An-Nisa
আন-নিসা: 37
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
মূল আরবি
ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ ۗ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَـٰفِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا
English Translations
Who are stingy and enjoin upon [other] people stinginess and conceal what Allāh has given them of His bounty - and We have prepared for the disbelievers a humiliating punishment -
Those who are miserly and enjoin miserliness on other men and hide what Allah has bestowed upon them of His Bounties. And We have prepared for the disbelievers a disgraceful torment.
-those who are miserly and bid people to be miserly, and conceal what Allah has given them of His grace - and We have prepared for the disbelievers a humiliating punishment,
who are niggardly and bid others to be niggardly and conceal the bounty which Allah has bestowed upon them. We have kept in readiness a humiliating chastisement for such deniers (of Allah's bounty).
Who hoard their wealth and enjoin avarice on others, and hide that which Allah hath bestowed upon them of His bounty. For disbelievers We prepare a shameful doom;
(Nor) those who are niggardly or enjoin niggardliness on others, or hide the bounties which Allah hath bestowed on them; for We have prepared, for those who resist Faith, a punishment that steeps them in contempt;-
বাংলা অনুবাদ
যারা কৃপণতা করে অধিকন্তু লোকেদেরকেও কার্পণ্য করার আদেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা গোপন করে, (ঐসব) কাফিরদের জন্য আমি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়; আর গোপন করে তা, যা আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন। আর আমি প্রস্তুত করে রেখেছি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর আযাব।
যারা কৃপণতা করে ও লোকদের কার্পণ্য শিক্ষা দেয় এবং আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে যা দান করেছেন তা গোপন করে, বস্তুতঃ আমি সেই অবিশ্বাসীদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা গোপন করে। আর আমরা কাফেরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা গোপন করে, আর আমি আখিরাতে কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
৩৭. আল্লাহ তা‘আলা ওদেরকে ভালোবাসেন না যারা আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে তাদের উপর আরোপিত বাধ্যতামূলক খরচাদি করতে নিষেধ করে এবং কথায় ও কাজে অন্যদেরকেও এর আদেশ করে। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে রিযিক, জ্ঞান ইত্যাদি যা দান করেছেন তাও লুকিয়ে রাখে। মানুষের কাছে সত্য বর্ণনা করে না বরং তা লুকিয়ে রেখে বাতিলটিই প্রকাশ করে। বস্তুতঃ এ চরিত্রগুলো কুফরি চরিত্র। আর আমি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।
তাফসীর
৩৭-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর: ইরশাদ হচ্ছে- যারা আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কার্যে মাল খরচ করতে কার্পণ্য করে, যেমন বাপ-মাকে প্রদান করতে এবং আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, দরিদ্র, সম্পর্কযুক্ত ও সম্পর্ক বিঙ্কন প্রতিবেশী, মুসাফির এবং দাস-দাসীকে অভাবের সময় আল্লাহর ওয়াস্তে দান করার কার্যে কার্পণ্য করে, শুধু তাই নয় বরং লোকদেরকেও কার্পণ্য শিক্ষা দেয় এবং আল্লাহ তা'আলার পথে খরচ না। করার পরামর্শ দেয়, তাদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ কার্পণ্য অপেক্ষা বড় রোগ আর কি হতে পারে? তিনি আরো বলেছেনঃ “হে মানবমণ্ডলী! তোমরা কার্পণ্য হতে বেঁচে থাক।
