Ali 'Imran

আলে ইমরান: 38

3:38
টেক্সট কপি

মূল আরবি

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُۥ ۖ قَالَ رَبِّ هَبْ لِى مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ

English Translations

Sahih International

At that, Zechariah called upon his Lord, saying, "My Lord, grant me from Yourself a good offspring. Indeed, You are the Hearer of supplication."

Muhsin Khan

At that time Zakariya (Zachariya) invoked his Lord, saying: "O my Lord! Grant me from You, a good offspring. You are indeed the All-Hearer of invocation."

Taqi Usmani

Thereupon, Zakariyyā prayed to his Lord. He said: “O my Lord, grant me from Your own (power) a goodly progeny. Verily, You are the One who listens to the prayer.”

Abul Ala Maududi

Then Zechariah prayed to his Lord: 'O Lord! Grant me from Yourself out of Your grace the gift of a goodly offspring, for indeed You alone heed all Prayers.'

Pickthall

Then Zachariah prayed unto his Lord and said: My Lord! Bestow upon me of Thy bounty goodly offspring. Lo! Thou art the Hearer of Prayer.

Yusuf Ali

There did Zakariya pray to his Lord, saying: "O my Lord! Grant unto me from Thee a progeny that is pure: for Thou art He that heareth prayer!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

ওখানেই যাকারিয়া নিজ প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার পক্ষ হতে একটি সুসন্তান দান কর। নিশ্চয় তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী’।

রাওয়াই আল-বায়ান

সেখানে যাকারিয়্যা তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল, সে বলল, ‘হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তখন যাকারিয়া তার রবের নিকট প্রার্থনা করেছিল, সে বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে আপনার নিকট হতে পবিত্র সন্তান প্রদান করুন, নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সেখানেই যাকারিয়্যা তার রবের নিকট প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’

ফাতহুল মাজীদ

সেখানেই যাকারিয়া তার রবকে ডেকে বললেন: হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। আপনি তো দু‘আ শ্রবণকারী।

মুখতাসার

৩৮. যখন যাকারিয়া (আলাইহিস-সালাম) মারইয়াম বিনতে ইমরানের জন্য চিরায়ত নিয়মের বাইরে আল্লাহ তা‘আলাকে রিযিক দিতে দেখলেন তখন তিনি আল্লাহর নিকট সন্তানের আশা করলেন। যদিও তাঁর বয়স বেড়ে গেছে এবং তাঁর স্ত্রী বন্ধ্যা। তিনি বললেন: হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে একটি নেককার সন্তান দিন। নিশ্চয়ই আপনি আহ্বানকারীর আহ্বান শুনেন ও তার উত্তর দেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত যাকারিয়া (আঃ) দেখেন যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত মারইয়াম (আঃ)-কে অসময়ের ফল দান করছেন। শীতকালে গ্রীষ্মকালের ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালের ফল তাঁর নিকট বিদ্যমান থাকছে। সুতরাং তিনিও স্বীয় বার্ধক্য ও স্বীয় সহধর্মিণীর বন্ধ্যাত্ব জানা সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলার নিকট অসময়ে ফল অর্থাৎ সুসন্তান লাভের প্রার্থনা জানাতে থাকেন। আর যেহেতু এটা বাহ্যতঃ অসম্ভব জিনিস ছিল, তাই তিনি অতি সন্তর্পণে এ প্রার্থনা জানান। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ‘নেদায়ান খাফীয়া অর্থাৎ ‘গোপন প্রার্থনা।' তিনি তাঁর ইবাদতখানাতেই ছিলেন, এমন সময় ফেরেশতাগণ তাঁকে ডাক দিয়ে বলেনঃ আপনার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে যার নাম ইয়াহইয়া রাখতে হবে।' সাথে সাথে তারা একথাও বলে দেনঃ ‘এ সুসংবাদ আমাদের পক্ষ থেকে নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে।

