Ali 'Imran

আলে ইমরান: 92

3:92
টেক্সট কপি

মূল আরবি

لَن تَنَالُوا۟ ٱلْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا۟ مِمَّا تُحِبُّونَ ۚ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِن شَىْءٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ

English Translations

Sahih International

Never will you attain the good [reward] until you spend [in the way of Allāh] from that which you love. And whatever you spend - indeed, Allāh is Knowing of it.

Muhsin Khan

By no means shall you attain Al-Birr (piety, righteousness, etc., it means here Allah's Reward, i.e. Paradise), unless you spend (in Allah's Cause) of that which you love; and whatever of good you spend, Allah knows it well.

Taqi Usmani

You shall never attain righteousness unless you spend from what you love. Whatsoever you spend, Allah is fully aware of it.

Abul Ala Maududi

You shall not attain righteousness until you spend out of what you love (in the way of Allah). Allah knows whatever you spend.

Pickthall

Ye will not attain unto piety until ye spend of that which ye love. And whatsoever ye spend, Allah is Aware thereof.

Yusuf Ali

By no means shall ye attain righteousness unless ye give (freely) of that which ye love; and whatever ye give, of a truth Allah knoweth it well.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না, যা কিছু তোমরা খরচ কর-নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে খুব ভালভাবেই অবগত।

রাওয়াই আল-বায়ান

তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না ব্যয় করবে তা থেকে, যা তোমরা ভালবাস। আর যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনই কল্যাণ লাভ করতে পারবেনা; এবং তোমরা যা কিছুই ব্যয় কর, আল্লাহ তা জ্ঞাত আছেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তোমরা যা ভালোবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।

ফাতহুল মাজীদ

তোমরা কোনই নেকী পাবে না যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে খরচ কর। আর তোমরা যা কিছুই দান কর আল্লাহ তা জানেন।

মুখতাসার

৯২. হে মু’মিনরা! তোমরা কস্মিনকালেও নেককারদের সাওয়াব ও মর্যাদা পাবে না যতক্ষণ না তোমরা নিজেদের প্রিয় সম্পদের কিয়দংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। তোমরা কম-বেশি যাই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের আমল ও নিয়্যাত সম্পর্কে জানেন। তাই অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

হযরত আমর ইবনে মাইমুন (রঃ) বলেন যে, এখানে (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে জান্নাত। অর্থাৎ যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের পছন্দনীয় জিনিস হতে আল্লাহর পথে ব্যয় কর সে পর্যন্ত তোমরা কখনই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সমস্ত আনসারের মধ্যে হযরত আবু তালহা (রাঃ) ছিলেন সবচেয়ে বেশী সম্পদশালী। তিনি তাঁর সমস্ত ধন-সম্পত্তির মধ্যে (আরবী) নামক বাগানটিকে সর্বাপেক্ষা বেশী পছন্দ করতেন। বাগানটি মসজিদই-ই-নববীর সম্মুখে অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) প্রায়ই ঐ বাগানে গমন করতেন এবং ওর কূপের নির্মল পানি পান করতেন।

যখন উপরোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন হযরত আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহ তা'আলা এরূপ কথা বলেছেন এবং এ (আরবী) (নামক বাগানটিই) হচ্ছে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। এ জন্যে আমি ওটি আল্লাহর পথে সাদকা করছি এ আশায় যে, তার নিকট যে প্রতিদান রয়েছে তাই আমার জন্যে জমা থাকবে। সুতরাং আপনাকে অধিকার দিয়ে দিলাম যেভাবে ভাল মনে করেন ওটা বন্টন করে দিন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) খুশী হয়ে বলেনঃ বাঃ বাঃ! এটা খুবই উপকারী সম্পদ। এর দ্বারা জনগণের বেশ উপকার সাধিত হবে। আমার মত এই যে, তুমি এ সম্পদ তোমার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বন্টন করে দাও।' হযরত আবু তালহা (রাঃ) বলেন, “খুব ভাল।

