An-Nisa

আন-নিসা: 114

4:114
টেক্সট কপি

মূল আরবি

۞ لَّا خَيْرَ فِى كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَىٰهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَـٰحٍۭ بَيْنَ ٱلنَّاسِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

English Translations

Sahih International

No good is there in much of their private conversation, except for those who enjoin charity or that which is right or conciliation between people. And whoever does that seeking means to the approval of Allāh - then We are going to give him a great reward.

Muhsin Khan

There is no good in most of their secret talks save (in) him who orders Sadaqah (charity in Allah's Cause), or Ma'ruf (Islamic Monotheism and all the good and righteous deeds which Allah has ordained), or conciliation between mankind, and he who does this, seeking the good Pleasure of Allah, We shall give him a great reward.

Taqi Usmani

There is no good in most of their whisperings, unless one bids charity or a fair action, or reconciliation between people. The one who does this, to seek Allah’s pleasure, We shall give him a great reward.

Abul Ala Maududi

Most of their secret conferrings are devoid of good, unless one secretly enjoins in charity, good deeds, and setting the affairs of men right. We shall grant who ever does that seeking to please Allah a great reward.

Pickthall

There is no good in much of their secret conferences save (in) him who enjoineth almsgiving and kindness and peace-making among the people. Whoso doeth that, seeking the good pleasure of Allah, We shall bestow on him a vast reward.

Yusuf Ali

In most of their secret talks there is no good: But if one exhorts to a deed of charity or justice or conciliation between men, (Secrecy is permissible): To him who does this, seeking the good pleasure of Allah, We shall soon give a reward of the highest (value).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, কিন্তু কল্যাণ আছে যে ব্যক্তি দান-খয়রাত অথবা কোন সৎকাজের কিংবা লোকেদের মধ্যে মিলমিশের নির্দেশ দেয়। যে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধন উদ্দেশে এমন কাজ করবে, আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব।

রাওয়াই আল-বায়ান

তাদের গোপন পরামর্শের অধিকাংশে কোন কল্যাণ নেই। তবে (কল্যাণ আছে) যে নির্দেশ দেয় সদাকা কিংবা ভালো কাজ অথবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার। আর যে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করবে তবে অচিরেই আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব।

শাইখ মুজিবুর রহমান

সাধারণ লোকের অধিকাংশ গুপ্ত পরামর্শে কোন মঙ্গল নিহিত থাকেনা, তবে হ্যাঁ যে ব্যক্তি দান খয়রাত করে অথবা কোন সৎ কাজ করে কিংবা লোকের মধ্যে পরস্পর সন্ধি স্থাপন করে দেয়ার উদ্দেশে তা করে তাহলে তা স্বতন্ত্র এবং যে আল্লাহর প্রসন্নতা সন্ধানের জন্য ঐরূপ করে, আমি তাকে মহান বিনিময় প্রদান করব।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় সাদকাহ, সৎকাজ ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যই আমরা মহা পুরস্কার দেব।

ফাতহুল মাজীদ

তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় দান-খয়রাত, সৎ কর্ম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাক্সক্ষায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যই আমি মহাপুরস্কার দেব।

