An-Nisa
আন-নিসা: 15
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
মূল আরবি
وَٱلَّـٰتِى يَأْتِينَ ٱلْفَـٰحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمْ فَٱسْتَشْهِدُوا۟ عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِّنكُمْ ۖ فَإِن شَهِدُوا۟ فَأَمْسِكُوهُنَّ فِى ٱلْبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّىٰهُنَّ ٱلْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ ٱللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا
English Translations
Those who commit immorality [i.e., unlawful sexual intercourse] of your women - bring against them four [witnesses] from among you. And if they testify, confine them [i.e., the guilty women] to houses until death takes them or Allāh ordains for them [another] way.
And those of your women who commit illegal sexual intercourse, take the evidence of four witnesses from amongst you against them; and if they testify, confine them (i.e. women) to houses until death comes to them or Allah ordains for them some (other) way.
Those of your women who commit the shameful act, have four witnesses (against them) from among you. So, if they testify, then confine those women to their homes until death overcomes them, or Allah prescribes a way for them.
As for those of your women who are guilty of immoral conduct, call upon four from amongst you to bear witness against them. And if four men do bear witness, confine those women to their houses until either death takes them away or Allah opens some way for them.
As for those of your women who are guilty of lewdness, call to witness four of you against them. And if they testify (to the truth of the allegation) then confine them to the houses until death take them or (until) Allah appoint for them a way (through new legislation).
If any of your women are guilty of lewdness, Take the evidence of four (Reliable) witnesses from amongst you against them; and if they testify, confine them to houses until death do claim them, or Allah ordain for them some (other) way.
বাংলা অনুবাদ
তোমাদের যে সব নারী ব্যভিচার করবে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ কর। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তোমরা তাদেরকে সে সময় পর্যন্ত গৃহে আবদ্ধ করে রাখবে যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় কিংবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পৃথক পথ বের করেন।
আর তোমাদের নারীদের মধ্য থেকে যারা ব্যভিচার করে, তোমরা তাদের উপর তোমাদের মধ্য থেকে চার জন সাক্ষী উপস্থিত কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তোমরা তাদেরকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখ যতক্ষণ না মৃত্যু তাদের জীবন শেষ করে দেয়। অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথ তৈরি করে দেন।
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা নির্লজ্জ কাজ করে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চার জন সাক্ষী উপস্থিত কর; অনন্তর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তাহলে তাদেরকে তোমরা গৃহসমূহের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখ যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে উঠিয়ে না নেয় কিংবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী তলব করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় বা আল্লাহ্ তাদের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করেন।
তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারের কাজে লিপ্ত হয়, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে আবদ্ধ রাখবে, যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথনির্দেশ দেন।