ইয়াহইয়া নাম রাখার কারণ এই যে, তাঁর জীবন হবে ঈমানের সাথে। তিনি আল্লাহর কালেমা অর্থাৎ হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)-এর সত্যতা প্রকাশ করবেন। হযরত রাবী' ইবনে আনাস (রাঃ) বলেনঃ “হযরত ঈসা (আঃ)-এর নবুওয়াতের প্রথম স্বীকারকারীও হচ্ছেন হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)'। হযরত কাতাদা (রঃ)-এর উক্তি এই যে, হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) ঠিক হযরত ঈসা (আঃ)-এর পথের উপর ছিলেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এ দু’জন পরস্পর খালাতো ভাই ছিলেন। হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর মা প্রায়ই হযরত মারইয়াম (আঃ)-কে বলতেনঃ ‘আমি আমার গর্ভের জিনিসকে দেখতে পাচ্ছি যে, সে তোমার গর্ভের জিনিসকে সিজদা করছে।

এটা ছিল হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর সত্যতা প্রকাশ তার দুনিয়ায় আগমনের পূর্বেই। সর্বপ্রথম তিনিই হযরত ঈসা (আঃ) -এর সত্যতা অবগত হয়েছিলেন। তিনি বয়সে হযরত ঈসা (আঃ) অপেক্ষা বড় ছিলেন। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে ধৈর্যশীল, বিদ্যা ও ইবাদতে অগ্রবর্তী, মুত্তাকী, ধর্ম শাস্ত্রবিদ, চরিত্রে ও ধর্মে সর্বাপেক্ষা উত্তম, ক্রোধকে দমনকারী এবং ভদ্র। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে যে স্ত্রীলোকদের নিকট আসতে পারে না, যার সন্তানাদি হয় না এবং যার মধ্যে কোন কামভাব থাকে না। এ অর্থের একটি মারফু হাদীসও মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমের মধ্যে রয়েছে। তা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ শব্দটি পাঠ করতঃ ভূমি হতে কিছু উঠিয়ে নিয়ে বলেন, তাঁর অঙ্গ ছিল এরূপ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) বলেন, সমস্ত সৃষ্টজীবের মধ্যে শুধুমাত্র ইয়াহইয়া (আঃ) আল্লাহ তাআলার সাথে নিস্পাপরূপে সাক্ষাত করবেন। অতঃপর তিনি মাটি হতে কিছু উঠিয়ে নিয়ে বলেন, যার অঙ্গ এরূপ হয় তাকে (আরবী) বলে।' হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল কাত্তান (রঃ) অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেন। উপরে বর্ণিত মারফু বর্ণনা অপেক্ষা এ মাওকুফ বর্ণনাটি সনদ হিসেবে অধিকতর সঠিক। মার' বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কাপড়ের ঝালরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এরূপ ছিল। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি মাটি হতে একটা খড়কুটা উঠিয়ে নিয়ে ওর দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তার অঙ্গ ছিল এই খড়কুটার মত।এরপর হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কে দ্বিতীয় শুভ সংবাদ দেয়া হচ্ছে যে, তাঁর পুত্র নবী হবেন।

এ সুসংবাদ পূর্বের সুসংবাদ হতেও অগ্রগণ্য। এ সুসংবাদ প্রাপ্তির পর হযরত যাকারিয়া (আঃ)-এর ধারণা হয় যে, এর বাহ্যিক কারণগুলো তো অসম্ভব, তাই তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট আরয করেন, “হে আমার প্রভু! আমি তো বার্ধক্যে পদার্পণ করেছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা, কাজেই আমার সন্তান লাভ কিরূপে সম্ভব? ফেরেশতাগণ তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন, আল্লাহর নির্দেশই সব চেয়ে বড়। তাঁর নিকট কোনকিছু অসম্ভবও নয় এবং কঠিনও নয়। তিনি কোন কাজে অসমর্থ নন। তিনি যেভাবেই ইচ্ছে করেন সৃষ্টি করে থাকেন। তখন হযরত যাকারিয়া (আঃ) আল্লাহ তা'আলার নিদর্শন যাজ্ঞা করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়ঃ নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত লোকের সাথে কথা বলতে পারবে না।

তুমি সুস্থ সবল থাকবে বটে কিন্তু মুখ দিয়ে কথা বের হবে না। শুধুমাত্র ইশারা-ইঙ্গিতে কাজ চালাতে হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ ‘সুস্থতার সাথে তিন রাত'। (১৯:১০) এরপর বলা হচ্ছে- এ অবস্থায় খুব বেশী আল্লাহ তা'আলার যিক্রি করা এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বর্ণনা করা তোমার উচিত। সকাল-সন্ধ্যায় ঐ কাজেই লেগে থাকবে। এর দ্বিতীয় অংশ এবং পূর্ণ বর্ণনা সূরা-ই-মারইয়ামের মধ্যে বিস্তারিতভাবে আসবে ইনশাআল্লাহ।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সেখানেই যাকারিয়্যা তার রবের নিকট প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী [১]’

