?
Or is it that they did not recognize their Messenger (Muhammad SAW) so they deny him?
Or did they not recognize their messenger and therefore they denied him?
Or is it that they were unaware of their Messenger and were therefore repelled by him for he was a stranger to them?
Or know they not their messenger, and so reject him?
Or do they not recognise their Messenger, that they deny him?
বাংলা অনুবাদ
কিংবা তারা কি তাদের রসূলকে চিনতে পারে না এজন্য তারা তাকে অস্বীকার করছে
নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনতে পারেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করছে?
অথচ তারা কি তাদের রাসূলকে চিনেনা বলে তাকে অস্বীকার করে?
নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনে না বলে তাকে অস্বীকার করছে?
অথবা তারা কি তাদের রাসূলকে চিনে না যার ফলে তাকে অস্বীকার করে?
৬৯. না কি তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে চিনতে পারেনি যাঁকে আল্লাহ তা‘আলা তাদের নিকট পাঠিয়েছেন। ফলে তারা তাঁকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ তারা তাঁকে চিনেছে এবং তাঁর সত্যতা ও আমানতদারিতা সম্পর্কে ভালোই জানে।
তাফসীর
23:68
নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনে না বলে তাকে অস্বীকার করছে [১]?
[১] অর্থাৎ তাদের অস্বীকারের এক কারণ হতে পারত এই যে, যে ব্যাক্তি সত্যে দাওয়াত ও নবুওয়তের দাবী নিয়ে আগমন করেছেন, তিনি ভিন্ন দেশের লোক। তার বংশ, অভ্যাস, চালচলন ও চরিত্র সম্পর্কে তারা জ্ঞাত নয়। এমতাবস্থায় তারা বলতে পারত যে, আমরা এই নবীর জীবনালেখ্য সম্পর্কে অবগত নই; কাজেই তাকে নবী রাসূল মেনে কিরূপে অনুসরণ করতে পারি? কিন্তু এখানে তো এরূপ অবস্থা নয়। বরং একথা সুস্পষ্ট ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্ভ্রান্ততম কুরাইশ বংশে এই শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং শৈশব থেকে শুরু করে তার যৌবন ও পরবর্তী সমগ্র সময় তাদের সামনেই অতিবাহিত হয়েছিল।
তার কোন কর্ম, কোন অভ্যাসই তাদের কাছে গোপন ছিল না। নবুওয়ত দাবী করার পূর্ব পর্যন্ত সমগ্র কাফের সম্প্রদায় তাকে ‘সাদিক’ ও ‘আমীন'- সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত বলে সম্বোধন করত। তার চরিত্র ও কর্ম সম্পর্কে কেউ কোন দিন কোন সন্দেহই করেনি। তারপর তারা এও জানতো যে, নবুওয়াতের দাবীর একদিন আগে পর্যন্তও কেউ তার মুখ থেকে এমন কোন কথা শোনেনি যা থেকে এ সন্দেহ করা যেতে পারে যে, তিনি কোন দাবী করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর যেদিন তিনি দাবী করেন তার পর থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত একই কথা বলে আসছেন। আবার তার জীবন যাপন প্ৰণালী সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, অন্যদেরকে তিনি যা কিছু বলেন, তা সবার আগে নিজে পালন করে দেখিয়ে দেন।
তার কথায় ও কাজে কোন বৈপরীত্য নেই। কাজেই তাদের এ অজুহাতও অচল যে, তারা তাকে চেনে না। তাই জা‘ফর ইবন আবু তালেব হাবশার বাদশাকে বলেছিলেন, “হে রাজন! আল্লাহ্ আমাদের কাছে এমন এক রাসূল পাঠিয়েছেন আমরা তার বংশ, সত্যবাদিতা ও আমানতদারীসহ যাবতীয় পরিচয় জানি।” [মুসনাদে আহমাদ ৫/২৯০] অনুরূপভাবে আবু সুফিয়ান ইবন হারাবের কাছে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাগুণ, বংশ, সত্যবাদিতা সম্পপর্কে প্রশ্ন করেছিল তখন সে কাফের থাকা অবস্থায়ও সত্য কথা বলতে বাধ্য হয়েছিল। [বুখারীঃ ৭]