এটাই তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর কারণেই তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নতা, অন্যায় ও দুস্কার্য প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর বলা হচ্ছে- তারা এ দু'টি দুঙ্কার্যের সাথে সাথে আরও একটি দুষ্কার্যে লিপ্ত হয়। তা এই যে, তারা আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহ গোপন করে, ঐগুলো প্রকাশ করে না। ঐগুলো না তাদের খাওয়া পরায় প্রকাশ পায় না। আদান-প্রদানে প্রকাশিত হয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ নিশ্চয়ই মানুষ তার প্রভুর প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই সে নিজেই তার ঐ অবস্থা ও অভ্যাসের উপর সাক্ষী।' (১০০:৬-৭) তার পরে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই সে মালের প্রেমে পাগল।' (১০০:৮) এখানেও বলা হয়েছে যে, সে আল্লাহর অনুগ্রহ গোপন করছে।
এরপর তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্যে অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। কু' শব্দের অর্থ হচ্ছে গোপন করা এবং ঢেকে দেয়া। কৃপণও আল্লাহ তাআলার নিয়ামতকে গোপন করে, ওর উপরে পর্দা নিক্ষেপ করে, অর্থাৎ ঐ নিয়ামতসমূহ অস্বীকার করে। সুতরাং সে নিয়ামতসমূহের অস্বীকারকারী হয়ে গেল। হাদীস শরীফে রয়েছেঃ “আল্লাহ তা'আলা যখন কোন বান্দার উপর স্বীয় নি'আমত দান করেন তখন চান যে, ওর চিহ্ন যেন তার উপরে প্রকাশ পায়। নবী (সঃ)-এর প্রার্থনায় রয়েছে-(আরবী) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনি আপনার নি'আমতের প্রতি কৃতজ্ঞ বানিয়ে দিন এবং তার কারণে আমাদেরকে আপনার প্রশংসাকারী করুন, ওগুলো গ্রহণকারী বানিয়ে দিন ও ঐগুলো আমাদের উপর পূর্ণভাবে দান করুন।পূর্ববর্তী কোন কোন মনীষীর উক্তি এই যে, এ আয়াতটি ইয়াহূদীদের ঐ কার্পণ্যের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যে কার্পণ্য তারা মুহাম্মাদ (সঃ)-এর গুণাবলী গোপন করার ব্যাপারে করতো।
এ জন্যেই এর শেষে রয়েছে-‘আমি কাফিরদের জন্যে অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।এ আয়াতটি যে ইয়াহূদীদের কার্পণ্যের ব্যাপারেও হতে পারে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু স্পষ্টতঃ এখানে মালের কৃপণতার কথাই বর্ণনা করা হচ্ছে, যদিও ইলমের কৃপণতা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। এটা ভুললে চলবে না যে, এ আয়াতে আত্মীয়-স্বজন ও দুর্বলদেরকে মাল প্রদানের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে পরবর্তী আয়াতে লোকদেরকে দেখাবার জন্যে মাল প্রদানকারীদের নিন্দে করা হয়েছে। এখানে বর্ণনা দেয়া হয়েছে ঐ কৃপণদের যারা টাকা পয়সাকে দাঁত দিয়ে ধরে রাখে।
তার পরে বর্ণনা দেয়া হয়েছে ঐ লোকদের যারা মাল খরচ তো করে বটে, কিন্ত অসৎ উদ্দেশ্যে ও দুনিয়ায় নাম নেয়ার জন্যে।যেমন হাদীস শরীফে রয়েছেঃ “যে তিন প্রকারের লোকের জন্যে জাহান্নাম প্রজ্জ্বলিত করা হবে, তারা এ রিয়াকারগণই হবে। রিয়াকার আলেম, রিয়াকার গাযী এবং রিয়াকার দাতা। এ দাতা বলবে, হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রত্যেক রাস্তায় স্বীয় মাল খরচ করেছিলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তোমার ইচ্ছা তো শুধু এই ছিল যে, তুমি বড় দাতারূপে প্রসিদ্ধি লাভ কর। সুতরাং তা বলা হয়ে গেছে। অর্থাৎ তোমার উদ্দেশ্য ছিল দুনিয়ায় প্রসিদ্ধি লাভ।
