An-Nisa

আন-নিসা: 174

4:174

আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُم بُرْهَـٰنٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا

English Translations

Sahih International

O mankind, there has come to you a conclusive proof from your Lord, and We have sent down to you a clear light.

Muhsin Khan

O mankind! Verily, there has come to you a convincing proof (Prophet Muhammad SAW) from your Lord, and We sent down to you a manifest light (this Quran).

Taqi Usmani

O people, a proof has come to you from your Lord, and We have sent down to you a vivid light.

Abul Ala Maududi

O men! A proof has come to you from your Lord, and We have sent down unto you a clear light.

Pickthall

O mankind! Now hath a proof from your Lord come unto you, and We have sent down unto you a clear light;

Yusuf Ali

O mankind! verily there hath come to you a convincing proof from your Lord: For We have sent unto you a light (that is) manifest.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে মানবমন্ডলী! তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের কাছে উজ্জ্বল প্রমাণ এসে পৌঁছেছে, আর আমি তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট জ্যোতি অবতীর্ণ করেছি।

রাওয়াই আল-বায়ান

হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট আলো নাযিল করেছি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে লোক সকল! তোমাদের রবের সন্নিধান হতে তোমাদের নিকট প্রত্যক্ষ প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি সমুজ্জ্বল জ্যোতি অবতীর্ণ করেছি।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে লোকসকল! তোমাদের রবের কাছ থেকে তোমাদের কাছে প্রমাণ এসেছে এবং আমরা তোমাদের প্রতি স্পষ্ট জ্যোতি নাযিল করেছি।

ফাতহুল মাজীদ

হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট প্রমাণ (মুহাম্মাদ) এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি স্পষ্ট জ্যোতি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি।

মুখতাসার

১৭৪. হে মানুষ! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে যা সকল ওজর বন্ধ করে ও সন্দেহ দূর করে। তিনি হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর আমি তোমাদের উপর নাযিল করেছি পরিষ্কার আলো। তা হলো এ কুর‘আনুল-কারীম।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৭৪-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মানব জাতিকে সম্বোধন করে বলেছেন-আমার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট পূর্ণ দলীল, ওযর, আপত্তি ও সন্দেহ দূরকারী প্রমাণাদি অবতীর্ণ করা হয়েছে। আমি তোমাদের উপর স্পষ্ট জ্যোতি (কুরআন কারীম) অবতীর্ণ করেছি, যার দ্বারা সত্যের পথ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ইবনে জুরায়েজ প্রমুখ মনীষী বলেন যে, এর দ্বারা কুরআন কারীমকে বুঝান হয়েছে। এখন যারা আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনয়ন করবে, তার উপরই পূর্ণ নির্ভরশীল হবে, তাঁকেই দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, তারই দাসত্ব করবে, সমস্ত কাজ তাঁকেই সমর্পণ করবে এবং এও হতে পারে যে, যারা আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতঃ তাঁর কিতাবকে দৃঢ়রূপে ধারণ করবে তাদের উপর তিনি স্বীয় করুণা ও অনুগ্রহ বর্ষণ করবেন, তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন, তাদের প্রতিদান বৃদ্ধি করবেন, তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং তাদেরকে এমন সরল সঠিক পথ-প্রদর্শন করবেন যা না কোন দিকে বাঁকা থাকবে, না কোন জায়গা সংকীর্ণ হবে। সুতরাং মুমিন ব্যক্তি পৃথিবীতে সরল ও সোজা পথের উপরে থাকে এবং ইসলামের পথে থাকে। আর পরকালে থাকে জান্নাতের পথে ও শান্তির পথে। তাফসীরের প্রারম্ভে একটি পূর্ণ হাদীস অতীত হয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঘোষণা রয়েছে-- আল্লাহর সরল ও সোজা পথ এবং তার সুদৃঢ় রঙ্গু হচ্ছে কুরআন কারীম।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে লোকসকল! তোমাদের রবের কাছ থেকে তোমাদের কাছে প্রমাণ এসেছে [১] এবং আমরা তোমাদের প্রতি স্পষ্ট জ্যোতি [২] নাযিল করেছি।

[১] ‘বুরহান’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অকাট্য দলীল-প্রমাণ। এ আয়াতে এর দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সত্তা ও মহান ব্যক্তিত্বকে বুঝানো হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান ব্যক্তিত্বের জন্য ‘বুরহান’ শব্দ প্রয়োগ করার তাৎপর্য এই যে, তার বরকতময় সত্তা, অনুপম চরিত্র মাধুর্য, অপূর্ব মু’জিযাসমূহ, তার প্রতি বিস্ময়কর কিতাব আল-কুরআন নাযিল হওয়া ইত্যাদি তার রেসালাতের অকাট্য দলীল ও প্রকৃষ্ট প্রমাণ। যার পরে আর কোন সাক্ষ্য প্রমাণের আবশ্যক হয় না। অতএব, তার মহান ব্যক্তিত্বই তার সত্যতার অকাট্য প্রমাণ।

[২] আলোচ্য আয়াতে (نُوْر) (নূর) শব্দ দ্বারা কুরআন মাজীদকে বোঝানো হয়েছে। যেমন, সূরা আল-মায়েদার ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

(قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللّٰهِ نُوْرٌ وَّكِتٰبٌ مُّبِيْنٌ)

অর্থাৎ তোমাদের কাছে আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে এক উজ্জ্বল আলো তথা এক প্রকৃষ্ট কিতাব অর্থাৎ আল-কুরআন এসেছে। আবার নুর অর্থ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আল-কুরআনও হতে পারে। তখন এর অর্থ হবে, হেদায়াতের নূর। যে আলোর ছোয়া লাগলে মানুষের হিদায়াত নসীব হয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে, রাসূল স ল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবীয় দৈহিকতা থেকে মুক্ত শুধু নূর ছিলেন, যেমনটি কোন কোন ভ্ৰষ্ট সম্প্রদায় বিশ্বাস করে থাকে।