Ali 'Imran
আলে ইমরান: 86
3 আলে ইমরান Ali 'Imran · 200 আয়াত آل عمران
মূল আরবি
كَيْفَ يَهْدِى ٱللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا۟ بَعْدَ إِيمَـٰنِهِمْ وَشَهِدُوٓا۟ أَنَّ ٱلرَّسُولَ حَقٌّ وَجَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ
English Translations
How shall Allāh guide a people who disbelieved after their belief and had witnessed that the Messenger is true and clear signs had come to them? And Allāh does not guide the wrongdoing people.
How shall Allah guide a people who disbelieved after their belief and after they bore witness that the Messenger (Muhammad SAW) is true and after clear proofs had come unto them? And Allah guides not the people who are Zalimun (polytheists and wrong-doers).
How shall Allah give guidance to a people who disbelieved after they had accepted Faith and testified that the Prophet is true and the clear signs had come to them? Allah does not give guidance to the unjust people.
How can Allah guide people who once believed, after they received clear signs and affirmed that the Messenger was a true one, lapsed into disbelief. Allah does not guide the wrong-doers.
How shall Allah guide a people who disbelieved after their belief and (after) they bore witness that the messenger is true and after clear proofs (of Allah's Sovereignty) had come unto them. And Allah guideth not wrongdoing folk.
How shall Allah Guide those who reject Faith after they accepted it and bore witness that the Messenger was true and that Clear Signs had come unto them? but Allah guides not a people unjust.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ কীরূপে সেই সম্প্রদায়কে সুপথ দেখাবেন যারা ঈমান আনার পর, এ রসূলকে সত্য বলে স্বীকার করার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল আসার পর কুফরী করে? বস্তুতঃ আল্লাহ যালিম কওমকে পথ দেখান না।
কেমন করে আল্লাহ সে কওমকে হিদায়াত দেবেন, যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে, আর তারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, নিশ্চয় রাসূল সত্য এবং তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। আর আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।
কিরূপে আল্লাহ সেই সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করবেন যারা বিশ্বাস স্থাপনের পর, রাসূলের সত্যতা বিষয়ে সাক্ষ্যদানের পর এবং তাদের নিকট প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ আসার পরও অবিশ্বাসী হয়েছে? আর আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেননা।
আল্লাহ্ কিভাবে হেদায়াত করবেন সে সম্প্রদায়কে, যারা ঈমান আনার পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফরী করে? আর আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।
এমন জাতিকে আল্লাহ কিভাবে হিদায়াত দেবেন যারা ঈমান আনার পর কুফরী করে অথচ তারা এ সাক্ষ্যও দেয় যে, রাসূল সত্য এবং তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
৮৬. কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা এমন জাতিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার তাওফীক দিতে পারেন যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর আবারো কুফরি করেছে এবং তারা এ ব্যাপারে একদা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা সবই সত্য। উপরন্তু তাদের নিকট এর বিশুদ্ধতার সুস্পষ্ট প্রমাণও এসেছে?! বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা জালিম সম্প্রদায়কে ঈমানের তাওফীক দেন না। যারা হিদায়েতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে বেছে নিয়েছে।
তাফসীর