তা আমি তোমাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিয়েছি। কাজেই তুমি তোমার উদ্দেশ্য লাভ করেছ।অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)-কে বলেনঃ “তোমার পিতা স্বীয় দান দ্বারা যা চেয়েছিল তা সে পেয়ে গেছে। আর একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞাসিত হন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে জাদ আনতো একজন বড় দাতা ছিল। সে দরিদ্র ও অভাবীদের সাথে বড়ই উত্তম ব্যবহার করতো এবং আল্লাহর নামে বহু গোলাম আযাদ করেছিল, সে কি এর কোন লাভ পাবে না?' তিনি বলেনঃ না, সে তো সারা জীবনে একদিনও বলেনি-“হে আল্লাহ! কিয়ামতের দিন আমার পাপ মার্জনা করুন।এজন্যেই এখানেও আল্লাহ তা'আল্লাহ বলেন-আল্লাহ ও কিয়ামতের উপর তাদের বিশ্বাস নেই, নতুবা তারা শয়তানের ফাঁদে পড়তো না এবং খারাপকে ভালো মনে করতো না।
তারা শয়তানের সঙ্গী। সঙ্গীর দুস্কার্যের উপর তাদের দুষ্কার্য চিন্তা করে নাও। একজন আরব কবি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ মানুষের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করো না, বরং জিজ্ঞেস কর তার সাথী সম্বন্ধে, প্রত্যেক সাথী তার সাথীরই অনুসারী হয়ে থাকে। এরপর ইরশাদ হচ্ছে- তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নে, সঠিক পথে চলতে, রিয়াকারী পরিত্যাগ করতে এবং ইখলাসের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তাতে তাদের ক্ষতি কি আছে? বরং সরাসরি উপকারই রয়েছে। কারণ এর ফলে তাদের পরিণাম ভাল হবে। তারা আল্লাহর পথে খরচ করতে সংকীর্ণ মনোভাব প্রকাশ করছে কেন? তারা আল্লাহ তাআলার ভালবাসা ও সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করছে না কেন?
আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে খুব ভাল করেই জানেন। তাদের ভাল ও মন্দ নিয়তের জ্ঞান তাঁর পুরোপুরিই রয়েছে। ভাল কার্যের তাওফীক লাভ করার যোগ্য ও অযোগ্য সবই তাঁর নিকট প্রকাশমান। ভাল লোকদেরকে তিনি ভাল কাজ করার তাওফীক প্রদান করতঃ স্বীয় সন্তুষ্টির কাজ তাদের দ্বারা করিয়ে নিয়ে তাদেরকে তার নৈকট্য দান করে থাকেন। পক্ষান্তরে মন্দ লোকদেরকে তিনি স্বীয় মহা মর্যাদাসম্পন্ন দরবার হতে দূরে সরিয়ে দেন। যার ফলে তাদের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস হয়ে থাকে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে ওটা হতে আশ্রয় দান করুন!
যারা কৃপণতা করে [১] এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা গোপন করে। আর আমরা কাফেরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি [২]।
[১] এ বাক্যে বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত লোক দাম্ভিক তারা ওয়াজিব হকের ক্ষেত্রেও কার্পণ্য করে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি করে না এবং অন্যান্য লোককেও নিজের অশোভন কথা এবং কার্যকলাপের মাধ্যমে এ ধরনের মন্দ অভ্যাস অবলম্বন করার প্রতি উৎসাহিত করে। আয়াতে যে (بخل) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, প্রচলিত অর্থে এর প্রয়োগ হয়ে থাকে সাধারণতঃ অর্থ সম্পদ সংক্রান্ত অধিকার বা হক আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে। কিন্তু আয়াতের শানে-নুযুল পর্যালোচনা করতে গেলে বোঝা যায়, এখানে (بخل) কার্পণ্য শব্দটি সাধারণ ও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে অর্থ-সম্পদ, জ্ঞান ও অধিকার সংক্রান্ত সমস্ত কার্পণ্যই অন্তর্ভুক্ত।
দান-খয়রাতের ফযীলত এবং কার্পণ্যে ক্ষতি সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘প্রতিদিন ভোর বেলায় দু’জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! সৎপথে ব্যয়কারীদেরকে শুভ প্রতিদান দান করুন। আর অন্যজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধন-সম্পদের দিক দিয়ে ধ্বংসের সম্মুখীন করে দিন’। [বুখারীঃ ১৪৪২]
অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কৃপণতা থেকে বেঁচে থাক, কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে এ কৃপণতাই ধ্বংস করেছে। তাদেরকে তাদের কার্পণ্য নির্দেশ দিয়েছে কৃপণতা করার, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, অনুরূপভাবে তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে ফলে তারা তা ছিন্ন করেছে এবং তাদেরকে অশ্লীলতার নির্দেশ দিয়েছে ফলে তারা অশ্লীল কাজ করেছে। [আবু দাউদঃ ১৬৯৮]