১৫. তোমাদের মহিলারা ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে চাই তারা বিবাহিতা হোক কিংবা অবিবাহিতা তোমরা তাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ চার জন মুসলিম পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করো। তারা এদের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সাক্ষ্য দিলে তোমরা তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ ঘরে আটকে রাখো যতক্ষণ না তাদের জীবন মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয় অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে বন্দীদশা ছাড়া অন্য কোন পথ বের করে দেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি বিশেষ পথ বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিবাহিতা ব্যভিচারিণী মেয়ের জন্য একশ’টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর এবং বিবাহিতাকে পাথর মেরে হত্যা করার বিধান করেছেন।
তাফসীর
১৫-১৬ নং আয়াতের তাফসীর: ইসলামের প্রাথমিক যুগে এরূপ নির্দেশ ছিল যে, ন্যায়বান সাক্ষীদের সত্য সাক্ষ্য দ্বারা কোন স্ত্রীলোকের অশ্লীলতা প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে যেন বাড়ীর বাইরে যেতে দেয়া না হয় বরং জন্মের মত বাড়ীতেই যেন আটক রাখা হয়। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে তাকে যেন ছেড়ে দেয়া না হয়। এটা বর্ণনা করার পর আল্লাহ পাক বলেন-হ্যা তবে এটা অন্য কথা যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে কোন পথ নির্দেশ করে দেন। অতঃপর যখন অন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হয় তখন পূর্বের ঐ নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, সূরা-ই-নূরের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ব্যভিচারিণী স্ত্রীলোকের জন্যে এ নির্দেশই ছিল।
অতঃপর সূরা-ই-নূরের আয়াত অবতীর্ণ হলে বিবাহিতা নারীকে রজম করা অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা এবং অবিবাহিতা নারীকে। একশ চাবুক মারার নির্দেশ দেয়া হয়।হযরত ইকরামা (রঃ), হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ), হযরত আতা' খুরাসানী (রঃ), হযরত আবু সালেহ (রঃ), হযরত কাতাদাহ (রঃ), হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ), এবং হযরত যহ্হাকেরও (রঃ) এটাই উক্তি যে, এ আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে সবাই একমত। হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর যখন অহী অবতীর্ণ হতো তখন তা তাঁর উপর বড় ক্রিয়াশীল হতো এবং তিনি কষ্ট অনুভব করতেন ও তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে যেতো।
একদা আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-এর উপর অহী অবতীর্ণ করেন। অহীর সময়কালীন অবস্থা দূরীভূত হলে তিনি বলেনঃ “তোমরা আমার কথা গ্রহণ কর। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে পথ নির্দেশ করেছেন।যদি বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিতা স্ত্রী ব্যভিচার করে তবে তাদেরকে একশ চাবুক মারতে হবে, অতঃপর প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে হবে। আর অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রী ব্যভিচার করলে তাদেরকে একশ চাবুক মারতে হবে এবং এক বছর নির্বাসন দিতে হবে। (সহীহ মুসলিম ইত্যাদি) জামেউত্ তিরমিযীর মধ্যেও এ হাদীসটি শব্দের পরিবর্তনের সাথে বর্ণিত আছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ) হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
এ রকমই সুনান-ই-আবি দাউদেও রয়েছে।ইবনে মিরদুওয়াই-এর গারীব হাদীসে অবিবাহিত ও বিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীর এ নির্দেশের সাথে সাথে এও রয়েছে যে, যদি তারা বুড়ো বুড়ী হয় তবে তাদেরকে রজম করতে হবে। কিন্তু এ হাদীসটি গারীব। তাবরানীর হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সূরা-ই-নিসা অবতীর্ণ হওয়ার পর আবদ্ধ রাখার হুকুম অবিশষ্ট নেই।' এ হাদীস অনুযায়ী ইমাম আহমাদ (রঃ)-এর মাযহাব এই যে, বিবাহিত ও বিবাহিতা ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে চাবুকও মারতে হবে এবং রজমও করতে হবে। আর জমহূরের মতে চাবুক মারতে হবে না, শুধু রজম করতে হবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত মায়েয (রাঃ)-কে এবং গামেদিয়্যাহ নারীকে রজম করেছিলেন কিন্তু চাবুক মারেননি।
