Ali 'Imran

আলে ইমরান: 106

3:106
টেক্সট কপি

মূল আরবি

يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ ۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَـٰنِكُمْ فَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ

English Translations

Sahih International

On the Day [some] faces will turn white and [some] faces will turn black. As for those whose faces turn black, [to them it will be said], "Did you disbelieve [i.e., reject faith] after your belief? Then taste the punishment for what you used to reject."

Muhsin Khan

On the Day (i.e. the Day of Resurrection) when some faces will become white and some faces will become black; as for those whose faces will become black (to them will be said): "Did you reject Faith after accepting it? Then taste the torment (in Hell) for rejecting Faith."

Taqi Usmani

on a day when some faces shall turn bright, and some faces shall turn dark. As for those whose faces turn dark, (they shall be questioned): “Did you disbelieve after you had accepted the Faith? Now taste the punishment, because you used to disbelieve.”

Abul Ala Maududi

On the Day when some faces will turn bright and ther faces will turn dark. Those whose faces have turned dark will be told: 'Did you fall into unbelief after you had been blessed with belief? Taste, then, chastisement for your unbelief.

Pickthall

On the Day when (some) faces will be whitened and (some) faces will be blackened; and as for those whose faces have been blackened, it will be said unto them: Disbelieved ye after your (profession of) belief? Then taste the punishment for that ye disbelieved.

Yusuf Ali

On the Day when some faces will be (lit up with) white, and some faces will be (in the gloom of) black: To those whose faces will be black, (will be said): "Did ye reject Faith after accepting it? Taste then the penalty for rejecting Faith."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সে দিন কতক মুখ উজ্জ্বল হবে আর কতক মুখ কালো হবে, যাদের মুখ কালো হবে, (তাদেরকে বলা হবে), তোমরা কি ঈমান আনার পরও কুফরী করেছিলে? কাজেই নিজেদের কুফরীর জন্য শাস্তি ভোগ করতে থাক।

রাওয়াই আল-বায়ান

সেদিন কতক চেহারা সাদা হবে এবং কতক চেহারা হবে কালো। আর যাদের চেহারা কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমরা আযাব আস্বাদন কর। কারণ তোমরা কুফরী করতে’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

সেদিন কতগুলি মুখমন্ডল হবে শ্বেতবর্ণ এবং কতক মুখমন্ডল হবে কৃষ্ণবর্ণ; অতঃপর যাদের মুখমন্ডল কৃষ্ণবর্ণ হবে, (তাদেরকে বলা হবে) তাহলে কি তোমরা বিশ্বাস স্থাপনের পর অবিশ্বাসী হয়েছ? অতএব তোমরা শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ কর, যেহেতু তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সেদিন কিছু মুখ উজ্জল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে; যাদের মুখ কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে), ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা কুফরী করতে।’

ফাতহুল মাজীদ

সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল এবং কিছু চেহারা হবে কালো। অতঃপর যাদের চেহারা কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে), তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমাদের কুফরী করার কারণে শাস্তি ভোগ কর।

মুখতাসার

১০৬. এ কঠিন শাস্তি তাদের উপর কিয়ামতের দিন পতিত হবে। যখন ঈমানদারদের চেহারাগুলো খুশি ও সৌভাগ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আর কাফিরদের চেহারাগুলো চিন্তা ও বিষণ্নতায় বিবর্ণ হয়ে যাবে। বস্তুতঃ সে কঠিন দিনে যাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে তাদেরকে তিরস্কার করে বলা হবে: তোমরা কি আল্লাহর তাওহীদ ও তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিকে অস্বীকার করনি? যাতে বলা হয়েছে তোমরা তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। অথচ তোমরা তা ইতিপূর্বে স্বীকার ও বিশ্বাস করেছিলে?! অতএব তোমরা আল্লাহর শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করো যা তিনি তোমাদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন তোমাদের কুফরির কারণে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

3:104

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সেদিন কিছু মুখ উজ্জল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে [১]; যাদের মুখ কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে), ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে [২]? সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা কুফরী করতে।’

[১] উজ্জ্বল মুখ ও কালো মুখ কারা, এ সম্পর্কে তাফসীরবিদগণের বিভিন্ন উক্তি বর্ণিত আছে। ইবনে-আব্বাস বলেনঃ আহলে সুন্নাত সম্প্রদায়ের মুখমণ্ডল শুভ্র হবে এবং বিদ’আতীদের মুখমণ্ডল কালো হবে। আতা বলেনঃ মুহাজির ও আনসারগণের মুখমণ্ডল সাদা হবে এবং বণী-নদ্বীরের মুখমণ্ডল কালো হবে। ইকরিমাহ বলেনঃ আহলে কিতাবগণের এক অংশের মুখমণ্ডল কালো হবে অর্থাৎ যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়ত লাভের পূর্বে তিনি নবী হবেন বলে বিশ্বাস করতো কিন্তু নবুওয়ত প্রাপ্তির পর তাকে সাহায্য ও সমর্থন করার পরিবর্তে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে শুরু করে।

আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘খারেজী সম্প্রদায়ের মুখমণ্ডল কালো হবে। আর যারা তাদের হত্যা করবে, তাদের মুখমণ্ডল সাদা হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘এটি যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাতবার না শুনতাম, তবে বর্ণনাই করতাম না’। [তিরমিয়ী: ৩০০০]

[২] তাদের চেহারা কেন কালো হবে, তার কারণ বর্ণনায় এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, তাদের চেহারা কালো হবার কারণ হচ্ছে, “তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে”। অন্য আয়াতে আল্লাহ্‌র উপর মিথ্যাচার করাকেই চেহারা কালো হওয়ার কারণ বলা হয়েছে, “আর যারা আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, আপনি কিয়ামতের দিন তাদের চেহারাসমূহ কালো দেখবেন। অহংকারীদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?” [সূরা আয-যুমার: ৬০]

আবার কোন কোন আয়াতে গোনাহ অর্জন করার কারণে তাদের চেহারা কালো হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। “আর যারা মন্দ কাজ করে তাদের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং তাদেরকে হীনতা আচ্ছন্ন করবে; আল্লাহ থেকে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই; তাদের মুখমন্ডল যেন রাতের অন্ধকারের আস্তরণে আচ্ছাদিত। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে” [সূরা ইউনুস: ২৭]

কোন কোন আয়াতে কুফরী ও অপরাধী হওয়াকেই চেহারা কালো হবার কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে, “আর অনেক চেহারা সেদিন হবে ধূলিধূসর, সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে কালিমা। এরাই কাফির ও পাপাচারী।” [সূরা আবাসাঃ ৪০-৪১] বস্তুত: এগুলোতে কোন বিরোধ নেই। কারণ, এ সব কারণেই চেহারা কালো হবে। কাফেরদের চেহারা কালো হবেই।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ১০৬ থেকে ১০৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এই অতিরিক্ত অংশটুকু কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তিনি এটি তাঁর সেই মাসহাফে (কুরআনের সংকলনে) লিখেননি যা মুসলিমদের ইমাম (আদর্শ), বরং তিনি এটি উপদেশ প্রদানের উদ্দেশ্যে এবং মহান রব্বুল আলামীনের পূর্বেকার কালামকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য উল্লেখ করেছেন। ‌‌[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ১০৫]আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর দলে দলে বিভক্ত হয়েছে এবং মতভেদে লিপ্ত হয়েছে; আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর শাস্তি। (১০৫)অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের কথা বোঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে: তারা হলো এই উম্মতের বিদআতিরা।

আবু উমামা (রা.) বলেন: তারা হলো হারুরিয়া (খারেজি) সম্প্রদায়, এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন: "যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর দলে দলে বিভক্ত হয়েছে এবং মতভেদে লিপ্ত হয়েছে" তারা হলো ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানরা। "জা’আহুম" (جَاءَهُمْ) শব্দটি বহুবচনের ভিত্তিতে পুংলিঙ্গরূপে ব্যবহৃত হয়েছে, আর "জা’আতহুম" (جاءتهم) শব্দটি সমষ্টির অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‌‌[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ১০৬ থেকে ১০৭]সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে। যাদের মুখ কালো হবে (তাদের বলা হবে): "তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরি করেছিলে?

সুতরাং তোমরা যা কুফরি করতে তার বিনিময়ে আজ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।" (১০৬) আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে এবং তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। (১০৭)এখানে তিনটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি— মহান আল্লাহর বাণী: (সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে) অর্থাৎ কিয়ামতের দিন যখন তাদের কবর থেকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন মুমিনদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং কাফিরদের মুখমণ্ডল হবে কালো। আরও বলা হয়েছে: এটি হবে আমলনামা পাঠের সময়; যখন মুমিন ব্যক্তি তার আমলনামা পাঠ করবে এবং তাতে নিজের নেক আমলগুলো দেখবে, তখন সে আনন্দিত হবে এবং তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

আর যখন কাফির ও মুনাফিকরা তাদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাতে নিজেদের পাপসমূহ দেখতে পাবে, তখন তাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। আবার বলা হয়েছে: এটি মিজানের (দাঁড়িপাল্লা) নিকট ঘটবে; যখন কারো পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে তখন তার মুখ উজ্জ্বল হবে, আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে তার মুখ কালো হয়ে যাবে। আরও বলা হয়েছে: এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সময় ঘটবে— "হে অপরাধীরা! তোমরা আজ পৃথক হয়ে যাও" [ইয়াসিন: ৫৯]। আবার বলা হয়েছে: কিয়ামতের দিন যখন প্রতিটি দলকে তাদের উপাস্যদের সাথে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, তখন তারা যখন তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তারা চিন্তিত হবে এবং তাদের মুখ কালো হয়ে যাবে।

এরপর কেবল মুমিন, আহলে কিতাব এবং মুনাফিকরা অবশিষ্ট থাকবে। তখন মহান আল্লাহ মুমিনদের বলবেন: "তোমাদের রব কে?" তারা বলবে: "আমাদের রব আল্লাহ তায়ালা।" তখন তিনি তাদের বলবেন: "তোমরা কি তাঁকে দেখলে চিনতে পারবে?" তারা বলবে: "সুবহানাল্লাহ! যদি তিনি আত্মপরিচয় দান করেন তবে আমরা তাঁকে চিনতে পারব।" তখন তারা তাঁকে দেখতে পাবে যেভাবে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন।(১). দেখুন: ১৫ খণ্ড, ৪৬ পৃষ্ঠা।(২). এটি ইবনুল আসীরের উক্তি, অর্থাৎ যদি তিনি এমন কোনো গুণের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন যার দ্বারা তাঁর সত্তা প্রমাণিত হয়, তবে আমরা তাঁকে চিনতে পারব। পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে আছে: 'যদি আমরা তাঁকে চিনি', এবং 'হা'-তে আছে: 'যদি আমরা তাঁকে চিনি'।

আর 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'যদি আমরা তাঁকে দেখি তবে চিনতে পারব'।