Ali 'Imran

আলে ইমরান: 98

3:98
টেক্সট কপি

মূল আরবি

قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا تَعْمَلُونَ

English Translations

Sahih International

Say, "O People of the Scripture, why do you disbelieve in the verses of Allāh while Allāh is Witness over what you do?"

Muhsin Khan

Say: "O people of the Scripture (Jews and Christians)! Why do you reject the Ayat of Allah (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) while Allah is Witness to what you do?"

Taqi Usmani

Say, “O people of the Book, why do you reject the verses of Allah while Allah is witness to what you do?”

Abul Ala Maududi

Say: 'People of the Book! Why do you reject the signs of Allah when Allah is witness to all that you do?'

Pickthall

Say: O People of the Scripture! Why disbelieve ye in the revelations of Allah, when Allah (Himself) is Witness of what ye do?

Yusuf Ali

Say: "O People of the Book! Why reject ye the Signs of Allah, when Allah is Himself witness to all ye do?"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

বল, ‘হে কিতাবধারীগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে কেন অমান্য করছ? বস্তুতঃ তোমরা যা করছ, আল্লাহ তার সাক্ষী’।

রাওয়াই আল-বায়ান

বল, ‘হে আহলে কিতাব, তোমরা কেন আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করছ ? আর আল্লাহ তোমরা যা করছ সে ব্যাপারে সাক্ষী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তুমি বলঃ হে কিতাবধারীরা! তোমরা কেন আল্লাহর নিদর্শনাবলীর প্রতি অবিশ্বাস করছো? তোমরা যা করছো আল্লাহ তদ্বিষয়ে সাক্ষী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বলুন, ‘হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের সাথে কেন কুফরী কর? আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সাক্ষী’।

ফাতহুল মাজীদ

আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা আল্লাহ আয়াতকে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা যা কিছু করছ তার ওপর আল্লাহ সাক্ষী রয়েছেন।

মুখতাসার

৯৮. হে নবী! আপনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে ডেকে বলে দিন: তোমরা কেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সত্যতার প্রমাণগুলো অস্বীকার করো। যার মধ্যে রয়েছে সে প্রমাণগুলো যা তাওরাত ও ইঞ্জীলে এসেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তার সাক্ষী। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তার প্রতিদান দিবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৯৮-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর: কিতাবীদের ঐ কাফিরদেরকে আল্লাহ ধমক দিচ্ছেন যারা সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল এবং জনগণকেও জোরপূর্বক ইসলাম হতে সরিয়ে রেখেছিল। অথচ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতা সম্বন্ধে তাদের পূর্ণ অবগতি ছিল। পূর্ববর্তী নবী রাসূলগণের ভবিষ্যদ্বাণী এবং তাঁদের শুভ সংবাদ তাদের নিকট বিদ্যমান ছিল। নিরক্ষর, হাশেমী, আরবী, মক্কা ও মদীনাবাসী, বানী আদমের নেতা ও নবীকুল শিরোমণি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বর্ণনা তাদের গ্রন্থসমূহে মওজুদ ছিল। তথাপি তারা তাঁকে অবিশ্বাস করে। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলেনঃ “আমি খুব ভাল করেই প্রত্যক্ষ করছি যে, তোমরা কিভাবে আমার নবীদেরকে অস্বীকার করছো, কি প্রকারে শেষ নবী (সঃ)-কে কষ্ট দিচ্ছ এবং কিরূপে আমার খাটি বান্দাদেরকে তাদের ইসলামের পথে বাধা প্রদান করছে।

আমি তোমাদের কার্যাবলী সম্বন্ধে অমনোযোগী নই। তোমাদের প্রত্যেক অন্যায় কার্যের আমি পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবো। আমি তোমাদেরকে সেদিন ধরবো যেদিন তোমরা তোমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী ও সাহায্যকারী পাবে না।'

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

বলুন, ‘হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের সাথে কেন কুফরী কর? আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সাক্ষী’।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ৯৮ থেকে ৯৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমি বলি: এটি কঠোরতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে। এ কারণেই আমাদের উলামায়ে কেরাম বলেছেন: এই আয়াতটি একথাই অন্তর্ভুক্ত করে যে, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করে মৃত্যুবরণ করল, তার ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি প্রযোজ্য হবে। আর তার পক্ষ থেকে অন্য কারো হজ করা যথেষ্ট হবে না; কারণ অন্য কারো হজ যদি তার ওপর থেকে ফরজ রহিত করে দিত, তবে তার থেকে এই হুঁশিয়ারিও রহিত হয়ে যেত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহি.) বলেন: যদি আমার এমন কোনো প্রতিবেশী মারা যায় যার সচ্ছলতা ছিল কিন্তু সে হজ করেনি, তবে আমি তার জানাজার নামাজ পড়ব না।