অনুরূপভাবে রাসূলল্লাহ (সঃ) দু’জন ইয়াহূদীকে রজম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং রজমের পূর্বে তাদেরকে চাবুক মারার নির্দেশ দেননি। সুতরাং জমহুরের এ উক্তি অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, রজমের পূর্বে চাবুক মারার নির্দেশ রহিত হয়ে গেছে, সুতরাং এটা জরুরী নয়। অতঃপর বলা হচ্ছে-যদি দু’জন পুরুষ পরস্পর এ নির্লজ্জতার কাজ করে তবে তোমরা তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অর্থাৎ তাদেরকে তিরস্কার কর, অপদস্থ কর, জুতো মার ইত্যাদি। চাবুক মারা ও রজব করার নির্দেশ দ্বারা এ নির্দেশও রহিত হয়ে যায়। হযরত ইকরামা (রঃ), হযরত আতা’ (রঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থও হচ্ছে পুরুষ ও স্ত্রী।
হযরত সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে ঐ নব যুবকগণ যারা বিবাহিত নয়।হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি ‘লাওয়াতের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ কাউকে তোমরা হযরত লুত (আঃ)-এর কওমের কাজ করতে দেখলে তাকে এবং যার উপরে সে সেই কাজ করেছে তাকেও হত্যা করে ফেল।এরপর বলা হচ্ছে- যদি তারা উভয়ে এ কাজ হতে বিরত থাকে এবং সংশোধিত হয় তবে তোমরা তাদের উপর কঠোরতা অবলম্বন করো না। কেননা, পাপ হতে প্রত্যাবর্তনকারী নিস্পাপ ব্যক্তির মতই।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন-“আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, করুণাময়।' সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও দাসী ব্যভিচার করে তখন যেন সে তাকে চাবুক দ্বারা শাস্তি প্রদান করে এবং তার উপর আর যেন কোন শাসন গর্জন না করে।
অর্থাৎ শাস্তি প্রদানের পর মনিব যেন তার দাসীকে আর কোন দোষারোপ না করে। কেননা, শাস্তি প্রদানই হচ্ছে পাপ মোচনের উপায়।
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী তলব করবে [১]। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় বা আল্লাহ্ তাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করেন [২]।
তৃতীয় রুকু‘
[১] এখানে এমন পুরুষ ও নারীদের শাস্তি বর্ণিত হয়েছে, যারা নির্লজ্জ কাজ অর্থাৎ ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। বলা হয়েছে, যেসব নারী দ্বারা এমন কুকর্ম সংঘটিত হয়, তাদের এ কাজ প্রমাণ করার জন্য চার জন পুরুষ সাক্ষী তলব করতে হবে। অর্থাৎ যেসব বিচারকের কাছে এই মামলা পেশ করা হয়, তারা প্রমাণের জন্য চার জন যোগ্য সাক্ষী তলব করবেন এবং এই সাক্ষীদের পুরুষ শ্রেণী থেকে হওয়াও জরুরী। এ ব্যাপারে নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যভিচারের সাক্ষীদের ব্যাপারে শরীআত দু’রকম কঠোরতা করেছে যেহেতু ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এতে ইজ্জত ও আবরু আহত হয় এবং পারিবারিক মানসম্ভ্রমের প্রশ্ন দেখা দেয়, তাই প্রথমে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, এমন ক্ষেত্রে শুধু পুরুষই সাক্ষী হতে হবে - নারীদের সাক্ষ্য ধর্তব্য নয়।
দ্বিতীয়তঃ চার জন পুরুষ হওয়া জরুরী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বলাবাহুল্য, এ শর্তটি খুবই কঠোর। দৈবাৎ ও কদাচিৎ তা পাওয়া যেতে পারে। এ শর্ত আরোপের কারণ, যাতে স্ত্রীর স্বামী, তার জননী অথবা অন্য স্ত্রী অথবা ভাই-বোন ব্যক্তিগত জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে অহেতুক অপবাদ আরোপ করার সুযোগ না পায় অথবা অন্য অমঙ্গলকামী লোকেরা শক্রতাবশতঃ অপবাদ আরোপ করতে সাহসী না হয়। কেননা, চার জনের কম পুরুষ ব্যভিচারের সাক্ষ্য দিলে তাদের সাক্ষী গ্রহণীয় নয়। এমতাবস্থায় বাদী ও সাক্ষীরা সবাই মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবে এবং একজন মুসলিমের চরিত্রে কলংক আরোপ করার দায়ে তাদেরকে ‘হন্দে-কযফ’ বা অপবাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