[২] অর্থাৎ তারা কাফির। আর আল্লাহ তা'আলা কাফেরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। তাদের শাস্তি অবধারিত। মুজাহিদ বলেন, এ আয়াত এবং এর পরবর্তী আয়াতগুলোয় ইয়াহুদীদের উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। কারণ তারা এ কাজগুলো করত। [তাবারী] এরপর যাদের মধ্যেই উপর্যুক্ত খারাপ গুণাগুণ পাওয়া যাবে, তারাও আল্লাহর কাছে মন্দ বলে বিবেচিত হবে।
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৩৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তিনি আমাকে রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) পড়ার ব্যাপারে এমনভাবে নসিহত করতে থাকলেন যে, আমি মনে করতে লাগলাম আমার উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিরা বোধহয় রাতে একদমই ঘুমাবে না। আবু লাইস সামারকান্দি তাঁর তাফসিরে এটি উল্লেখ করেছেন। আঠারোতম মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না) অর্থাৎ তিনি সন্তুষ্ট হন না। (যে ব্যক্তি দাম্ভিক ও আত্মশ্লাঘাকারী) এখানে মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র সত্তার ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিকে এমন ব্যক্তি থেকে নাকচ করে দিয়েছেন যার মধ্যে এই গুণাবলী বিদ্যমান। অর্থাৎ পরকালে তার ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কোনো প্রভাব প্রকাশ পাবে না।
আর এর মধ্যে এক প্রকারের কঠোর ধমকি বা সতর্কতা রয়েছে। 'মুখতাল' হলো অহংকারী বা গর্বিত। আর 'ফাখুর' হলো সেই ব্যক্তি, যে অহংকারবশত নিজের গুণগান বর্ণনা করে বেড়ায়। আর 'ফাখর' (গৌরব) হলো আভিজাত্য প্রদর্শন ও শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা। এখানে এই দুটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, এই দুটি স্বভাবই মানুষকে তার দরিদ্র নিকটাত্মীয়, দরিদ্র প্রতিবেশী এবং আয়াতে বর্ণিত অন্যান্যদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে প্ররোচিত করে, যার ফলে তাদের প্রতি সদয় আচরণের যে নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন তা নষ্ট হয়ে যায়। মুফাদ্দাল আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'ওয়াল জারুল জানবি' শব্দটিকে 'জীম' বর্ণে জবর এবং 'নুন' বর্ণে সাকিন সহযোগে পড়েছেন।
আল-মাহদাবি বলেছেন: এটি মূলত একটি উহ্য মুদাফ-এর ভিত্তিতে হয়েছে, অর্থাৎ 'ওয়াল জারি যিল জানবি' যার অর্থ পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী। আখফাশ কাব্য আবৃত্তি করেছেন:সাধারণ মানুষ একদিকে আর আমির অন্যদিকে এখানে ‘জানব’ অর্থ হলো পার্শ্ব বা দিক, অর্থাৎ যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরে অবস্থান করে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। [সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৩৭]যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়, আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দান করেছেন তা গোপন করে; আমি কাফিরদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (৩৭)মহান আল্লাহর বাণী: (যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়) এর মধ্যে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি— মহান আল্লাহর বাণী: (যারা কৃপণতা করে)।
এখানে (আল্লাযিনা) শব্দটি 'মান কানা' বাক্যাংশের (মান) শব্দের বদল হিসেবে নসব অবস্থায় রয়েছে। এটি সিফাত (বিশেষণ) হওয়া সম্ভব নয়, কারণ (মান) এবং (মা) কোনো শব্দের বিশেষণ হয় না এবং এদের কোনো বিশেষণও থাকে না। আবার এটি 'ফাখুর' শব্দের মধ্যে নিহিত সর্বনামের বদল হিসেবে রাফা অবস্থায় হওয়াও সম্ভব। অথবা এটি রাফা অবস্থায় হবে এবং তার ওপর পরবর্তী অংশ আতফ করা হবে। আবার এটি 'ইবতিদা' (উদ্দেশ্য) হতে পারে যার 'খবর' (বিধেয়) উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: যারা কৃপণতা করে, তাদের জন্য এমনটি (শাস্তি) রয়েছে; অথবা এর খবর হতে পারে (নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না)।