‌‌[সূরা আল ইমরান (৩): আয়াত ৯৮ থেকে ৯৯]বলুন: ‘হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা যা করছ আল্লাহ তার সাক্ষী।’ (৯৮) বলুন: ‘হে আহলে কিতাবগণ! যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে কেন তোমরা আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করছ এবং তাতে বক্রতা খুঁজছ? অথচ তোমরা (তার সত্যতার) সাক্ষী। আর তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।’ (৯৯)মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন: ‘হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করছ’) অর্থাৎ, যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিচ্যুত করছ। হাসান (বসরী) 'তুসিদ্দূনা' (তা-তে পেশ এবং সদ-এ জের দিয়ে) পড়েছেন।

এই দুটি (সাদ্দা ও আসাদদা) একই অর্থবোধক দুটি ভাষা-রীতি; যেমন গোশত দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে 'সাল্লা' এবং 'আসাল্লা' উভয়ই ব্যবহৃত হয়; আবার বর্ণ বা অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে 'খাম্মা' এবং 'আখাম্মা' উভয়ই ব্যবহৃত হয়। (তাতে বক্রতা খুঁজছ) অর্থাৎ এর জন্য বক্রতা অন্বেষণ করছ; এখানে ‘লাম’ বর্ণটি উহ্য রাখা হয়েছে, যেমনটা ‘ওয়া ইযা কালূহুম’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন: ৩) আয়াতে হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: ‘বাগাইতু লাহূ কাযা’ অর্থাৎ আমি তার জন্য এটি অন্বেষণ করেছি। আর ‘আবগাইতুহু কাযা’ মানে আমি তাকে এটি পেতে সাহায্য করেছি। আর ‘ইওয়াজ’ (আইন অক্ষরে যের দিয়ে) বলতে দ্বীন, কথা, কর্ম বা যা কিছু সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তার মধ্যবর্তী বিচ্যুতি ও বক্রতাকে বোঝায়।

আর ‘আওয়াজ’ (আইন অক্ষরে জবর দিয়ে) প্রাচীর, দেয়াল এবং প্রতিটি দণ্ডায়মান বস্তুর বক্রতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়—এটি আবু উবাইদাহ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত। আর মহান আল্লাহর বাণী: “তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার কোনো বিচ্যুতি নেই” (সূরা ত্বহা: ১০৮)-এর অর্থ হলো, তারা তার আহ্বান থেকে বিচ্যুত হতে সক্ষম হবে না। ‘আ-জা’ বা ‘আওয়াজা’ কোনো স্থানে অবস্থান করা বা দাঁড়িয়ে থাকার অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘আয়িজ’ মানে দণ্ডায়মান ব্যক্তি। কবি বলেছেন:তোমরা কি আমাদের সাথে এখানে অবস্থান করবে, যাতে আমরা … প্রাঙ্গণগুলো অথবা তাঁবুর চিহ্নগুলো দেখতে পারি?আর ‘আওয়াজ’ লোক বলতে দুশ্চরিত্র লোককে বোঝায়; তাকে ‘ইবনুল ইওয়াজ’ও বলা হয়।

‘উজ’ ঘোড়ার ক্ষেত্রে ঐসব ঘোড়াকে বলা হয় যাদের পায়ে ‘তাহনীব’ (এক প্রকার প্রশস্ততা) রয়েছে। ‘আওয়াজিয়্যাহ’ নামক ঘোড়াসমূহ জাহিলী যুগের এক দ্রুতগামী ঘোড়ার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর ‘মুহান্নাব’ ঘোড়া বলা হয় যখন ঘোড়ার দুই পায়ের মাঝখানে কোনো প্রকার খুঁত ছাড়াই প্রশস্ততা থাকে, যা প্রশংসনীয় গুণ হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়, ‘হানাব’ হলো দুই পায়ের নলার বক্রতা। তবে খলীল বলেছেন, ‘তাহনীব’ বলতে শারীরিক দৃঢ়তাকে বোঝানো হয়, তা বক্রতা নয়।(১). ১৯ খণ্ড, ২৪৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(২). ১১ খণ্ড, ২৪৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৩). পাণ্ডুলিপি ‘হা’ এবং ‘আলিফ’-এ রয়েছে: তারা তার স্থান থেকে বিচ্যুত হতে সমর্থ হবে না।(৪).

‘লা-আন্না’ শব্দটি ‘লা-আল্লা’ শব্দের একটি ভাষাগত রূপ।(৫). ‘আরসাহ’: ঘরবাড়ির মধ্যবর্তী এমন উন্মুক্ত স্থান যেখানে কোনো স্থাপনা নেই। আর ‘আরসাহুদ দার’ হলো বাড়ির আঙিনা বা উঠান।(৬). ‘তাহনীফ’: ঘোড়ার বিশেষ চলনভঙ্গি বা কর্মতৎপরতায় কোনো একজনের অবিচল থাকাও বুঝায়।