Ali 'Imran
আলে ইমরান: 5
3 আলে ইমরান Ali 'Imran · 200 আয়াত آل عمران
মূল আরবি
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخْفَىٰ عَلَيْهِ شَىْءٌ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِى ٱلسَّمَآءِ
English Translations
Indeed, from Allāh nothing is hidden in the earth nor in the heaven.
Truly, nothing is hidden from Allah, in the earth or in the heavens.
Surely, Allah is such that nothing is hidden from Him, neither in the earth nor in the sky.
Nothing in the earth and in the heavens is hidden from Allah.
Lo! nothing in the earth or in the heavens is hidden from Allah.
From Allah, verily nothing is hidden on earth or in the heavens.
বাংলা অনুবাদ
নিশ্চয়ই ভূমন্ডলের ও নভোমন্ডলের কোন জিনিসই আল্লাহর নিকট গোপন থাকে না।
নিশ্চয় আল্লাহ, তাঁর নিকট গোপন থাকে না কোন কিছু যমীনে এবং না আসমানে ।
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ভূমন্ডল ও নভোমন্ডলের কোন বিষয়ই লুকায়িত নেই।
নিশ্চয় আল্লাহ্, আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না।
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে আকাশ ও পৃথিবীর কিছুই গোপন থাকে না।
৫. পৃথিবী ও আকাশের কোন কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন নয়। তাঁর জ্ঞান প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব কিছুকেই বেষ্টন করে আছে।
তাফসীর
৫-৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই তাঁর নিকট লুক্কায়িত নেই, বরং সব কিছুরই তিনি পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। তিনি বলেন- “আল্লাহ পাক তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের জরায়ুর মধ্যে আকৃতি বিশিষ্ট করেছেন। তিনি যেভাবেই আকৃতি গঠনের ইচ্ছে করেছেন তাই করেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নেই। তিনি মহা পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞানময়। একমাত্র তিনিই যখন তোমাদের আকৃতি গঠন করতঃ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তখন তোমরা একমাত্র তার ইবাদত ছাড়া অন্যের ইবাদত করবে কেন? তিনি অবিনষ্ট সম্মান ও ধ্বংসহীন জ্ঞানের অধিকারী।
এতে ইঙ্গিত রয়েছে এমন কি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, হযরত ঈসাও (আঃ) আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট এবং তাঁরই পদপ্রান্তে মস্তক অবনতকারী। সমস্ত মানুষের ন্যায় তিনিও একজন মানুষ। তার আকৃতিও আল্লাহ তা'আলা তার মায়ের জরায়ুর মধ্যে গঠন করেছিলেন এবং তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমেই সৃষ্ট হয়েছেন। সুতরাং তিনি কিরূপে আল্লাহ হয়ে গেলেন, যেমন অভিশপ্ত খ্রীষ্টানেরা মনে করে নিয়েছে। অথচ তিনিইতো তোমাদেরকে তোমাদের এক অবস্থা হতে অন্য অবস্থার দিকে ফিরিয়ে থাকেন। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ তিনিই তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের পেটে তিন তিনটি অন্ধকারের মধ্যে এক সৃষ্টির পর অন্য সৃষ্টির মাধ্যমে সৃষ্টি করে থাকেন।' (৩৯:৬)
নিশ্চয় আল্লাহ্, আসমান ও যমীনের কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না [১]।
[১] অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা সবকিছু জানেন। সূরা আল-আন'আমে এ বিষয়টি বিস্তারিত এসেছে, সেখানে আরও বলা হয়েছে যে, এসব কিছু তিনি যে শুধু জানেন তা-ই নয় বরং তিনি তা এক গ্রন্থে লিখেও রেখেছেন। আল্লাহ্ বলেন, “আর অদৃশ্যের চাবি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুস্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই। " [সূরা আল-আন’আম: ৫৯]