[২] ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, তখনকার দিনে কোন মহিলা ব্যভিচার করলে, সে আমৃত্যু ঘরে বন্দী জীবন যাপন করত। [তাবারী] তিনি আরও বলেন, এখানে যে ব্যবস্থার ওয়াদা করেছেন সূরা আন-নূরে আল্লাহ্ তা’আলা সে ব্যবস্থা করেছেন। তিনি অবিবাহিতদের জন্য বেত্ৰাঘাত এবং বিবাহিতদের জন্য পাথরের আঘাতে নিহত করা দ্বারা এ আয়াতকে রহিত করেছেন। অনুরূপভাবে বিভিন্ন হাদীসে সুস্পষ্টভাবে তার নির্দেশ এসেছে। [দেখুন- মুসলিমঃ ১৬৯০, আবু দাউদঃ ৪৪১৫, তিরমিয়ীঃ ১৪৩৪, মুসনাদে আহমাদঃ ৫/৩১৮]
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
উত্তরাধিকারের বিধানসমূহ; সুতরাং সে তা স্বীকার করে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যেভাবে আদেশ করেছেন সে অনুযায়ী আমল করে। (তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়)—এই বাক্যটি 'জান্নাত'-এর বিশেষণ (সিফাত) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত। মহান আল্লাহর বাণী: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়)—এর উদ্দেশ্য হলো উত্তরাধিকার বন্টনের ক্ষেত্রে; ফলে সে তা বন্টন করে না এবং সে অনুযায়ী আমল করে না। (এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে) অর্থাৎ তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে। (তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে চিরকাল থাকবে)।
এখানে 'অবাধ্যতা' দ্বারা যদি কুফর উদ্দেশ্য হয়, তবে 'চিরস্থায়ী' হওয়া তার শাব্দিক অর্থেই প্রযোজ্য হবে। আর যদি তা দ্বারা কাবিরা গুনাহ এবং আল্লাহ তাআলার আদেশের লঙ্ঘন উদ্দেশ্য হয়, তবে 'চিরস্থায়ী' শব্দটি দীর্ঘ সময় বুঝাতে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আপনি বলে থাকেন: আল্লাহ তার রাজত্বকে চিরস্থায়ী করুন। কবি যুহাইর বলেছেন:সুউচ্চ পাহাড়সমূহ ছাড়া কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। «১» এই অর্থটি ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে অতিক্রান্ত হয়েছে। নাফি' ও ইবনে আমির উভয় স্থানেই (নুদখিলহু - আমরা তাকে প্রবেশ করাব) নুন যোগে পাঠ করেছেন, যা মহান আল্লাহর সত্তার প্রতি সম্বন্ধিত।
অন্যান্য ক্বারীগণ উভয় ক্ষেত্রে 'ইয়া' যোগে (ইউদখিলহু - তিনি তাকে প্রবেশ করাবেন) পাঠ করেছেন, কারণ ইতিপূর্বে আল্লাহ তাআলার নাম উল্লেখিত হয়েছে। [সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৫]তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করো; যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে, তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখো যতক্ষণ না মৃত্যু তাদেরকে গ্রাস করে অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ বের করেন। (১৫)এতে আটটি মাসআলা রয়েছে: প্রথম মাসআলা—আল্লাহ তাআলা যখন এই সূরাতে নারীদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের মোহরানা তাদের কাছে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রসঙ্গক্রমে পুরুষদের উত্তরাধিকারের সাথে তাদের উত্তরাধিকারের বিষয়টি এসেছে, তখন তাদের সংঘটিত অশ্লীল কাজের (ব্যভিচার) কঠোর শাস্তির কথাও উল্লেখ করেছেন, যাতে কোনো নারী এমন ধারণা না করে যে, তার জন্য চারিত্রিক পবিত্রতা বর্জন করা বৈধ।
দ্বিতীয় মাসআলা—আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং যারা)। 'আল-লাতি' শব্দটি 'আল্লাতি'-এর বহুবচন, এটি স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (ইসম মুবহাম), যা নির্দিষ্ট (মা'রিফা)। একে অনির্দিষ্ট করার জন্য 'আলিফ-লাম' বিচ্ছিন্ন করা জায়েজ নয় এবং এর পরবর্তী বাক্যাংশ (সিলাহ) ছাড়া এটি পূর্ণতা পায় না। এতে তিনটি ভাষাগত রূপ রয়েছে যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এটি 'আল-লাত' হিসেবেও ব্যবহৃত হয় ইয়া বিলোপ করে কাসরা বহাল রেখে, এবং 'আল-লায়ি' হিসেবে হামযাহ ও ইয়া সহকারে, এবং 'আল-লা' হিসেবে হামযাহর নিচে কাসরা দিয়ে ইয়া বিলোপ করে, এবং 'আল-লা' হিসেবে হামযাহ বিলোপ করেও ব্যবহৃত হয়।
