Ali 'Imran
আলে ইমরান: 31
3 আলে ইমরান Ali 'Imran · 200 আয়াত آل عمران
আরবি
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
English Translations
Say, [O Muḥammad], "If you should love Allāh, then follow me, [so] Allāh will love you and forgive you your sins. And Allāh is Forgiving and Merciful."
Say (O Muhammad SAW to mankind): "If you (really) love Allah then follow me (i.e. accept Islamic Monotheism, follow the Quran and the Sunnah), Allah will love you and forgive you of your sins. And Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful."
Say (O Prophet): “If you really love Allah, then follow me, and Allah shall love you and forgive you your sins. Allah is Most-Forgiving, Very-Merciful.”
(O Messenger!) Tell people: 'If you indeed love Allah, follow me, and Allah will love you and will forgive you your sins. Allah is All-Forgiving, All-Compassionate.'
Say, (O Muhammad, to mankind): If ye love Allah, follow me; Allah will love you and forgive you your sins. Allah is Forgiving, Merciful.
Say: "If ye do love Allah, Follow me: Allah will love you and forgive you your sins: For Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful."
বাংলা অনুবাদ
বলে দাও, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা করবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
তুমি বলঃ যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস তাহলে আমার অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসেন ও তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করেন; এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
তুমি বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস তবে আমার অনুসরণ কর। তা হলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৩১. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: যদি তোমরা সত্যিকারার্থে আল্লাহকে ভয় করে থাকো তাহলে তোমরা প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আমার আনীত বিধানের অনুসরণ করো। তাহলে তোমরা আল্লাহর ভালোবাসা পাবে এবং তিনি তোমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাওবাকারীদের প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
তাফসীর
৩১-৩২ নং আয়াতের তাফসীর: এ পবিত্র আয়াতটি মীমাংসা করে দিয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে ভালবাসার দাবী করে, কিন্তু তার আমল ও বিশ্বাস যদি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নির্দেশের অনুরূপ না হয় এবং সে তাঁর সুন্নাতের অনুসারী না হয়, তবে সে তার এ দাবীতে মিথ্যাবাদী। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন এমন কাজ করে যার উপর আমার নির্দেশ নেই তা অগ্রাহ্য। এ জন্যেই এখানেও ইরশাদ হচ্ছে—যদি তোমরা আল্লাহ তা'আলার সাথে ভালবাসা রাখার দাবীতে সত্যবাদী হও তবে আমার সুন্নাতের উপর আমল কর। সে সময় আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তোমাদের চাহিদা অপেক্ষা বেশী দান করবেন অর্থাৎ স্বয়ং তিনিই তোমাদেরকে চাইবেন। যেমন বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেনঃ ‘তোমার চাওয়া কোন জিনিসই নয়, মজা ও স্বাদ তো ওর মধ্যেই রয়েছে যে, স্বয়ং আল্লাহ তোমাকে চাইতে থাকেন। মোটকথা আল্লাহ তা'আলার ভালবাসা রাখার পরিচয় এই যে, প্রতিটি কাজে সুন্নাতের প্রতি আনুগত্যই হবে একমাত্র লক্ষ্যবস্তু। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দ্বীন হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্যে ভালবাসা ও তারই জন্যে শত্রুতার নাম। অতঃপর তিনি উপরোক্ত আয়াতটি পাঠ করেন। কিন্তু সনদ হিসেবে হাদীসটি মুনকার’। অতঃপর বলা হচ্ছে-হাদীসের উপর চলার কারণে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সমস্ত পাপ মার্জনা করে দেবেন। এরপর সর্বসাধারণের উপর নির্দেশ হচ্ছে যে, তারা যেন সবাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য স্বীকার করে। যারা এরপর থেকে ফিরে যাবে অর্থাৎ আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য হতে সরে পড়বে তারা কাফির এবং আল্লাহ তাআলা কাফিরদেরকে ভালবাসেন না। যদিও তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-কে ভালবাসার দাবী করে কিন্তু যে পর্যন্ত তারা আল্লাহ তা'আলার সত্যবাদী, নিরক্ষর, রাসূলগণের (আঃ) সমাপ্তি আনয়নকারী এবং দানব ও মানবের নবী (সঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ না করবে সেই পর্যন্ত তারা তাদের এ দাবীতে মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হবে। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এমনই রাসূল যে, যদি আজ নবীগণ (আঃ) এমনকি স্থির প্রতিজ্ঞ রাসূলগণও (আঃ) জীবিত থাকতেন তবে তাঁদেরও এ রাসূল (সঃ)-কে ও তাঁর শরীয়তকে মান্য করা ছাড়া উপায় ছিল না। এর বিস্তারিত বিবরণ (আরবী) (৩:৮১) -এ আয়াতের তাফসীরে ইনশাআল্লাহ আসবে।
বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লহকে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর [১], আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ’
চতুর্থ রুকু‘
[১] ভালবাসা একটি গোপন বিষয়। কারো প্রতি কারো ভালবাসা আছে কি না, অল্প আছে কি বেশী আছে, তা জানার একমাত্র মাপকাঠি হল, অবস্থা ও পারস্পরিক ব্যবহার দেখে অনুমান করা অথবা ভালবাসার চিহ্ন ও লক্ষণাদি দেখে জেনে নেয়া। যারা আল্লাহ্কে ভালবাসার দাবীদার এবং আল্লাহ্র ভালবাসা পাওয়ার আকাঙ্খী, আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় ভালবাসার মাপকাঠি তাদের বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ জগতে যদি কেউ আল্লাহ্র ভালবাসার দাবী করে, তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের কষ্টিপাথরে তা যাচাই করে দেখা অত্যাবশ্যকীয়। এতে আসল ও মেকী ধরা পড়বে। যার দাবী যতটুকু সত্য হবে, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে ততটুকু যত্নবান হবে এবং তার শিক্ষার আলোকে পথের মশালরূপে গ্রহণ করবে। পক্ষান্তরে যার দাবী দুর্বল হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে তার দুর্বলতা সেই পরিমানে পরিলক্ষিত হবে। ভালবাসা অনুসারে মানুষের হাশরও হবে। হাদীসে এসেছে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এর জন্য কি তৈরী করেছ? লোকটি বলল, আমি এর জন্য তেমন সালাত, সাওম ও সাদকা করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালবাস”। [বুখারী: ৬১৭১]