অতঃপর তিনি ওটা তার আত্মীয়-স্বজন এবং চাচাতো ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দেন। (মুসনাদ-ই- আহমাদ, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এসেছে যে, একবার হযরত উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে আরয করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার সবচেয় প্রিয় ও উত্তম মাল ওটাই যা খাইবারে আমার জমির একটি অংশ রয়েছে। (আমি ওটা আল্লাহর পথে সাদকা করতে চাই) বলুন, কি করি?' তিনি বলেনঃ মূলকে (জমিকে) তোমার অধিকারে রাখ এবং ওর উৎপাদিত শস্য, ফল ইত্যাদি আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে দাও। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেনঃ ‘পাঠের সময় যখন আমি উপরোক্ত আয়াতে পৌছি তখন আমি আমার সমস্ত ধন-সম্পদ সম্বন্ধে চিন্তা করি।

কিন্তু আমার রুমী দাসীটি অপেক্ষা অধিক প্রিয় কোন জিনিস আমার চোখে পড়লো না। কাজেই আমি ঐ দাসীটিকেই আল্লাহর পথে আযাদ করে দিলাম। আমার অন্তরে ওর প্রতি এত বেশী ভালবাসা রয়েছে যে, যদি আমি আল্লাহর পথে প্রদত্ত কোন জিনিস ফিরিয়ে নিতে পারতাম তবে আমি অবশ্যই তাকে বিয়ে করে নিতাম। (মুসনাদ-ই-বাযযার)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত [১]।

দশম রুকূ‘

[১] সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন কুরআনী নির্দেশের প্রথম সম্বোধিত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যক্ষ সঙ্গী। কুরআনী নির্দেশ পালনের জন্য তারা ছিলেন উম্মুখ। আলোচ্য আয়াত নাযিল হওয়ার পর তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সহায় সম্পত্তির প্রতি লক্ষ্য করলেন যে, কোনটি তাদের নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়। এরপর আল্লাহ্‌র পথে তা ব্যয় করার জন্যে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবেদন করতে লাগলেন। মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বেশ ধনী ছিলেন। মসজিদে নববী সংলগ্ন বিপরীত দিকে তার একটি বাগান ছিল, যাতে ‘বীরাহা’ নামে একটি কূপ ছিল।

বর্তমানে মাসজিদের নববীর বাব আল-মাজীদীর বাদশাহ ফাহদ গেট দিয়ে ভিতরে মসজিদে ঢুকার পর পরই সামান্য বাম পার্শ্বে এ স্থানটি পড়ে। পরিচিতির সুবিধার্থে দুই থামের মাঝখানের তিনটি গোল চক্কর দিয়ে তার স্থান নির্দেশ করা আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে এ বাগানে পদার্পণ করতেন এবং বীরহা কূপের পানি পান করতেন। এ কুপের পানি তিনি পছন্দও করতেন। আবু তালহার এ বাগান অত্যন্ত মূল্যবান, উর্বর এবং তার বিষয়-সম্পত্তির মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রিয় ছিল। আলোচ্য আয়াত নাযিল হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে বললেনঃ আমার সব বিষয়-সম্পত্তির মধ্যে বীরহা আমার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয়।

আমি এটি আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করতে চাই। আপনি যে কাজে পছন্দ করেন, এটি তাতেই খরচ করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিরাট মুনাফার এ বাগানটি আমার মতে তুমি স্বীয় আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বন্টন করে দাও। আবু তালহা এ পরামর্শ গ্রহণ করেন৷ [বুখারীঃ ১৪৬১, মুসলিমঃ ৯৯৮]

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, শুধু ফকীর-মিসকীনকে দিলেই পুণ্য হয় না -পরিবার-পরিজন ও আত্নীয়-স্বজনকে দান করাও বিরাট পুণ্য ও সওয়াবের কাজ।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আলে ইমরান (৩): আয়াত ৯২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