৮৬-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, একজন আনসারী ধর্ম ত্যাগী হয়ে মুশরিকদের সাথে মিলিত হয়। অতঃপর যে অনুশোচনা করতঃ স্বগোত্রীয় লোকের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সঃ) -কে জিজ্ঞেস করে যে, পুনরায় তার তাওবা গৃহীত হবে কি-না? তখন এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। তার গোত্রের লোক তাকে বলে পাঠায়। তখন সে তাওবা করতঃ নতুনভাবে মুসলমান। হয়ে হাযির হয়। (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর) ইমাম নাসাঈ (রঃ), ইমাম হাকিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনে হিব্বান (রঃ)-এর গ্রন্থেও এ বর্ণনাটি বিদ্যমান রয়েছে। ইমাম হাকিম (রঃ) এ ইসনাদর্কে সহীহ বলেছেন। মুসনাদ-ই-আবদুর রাজ্জাকে রয়েছে যে, হযরত হারিস ইবনে সাভীদ (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি ইসলাম পরিত্যাগ করতঃ স্বগোত্রের সঙ্গে মিলিত হন। তাঁর সম্বন্ধে এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। তাঁর সম্প্রদায়ের একজন লোক এ আয়াতগুলো তাঁকে পড়ে শোনান। তিনি লোকটিকে বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমার ধারণায় আপনি একজন সত্যবাদী লোক, আর নবী (সঃ) তো আপনার চেয়ে বেশী সত্যবাদী এবং আল্লাহ তাআলা সমস্ত সত্যবাদী অপেক্ষা খুব বেশী সত্যবাদী।' অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট ফিরে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খুব ভালভাবেই ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন। (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতার উপর দলীল প্রমাণাদি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হওয়া।
অতএব যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতা স্বীকার করেছে, দলীল প্রমাণাদি স্বচক্ষে দেখেছে, অতঃপর শিরকের অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে, তারা সুপথ প্রাপ্তির যোগ্য নয়। কেননা, চক্ষু থাকা সত্ত্বেও অন্ধত্বকে তারা পছন্দ করেছে। অবিবেচক লোকদেরকে আল্লাহ তা'আলা সুপথ প্রদর্শন করেন না। তাদের উপর আল্লাহও অভিশাপ দেন এবং তাঁর সৃষ্টজীবও তাদের প্রতি অভিশাপ দিয়ে থাকে। এ অভিশাপ হচ্ছে চিরস্থায়ী অভিশাপ। কোন সময়ের জন্য তাদের শাস্তি না হালকা করা হবে, না বন্ধ করা হবে। তারপর মহান আল্লাহ স্বীয় করুণা ও ক্ষমার কথা বর্ণনা করেছেন যে, এ জঘন্য পাপ কার্যের পরেও যদি কেউ আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হয় এবং সংশোধিত হয়ে যায় তবে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহ্ কিভাবে হেদায়াত করবেন সে সম্প্রদায়কে, যারা ঈমান আনার পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফরী করে? আর আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না [১]।
[১] আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, আনসারদের এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে যায় এবং মুশরিকদের সাথে মিশে যায়। পরে সে লজ্জিত হয় ও তার স্বজাতির কাছে বলে পাঠায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা কর আমার কি কোন তাওবাহ্ আছে? তার স্বজাতির লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে জিজ্ঞাসা করলেন যে, অমুক লজ্জিত হয়েছে এবং জানতে চেয়েছে যে, তার জন্য তাওবাহ্ আছে কি না? তখন এ আয়াতসহ পরবর্তী চারটি আয়াত নাযিল হয়। পরে সে ফিরে আসে এবং পুনরায় ইসলামে প্রবেশ করে। [নাসায়ী: ৭/১০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৪৪৭৭; মুসনাদে আহমাদঃ ১/২৪৮]
হাসান বলেন, এ আয়াত দ্বারা আহলে কিতাবদের উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তাদের গ্রন্থে স্পষ্ট দেখতে পেত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের পূর্বে তিনি তাদের কাছে আগমন করলে তাকে সাথে নিয়ে কাফেরদের উপর জয়ী হবে ঘোষণা করত। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা কূফরী করল। [তাবারী] তবে আয়াত দৃষ্টে মনে হয়; বক্তব্যটি ব্যাপক। যারাই এরকম কাজ করবে তারাই এ খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে।
[সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৮৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
হিশাম বলেন: অর্থাৎ সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি এমনটি না হতো, তবে আমি সিলাহ (সম্বন্ধসূচক বাক্য) ও মাওসুল (সম্বন্ধসূচক সর্বনাম)-এর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতাম। মাজেনি বলেন: আলিফ ও লাম (অব্যয়টি) ‘আর-রাজুল’ শব্দের আলিফ-লামের মতোই। সূরা বাকারায় (১) আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই সে পরকালে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে" [বাকারা: ১৩০]-এর আলোচনায় ইতিপূর্বে এ বিষয়টি অতিবাহিত হয়েছে। [সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ৮৬]আল্লাহ কীভাবে সেই সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেবেন যারা ঈমান আনার পর এবং রাসূল সত্য বলে সাক্ষ্য দেওয়ার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফরি করেছে?
আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৮৬)।ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: আনসারদের এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে শিরকের সাথে যুক্ত হয়। অতঃপর সে অনুতপ্ত হয়ে তার সম্প্রদায়ের নিকট বার্তা পাঠাল যে, তোমরা আমার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করো—আমার জন্য কি তাওবা করার কোনো সুযোগ আছে? তখন তার সম্প্রদায়ের লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল: তার জন্য কি তাওবা আছে? তখন অবতীর্ণ হলো: "আল্লাহ কীভাবে সেই সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেবেন যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে..." আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" [আল-ইমরান: ৮৯] পর্যন্ত।
তখন তিনি তার নিকট লোক পাঠালেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করল। নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আনসারদের এক ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে মুশরিকদের সাথে মিশে গেল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "আল্লাহ কীভাবে সেই সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেবেন যারা কুফরি করেছে..." আল্লাহর বাণী: "তবে তারা ব্যতীত যারা তাওবা করেছে" [আল-ইমরান: ৮৯] পর্যন্ত। তখন তার সম্প্রদায়ের লোকেরা এটি তার নিকট পাঠাল। যখন এটি তার সামনে পাঠ করা হলো, সে বলল: আল্লাহর কসম, আমার সম্প্রদায় আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর ব্যাপারে আমার কাছে মিথ্যা বলেনি, আর আল্লাহর রাসূল (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে মিথ্যা বলেননি, আর আল্লাহ তাআলা এই তিন সত্তার মধ্যে সবচেয়ে সত্যবাদী।
অতঃপর সে তাওবা করে ফিরে এল এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তার তাওবা কবুল করলেন ও তাকে ছেড়ে দিলেন। হাসান (বসরি) বলেন: এই আয়াত ইয়াহুদিদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ তারা নবী (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিত এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করত। কিন্তু যখন তিনি প্রেরিত হলেন, তখন তারা বিদ্বেষবশত তাঁকে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "ওরাই তারা যাদের প্রতিদান হলো—তাদের ওপর আল্লাহর, ফেরেশতাগণের এবং সকল মানুষের লানত" [আল-ইমরান: ৮৭]। এরপর বলা হয়েছে: "কাইফা" (কীভাবে) একটি প্রশ্নবোধক শব্দ হলেও এর অর্থ অস্বীকারমূলক; অর্থাৎ আল্লাহ হিদায়াত দেবেন না।
এর অনুরূপ হলো আল্লাহর বাণী: "কীভাবে মুশরিকদের জন্য আল্লাহর নিকট এবং তাঁর রাসূলের নিকট কোনো চুক্তি থাকতে পারে?" [তাওবা: ৭] (২), অর্থাৎ তাদের জন্য কোনো চুক্তি নেই। জনৈক কবি বলেছেন:বিছানায় আমার ঘুম কীভাবে আসবে যখন এখনো … এক বিধ্বংসী অতর্কিত হামলা পুরো জাতিকে গ্রাস করেনিঅর্থাৎ আমার কোনো ঘুম নেই। (আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না) বলা হয়: আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হলো, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করে আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না এবং যে জালিম আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না। অথচ আমরা অনেক মুরতাদকে দেখেছি যারা পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছে...(১) ২য় খণ্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(২) ৮ম খণ্ড, ৭৭ পৃষ্ঠা দেখুন।