মুখতাসার

১১৪. মানুষের অধিকাংশ অধিকাংশ গোপন কথায় কোন লাভ ও ফায়েদা নেই। তবে ফায়েদা আছে কথাটি যদি হয় সদকা অথবা মানুষের বিবেকের সমর্থনকারী শরীয়ত আনিত কোন কল্যাণকর কাজ কিংবা দ্বনদ্বপূর্ণ দু’ পক্ষের মাঝে কোন সমঝোতার আদেশ। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এমন করবে আমি অচিরেই তাকে মহা প্রতিদান দেবো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১৪-১১৫ নং আয়াতের তাফসীর: জনগণের অধিকাংশ কথাই অমঙ্গলজনক হয়। তবে কতক লোক এমনও আছে যে, তারা মানুষকে দান খয়রাত করার, সকার্য সাধনের এবং পরস্পর মিলেমিশে থাকার উৎসাহ দিয়ে থাকে। তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এ রয়েছে, হযরত যায়েদ ইবনে হুনায়েশ (রঃ) বলেন, হযরত সুফইয়ান সাওয়ারী (রঃ) রোগ শয্যায় শায়িত হলে আমরা তাকে দেখতে যাই। আমাদের সঙ্গে হযরত সাঈদ ইবনে হাস্সানও (রঃ) ছিলেন। হযরত সুফইয়ান সাওরী (রঃ) হযরত সাঈদ (রঃ)-কে বলেন, “হে সাঈদ (রাঃ)! আপনি উম্মে সালেহ হতে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন তা আজকে আবার বর্ণনা করুন। হযরত সাঈদ ইবনে হাস্সান (রঃ) বর্ণনা করতঃ বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ মানুষের সমস্ত কথাই তার জন্যে অমঙ্গল আনয়ন করে, তবে যদি সে আল্লাহর, যিকির, মানুষকে ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করে (তবে সেটা মঙ্গলজনক)'।

তখন হযরত সুফইয়ান সাওরী (রঃ) বলেন, এ বিষয়টিই (আরবী) -এ আয়াতে রয়েছে। (আরবী) -( ৭৮:৩৮) -এ আয়াতেও রয়েছে এবং (আরবী) (১০৩:১-২) -এ আয়াতেও রয়েছে। মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ ‘জনগণের মধ্যে মিলজুল এবং সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি ভাল কথা বলে বা এদিক হতে ওদিকে এ প্রকারের আলাপ আলোচনা করে সে মিথ্যাবাদী নয়।' হযরত উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা (রাঃ) বলেন, তিন জায়গায় আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এরূপ কথা বলার অনুমতি দিতে শুনেছি। (১) যুদ্ধে, (২) জনগণের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্যে এবং (৩) স্বামীর এরূপ কথা বলা স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর এরূপ কথা বলা স্বামীকে।

উম্মে কুলসুমের (রাঃ) রিওয়ায়েতে রাসূল (সঃ) হিজরাতকারীগণ এবং বাইআত গ্রহণকারীগণকে বলেন :আমি কি তোমাদেরকে এমন এক কাজের কথা বলে দেবনা যা নামায এবং রোযা অপেক্ষাও উত্তম? সাহাবীগণ বলেন, হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি বলুন। তখন তিনি বলেন :‘জনগণের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করা এবং তাদের পরস্পরের বিবাদ মিটিয়ে দেয়া।' (সুনান-ই-আবি দাউদ ইত্যাদি)। মুসনাদ-ই-বায়ে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আবু আইউব (রাঃ)-কে বলেনঃ এসো, আমি তোমাকে একটি ব্যবসায়ের কথা বলে দেই। লোকেরা যখন বিবাদে লিপ্ত হয় তখন তুমি তাদের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দাও, যখন একজন অপরজন হতে সরে থাকে তখন তুমি তাদেরকে একত্রিত করে দাও।'আল্লাহ তা'আলার বলেন- যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রসন্নতা সন্ধানের জন্যে ঐরূপ করে, আমি তাকে মহান বিনিময় প্রদান করবে।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি শরীয়তের বিপরীত পথে চলে, শরীয়ত হয় এক দিকে এবং তার পথ হয় অন্যদিকে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক দিকে চলার নির্দেশ দেন এবং সে অন্যদিকে চলে, অথচ সত্য তার নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়েছে, সে দলীল প্রমাণাদি দেখেছে। তথাপি সে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণ করতঃ মুসলমানদের সরল ও পরিষ্কার পথ হতে সরে পড়েছে, সুতরাং আমিও তাকে ঐ বক্র ও খারাপ পথেই ফিরিয়ে দেব। ঐ খারাপ পথই তখন তার নিকট ভাল বলে মনে হবে, অতঃপর সে জাহান্নামে গিয়ে পৌছে যাবে।মুসলমানদের পথ ছেড়ে দিয়ে অন্য পথ অনুসন্ধান করাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণ করা।

