Ali 'Imran

আলে ইমরান: 161

3:161
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَمَا كَانَ لِنَبِىٍّ أَن يَغُلَّ ۚ وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

English Translations

Sahih International

It is not [attributable] to any prophet that he would act unfaithfully [in regard to war booty]. And whoever betrays, [taking unlawfully], will come with what he took on the Day of Resurrection. Then will every soul be [fully] compensated for what it earned, and they will not be wronged.

Muhsin Khan

It is not for any Prophet to take illegally a part of booty (Ghulul), and whosoever deceives his companions as regards the booty, he shall bring forth on the Day of Resurrection that which he took (illegally). Then every person shall be paid in full what he has earned, - and they shall not be dealt with unjustly.

Taqi Usmani

It is not conceivable from a prophet to misappropriate the spoils. Whoever misappropriates shall bring forth, on Doomsday, what he misappropriated. Then, everybody shall be paid, in full, for what he has earned, and they shall not be wronged.

Abul Ala Maududi

It is not for a Prophet to defraud; and whoever defrauds shall bring with him the fruits of his fraud on the Day of Resurrection, when every human being shall be paid in full what he has earned, and shall not be wronged.

Pickthall

It is not for any prophet to embezzle. Whoso embezzleth will bring what he embezzled with him on the Day of Resurrection. Then every soul will be paid in full what it hath earned; and they will not be wronged.

Yusuf Ali

No prophet could (ever) be false to his trust. If any person is so false, He shall, on the Day of Judgment, restore what he misappropriated; then shall every soul receive its due,- whatever it earned,- and none shall be dealt with unjustly.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

কোন নাবী খিয়ানাত করতে পারে না, যে ব্যক্তি খিয়ানাত করবে, সে খিয়ানাতকৃত বস্তুসহ ক্বিয়ামাতের দিন উপস্থিত হবে, অতঃপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পুরোপুরি দেয়া হবে, কারও প্রতি কোন প্রকার যুলম করা হবে না।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর কোন নবীর জন্য উচিত নয় যে, সে খিয়ানত করবে। আর যে খিয়ানত করবে, কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে তা নিয়ে যা সে খিয়ানত করেছে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুরোপুরি দেয়া হবে যা সে উপার্জন করেছে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর কোন নাবীর পক্ষে কোন বিষয় গোপন করা শোভনীয় নয়; এবং যে কেহ গোপন করবে তাহলে সে যা গোপন করেছে তা উত্থান দিনে আনয়ন করা হবে; অনন্তর প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা পূর্ণরূপে প্রদত্ত হবে এবং তারা নির্যাতিত হবেনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর কোনো নবী ‘গলুল’ (অন্যায়ভাবে কোনো বস্তু গোপন) করবে, এটা অসম্ভব। এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে, যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে কেয়ামতের দিন সে তা সাথে নিয়ে আসবে। তারপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।

ফাতহুল মাজীদ

আর কোন নাবীর পক্ষে আত্মসাৎকরণ শোভনীয় নয় তবে যে কেউ আত্মসাৎ করবে সে যা আত্মসাৎ করেছে কিয়ামত দিবসে তা নিয়ে হাজির হবে; অনন্তর প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা পূর্ণরূপে প্রদত্ত হবে এবং তারা নির্যাতিত হবে না।

মুখতাসার

১৬১. গনীমত তথা যুদ্ধলব্ধ কোন কিছু আত্মসাৎ করা কোন নবীর জন্য জায়িয হবে না যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করেননি। তোমাদের কেউ গনীমতের কোন কিছু আত্মসাৎ করলে কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছিত করে শাস্তি দেয়া হবে। সে সবার সামনে সেদিন আত্মসাৎকৃত বস্তুটি বহন করে আনবে। অতঃপর সেদিন প্রতিটি মানুষকে তার কৃত কর্মের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের কম-বেশি করা হবে না। সেদিন কারো গুনাহ বেশি করে অথবা কারো সাওয়াব কম করে তার উপর যুলুম করা হবে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

3:159

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর কোন নবী ‘গলুল’ [১] (অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন) করবে, এটা অসম্ভব। এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে, যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে কেয়ামতেরদিন সে তা সাথে নিয়ে আসবে [২]। তারপর প্রত্যেককে, যা সে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না [৩]।

[১] গলুলের এক অর্থ হয় খেয়ানত করা, জোর করে দখল করে নেয়া। সে হিসেবেই এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট বড় গলুল তথা খেয়ানত হল এক বিঘত যমীন নেয়া। তোমরা দু’জন লোককে কোন যমীনের বা ঘরের প্রতিবেশী দেখতে পাবে। তারপর তাদের একজন তার সার্থীর অংশের এক বিঘত যমীন কেটে নেয়। যদি কেউ এভাবে যমীন কেটে নেয় সে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত সাত যমীন গলায় পেঁচিয়ে থাকবে। [মুসনাদে আহমাদঃ ৫/৩৪১]