[১] যাকারিয়্যা ‘আলাইহিস সালাম তখনো পর্যন্ত নিঃসন্তান ছিলেন। সময়ও ছিল বার্ধক্যের- যে বয়সে স্বাভাবিকভাবে সন্তান হয় না। তবে আল্লাহ্‌র শক্তি-সামর্থের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ছিল যে, অলৌকিকভাবে এহেন বার্ধক্যের মধ্যেও তিনি সন্তান দিতে পারেন। তবে অসময়ে ও অস্থানে দান করার আল্লাহ্‌র মহিমা ইতিপূর্বে তিনি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি। কিন্তু এসময় যখন তিনি দেখতে পেলেন যে, আল্লাহ্‌ তা'আলা ফলের মওসুম ছাড়াই মার্‌ইয়ামকে ফল দান করেছেন, তখনই তার মনের সুপ্ত আকাঙ্খা জেগে উঠল এবং তার মনে হলো যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ মওসুম ছাড়াই যদি ফল দিতে পারেন, তবে বৃদ্ধ দম্পতিকে হয়ত সন্তানও দেবেন।

বললেনঃ 'হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে সৎ সন্তান দান করুন', এতে বুঝা যায় যে, সন্তান হওয়ার জন্য দো'আ করা রাসূলগণের ও নেককারদের সুন্নাত। অপর এক আয়াতে আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেনঃ “আপনার আগে তো আমি অনেক রাসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাঁদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম’ অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেরূপ স্ত্রী ও সন্তান দান করা হয়েছে, তদ্রুপ এই নেয়ামত পূর্ববর্তী রাসূলগণকেও দেয়া হয়েছিল। এখন কেউ যদি কোন পন্থায় সন্তান জন্মগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সে শুধু স্বভাবধর্মের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহের পতাকা উত্তোলন করে না; বরং রাসূলদের একটি সার্বজনীন ও সর্বসম্মত সুন্নাহ থেকেও বঞ্চিত হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ ও সন্তানের প্রশ্নটিকে অত্যাধিক গুরুত্ব দান করেছেন। তাই যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্বেও বিবাহ কিংবা সন্তান গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে, তাকে তিনি স্বীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি বলেনঃ ‘বিবাহ আমার সুন্নাহ। যে ব্যক্তি এ সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ কর। কেননা, তোমাদের আধিক্যের কারণে আমি অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করব’। [ইবনে মাজাহঃ ১৮৪৬]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ৩৭ থেকে ৩৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ৩৭ থেকে ৩৮]অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন এবং যাকারিয়াকে তাঁর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবে (ইবাদাত কক্ষে) তাঁর নিকট আসতেন, তখনই তাঁর কাছে খাদ্যসামগ্রী দেখতে পেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে মারইয়াম, এসব তুমি কোথা থেকে পেলে?" মারইয়াম বললেন, "এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে; নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।" (৩৭) সেখানেই যাকারিয়া তাঁর প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করলেন; তিনি বললেন, "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে এক পবিত্র সন্তান দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।" (৩৮)মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন) এর অর্থ হলো: তিনি তাঁকে সৌভাগ্যবানদের পথে পরিচালিত করেছেন; এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত।

একদল আলিম বলেছেন: গ্রহণ করার অর্থ হলো লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ এবং তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধান করা। হাসান (বসরী) বলেন: গ্রহণের অর্থ হলো, তিনি তাঁকে রাত বা দিনের কোনো মুহূর্তেই কোনো প্রকার কষ্টে রাখেননি। (এবং তাঁকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন) অর্থাৎ, কোনো প্রকার ত্রুটি বা আধিক্য ছাড়াই তাঁর দৈহিক গঠন সুষম করেছেন। তিনি একদিনে ততটুকু বৃদ্ধি পেতেন যতটুকু একজন সাধারণ শিশু এক বছরে বৃদ্ধি পায়। এখানে 'ক্বাবুল' (গ্রহণ) এবং 'নাবাত' (বৃদ্ধি) শব্দ দুটি মূল ধাতুর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে; আর এর মূল রূপ হওয়ার কথা ছিল 'তাকাব্বুলান' এবং 'ইনবাতান'।