কিন্তু কখনও হয় তো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্পষ্ট কথারই উল্টো হয়, আবার কখনও কখনও ঐ জিনিসের বিপরীত হয় যার উপর মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উম্মত সবাই একমত রয়েছে। তাদের দ্রতা ও নম্রতার কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ভুল হতে রক্ষা করেছেন। এ ব্যাপারে বহু হাদীসও রয়েছে এবং উসূলের হাদীসগুলোতে আমরা ওর বিরাট অংশ বর্ণনাও করেছি। ইমাম শাফিঈ (রঃ) চিন্তা ও গবেষণার পর এ আয়াত হতেই উম্মতের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দলীল গ্রহণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটাই এ ব্যাপারে উত্তম ও দৃঢ়তার জিনিস। তবে অন্য কয়েকজন ইমাম এ যুক্তিকে কঠিন ও আয়াত হতে দূরে বলেছেন। মোটকথা যারা মুমিনদের পথ হতে সরে পড়ে তাদের রজ্জুকে আল্লাহ তা'আলা ঢিল দিয়ে দেন।

যেমন আল্লাহ পাক অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তুমি আমাকে ও যে এ কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাকে ছেড়ে দাও, সত্বরই আমি এমনভাবে ধরবো যে, সে জানতেই পারবে না।' (৬৮:৪৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যখন তারা বাঁকা হয়ে গেল তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। (৬১:৫) আর একটি আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ ‘আমি তাদেরকে তাদের বিরুদ্ধাচরণে ছেড়ে দিচ্ছি, তন্মধ্যে তারা অন্ধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শেষে তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল জাহান্নামই হবে। (৬:১১০) যেমন এক জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ “একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে এবং তাদের দোসরদেরকে।” (৩৭:২২) আর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- (আরবী) অর্থাৎ ‘আগুন দেখে অত্যাচারীরা জেনে নেবে যে, তাদেরকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে হবে এবং তারা পলায়নের কোন স্থান পাবে না।' (১৮:৫৩)।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় সাদকাহ, সৎকাজ ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের [১]; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যই আমরা মহা পুরস্কার দেব।

[১] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয় যে মানুষের মধ্যে ভাল কিছু ইশারা করে বা বলে শান্তি স্থাপন করে দেয়। [বুখারীঃ ২৬৯২, মুসলিমঃ ২৬০৫]

অন্য হাদীসে এসেছে, আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব না এমন কাজ যা সিয়াম, সালাত ও সদকা থেকেও উত্তম? তারা বললঃ অবশ্যই। রাসূল বললেনঃ মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া। কেননা, মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া গর্দান কাটার সমান। [তিরমিযীঃ ২৫০৯]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১১৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুরোধ করেছিল যেন তিনি ইবনে উবায়রিককে অপবাদ থেকে মুক্ত ঘোষণা করেন এবং তা ইয়াহুদির ওপর চাপিয়ে দেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুলের ওপর অনুগ্রহ করেন যে, তিনি তাঁকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেন এবং তাকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। (আর তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও বিভ্রান্ত করতে পারে না)কারণ তারা পথভ্রষ্টদের মতো কাজ করছে। সুতরাং এর অশুভ পরিণতি [তাদের জন্য «১»] তাদের ওপরই বর্তাবে। (আর তারা আপনার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না)কারণ আপনি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সুরক্ষিত। (এবং আল্লাহ আপনার ওপর কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন)এটি নতুন বাক্যের সূচনা।

কেউ কেউ বলেছেন: এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'হাল' (অবস্থা বর্ণনাকারী) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন তোমার কথা: "আমি তোমার কাছে এসেছি এমতাবস্থায় যে সূর্য উদিত ছিল"। কবি ইমরুল কায়েসের কবিতায় এর দৃষ্টান্ত রয়েছে:নিশ্চয়ই আমি খুব ভোরে যাত্রা করি, এমতাবস্থায় যে পাখিরা তখনো তাদের নীড়েই থাকে সুতরাং বাক্যটি পূর্ববর্তী অংশের সাথে সংযুক্ত। অর্থাৎ: আল্লাহ আপনার ওপর কুরআন নাজিল করা সত্ত্বেও তারা আপনার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। (এবং হিকমত)অর্থাৎ ওহীর মাধ্যমে বিচার-নিষ্পত্তি করা। (আর তিনি আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না)অর্থাৎ শরিয়তের বিধানসমূহ ও হুকুম আহকাম সম্পর্কে।