কিয়ামতের দিন; তখন তাকে বলা হবে: তুমি কি মনে করো, যদি তোমার কাছে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণ থাকত, তবে কি তুমি তা মুক্তিপণ হিসেবে দিতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হবে: তোমার কাছে তো এর চেয়েও সহজ কিছু চাওয়া হয়েছিল। (এটি বুখারীর শব্দ। আর ইমাম মুসলিম 'তুমি তো' এর পরিবর্তে 'তুমি মিথ্যা বলেছ, তোমার কাছে চাওয়া হয়েছিল' শব্দ বর্ণনা করেছেন)। ‌‌[সূরা আলে ইমরান (৩): আয়াত ৯২]তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। (৯২)এতে দুটি মাসআলা বা আলোচনা রয়েছে: প্রথমটি— ইমামগণ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ নাসায়ীর, আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো— "তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো", তখন আবু তালহা (রা.) বললেন: আমাদের রব আমাদের কাছে আমাদের ধন-সম্পদ থেকে (ব্যয়) প্রার্থনা করছেন; তাই হে আল্লাহর রাসূল!

আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার ভূমি আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এটি তোমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হাসান ইবনে সাবিত এবং উবাই ইবনে কাবের জন্য নির্ধারণ করো।" আর 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে রয়েছে: "তার নিকট সবচাইতে প্রিয় সম্পদ ছিল 'বিরহা' নামক বাগানটি, যা ছিল মসজিদের ঠিক সামনেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে প্রবেশ করতেন এবং সেখানকার সুপেয় পানি পান করতেন।" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন। এই আয়াতে সম্বোধনের প্রকাশ্য রূপ (যাহির) এবং এর ব্যাপকতা (উমুম) অনুসরণের প্রমাণ রয়েছে; কেননা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) আয়াতটি নাযিল হওয়ার সময় এর মর্মার্থ থেকে এর বাইরে অন্য কিছু বুঝতে পারেননি।

আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আবু তালহা (রা.) যখন "তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না..." আয়াতটি শুনলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কোন জিনিস থেকে ব্যয় করতে বলেছেন তা স্পষ্টভাবে জানার জন্য তিনি অন্য কোনো আয়াত বা ব্যাখ্যামূলক সুন্নাহ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন মনে করেননি, অথচ তারা অনেক কিছুই ভালোবাসতেন। অনুরূপভাবে যায়িদ ইবনে হারিসাহ (রা.)-ও করেছিলেন; তিনি তার প্রিয় বস্তুগুলোর মধ্য থেকে 'সাবাল' নামক একটি ঘোড়া মনোনীত করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার নিকট এই ঘোড়াটির চেয়ে প্রিয় কোনো সম্পদ নেই। অতঃপর তিনি সেটি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে এলেন এবং বললেন: এটি আল্লাহর রাস্তায় (উৎসর্গীকৃত)।

তখন তিনি উসামা ইবনে যায়িদকে বললেন: "এটি গ্রহণ করো।" এতে যায়িদ (রা.) মনে মনে কিছুটা ইতস্তত অনুভব করলেন (যেহেতু তা তার পরিবারের কাছেই রয়ে গেল)। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার পক্ষ হতে এটি কবুল করেছেন।" আসাদ ইবনে মুসা এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে উমর (রা.) তাঁর প্রিয় ভৃত্য নাফেকে আযাদ করে দিয়েছিলেন, অথচ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর তাকে এর বিনিময়ে এক হাজার দীনার দিতে চেয়েছিলেন। সাফিয়া বিনতে আবি উবাইদ বলেন: "আমার মনে হয় তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীরই মর্মার্থ গ্রহণ করেছিলেন— 'তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো'।" আর শিবল আবু নাজীহ হতে বর্ণনা করেছেন...(১).