[سورة آل عمران (3): آية 5] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সুরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৫]নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই গোপন নয় (৫)এটি মহান আল্লাহর সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান সম্পর্কে একটি সংবাদ, এবং কুরআনে এর অনুরূপ অনেক উদাহরণ রয়েছে। সুতরাং তিনি যা ছিল, যা হবে এবং যা হবে না—সবকিছুই পরিজ্ঞাত। তাহলে ঈসা কীভাবে ইলাহ বা ইলাহ-এর পুত্র হতে পারেন, অথচ তাঁর কাছে বিষয়াদি গোপন থাকে! [সুরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৬]তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা আকৃতি দান করেন। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৬)এতে দুটি মাসআলা বা আলোচনা রয়েছে: প্রথম—মহান আল্লাহর বাণী: (তিনিই তোমাদেরকে আকৃতি দান করেন) এখানে মহান আল্লাহ মায়েদের জরায়ুতে মানুষের অবয়ব তৈরির সংবাদ দিয়েছেন।
'আর-রাহিম' (জরায়ু) শব্দটির মূল উৎস হলো 'আর-রাহমাহ' (দয়া), কারণ এটি দয়া ও মমতার আধার। আর 'সুরাহ' (আকৃতি) শব্দটি 'সারাহু' থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ কোনো কিছুর দিকে হেলানো বা ঝোঁকানো; সুতরাং আকৃতি হলো কোনো নির্দিষ্ট সাদৃশ্য বা কাঠামোর দিকে ঝোঁকা। এই আয়াতটি মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে এবং এর মধ্যে নাজরানের খ্রিস্টানদের প্রতি খণ্ডন রয়েছে যে, ঈসাও সেইসব সত্তার অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আকৃতি দান করা হয়েছে, আর কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই তা অস্বীকার করে না। মহান আল্লাহ 'সুরা আল-হাজ্জ' এবং 'সুরা আল-মুমিনুন'-এ এই আকৃতি দানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নির্দেশ করেছেন।
একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে মাসউদ বর্ণিত হাদিসে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ তায়ালা যথা স্থানে যা [বর্ণিত] হবে। এতে প্রকৃতিবাদীদের মতবাদও খণ্ডন করা হয়েছে, কারণ তারা প্রকৃতিকে স্বাধীন ও কার্যকর কর্তা মনে করে। তাওহিদের আয়াতে ইতিপূর্বে তাদের খণ্ডন করা হয়েছে। মুসনাদে ইবনে সানজার-এ (তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে সানজার) একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, "আল্লাহ তায়ালা ভ্রূণের হাড় ও তরুণাস্থি পুরুষের বীর্য থেকে এবং চর্বি ও মাংস নারীর বীর্য থেকে সৃষ্টি করেন।" এতে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে যে, সন্তান পুরুষ ও নারী উভয়ের বীর্য থেকে সৃষ্টি হয় এবং এটি মহান আল্লাহর বাণীর সুস্পষ্ট প্রকাশ: "হে মানুষ!
আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি।" সহিহ মুসলিমে সাওবান বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, জনৈক ইহুদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: আমি আপনাকে এমন একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যা পৃথিবীর কোনো মানুষই জানে না, শুধু একজন নবী অথবা একজন কিংবা দুজন ব্যক্তি ছাড়া। তিনি বললেন: "আমি তোমাকে বললে কি তা তোমার উপকারে আসবে?"।(১). দেখুন ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬ এবং পরবর্তী, ও ১০৯ এবং পরবর্তী।(২). 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ধিত।(৩). দেখুন ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০১।(৪). গাদারিফ: এটি গুদরিফ-এর বহুবচন, এটি এমন হাড় যা খাওয়া যায়, যেমন নাকের অগ্রভাগের নরম হাড়, কাঁধের হাড়ের অগ্রভাগের পাতলা হাড়, পাঁজরের হাড়ের উপরিভাগ, বক্ষস্থলের তরুণাস্থি (বুকের এমন একটি হাড় যা পেটের ওপরের দিকে থাকে) এবং কানের ভেতরের অংশ।(৫).
'জিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ধিত।(৬). দেখুন ১৬তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪০।