জনৈক কবি বলেছেন:আমার থেকে মৃত্যুকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর কি আমি অকৃতজ্ঞ হব... এবং আপনার সেই বিচরণকারী একশটি উট প্রদানের পর?এখানে 'আতায়িকা' (তোমার দান) দ্বারা 'ই'তায়িকা' (তোমার প্রদান করা) বুঝানো হয়েছে। কিন্তু যখন তিনি 'আনবাতাহা' (তিনি তাঁকে বৃদ্ধি দান করলেন) বললেন, তখন এটি 'নাবাতা' (সে বৃদ্ধি পেল) এর অর্থ প্রকাশ করে। যেমন ইমরাউল কায়েস বলেছেন:আমরা কল্যাণের দিকে ফিরে এলাম এবং আমাদের কথা বিনম্র হলো... আমি তাকে বশীভূত করলাম, ফলে সেই অবাধ্য নারীটি চরমভাবে অনুগত হলো।মূলত 'যাল্লাত' (সে অনুগত হলো) এর ক্রিয়ামূল হলো 'যুল্লুন', কিন্তু তিনি একে 'আযলালতু' (আমি অনুগত করেছি) এর অর্থে ব্যবহার করেছেন।

আর এই অধ্যায়ে তোমার সামনে যা কিছু আসবে তা অনুরূপ। সুতরাং 'তাকাব্বালা' এবং 'কাবিলা' এর অর্থ একই। তাই অর্থ দাঁড়ায়—তাঁর প্রতিপালক তাঁকে উত্তম কবুলিয়াত দিয়ে গ্রহণ করেছেন। এর অনুরূপ হলো রু'বাহ এর উক্তি:আমি নিজেকে সংকুচিত করেছি বিষধর সাপের কুণ্ডলী পাকানোর ন্যায়। [সাপ] কারণ 'তাতাওওয়াইতু' এবং 'ইনতাওয়াইতু' (সংকুচিত হওয়া/কুণ্ডলী পাকানো) এর অর্থ একই। অনুরূপ কাতামির উক্তি:বিষয়ের মধ্যে সেটিই উত্তম যার তুমি সম্মুখীন হয়েছ... এটি এমন নয় যে তুমি কেবল তার অনুসরণ করে যাচ্ছ।কারণ 'তাতাব্বা'তু' এবং 'ইত্তাবা'তু' এর অর্থ এক। ইবনে মাসউদের কিরাআতে রয়েছে—"তিনি ফেরেশতাদের যথাযথভাবে অবতীর্ণ করেছেন", কারণ 'নাযযালা' এবং 'আনযালা' (উভয়টিই অবতীর্ণ করা অর্থে) একই।

মুফাদ্দাল বলেন: এর অর্থ হলো—তিনি তাকে বর্ধন করলেন, ফলে তিনি উত্তমভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হলেন। তবে মূল অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখাই অধিকতর শ্রেয়।(১). আল-হিদব (হা বর্ণে ফাতহা বা কাসরা এবং দাদ বর্ণে সুকুন সহ)।(২). জিম, বা এবং দাল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এই অতিরিক্ত অংশটুকু রয়েছে।(৩). দেখুন খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৪।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে আসাকির ইকরিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারয়াম আট মাসে সন্তান প্রসব করেছিলেন। এ কারণেই আট মাসে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু সাধারণত বেঁচে থাকে না; যাতে ঈসার কারণে মারয়ামকে অপবাদ দেওয়া না হয়।হাকেম যায়েদ আল-আম্মী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা (আলাইহিস সালাম) আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'যাওয়াইদুত যুহদ' গ্রন্থে নওফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারয়াম (আলাইহাস সালাম) ছিলেন একজন পবিত্র কুমারী। যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম), যিনি তাঁর বোনের স্বামী ছিলেন, তিনি তাঁর লালন-পালনের দায়িত্বে ছিলেন।