আর (তলামু)শব্দটি 'নসব' (কর্মকারকীয়) অবস্থায় রয়েছে, কারণ এটি 'কানা' ক্রিয়ার খবর। 'জজম' হওয়ার কারণে 'নুন' বর্ণ থেকে পেশ বিলুপ্ত হয়েছে এবং দুই সাকিনের (স্থির বর্ণ) মিলনের কারণে 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে। ‌‌[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১১৪]তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে ব্যক্তি সদকা করার অথবা সৎকর্মের অথবা মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের আদেশ দেয় তার কথা ভিন্ন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা করবে, অচিরেই আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব (১১৪)এখানে বনি উবায়রিকের লোকেরা যে ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিল এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে তা উল্লেখ করেছিল, তা বোঝানো হয়েছে।

'নাজওয়া' অর্থ হলো দুই ব্যক্তির মাঝে গোপন পরামর্শ। তুমি বলবে: "আমি অমুকের সাথে গোপন পরামর্শ করেছি" এবং তারা গোপন পরামর্শ করে। 'নাজওয়া' শব্দটি 'নাজাতু' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ আমি কোনো কিছুকে মুক্ত ও পৃথক করেছি। ভূমির উঁচু অংশকে 'নাজওয়া' বলা হয় কারণ তা তার চারপাশ থেকে উচ্চতায় পৃথক থাকে। জনৈক কবি বলেছেন:যে উঁচু ভূমিতে আছে সে যেন সমতলের অধিবাসীর মতো... আর যে আড়ালে আছে সে যেন উম্মুক্ত প্রান্তরে বিচরণকারীর মতো «২»সুতরাং 'নাজওয়া' অর্থ হচ্ছে কানে কানে কথা বলা, এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। তবে কখনো কখনো এটি কোনো সমষ্টি বা দলের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয়: ন্যায়পরায়ণ ও সন্তুষ্ট সম্প্রদায়।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: (এবং যখন তারা সংগোপনে পরামর্শ করছিল «৩»)। প্রথম অর্থ অনুযায়ী, এখানে ব্যতিক্রমটি হবে বিজাতীয় ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা মুনকাতে), যা হলো(১). জিম পাণ্ডুলিপি থেকে।(২). এই কবিতাটি আওস ইবনে হাজার এর। কেউ বলেন উবায়দের। 'আকওয়া' অর্থ প্রাঙ্গণ ও গৃহের চারপাশ। 'কিরওয়াহ' অর্থ প্রকাশ্য স্থান যেখানে আকাশ ও তার মাঝে কোনো আবরণ নেই। কোনো কোনো টীকায় আছে: দীর্ঘদেহী উষ্ট্রী এবং দীর্ঘ খেজুর গাছকেও কিরওয়াহ বলা হয়।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৭২।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

তিনি বললেন: তোমরা কি আমাকে খিয়ানতকারী মনে করছ? অতঃপর তারা তার ঘরে তা খুঁজতে বের হলো এবং আবু মালিকের ঘরের দিকে নজর দিলো; সেখানে তারা বর্মটি দেখতে পেল। তু’মাহ বলল: এটি আবু মালিক নিয়েছে। আর আনসাররা তু’মাহর পক্ষে বিতর্ক করল। সে তাদের বলল: তোমরা আমার সাথে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে চলো এবং তাঁকে বলো যেন তিনি আমার পক্ষ অবলম্বন করেন এবং ইয়াহুদির যুক্তি মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। কারণ আমি যদি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হই, তবে ইয়াহুদির কারণে মদিনাবাসীদের ওপর মিথ্যাচার আরোপিত হবে। অতঃপর আনসারদের কিছু লোক তাঁর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল!

