Al-Mu'minun

আল-মুমিনুন: 50

23:50
23 আল-মুমিনুন Al-Mu'minun · 118 আয়াত المؤمنون

আরবি

وَجَعَلْنَا ٱبْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُۥٓ ءَايَةً وَءَاوَيْنَـٰهُمَآ إِلَىٰ رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ

English Translations

Sahih International

And We made the son of Mary and his mother a sign and sheltered them within a high ground having level [areas] and flowing water.

Muhsin Khan

And We made the son of Maryam (Mary) and his mother as a sign, And We gave them refuge on high ground, a place of rest, security and flowing streams.

Taqi Usmani

And We made the son of Maryam (Mary) and his mother a sign, and gave them shelter on a height, having a place of rest and running springs.

Abul Ala Maududi

And We made Mary's son, and his mother, a Sign, and We gave them refuge on a lofty ground, a peaceful site with springs flowing in it.

Pickthall

And We made the son of Mary and his mother a portent, and We gave them refuge on a height, a place of flocks and watersprings.

Yusuf Ali

And We made the son of Mary and his mother as a Sign: We gave them both shelter on high ground, affording rest and security and furnished with springs.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমি মারইয়াম-পুত্র আর তার মাকে নিদর্শন করেছিলাম আর তাদেরকে স্বস্তি নিরাপত্তা ও ঝর্ণা বিশিষ্ট উচ্চ স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর আমি মারইয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন বানালাম এবং তাদেরকে আবাসযোগ্য ও ঝর্নাবিশিষ্ট এক উঁচু ভূমিতে আশ্রয় দিলাম।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং আমি মারইয়াম তনয় ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন, তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবন বিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর আমরা মারইয়াম-পুত্র ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন এবং তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক অবস্থানযোগ্য ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।

ফাতহুল মাজীদ

আমি মারইয়ামের পুত্র আর তার মাকে নিদর্শন করেছিলাম আর তাদেরকে স্বস্তি নিরাপত্তা ও ঝর্ণা বিশিষ্ট উচ্চ স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম।

মুখতাসার

৫০. আর আমি ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম ও তাঁর মা মারইয়ামকে আমার অসীম ক্ষমতা বুঝায় এমন নিদর্শন বানিয়েছি। মারইয়াম তার কোন পিতা ছাড়াই তাকে গর্ভে ধারণ করেছে। আমি তাদেরকে জমিনের একটি উঁচু জায়গায় আশ্রয় দিয়েছি যা ছিলো সমতল ও অবস্থানের উপযুক্ত। উপরন্তু তাতে ছিলো চলমান নতুন পানি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআলা খরব দিচ্ছেন যে, তিনি হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)-কে তাঁর পূর্ণ ও ব্যাপক ক্ষমতা প্রকাশের এক বড় নিদর্শন বানিয়েছেন। হযরত আদম (আঃ)-কে তিনি নর ও নারীর মাধ্যম ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। হযরত হাওয়া (আঃ)-কে স্ত্রী ছাড়া শুধু পুরুষের মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং হযরত ঈসা (আঃ)-কে তিনি সৃষ্টি করেছেন পুরুষ লোকে ছাড়া শুধু স্ত্রীলোকের মাধ্যমে। আর অবশিষ্ট সমস্ত লোককে তিনি নর ও নারীর মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন।(আরবী) বলা হয় ঐ উঁচু ভূমিকে যা সবুজ-শ্যামল ও কৃষি কার্যের উপযোগী। এরূপ তৃণলতা ও পানি বিশিষ্ট তরুতাজা এবং সবুজ-শ্যামল স্থানে আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দা ও নবী হযরত ঈসা (আঃ) এবং তাঁর মাতা হযরত মারইয়াম (আঃ)-কে আশ্রয় দান করেছিলেন। সেখানে পানি প্রবাহিত হতো। ওটা ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এক মসৃণ ও সমতলভূমি। কোন কোন গুরুজনের মতে ওটা ছিল মিসরের ভূখণ্ড। আবার কারো কারো মতে ওটা ছিল দামেস্ক অথবা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড। (আরবী) বালুকাময় ভূমিকেও বলা হয়। যেমন হযরত মুররাতল বাহযী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যা তিনি একজন সাহাবী (রাঃ)-কে বলেছিলেনঃ “রাবওয়াতে তোমার ইন্তেকাল হবে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা অত্যন্ত গারীব বা দুর্বল হাদীস) ঐ সাহাবী (রাঃ) বালুকাময় ভূমিতেই মৃত্যুবরণ করেন। এসব উক্তির মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিশ্বাসযোগ্য উক্তি হলো এই যে, এর দ্বারা নহরকে বুঝানো হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক তোমার পাদদেশে এক নহর সৃষ্টি করেছেন।” (১৯:২৪) সুতরাং এটা হলো বায়তুল মুকাদ্দাসের একটি স্থান। তাহলে এ আয়াতটি যেন ঐ আয়াতেরই তাফসীর। আর কুরআনের তাফসীর প্রথমতঃ কুরআন দ্বারা, তারপর হাদীস দ্বারা এবং এরপর আসার দ্বারা করা উচিত।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর আমরা মারইয়াম-পুত্র ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন এবং তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক অবস্থানযোগ্য ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে [১]।

[১] আভিধানিক অর্থে “রাবওয়াহ" এমন সুউচ্চ ভূমিকে বলা হয় যা সমতল এবং আশপাশের এলাকা থেকে উঁচু। অন্যদিকে “যা-তি কারার” মানে হচ্ছে এমন জায়গা যেখানে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়া যায় এবং অবস্থানকারী সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করতে পারে। আর “মাঈন” মানে হচ্ছে বহমান পানি বা নির্বারিণী। [ইবন কাসীর] এখানে কুরআন কোন স্থানটির প্রতি ইংগিত করছে তা নিশ্চয়তা সহকারে বলা কঠিন। বিভিন্নজন এ থেকে বিভিন্ন স্থানের কথা মনে করেছেন। কেউ বলেন, এ স্থানটি ছিল দামেশক। কেউ বলেন, রামলাহ। কেউ বলেন, বাইতুল মাকদিস আবার কেউ বলেন, ফিলিস্তিন। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]