Ali 'Imran
আলে ইমরান: 83
3 আলে ইমরান Ali 'Imran · 200 আয়াত آل عمران
আরবি
أَفَغَيْرَ دِينِ ٱللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُۥٓ أَسْلَمَ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
English Translations
So is it other than the religion of Allāh they desire, while to Him have submitted [all] those within the heavens and earth, willingly or by compulsion, and to Him they will be returned?
Do they seek other than the religion of Allah (the true Islamic Monotheism worshipping none but Allah Alone), while to Him submitted all creatures in the heavens and the earth, willingly or unwillingly. And to Him shall they all be returned.
Are they, then, seeking a religion other than that of Allah, while to Him alone submit all those in the heavens and the earth, willingly or unwilling, and to Him they shall be returned?
Do they now seek a religion other than prescribed by Allah even though all that is in the heavens and the earth is in submission to Him - willing or unwillingly - and to Him all shall return?
Seek they other than the religion of Allah, when unto Him submitteth whosoever is in the heavens and the earth, willingly or unwillingly, and unto Him they will be returned.
Do they seek for other than the Religion of Allah?-while all creatures in the heavens and on earth have, willing or unwilling, bowed to His Will (Accepted Islam), and to Him shall they all be brought back.
বাংলা অনুবাদ
এরা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য দ্বীনের সন্ধান করছে? অথচ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই ইচ্ছেয় ও অনিচ্ছেয় তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন।
তারা কি আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা তাঁরই আনুগত্য করে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এবং তাদেরকে তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করা হবে।
তাহলে কি তারা আল্লাহর ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করে? অথচ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, ইচ্ছা ও অনিচ্ছাক্রমে সবাই তাঁর উদ্দেশে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
তারা কি চায় আল্লাহ্র দীনের পরিবর্তে অন্য কিছু? অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে! আর তাঁর দিকেই তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।
আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা বাদ দিয়ে তারা কি অন্য কিছুর সন্ধান করছে অথচ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আকাশ এবং পৃথিবীতে যা আছে সবই তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে ও তারই দিকে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
৮৩. যারা আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেলো তারা কি আল্লাহর পছন্দনীয় দ্বীন ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য কিছু চায়?! অথচ আকাশ ও জমিনের সকল সৃষ্টি তাঁরই অনুগত ও তাঁর সামনে আত্মসমর্পণকারী। চাই তা ইচ্ছায় হোক যেমন: মু’মিনরা অথবা অনিচ্ছায় যেমন: কাফিররা। অতঃপর কিয়ামতের দিন হিসাব ও প্রতিদানের জন্য আল্লাহর সকল সৃষ্টিকে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
তাফসীর
৮৩-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থ ও রাসূলদের মাধ্যমে যে সত্য ধর্ম অবতীর্ণ করেছেন অর্থাৎ শুধুমাত্র এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহরই ইবাদত করা, এছাড়া যদি কোন ব্যক্তি অন্য ধর্ম অনুসন্ধান করে তবে তা কখনই গৃহীত হবে না। একথাই এখানে বলা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন যে, আকাশ ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু খুশী মনেই হোক বা অসন্তুষ্ট চিত্তেই হোক, তাঁর বাধ্য রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (সেজদার আয়াত) (আরবী) অর্থাৎ ‘আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত মখলুক আল্লাহর সামনে খুশী মনে বা বাধ্য হয়ে সিজদা করে থাকে। (১৩:১৫) অন্য জায়গায় রয়েছে- তারা কি দেখে না যে, সমস্ত সৃষ্টজীবের ছায়া ডানে ও বামে ঝুঁকে পড়ে আল্লাহকে সিজদা করে থাকে এবং আকাশসমূহের সমস্ত জিনিস ও পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী এবং সমস্ত ফেরেশতা আল্লাহরই জন্যে সিজদা করে থাকে, কেউ অহংকার করে না এবং তারা সবাই স্বীয় প্রভুকে ভয় করে থাকে ও তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তারা পালন করে। সুতরাং মুমিনদের ভেতর ও বাহির দু'টোই আল্লাহ তা'আলার অনুগত ও বাধ্য হয়ে থাকে। আর কাফিরেরাও তাঁর মুষ্টির মধ্যে রয়েছে এবং বাধ্য হয়ে তাঁর সামনে নত হয়ে আছে। সর্বদিক দিয়েই তারা আল্লাহ তা'আলার ক্ষমতা ও ইচ্ছার অধীনে রয়েছে। কোন কিছুই তার প্রতাপ ও ক্ষমতার বাইরে নেই। এ আয়াতের তাফসীরে একটি গারীব হাদীসও এসেছে। হাদীসটি এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘আকাশবাসী তো হচ্ছেন ফেরেশতাগণ। তারা সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ পালনে নিয়োজিত রয়েছেন। আর পৃথিবীবাসী ওরাই যারা ইসলামের উপর সৃষ্ট হয়েছে। এরাও খুশী মনে আল্লাহর অনুগত নিরানন্দ অধীন তারাই যারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে মুসলমান সৈনিকদের হাতে বন্দী হয় এবং শৃংখলিত