মারয়াম তাঁর সাথেই থাকতেন। যাকারিয়া যখনই তাঁর নিকট প্রবেশ করতেন, তাঁকে সালাম দিতেন। তখন তিনি তাঁর কাছে গ্রীষ্মকালে শীতের ফল এবং শীতকালে গ্রীষ্মের ফল দেখতে পেতেন। একবার যাকারিয়া তাঁর নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাঁর সামনে পূর্বের ন্যায় কিছু ফল পেশ করলেন। (যাকারিয়া বললেন, 'হে মারয়াম, তোমার কাছে এসব কোথা থেকে এলো?' তিনি বললেন, 'এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।' তখন যাকারিয়া তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করলেন) [সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৩৮-৩৯] থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: (তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত ইশারা ছাড়া মানুষের সাথে কথা বলবে না) [সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৪২]।

সাভিয়্যা অর্থ সুস্থ-সবল।অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং তাদেরকে ইশারা করলেন অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্যে লিখে দিলেন যেন তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি বলেন: মারয়াম যখন তাঁর গৃহে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন হঠাৎ তাঁর সামনে একজন সুঠামদেহী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেল যে সমস্ত পর্দা ভেদ করে (আবির্ভূত) হয়েছিল। তিনি তাকে দেখে বললেন: আমি তোমার থেকে দয়াময় (রহমান)-এর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও। বর্ণনাকারী বলেন: যখন তিনি 'রহমান'-এর নাম উল্লেখ করলেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ভীত হলেন।

তিনি বললেন: আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করতে পারি - আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: আর এটি ছিল একটি স্থিরীকৃত বিষয়। অতঃপর জিবরাঈল তাঁর জামার গলায় ফুঁ দিলেন, ফলে তিনি গর্ভবতী হলেন। যখন গর্ভাবস্থা পূর্ণ হলো এবং তিনি প্রসববেদনা অনুভব করলেন যা সাধারণত নারীদের হয়ে থাকে, তখন তিনি নবুওয়াতের গৃহেই ছিলেন। তিনি লজ্জাবোধ করলেন এবং স্বীয় সম্প্রদায়ের ভয়ে পালিয়ে গেলেন। তিনি পূর্ব দিকে চলে গেলেন এবং তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁর খোঁজে বের হলো। তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, তোমরা কি অমুক অমুক বৈশিষ্ট্যের কোনো যুবতীকে দেখেছ?

কিন্তু কেউ তাদের কোনো খবর দিতে পারল না।অতঃপর প্রসব বেদনা তাঁকে একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের নিচে নিয়ে এল। তিনি খেজুর গাছের ওপর ভর দিয়ে বললেন: হায়, আমি যদি এর আগে মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে যেতাম! বর্ণনাকারী বলেন: 'নিসইয়া' বলতে ঋতুস্রাবের ন্যাকড়ার মতো তুচ্ছ কিছু বোঝানো হয়েছে। অতঃপর নিচ থেকে তাকে আওয়াজ দেওয়া হলো। বর্ণনাকারী বলেন: জিবরাঈল উপত্যকার নিম্নপ্রান্ত থেকে ডেকে বললেন, তুমি দুঃখ করো না, তোমার রব তোমার পাদদেশে একটি ঝরনা সৃষ্টি করেছেন। 'সারিয়্যা' অর্থ ঝরনা। আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ডটি ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা ও পাকা খেজুর ঝরিয়ে দেবে

জিবরাঈল যখন তাঁকে এ কথা বললেন, তখন তাঁর পিঠ মজবুত হলো এবং তিনি মানসিক শান্তি পেলেন। অতঃপর তিনি (ঈসার) নাভি কাটলেন এবং তাঁকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে কোলে তুলে নিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজন যখন তাঁর সন্ধানে ছিল, তখন তাদের এক গরু রাখালের সাথে দেখা হলো।তারা বলল: হে রাখাল, তুমি কি এমন এমন কোনো যুবতীকে দেখেছ? সে বলল: না, তবে আজ রাতে আমি আমার গরুগুলোর মধ্যে এমন এক দৃশ্য দেখেছি যা আগে কখনো দেখিনি। সে বলল: আমি দেখলাম তারা এই উপত্যকার দিকে সেজদাবনত অবস্থায় রাত কাটিয়েছে। অতঃপর তারা সেদিকে রওয়ানা হলো যেখানে...