যদি(১). কবিতার প্রথমাংশ:জেনে রেখো, আমি দুর্ঘটনার মুখে কাউকে টিকে থাকতে দেখি না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে কুরাইশরা বলেছিল: "মুহাম্মাদ আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন (বংশহীন) হয়ে গেছে।" তখন অবতীর্ণ হয়: "নিশ্চয় আপনার শত্রুই লেজকাটা (নির্বংশ)।"বাজ্জার, ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাব বিন আশরাফ মক্কায় এলে কুরাইশরা তাকে বলল: "আপনি মদিনাবাসীদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাদের নেতা। আপনি কি এই ধর্মত্যাগী (সাবি) ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে নিজ জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন? সে দাবি করে যে সে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথচ আমরা হাজীদের সেবক, হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্বশীল এবং কাবার রক্ষণাবেক্ষণকারী।" সে বলল: "তোমরাই তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"তখন অবতীর্ণ হলো: "নিশ্চয় আপনার শত্রুই লেজকাটা (নির্বংশ)।" এবং আরও অবতীর্ণ হলো: "আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের এক অংশ দেওয়া হয়েছে..." (সূরা নিসা, আয়াত ১৫-২৫) থেকে আল্লাহর বাণী: "তবে আপনি তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না" পর্যন্ত।তাবারানি এবং ইবনে মারদুওয়াই আবু আইয়ুব (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম ইন্তেকাল করলেন, তখন মুশরিকরা একে অপরের কাছে গিয়ে বলতে লাগল: "এই ধর্মত্যাগী ব্যক্তিটি আজ রাতে নির্বংশ হয়ে গেছে।" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি..." সূরার শেষ পর্যন্ত।ইবনে সাদ এবং ইবনে আসাকির কালবির সূত্রে আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন কাসিম, এরপর যয়নব, এরপর আবদুল্লাহ, এরপর উম্মে কুলসুম, এরপর ফাতিমা, এরপর রুকাইয়া।
মক্কায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে কাসিম প্রথম ইন্তেকাল করেন, এরপর আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। তখন আস ইবনে ওয়ায়েল আস-সাহমি বলল: "তার বংশধারা ছিন্ন হয়ে গেছে, তাই সে লেজকাটা (নির্বংশ)।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয় আপনার শত্রুই লেজকাটা (নির্বংশ)।"ইবনে আসাকির মায়মুন ইবনে মিহরানের সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খাদিজা (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহর জন্ম দেন, এরপর তাঁর পরবর্তী সন্তান হতে দেরি হচ্ছিল। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির সাথে কথা বলছিলেন এবং আস ইবনে ওয়ায়েল তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল।
তখন এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল: "উনি কে?" সে বলল: "উনি হলেন নির্বংশ (লেজকাটা)," অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝিয়েছিল। কুরাইশদের রীতি ছিল, যখন কারো পুত্রসন্তান জন্মাত এবং এরপর পরবর্তী সন্তান হতে দেরি হতো, তখন তারা বলত "এ তো নির্বংশ"। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয় আপনার শত্রুই লেজকাটা (নির্বংশ)," অর্থাৎ আপনাকে ঘৃণা পোষণকারীই হলো সেই নির্বংশ যে সমস্ত কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন।বায়হাকি 'দালাইল' গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র কাসিম পশুর পিঠে চড়ার এবং সওয়ারি চালনা করার বয়সে পৌঁছেছিলেন।
আল্লাহ যখন তাঁর জান কবজ করলেন, তখন আমর ইবনে আস বলল: "মুহাম্মাদ তার পুত্রের দিক থেকে নির্বংশ হয়ে গেছে।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি"— হে মুহাম্মাদ! কাসিমের বিয়োগের শোকের বিনিময়ে এটি আপনার জন্য প্রতিদান। "অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন। নিশ্চয় আপনার শত্রুই লেজকাটা (নির্বংশ)।" বায়হাকি বলেন: এই সনদে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে তবে এটি দুর্বল; প্রসিদ্ধ অভিমত হলো এটি আস ইবনে ওয়ায়েলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