[২] ‘গলুল’ এর অন্য অর্থ সরকারী সম্পত্তি থেকে কোন কিছু গোপন করা। গনীমতের মালও সরকারী সম্পদ। সুতরাং তা থেকে চুরি করা মহাপাপ। কোন নবীর পক্ষে এমন পাপের সম্ভাব্যতা নেই। আয়াতটি একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গনীমতের মাল চুরি করার বিষয়টিও এসে গেছে। ঘটনাটি ছিল এই যে, বদরের যুদ্ধের পর যুদ্ধলব্ধ গনীমতের মালের মধ্যে থেকে একটি চাদর খোয়া যায়। কোন কোন লোক বলল, হয়ত সেটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে থাকবেন। [তিরমিযীঃ ৩০০৯, আবুদাউদঃ ৩৯৭১]

এসব কথা যারা বলত তারা যদি মুনাফেক হয়ে থাকে, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছুই নেই। আর তা কোন অবুঝ মুসলমানের পক্ষে বলাও অসম্ভব নয়। তবে সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে, সে হয়ত মনে করে থাকবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের তা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়, যাতে (غلول) বা গনীমতের মালের ব্যাপারে অনধিকার চর্চার ভয়াবহতা এবং কেয়ামতের দিন সে জন্য কঠিন শাস্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে যে, কোন নবী সম্পর্কে এমন ধারণা করা যে, তিনিই এহেন পাপ কাজ করে থাকবেন, একান্তই অনর্থক ধৃষ্টতা। কারণ, নবীগণ যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত।

[৩] এখানে একটা বিষয় জানা আবশ্যক যে, গনীমতের মাল চুরি করা কিংবা তাতে খেয়ানত করা বা সরকারী সম্পদ থেকে কোন কিছু আত্মসাৎ করা, সাধারণ চুরি অথবা খেয়ানত অপেক্ষা বেশী পাপের কাজ। কারণ, এ সম্পদের সাথে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সংযুক্ত থাকে। কাজেই যে লোক এতে চুরি করবে, সে চুরি করবে শত-সহস্ৰ লোকের সম্পদ। যদি কখনো কোন সময় তার মনে তা সংশোধন করার খেয়াল হয়, তখন সবাইকে তাদের অধিকার প্রত্যাপন করা কিংবা সবার কাছ থেকে ক্ষমা করিয়ে নেয়া একান্তই দুরূহ ব্যাপার। পক্ষান্তরে অন্যান্য চুরি মালের মালিক সাধারণতঃ পরিচিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।

কখনও কোন সময় আল্লাহ যদি তওবাহ করার তাওফীক দান করেন, তবে তার হক আদায় করে কিংবা তার কাছ থেকে ক্ষমা করিয়ে নিয়ে মুক্ত হতে পারে। সে কারণেই কোন এক যুদ্ধে এক লোক যখন কিছু পশম নিজের কাছে লুকিয়ে রেখেছিল, গনীমতের মাল বন্টন করার কাজ শেষ হয়ে গেলে যখন তার মনে হল, তখন সেগুলো নিয়ে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমীপে উপস্থিত হল। তিনি রহমাতুললিল আলামীন এবং উম্মতের জন্য পিতা-মাতা অপেক্ষা সদয় হওয়া সত্ত্বেও তাকে এই বলে ফিরিয়ে দিলেন যে, এখন এগুলো কেমন করে আমি সমস্ত সেনাবাহিনীর মাঝে বন্টন করব? কাজেই কেয়ামতের দিনই তুমি এগুলো নিয়ে উপস্থিত হয়ো।

[সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ৪৮৫৮, মুসনাদে আহমাদঃ ২/২১৩, ৬/৪২৮]

তাছাড়া গনীমতের মাল বা সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ করার ব্যাপারটি অন্যান্য চুরি অপেক্ষা কঠিন পাপ হওয়ার আরও একটি কারণ এই যে, হাশরের ময়দানে যেখানে সমগ্র সৃষ্টি সমবেত হবে, সবার সামনে তাকে সেখানে এমনভাবে লাঞ্ছিত করা হবে যে, চুরি করা বস্তু-সামগ্রী তার কাঁধে চাপানো থাকবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ “দেখ, কেয়ামতের দিন কারো কাঁধে একটি উট চাপানো অবস্থায় থাকবে এবং ঘোষণা করা হবে যে, এ লোক গনীমতের মালের উট চুরি করেছিল, এমন যেন না হয়। যদি সে লোক আমার শাফা’আত কামনা করে, তবে আমি তাকে পরিস্কার ভাষায় জবাব দিয়ে দেব যে, আমি আল্লাহ্‌র যা কিছু নির্দেশ পেয়েছিলাম, তা সবই পৌঁছে দিয়েছিলাম, এখন আমি কিছুই করতে পারব না” [বুখারীঃ ৩০৭৩]