আবার এটি উহ্য কোনো শব্দের কারণে নসব অবস্থায় থাকাও সম্ভব।(১). পাণ্ডুলিপি ‘ত্ব’ তে রয়েছে: প্রশংসা।(২). যেন তিনি সকল মানুষের থেকে বিমুখ হয়েছেন।(৩). অর্থাৎ এর ওপর মহান আল্লাহর বাণী: (এবং যারা লোক দেখানোর জন্য তাদের সম্পদ ব্যয় করে) আতফ করা হবে, যেমনটি নাহহাসের ‘ই’রাবুল কুরআন’-এ বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে জারীর এবং ইবনে আবী হাতিম ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন: আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে
অর্থাৎ এর দ্বারা আহলে কিতাবদের বোঝানো হয়েছে যে, তারা কিতাবের বিষয়বস্তু মানুষের কাছে স্পষ্ট করার ব্যাপারে কার্পণ্য করেছিল। কিয়ামতের দিন তারা যা নিয়ে কার্পণ্য করেছিল তা দিয়ে তাদের গলায় বেড়ি পরানো হবে
আপনি কি শোনেননি যে তিনি বলেছেন: (যারা কার্পণ্য করে এবং মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়) (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৭), অর্থাৎ তিনি আহলে কিতাবদের বুঝিয়েছেন; তারা নিজেরা সত্য গোপন করে এবং মানুষকেও তা গোপন করার নির্দেশ দেয়।এবং ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে
এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা হলো ইয়াহুদী।এবং ইবনে জারীর ও ইবনে আবী হাতিম সুদ্দী থেকে আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে
আয়াতের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা আল্লাহর পথে তা ব্যয় করতে কার্পণ্য করেছে এবং তার জাকাত প্রদান করেনি।এবং ইবনে আবী হাতিম হাসান থেকে এই আয়াতের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা হলো কাফির এবং সেই মুমিন যে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কার্পণ্য করেছে।ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সেই সম্পদকে একটি বিষধর কেশহীন সাপের রূপ দেওয়া হবে যার চোখের ওপর দুটি কালো বিন্দু থাকবে।
কিয়ামতের দিন সেই সাপটি তার গলায় বেড়ি হয়ে জড়িয়ে থাকবে এবং তার দুই চোয়াল কামড়ে ধরবে এবং বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন।অতঃপর তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন: আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে...
আয়াতাংশ।এবং ইমাম আহমদ, আব্দ ইবনে হুমাইদ, তিরমিজী (তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন), ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, ইবনে জারীর, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতিম এবং হাকেম (তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার সম্পদের জাকাত আদায় করে না, অথচ কিয়ামতের দিন তার জন্য সেই সম্পদকে একটি কেশহীন বিষধর সাপে পরিণত করা হবে না; সে ব্যক্তি তা থেকে পলায়ন করবে আর সাপটি তার পিছু ধাওয়া করবে এবং বলবে: আমি তোমার সঞ্চিত ধন, শেষপর্যন্ত সেটি তার গলায় বেড়ি হয়ে আটকে যাবে।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কিতাব থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে আমাদের সামনে পাঠ করলেন: আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে
আয়াতাংশ।এবং ফিরইয়াবী, সাঈদ ইবনে মানসুর, আব্দ ইবনে হুমাইদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ 'যাওয়ায়েদুজ জুহদ'-এ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতিম, তাবারানী এবং হাকেম (তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন) ইবনে...
থেকে বর্ণনা করেছেন।