[সূরা আল-মুমিনূন (২৩): আয়াত ৬৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
চতুর্থত- এই অপছন্দনীয়তা কেবল সেই বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট যা ইবাদত, জিকির, ইলম শিক্ষা দান এবং পরিবারের সাথে ইলম ও কল্যাণকর বিষয়ে রাতের আলাপচারিতা বা এই জাতীয় কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সালাফদের থেকে এমন বর্ণনা এসেছে যা এর বৈধতা, বরং এর মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ দেয়। ইমাম বুখারী বলেন: (অনুচ্ছেদ: এশার পর ফিকহ ও কল্যাণের বিষয়ে রাতের আলাপচারিতা)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুররাহ ইবনে খালিদ বলেছেন: আমরা হাসানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তিনি আসতে বিলম্ব করলেন এমনকি তার তাহাজ্জুদের সময়ের কাছাকাছি হয়ে গেল।
অতঃপর তিনি এসে বললেন: আমাদের এই প্রতিবেশীরা আমাদের দাওয়াত করেছিল। এরপর আনাস বললেন: এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপেক্ষায় ছিলাম যতক্ষণ না মধ্যরাত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: (নিশ্চয়ই লোকেরা সালাত আদায় করে নিয়েছে, আর তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করছিলে ততক্ষণ সালাতেই ছিলে)। হাসান বলেন: সম্প্রদায় ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকে যতক্ষণ তারা কল্যাণের অপেক্ষা করে। তিনি আরও বলেছেন: (অনুচ্ছেদ: মেহমান ও পরিবারের সাথে রাতের আলাপচারিতা) এবং তিনি আবু বকর ইবনে আবদুর রহমানের হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, আসহাবে সুফফার সদস্যগণ দরিদ্র ছিলেন … হাদিসটি।
এটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন। আর সীমান্ত পাহারা দেওয়া এবং রাতে সৈন্যদের পাহারায় যে বিপুল সওয়াব ও মহান প্রতিদান রয়েছে তা হাদিসের বর্ণনায় সুবিদিত। এর বিস্তারিত আলোচনা ইতিপূর্বে "আলে ইমরান"-এর শেষে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। [সূরা আল-মুমিনূন (২৩): আয়াত ৬৮]তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি? (৬৮)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি?) অর্থাৎ কুরআন। এটি আল্লাহ তাআলার বাণী: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না" [আন-নিসা: ৮২]-এর মতোই।
কুরআনকে 'কাওল' (বাণী) বলা হয়েছে কারণ তাদের এই বাণীর মাধ্যমেই সম্বোধন করা হয়েছে। (নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি?) ফলে তারা একে অস্বীকার করেছে এবং তা থেকে বিমুখ হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: "আম" শব্দটি "বরং" অর্থে এসেছে, অর্থাৎ বরং তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যার কোনো অভিজ্ঞতা বা পরিচিতি তাদের পূর্বপুরুষদের ছিল না। একারণেই তারা একে অস্বীকার করেছে এবং এর প্রতি চিন্তাভাবনা করা বর্জন করেছে। ইবনে আব্বাস এটিই বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, তাদের কাছে কি আযাব থেকে মুক্তির কোনো নিশ্চয়তা এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
তাই তারা মহাসম্মানিত সত্তাকে বর্জন করেছে। [সূরা আল-মুমিনূন (২৩): আয়াত ৬৯]নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনতে পারেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করছে? (৬৯)(১). রাথ: বিলম্ব করা।(২). দেখুন: ৪র্থ খণ্ড, ৩২৩ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী।(৩). দেখুন: ৫ম খণ্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী।