অবস্থায় আনীত হয়। এ লোকদেরকেই জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার হয় কিন্তু তারা তা চায় না। একটি বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছেঃ “তোমার প্রভু ঐ লোকদের জন্যে বিস্ময়বোধ। করেন যাদেরকে শৃংখল ও রশিতে বেঁধে জান্নাতের দিকে টেনে আনা হয়। এ হাদীসের আরও সনদ রয়েছে। কিন্তু এ আয়াতের অর্থ ওটাই বেশী দৃঢ় যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি নিম্নের আয়াতটির মতঃ (আরবী) অর্থাৎ 'যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, আকাশসমূহ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে যে আল্লাহ।' (৩৯:৩৮) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর দ্বারা ঐ প্রথম দিন বুঝানো হয়েছে যেদিন তাদের সবারই নিকট হতে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছিল।‘সবাই তার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সকলকেই আল্লাহ তা'আলা তাদের কার্যের পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা বল, আমরা আল্লাহর উপর, কুরআন কারীমের উপর, ইবরাহীম (আঃ), ইসমাঈল (আঃ), ইসহাক ও ইয়াকূব (আঃ)-এর উপর যে পুস্তিকাসমূহ ও অহী অবতীর্ণ হয়েছিল ঐগুলোর উপর, আর তাঁদের সন্তানদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি।' (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে বানী ইসরাঈলের গোত্র যারা হযরত ইয়াকূব (আঃ)-এর বংশোদ্ভূত ছিল। এরা ছিল হযরত ইয়াকূবের বারোটি পুত্রের সন্তান। হযরত মূসা (আঃ)-কে দেয়া হয়েছিল তাওরাত এবং হযরত ঈসা (আঃ)-কে দেয়া হয়েছিল ইঞ্জীল। আরও যত নবী (আঃ) স্বীয় প্রভুর নিকট হতে যা কিছু এনেছেন ঐগুলোর উপরও আমাদের বিশ্বাস রয়েছে। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য আনয়ন করি না। অর্থাৎ কাউকে মানবো এবং কাউকে মানবো না, এ কাজ আমরা করি না, বরং সকলের উপরেই আমাদের ঈমান রয়েছে, আমরা আল্লাহ তা'আলার অনুগত। সুতরাং এ উম্মতের মুমিনগণ সমস্ত নবী (আঃ) ও গ্রন্থ মেনে থাকে। তারা কোন নবীকে অস্বীকার করে না এবং তারা প্রত্যেক নবীর সত্যতা প্রতিপাদনকারী।অতঃপর আল্লাহ পাক বলেনঃ “আল্লাহর দ্বীন-ই-ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের অনুসন্ধানে যে লেগে থাকে তা কখনও গৃহীত হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতির মধ্যে পতিত হবে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কাজ করে যা আমার নির্দেশের বহির্ভূত, তা প্রত্যাখ্যাত। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন কার্যাবলী আগমন করবে। নামায এসে বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি নামায। আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তুমি ভাল জিনিস।' সাদকা এসে বলবে- হে প্রভু! আমি সাদকা। উত্তর হবে- তুমিও মঙ্গলের উপর রয়েছে। রোযা এসে বলবে- ‘আমি রোযা। আল্লাহ তা'আলা বলবেন- তুমিও মঙ্গলের উপর আছ। তারপর আরও আমলসমূহ আসবে এবং সবকেই এ উত্তরই দেয়া হবে। অতঃপর ইসলাম এসে বলবে-“হে আল্লাহ! আপনি সালাম এবং আমি ইসলাম। আল্লাহ তা'আলা বলবেন- তুমি মঙ্গলের উপর রয়েছে। আজ আমি তোমার কারণেই ধরবো এবং তোমার কারণেই পুরস্কৃত করবো। আল্লাহ তাআলা স্বীয় গ্রন্থে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অন্বেষণ করে তা কখনই তার নিকট হতে গৃহীত হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ হাদীসটি শুধুমাত্র মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে এবং বর্ণনাকারী হাসানের হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে এটা শুনা প্রমাণিত নয়।
তারা কি চায় আল্লাহ্র দ্বীনের পরিবর্তে অন্য কিছু? অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে [১]! আর তাঁর দিকেই তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।
[১] ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহ্র কাছে আত্মসমৰ্পন সমস্ত সৃষ্টিকেই করতে হয়। প্রতিটি সৃষ্টি জীবই আল্লাহ্র নিয়মের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য। তাকে অবশ্যই মরতে হবে। তাকে অবশ্যই কষ্ট স্বীকার করতে হবে। তাকে অবশ্যই রোগ-বালাই এর সম্মুখীন হতে হবে, ইত্যাদি। কিন্তু তারা সবাই তা মন বা মুখে স্বীকার করতে চায় না। বা স্বীকার করে আল্লাহ্র কাছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নতি স্বীকার করে না। সকল সৃষ্টজীবই এ প্রকার আত্মসমর্পনের অধীন। এ ধরনের আত্মসমর্পনের মধ্যে কোন সওয়াব নেই। তবে এদের মধ্যে একদল আছে যারা আল্লাহ্র এ নিয়ম-নীতি প্রত্যক্ষ করে আল্লাহ্র উপর ঈমান এনেছে এবং স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে তাঁর আনুগত্য করেছে। এ প্রকার আত্মসমৰ্পনই আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর বান্দার কাছে আশা করেন। এর মধ্যেই রয়েছে সওয়াব ও মুক্তি। [তাবারী] এ আয়াতে যে বক্তব্যটি বলা হচ্ছে পবিত্র কুরআনে এ ধরনের বক্তব্য আরও এসেছে, যেমন বলা হয়েছে, “আল্লাহ্র প্রতি সিজদাবনত হয় আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায়” [সূরা আর-রা’দ: ১৫]
আরও এসেছে, “তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহ্র সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যার ছায়া ডানে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহ্র প্রতি সিজদাবনত হয়? আল্লাহ্কেই সিজ্দা করে যা কিছু আছে আসমানসমূহে ও যমীনে, যত জীবজন্তু আছে সেসব এবং ফিরিশ্তাগণও, তারা অহংকার করে না। আর তারা ভয় করে তাদের উপর তাদের রবকে এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয় তারা তা করে”। [আন-নাহল:৪৮-৫০]