বিরহা: মদিনায় আবু তালহার মালিকানাধীন একটি বাগান ও স্থান।(২). পাণ্ডুলিপি 'দাল' এবং 'যায়' হতে।(৩). পাণ্ডুলিপি 'দাল'-এ রয়েছে: ইবনে আবি নাজীহ।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং আল-ফিরয়াবি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মানের খেজুর সদকা করত, ফলে তাদের তা করতে নিষেধ করা হয় এবং উত্তম বস্তু সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন: এই প্রেক্ষাপটেই অবতীর্ণ হয়েছে— "তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না।"ওয়াকি, ইবনে আবি শায়বাহ, আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে জারির হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি তার সম্পদের নিকৃষ্ট অংশ সদকা করত, তখন অবতীর্ণ হয়— "তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না।"আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম (যিনি একে সহিহ বলেছেন) এবং বাইহাকি আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাঠি হাতে বের হলেন।

তখন মসজিদে খেজুরের কিছু ছড়া ঝুলন্ত ছিল, যার একটি ছড়া ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। তিনি সেই ছড়াটিতে খোঁচা দিলেন এবং বললেন: "এই সদকার দাতা যদি এর চেয়ে উত্তম বস্তু সদকা করত তবে তার কী ক্ষতি হতো? নিশ্চয়ই এই সদকা দানকারী কিয়ামতের দিন এমন নিকৃষ্ট খেজুরই ভক্ষণ করবে।"ইবনে জারির, ইবনে মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, মহান আল্লাহর বাণী— "তোমরা তোমাদের উপার্জিত হালাল ও উৎকৃষ্ট বস্তু থেকে ব্যয় করো" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: তোমরা তোমাদের সম্পদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান অংশ থেকে সদকা করো। "অথচ তোমরা তা গ্রহণ করতে চাইতে না"— এ সম্পর্কে তিনি বলেন: যদি কারো কাছে তোমাদের কোনো পাওনা থাকে এবং সে তোমাদের পাওনার চেয়ে নিম্নমানের কিছু নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা ভালো মালের মূল্যে গ্রহণ করতে না যতক্ষণ না তোমরা তার দাম কমিয়ে দিতে।

আর এটিই হলো আল্লাহর বাণী— "চোখ বন্ধ করে নেওয়া ব্যতীত"। সুতরাং তোমরা আমার (আল্লাহর) জন্য এমন কিছু কেন পছন্দ করছ যা তোমরা নিজেদের জন্য পছন্দ করো না? অথচ তোমাদের কাছে আমার প্রাপ্য হলো তোমাদের সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান সম্পদ। আর তা-ই হলো আল্লাহর এই বাণী— "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৯২)।ফিরয়াবি, ইবনে জারির, ইবনে মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেছেন— "তোমরা নিকৃষ্ট বস্তুর সংকল্প করো না" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: মুসলিমের উপার্জন অপবিত্র হয় না, তবে তোমরা নিকৃষ্ট মানের খেজুর, ভেজাল দিরহাম এবং যাতে কোনো কল্যাণ নেই তা সদকা করো না।আর মহান আল্লাহর বাণী— "চোখ বন্ধ করে নেওয়া ব্যতীত" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: অর্থাৎ তোমরা তা গ্রহণ করতে সম্মত হতে না।ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম বারা ইবনে আজিব থেকে বর্ণনা করেছেন— "তোমরা নিকৃষ্ট বস্তুর সংকল্প করো না" এর অর্থ হলো: তোমরা ব্যয় করার জন্য নিকৃষ্ট বস্তুকে লক্ষ্য বানিও না।

আর জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সদকা থেকে অমুখাপেক্ষী।আল-তাস্তি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাফি ইবনুল আজরাক তাকে বললেন: আমাকে আল্লাহর বাণী— "তোমরা নিকৃষ্ট বস্তুর সংকল্প করো না" সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের ফল ও ফসলের সবচেয়ে মন্দ অংশটি সদকা হিসেবে দেওয়ার সংকল্প করো না, কারণ যদি তোমাদেরকে সেটি দেওয়া হতো তবে তোমরা তা গ্রহণ করতে না।তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আরবরা কি এ সম্পর্কে জানে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি কি আল-আ’শা-কে বলতে শোনোনি: