Ali 'Imran

আলে ইমরান: 60

3:60
টেক্সট কপি

মূল আরবি

ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْمُمْتَرِينَ

English Translations

Sahih International

The truth is from your Lord, so do not be among the doubters.

Muhsin Khan

(This is) the truth from your Lord, so be not of those who doubt.

Taqi Usmani

The truth is from your Lord. So, do not be of those who doubt.

Abul Ala Maududi

This is the truth from your Lord; be not, then, among those who doubt.

Pickthall

(This is) the truth from thy Lord (O Muhammad), so be not thou of those who waver.

Yusuf Ali

The Truth (comes) from Allah alone; so be not of those who doubt.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এ বাস্তব ঘটনা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতেই, সুতরাং তুমি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

রাওয়াই আল-বায়ান

সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এই বাস্তব ঘটনা তোমার রবের পক্ষ হতে; সুতরাং তুমি সংশয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

(এটা) আপনার রবের নিকট থেকে সত্য, কাজেই আপনি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

ফাতহুল মাজীদ

সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে আসে। সুতরাং তুমি সন্দেহকারীদের মধ্যে হয়ো না।

মুখতাসার

৬০. ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে সন্দেহাতীত সত্য কথা হলো যা আপনার উপর আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। তাই আপনি এ ব্যাপারে সন্দিহান ও দ্বিধাগ্রস্ত হবেন না। বরং আপনি যে সত্যের উপর আছেন তার উপর আপনি অটল থাকুন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

3:59

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

(এটা) আপনার রবের নিকট থেকে সত্য, কাজেই আপনি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না [১]।

[১] এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, সূরা আলে-ইমরানে আল্লাহ্ তা'আলা পূর্ববর্তী রাসূলগণের উল্লেখ প্রসঙ্গে আদম, নূহ, ইবরাহীম ও ইমরানের বংশধরের কথা একটি মাত্র আয়াতে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। এরপর প্রায় বাইশটি আয়াতে ঈসা '‘আলাইহিস সালাম ও তার পরিবারের উল্লেখ এমন বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে যে, কুরআন যার প্রতি নাযিল হয়েছে তার উল্লেখও এমন বিস্তারিতভাবে করা হয়নি। ঈসা ‘আলাইহিস সালামের মাতামহীর উল্লেখ, তার মানতের বর্ণনা, জননীর জন্ম, তার নাম, তার লালন-পালনের বিস্তারিত বিবরণ, ঈসা ‘আলাইহিস সালামের জননীর গর্ভে আগমন, অতঃপর জন্মের বিস্তারিত অবস্থা, জন্মের পর জননী কি পানাহার করলেন, শিশু সন্তানকে নিয়ে গৃহে আগমন, পরিবারের লোকদের ভর্ৎসনা, জন্মের পরপরই ঈসা ‘আলাইহিস সালামের বাকশক্তি প্রাপ্তি, যৌবনে পদার্পণ, স্বজাতিকে দ্বীনের প্রতি আহবান, তাদের বিরোধিতা, সহচরদের সাহায্য, ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্র, জীবিতাবস্থায় আকাশে উত্থিত হওয়া প্রভৃতি।

এরপর মুতাওয়াতির হাদীসসমূহে তার আরো গুণাবলী, আকার আকৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইত্যাদির পূর্ণ বিবরণও এমনিভাবে দেয়া হয়েছে যে, সমগ্র কুরআন ও হাদীসে কোন রাসূলের জীবনালেখ্য এমন বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়নি। সামান্য চিন্তা করলেই এ বিষয়টির কারণ পরিস্কার হয়ে যায় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বশেষ নবী, তার পর আর কোন নবী আসবেন না। এ কারণে, তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে কেয়ামত পর্যন্ত সম্ভাব্য ঘটনাবলী সম্পর্কে স্বীয় উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই একদিকে তিনি পরবর্তীকালে অনুসরণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং সাধারণ গুণাবলীর মাধ্যমে ও অনেকের বেলায় নাম উল্লেখ করে তাদের অনুসরণ করতে জোর তাকিদ করেছেন।

অপরদিকে উম্মতের ক্ষতিসাধনকারী পথভ্রষ্ট লোকদের পরিচয়ও বলেছেন। পরবর্তীকালে আগমনকারী পথভ্রষ্টদের মধ্যে সবচাইতে মারাত্মক হবে দাজ্জাল। তার ফেৎনাই হবে সর্বাধিক বিভ্রান্তিকর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এত বেশী হাল-হাকীকত বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, তার আগমনের সময় সে যে পথভ্রষ্ট, এ বিষয়ে কারো মনে সন্দেহ থাকবে না। এমনিভাবে পরবর্তীকালে আগমনকারী সংস্কারক ও অনুসরণযোগ্য মনীষিগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট হবেন ঈসা ‘আলাইহিস সালাম। আল্লাহ্‌ তা'আলা তাকে নবুওয়াত ও রিসালতের সম্মানে ভূষিত করেছেন; দাজ্জালের ফেৎনার সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাহায্যের জন্য আকাশে জীবিত রেখেছেন এবং কেয়ামতের নিকটবতী সময়ে দাজ্জাল হত্যার জন্য নিয়োজিত হবেন।

এ কারণে তার জীবনালেখ্য ও গুণাবলী মুসলিম সম্পপ্রাদয়ের কাছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ফুটিয়ে তোলা প্রয়োজন ছিল, যাতে তার অবতরণের সময় তাকে চেনার ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ ও বিভ্রান্তির অবকাশ না থাকে। এর রহস্য ও উপযোগিতা অনেক। প্রথম, তার পরিচয়ে জটিলতা থাকলে তার অবতরণের উদ্দেশ্যই পণ্ড হয়ে যাবে। মুসলিম সম্প্রদায় তার সাথে সহযোগিতা করবে না। ফলে তিনি কিভাবে তাদের সাহায্য করবেন? দ্বিতীয়, ঈসা ‘আলাইহিস সালাম সে সময় নবুওয়াত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনে আদিষ্ট হয়ে জগতে আসবেন না; বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বদানের উদ্দেশ্যে আগমন করবেন, কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি স্বীয় নবুওয়াতের পদ থেকে অপসারিতও হবেন না।

তৃতীয়, ঈসা ‘আলাইহিস্ সালামের অবতরণের ঘটনা দুনিয়ার অন্তিম পর্যায়ে সংঘটিত হবে। এমতাবস্থায় তার অবস্থা ও লক্ষণাদি অস্পষ্ট হলে অন্য কোন প্রতারকের পক্ষ থেকে এরূপও দাবী করার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল যে, আমিই মসীহ্‌ ঈসা ইবনে মরিয়ম ৷ এখন কেউ এরূপ করলে লক্ষণাদির সাহায্যে তাকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে। উদাহরণতঃ হিন্দুস্থানে এক সময় মির্যা কাদিয়ানী দাবী করে বসে যে, সে-ই প্রতিশ্রুত মসীহ্‌। মুসলিম ওলামাগণ এসব লক্ষণের সাহায্যেই তার ভ্রান্ত দাবী প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৫৯ থেকে ৬০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং এটি হলো 'ইন্না'-এর খবর। 'তোমাকে উত্তোলক' শব্দটি এর ওপর সংযোজিত (আতফ), অনুরূপভাবে 'তোমাকে পবিত্রকারী' এবং 'যারা তোমার অনুসরণ করেছে তাদের উচ্চ মর্যাদা দানকারী' শব্দগুলোও। 'এবং তাদের প্রদানকারী' পাঠ করাও বৈধ, যা ব্যাকরণগত মূল রূপ। বলা হয়েছে: পূর্ণ বিরতি 'এবং যারা কুফরি করেছে তাদের থেকে তোমাকে পবিত্রকারী' কথাটির শেষে হওয়া উচিত। আন-নাহহাস বলেন: এটি একটি উত্তম অভিমত। হে মুহাম্মদ! 'যারা তোমার অনুসরণ করেছে তাদের আমি কাফিরদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করব'—অর্থাৎ দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে। কেউ কেউ বলেছেন: শক্তি ও বিজয়ের মাধ্যমে।

আদ-দাহহাক এবং মুহাম্মদ ইবনে আবান বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাওয়ারী বা শিষ্যগণ। আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক পরিজ্ঞাত। ‌‌[সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৫৬ থেকে ৫৮]সুতরাং যারা কুফরি করেছে, আমি তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করব এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। (৫৬) আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তিনি তাদের প্রাপ্য পূর্ণরূপে দান করবেন। আর আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না। (৫৭) এটি আমি তোমার কাছে তিলাওয়াত করছি আয়াতসমূহ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে। (৫৮)আল্লাহ তাআলার বাণী: (সুতরাং যারা কুফরি করেছে, আমি তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করব) অর্থাৎ দুনিয়াতে হত্যা, শূলে চড়ানো, বন্দিত্ব ও জিযিয়া আরোপের মাধ্যমে; আর আখিরাতে আগুনের মাধ্যমে।

(এটি আমি তোমার কাছে তিলাওয়াত করছি) এখানে 'এটি' শব্দটি মুক্তাদা হিসেবে রফ-এর স্থলে রয়েছে এবং 'তিলাওয়াত করছি' বাক্যটি তার খবর। এটিও বৈধ যে, একটি উহ্য মুক্তাদার সংবাদ হিসেবে ধরে এর অর্থ করা: 'বিষয়টি হলো এই'। ‌‌[সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৫৯ থেকে ৬০]নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মতো। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বললেন, 'হও', ফলে সে হয়ে গেল। (৫৯) সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। (৬০)আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মতো) এটি কিয়াসের (যৌক্তিক সাদৃশ্য) সঠিকতার একটি দলিল।

এই সাদৃশ্যটি এই দিক থেকে যে, আদমের মতো ঈসাও পিতা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিক থেকে নয় যে তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। একটি বিষয়কে অন্যটির সাথে তুলনা করা যেতে পারে যদিও তাদের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য বিদ্যমান থাকে, যদি তারা একটি নির্দিষ্ট গুণে একীভূত হয়। কেননা আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিল কিন্তু ঈসাকে সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়নি, তাই এই দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যের মূল দিক হলো যে, তাদের উভয়কেই পিতা ছাড়াই সৃষ্টি করা হয়েছে। অধিকন্তু তাদের উভয়ের সৃষ্টির মূল উৎস ছিল মাটি, কারণ আদমকেও তো সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়নি (বরং মাটির উপাদান থেকে),(১) মূল গ্রন্থের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এবং নাহহাসের 'ইরাবুল কুরআন' গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে।

আর 'যা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং তিনি করেছেন'।