মনে রাখা আবশ্যক যে, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ওয়াকফের মালের অবস্থাও একই রকম, যাতে হাজার-হাজার মুসলিমের চাঁদা বা দান অন্তর্ভুক্ত। ক্ষমাও যদি করাতে হয়, তবে কার কাছ থেকে ক্ষমা করাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘সরকারী কর্মচারীদের প্রাপ্ত হাদীয়া বা উপটৌকণ গলুলের শামিল’। [মুসনাদে আহমাদঃ ৫/৪২৪]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ইবনুল্লতুবিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োগ দেন। সে ফিরে এসে বললঃ এগুলো তোমাদের আর এগুলো আমাকে হাদীয়া দেয়া হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাড়ালেন এবং বললেনঃ ‘কি হলো কর্মচারীর তাকে আমরা কোন কাজে পাঠাই পরে সে এসে বলে, এগুলো তোমাদের আর ওগুলো আমাকে হাদীয়া দেয়া হয়েছে। সে কেন তার পিতা-মাতার ঘরে বসে দেখে না তার জন্য হাদীয়া আসে কি না? যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তার শপথ করে বলছি, যে কেউ এর থেকে কিছু নিবে কিয়ামতের দিন সেটাই সে তার কাঁধে নিয়ে আসবে। [বুখারীঃ ৬৯৭৯, মুসলিমঃ ১৮৩২]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ “হে মানুষ সকল! তোমাদের কাউকে কোন কাজে লাগালে যদি সে আমাদের থেকে কিছু লুকায় তবে সে তা কেয়ামতের দিন সাথে নিয়ে আসবে’। [মুসলিমঃ ১৮৩৩]

আবদুল্লাহ ইবন আমর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিনিসপত্রের দায়িত্বে এক লোক ছিল, তাকে ‘কারকারাহ’ বলা হতো, হঠাৎ করে সে মারা গেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তো জাহান্নামে গেছে। লোকেরা তার জিনিসপত্র তল্লাশী করে দেখতে পেল যে, সে একটি জামা চুরি করেছে।” [বুখারী: ৩০৭৪]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ১৬১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আল্লাহ তাআলার বাণী: (যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের ওপর প্রবল হওয়ার কেউ নেই) অর্থাৎ তোমরা তাঁর ওপরই ভরসা করো। কেননা তিনি যদি তোমাদের সাহায্য করেন এবং তোমাদের শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেন, তবে তোমরা কখনোই পরাজিত হবে না। (আর যদি তিনি তোমাদের লাঞ্ছিত করেন) অর্থাৎ তিনি যদি তোমাদের তাঁর সাহায্য থেকে বঞ্চিত করেন; (তবে তাঁর পরে এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে?) অর্থাৎ তাঁর পরিত্যক্ত করার পর কেউ তোমাদের সাহায্য করতে পারবে না। কারণ তিনি বলেছেন: "যদি তিনি তোমাদের লাঞ্ছিত করেন", আর 'খিজলান' (লাঞ্ছনা/পরিত্যাগ) হলো সাহায্য ত্যাগ করা।

'মাখজুল' (লাঞ্ছিত) বলতে তাকে বোঝায় যাকে পরিত্যাগ করা হয়েছে এবং যার কোনো গুরুত্ব নেই। বন্য পশু যখন চারণভূমিতে তার শাবকের কাছে অবস্থান করে এবং তার সঙ্গীদের ছেড়ে চলে যায়, তখন বলা হয় 'খাজালাত'। এমতাবস্থায় তাকে 'খাজুল' বলা হয়। কবি তারাফাহ বলেছেন:সে এমন এক নিঃসঙ্গ বিচরণকারিণী যে নিভৃত বনভূমিতে পশুপালের দেখাশোনা করছে ... সে আরাক বৃক্ষের ডালপালা ভক্ষণ করছে এবং ঝোপঝাড়ে আবৃত হচ্ছে।তিনি আরও বলেছেন:সে সজল নয়নে তোমার দিকে তাকালো ... সে তার সঙ্গীদের ছেড়ে নিজ সন্তানের পাশে রয়ে গেল।বলা হয়েছে: এটি মূল অর্থ থেকে বিবর্তিত, কারণ সঙ্গীরা তাকে ছেড়ে গেলে সে নিজেই প্রকৃতপক্ষে 'মাখজুল' বা পরিত্যক্তা।

আর কারো পা দুর্বল হয়ে পড়লে বলা হয় 'তাখাজালাত'। কবি বলেন:পঙ্গুত্ব ছাড়াই পা দুটি অবশ হয়ে পড়া। যে ব্যক্তি সর্বদা অন্যকে লাঞ্ছিত বা সাহায্যহীন করে রাখে, তাকে 'খুজালাহ' বলা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। ‌‌[সূরা আল-ইমরান (৩): আয়াত ১৬১]কোনো নবীর পক্ষে সম্ভব নয় যে তিনি খেয়ানত (গনিমতের মাল আত্মসাৎ) করবেন। আর যে ব্যক্তি খেয়ানত করবে, সে কিয়ামতের দিন সেই খেয়ানতকৃত বস্তুসহ উপস্থিত হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জিত কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না (১৬১)।এ আয়াতে এগারোটি মাসআলা রয়েছে: প্রথম- উহুদ যুদ্ধের দিন তিরন্দাজরা যখন তাদের অবস্থান ত্যাগ করেছিল—যেটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—এই ভয়ে যে মুসলিমরা গনিমতের মাল দখল করে নেবে এবং তারা কিছুই পাবে না, তখন মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো অবিচার করেন না।

সুতরাং তাঁকে অভিযুক্ত করা তোমাদের জন্য সংগত ছিল না। দাহহাক বলেন: বরং কারণটি ছিল এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো এক যুদ্ধে একটি অগ্রবর্তী দল পাঠিয়েছিলেন এবং তারা ফেরার পূর্বেই গনিমত অর্জিত হয়। তিনি উপস্থিত লোকদের মধ্যে তা বণ্টন করে দেন কিন্তু অগ্রবর্তী দলের জন্য কোনো অংশ রাখেননি। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সতর্কতাস্বরূপ নাজিল করেন: "কোনো নবীর পক্ষে শোভা পায় না যে তিনি খেয়ানত করবেন" অর্থাৎ তিনি কাউকে দেবেন আর কাউকে বঞ্চিত করবেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস, ইকরিমা, ইবনে জুবায়ের প্রমুখ আরও বলেন:(১).

রাব-রাব: বন্য গরু বা হরিণের পাল। খামিলাহ: বৃক্ষশোভিত সমতল ও নরম ভূমি। বারির: আরাক গাছের ফল।(২). এটি আল-আশা নামক কবির একটি কবিতার শেষাংশ, যার প্রথমাংশ হলো: ‘কুল্লু ওয়াদ্দাহিন কারিমিন জাদ্দুহু’।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয়ই তারা তাদের উদরে আগুন ভক্ষণ করে এবং শীঘ্রই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০)। এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর সেদিন যে ব্যক্তি তাদের দিকে তার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে ) শেষ পর্যন্ত (এবং তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য) (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ১৬)। এবং সুদ ভক্ষণ করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (যারা সুদ খায় তারা দাঁড়াবে না ) (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৭৫) আয়াতটি। এবং জাদু করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (অবশ্যই তারা জানে যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই) (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১০২)

এবং ব্যভিচার করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (সে শাস্তির সম্মুখীন হবে) (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৬৮) আয়াতটি। এবং মিথ্যা কসম খাওয়া (আল-ইয়ামিন আল-গামুস), কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর অঙ্গীকার এবং তাদের কসমের বিনিময়ে... ) (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৭৭) আয়াতটি। এবং গনিমত বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন তার আত্মসাৎকৃত বস্তু নিয়ে উপস্থিত হবে) (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৬১)। এবং নির্ধারিত জাকাত প্রদান না করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (অতঃপর তা দ্বারা তাদের ললাটসমূহ দগ্ধ করা হবে...

) (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৩৫) আয়াতটি। এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান ও সাক্ষ্য গোপন করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যে ব্যক্তি তা গোপন করে, তার অন্তর অবশ্যই পাপী) (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৮৩)। এবং মদ্যপান করা, কেননা আল্লাহ তা একে মূর্তিপূজার সমতুল্য করেছেন। এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করা, কেননা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করল, তার ওপর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি উঠে গেল।" এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: (তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস) (সূরা আর-রাদ, আয়াত ২৫)।আবদ বিন হুমাইদ, বাযযার এবং তাবারানি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: সূরা আন-নিসার শুরু থেকে ত্রিশ আয়াতের শীর্ষভাগ পর্যন্ত যা আছে।আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কবিরা গুনাহসমূহ হলো সূরা আন-নিসার শুরু থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: তোমাদের যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবিরা (মহাপাপ), তা যদি তোমরা বর্জন করো।আবদ বিন হুমাইদ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

তিনি বললেন: তোমরা সূরা আন-নিসা পাঠ শুরু করো; আল্লাহ যা কিছু নিষেধ করেছেন, ত্রিশ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত তার প্রতিটিই কবিরা গুনাহ। অতঃপর তিনি এর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ পাঠ করলেন: তোমাদের যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবিরা (মহাপাপ), তা যদি তোমরা বর্জন করো আয়াতটি।