An-Nisa
আন-নিসা: 160
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
আরবি
فَبِظُلْمٍ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَـٰتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرًا
English Translations
For wrongdoing on the part of the Jews, We made unlawful for them [certain] good foods which had been lawful to them, and for their averting from the way of Allāh many [people],
For the wrong-doing of the Jews, We made unlawful to them certain good foods which has been lawful to them, and for their hindering many from Allah's Way;
So, because of the transgression of those who became Jews, We prohibited for them good things which were made lawful for them earlier and for their preventing (people), very often, from the way of Allah,
Thus, We forbade them many clean things which had earlier been made lawful for them, for the wrong-doing of those who became Jews, for their barring many from the way of Allah,
Because of the wrongdoing of the Jews We forbade them good things which were (before) made lawful unto them, and because of their much hindering from Allah's way,
For the iniquity of the Jews We made unlawful for them certain (foods) good and wholesome which had been lawful for them;- in that they hindered many from Allah's Way;-
বাংলা অনুবাদ
আমি ইয়াহূদীদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ যা তাদের জন্য হালাল ছিল, তা হারাম করে দিয়েছি তাদের বাড়াবাড়ির কারণে আর বহু লোককে আল্লাহর পথে তাদের বাধা দেয়ার কারণে।
সুতরাং ইয়াহূদীদের যুলমের কারণে আমি তাদের উপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।
আমি ইয়াহুদীদের অবাধ্যতা হেতু তাদের জন্য যে সমস্ত বস্ত্ত বৈধ ছিল তা তাদের প্রতি অবৈধ করেছি; এবং যেহেতু তারা অনেককে আল্লাহর পথ হতে প্রতিরোধ করত।
সুতরাং ভালো ভালো যা ইয়াহুদীদের জন্য হালাল ছিল আমরা তা তাদের জন্য হারাম করেছিলাম তাদের যুলুমের জন্য এবং আল্লাহর পথ থেকে অনেককে বাঁধা দেয়ার জন্য।
ভাল ভাল যা ইয়াহূদীদের জন্য বৈধ ছিল আমি তা তাদের কারণে অবৈধ করেছি তাদের সীমালঙ্ঘনের জন্য এবং আল্লাহর পথে অনেককে বাধা দেয়ার জন্য,
১৬০. ইহুদিদের যুলুমের কারণেই আমি তাদের পূর্বের কিছু পবিত্র ও হালাল খাদ্য তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। আমি প্রত্যেক নখ বিশিষ্ট প্রাণী এবং গরু ও ছাগলের চর্বি তাদের উপর হারাম করে দিয়েছি। তবে সেগুলোর পিঠের চর্বি তাদের জন্য হালাল। যেহেতু তারা নিজেদের ও অন্যদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা প্রদান করেছে। এমনকি কল্যাণের পথে বাধা প্রদান তাদের চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
তাফসীর
১৬০-১৬২ নং আয়াতের তাফসীর: এ আয়াতের দু’টি ভাবার্থ হতে পারে। একটি তো এই যে, এটা হুরমতে কাদরী’ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা এটা লিখেই রেখেছিলেন যে, এ লোকগুলো স্বীয় গ্রন্থকে পরিবর্তিত করবে এবং বৈধ জিনিসকে নিজেদের উপর অবৈধ করে নেবে। ওটা শুধুমাত্র তাদের কঠোরতার কারণেই ছিল। দ্বিতীয় ভাবার্থ এই যে, এটা ছিল শারঈ হুরমাত’ অর্থাৎ তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে যে কতক জিনিস তাদের উপর হালাল ছিল তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার সময় তাদের কিছু অপরাধের কারণে হারাম করে দেয়া হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেক খাদ্যই বানী ইসরাঈলের জন্যে হালাল ছিল। কিন্তু তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল নিজের উপর যা হারাম করে নিয়েছিল তাই তাদের উপর হারাম করা হয়েছিল” (৩:৯৩) এ আয়াতের ভাবার্থ এই যে, তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বানী ইসরাঈলের উপর সমস্ত খাদ্যই বৈধ ছিল। কিন্তু হযরত ইসরাঈল (আঃ) নিজের উপর উটের গোশত ও দুধ হারাম করেছিলেন। সুতরাং তাওরাতে তাদের জন্য ঐ দুটো জিনিস হারাম করে দেয়া হয়। যেমন সূরা-ই আনআমে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং ইয়াহূদীদের জন্যে আমি সমস্ত খুর বিশিষ্ট পশু অবৈধ করেছিলাম এবং ছাগ, গরু ও ওদের চর্বি যা পৃষ্ঠে ও অন্ত্রে সংযুক্ত অথবা অস্থিতে সংলিপ্ত-তদ্ব্যতীত তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম; এভাবে আমি তাদের অবাধ্যতার জন্যে তাদেরকে প্রতিফল প্রদান করেছিলাম এবং নিশ্চয়ই আমি সত্যপরায়ণ।” (৬:১৪৬)সুতরাং এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তাদের অত্যাচার ও বাড়াবাড়ি, নিজে আল্লাহ তা'আলার পথ হতে সরে যাওয়া ও অপরকে সরিয়ে দেয়া, যা তাদের চিরন্তন অভ্যাস ছিল, রাসূলগণকে হত্যা করা, তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, বিভিন্ন প্রকার কৌশল অবলম্বন করতঃ সুদ ভক্ষণ করা, অন্যায়ভাবে অপরের মাল আত্মসাৎ করা, এ সমস্ত কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের উপর এমন কতগুলো জিনিস হারাম করেন যেগুলো তাদের জন্যে হালাল ছিল। ঐসব কাফিরদের জন্যে তিনি বেদনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সত্য ধর্মে পূর্ণ বিশ্বাসী, তারা কুরআন কারীম ও পূর্বের সমস্ত কিতাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে। এ বাক্যটির তাফসীর সূরা-ই-আলে ইমরানের তাফসীরে বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর দ্বারা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), হযরত সা'লাবা ইবনে সাঈদ (রাঃ), হযরত যায়েদ ইবনে সাঈদ (রাঃ) এবং হযরত উসায়েদ ইবনে উবায়েদ (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নবুওয়াতকে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। অগ্রবর্তী (আরবী) বাক্যটি সমস্ত ইমামের মাসহাফে’ ও হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ)-এর মাসহাফে এরূপই আছে। কিন্তু আল্লামা ইবনে জারীর (রঃ)-এর উক্তি অনুসারে হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর সহীফায় (আরবী) রয়েছে। প্রথম পঠনটিই বিশুদ্ধ। যারা বলেন যে, এটা লিখার ভুল, তারা ভুল বলেছেন। কেউ কেউ তো বলেন যে, এর (আরবী) হচ্ছে (আরবী) -এর কারণে, যেমন (আরবী) (২৪:১৭৭)এ আয়াতে হয়েছে। তাছাড়া আরবাসীর কথা-বার্তায় এবং কবিতায়ও এ নিয়ম বরাবর চালু রয়েছে। আবার কেউ বলেন যে, (আরবী) (২৪:৪)-এ বাক্যের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। অর্থাৎ তারা ওগুলোর উপরও বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠিত করার উপরও তাদের বিশ্বাস রয়েছে। অর্থাৎ তারা নামাযের অপরিহার্যতা ও সত্যতা স্বীকার করে। কিংবা এর ভাবার্থ হচ্ছে ফেরেশতা। অর্থাৎ তাদের কুরআন কারীমের উপর, অন্যান্য আসমানী কিতাবের উপর এবং ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস রয়েছে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এটাকেই পছন্দ করেছেন। কিন্তু এতে বিবেচনার অবকাশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা সবেচেয়ে ভাল জানেন।এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তারা যাকাত প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ মালের বা জীবনের যাকাত দিয়ে থাকে। ভাবার্থ দুটোও হতে পারে। আর তারা একমাত্র আল্লাহকেই ইবাদতের যোগ্য মনে করে থাকে এবং তারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের উপরও পূর্ণ বিশ্বাস রাখে যে, সেদিন প্রত্যেক ভাল-মন্দ কার্যের প্রতিদান দেয়া হবে। এ প্রকারের লোককেই আমি মহা প্রতিদান অর্থাৎ জান্নাত প্রদান করবো।
সুতরাং ভাল ভাল যা ইয়াহুদীদের জন্য হালাল ছিল আমরা তা তাদের জন্য হারাম করেছিলাম তাদের যুলুমের জন্য [১] এবং আল্লাহর পথ থেকে অনেককে বাঁধা দেয়ার জন্য।
[১] ইসলামী শরীআতেও কোন কোন দ্রব্য পানাহার করা হারাম ঘোষিত হয়েছে। তবে তা শারিরিক বা আধ্যাত্মিক ক্ষতিকর হওয়ার কারণে। পক্ষান্তরে ইয়াহুদীদের জন্য কোন দৈহিক বা আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে ক্ষতিকর হওয়ার কারণে পবিত্র দ্রব্য হারাম করা হয়নি, বরং তাদের অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ সেগুলো হারাম করা হয়েছিল। তাদের উপর কোন কোন জিনিস হারাম করা হয়েছিল তা সূরা আল-আন’আমের ১৪৬ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