আপনি তু’মাহর পক্ষে বিতর্ক করুন এবং ইয়াহুদিকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করুন।আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে উদ্যত হলেন, তখন আল্লাহ তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন: "এবং আপনি খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হবেন না" থেকে "পাপিষ্ঠ" পর্যন্ত। অতঃপর আল্লাহ আনসারদের কথা এবং তার পক্ষে তাদের বিতর্কের কথা উল্লেখ করে বললেন: "তারা মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকে কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে পারে না" থেকে "কর্মবিধায়ক" পর্যন্ত। এরপর আল্লাহ তাওবার আহ্বান জানিয়ে বললেন: "যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করবে" থেকে "দয়ালু" পর্যন্ত।

অতঃপর আবু মালিক বর্মটি নিয়েছে বলে তার দাবির প্রেক্ষিতে আল্লাহ বললেন: "আর যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করে" থেকে "স্পষ্ট পাপ" পর্যন্ত। অতঃপর আনসারদের তাঁর কাছে আসা এবং তাদের সঙ্গীর পক্ষ নিয়ে সাফাই গাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বললেন: "তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেছিল।" অতঃপর তু’মাহর পক্ষে মিথ্যাচারের উদ্দেশ্যে তাদের গোপন পরামর্শের কথা উল্লেখ করে বললেন: "তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই" (সূরা নিসা, আয়াত ১১৪)। যখন আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে মদিনায় তু’মাহকে উন্মোচিত করলেন, তখন সে পালিয়ে মক্কায় চলে গেল এবং ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় কাফির হয়ে গেল।

সে হাজ্জাজ ইবনে ইলাত আস-সুলামীর কাছে অবস্থান নিল। অতঃপর সে হাজ্জাজের ঘরে সিঁধ কাটল এবং চুরির ইচ্ছা করল। হাজ্জাজ তার ঘরে খসখস শব্দ এবং তার কাছে থাকা চামড়ার ঝনঝনানি শুনতে পেয়ে তাকিয়ে দেখলেন যে সেটি তু’মাহ। তিনি বললেন: আমার মেহমান এবং আমার চাচাতো ভাই হয়েও তুমি আমাকে চুরি করতে চাইলে? অতঃপর তিনি তাকে বের করে দিলেন। সে বনু সুলাইমের হাররা-য় (পাথুরে মরুভূমিতে) কাফির অবস্থায় মারা গেল। তার সম্পর্কে আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: "আর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে" (সূরা নিসা, আয়াত ১১৫) থেকে "নিকৃষ্ট আবাস" পর্যন্ত।সুনাইদ, ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযির ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক আনসারী ব্যক্তি তু’মাহ ইবনে উবাইরিকের কাছে তার একটি কক্ষ গচ্ছিত রেখেছিলেন যাতে একটি বর্ম ছিল।

এরপর তিনি অনুপস্থিত হলেন। যখন সেই আনসারী ফিরে এলেন এবং তার কক্ষটি খুললেন, তখন সেখানে বর্মটি পেলেন না। তিনি তু’মাহ ইবনে উবাইরিককে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে জায়েদ ইবনে সামিন নামক এক ইয়াহুদির ওপর তার দোষ চাপিয়ে দিল। বর্মের মালিক তু’মাহর কাছে বর্মটি দাবি করে তাকে পাকড়াও করলেন। যখন তার কওম এটি দেখল, তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁর সাথে কথা বলল যাতে তিনি তার থেকে অপবাদ দূর করেন। তিনি তা করার মনস্থ করলেন। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করতে পারেন" থেকে "এবং যারা নিজেদের প্রতি খিয়ানত করে তাদের পক্ষে বিতর্ক করবেন না" পর্যন্ত; অর্থাৎ তু’মাহ ইবনে উবাইরিক এবং তার কওম।

"তোমরা তো তারাই যারা বিতর্ক করেছ" থেকে "কে তাদের কর্মবিধায়ক হবে?" পর্যন্ত; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তু’মাহর কওমকে উদ্দেশ্য করে। "অতঃপর তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর আরোপ করে" অর্থাৎ জায়েদ ইবনে সামিন "তবে সে অবশ্যই অপবাদ বহন করল।"