An-Nisa

আন-নিসা: 110

4:110
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَمَن يَعْمَلْ سُوٓءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُۥ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ يَجِدِ ٱللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا

English Translations

Sahih International

And whoever does a wrong or wrongs himself but then seeks forgiveness of Allāh will find Allāh Forgiving and Merciful.

Muhsin Khan

And whoever does evil or wrongs himself but afterwards seeks Allah's Forgiveness, he will find Allah Oft-Forgiving, Most Merciful.

Taqi Usmani

Whoever acts evil or wrongs himself, then seeks forgiveness from Allah, shall find Allah Most-Forgiving, Very-Merciful.

Abul Ala Maududi

He who does either evil or wrongs himself, and then asks for the forgiveness of Allah, will find Allah All-Forgiving, All-Compassionate.

Pickthall

Yet whoso doeth evil or wrongeth his own soul, then seeketh pardon of Allah, will find Allah Forgiving, Merciful.

Yusuf Ali

If any one does evil or wrongs his own soul but afterwards seeks Allah's forgiveness, he will find Allah Oft-forgiving, Most Merciful.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যে ব্যক্তি অসৎকাজ করে কিংবা নিজের আত্মার প্রতি যুলম করে, অতঃপর আল্লাহ হতে ক্ষমা ভিক্ষে করে, সে আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং যে কেহ দুস্কার্য করে অথবা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় দেখতে পাবে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর কেউ কোন মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।

ফাতহুল মাজীদ

যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করতঃ অথবা নিজের প্রতি জুলুম করতঃ পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।

মুখতাসার

১১০. কোন পাপী নিজের উপর যুলুম করে অতঃপর পাপ বর্জন করতঃ নিজের দোষ নিজেই স্বীকার করে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে সে সর্বদা আল্লাহকে তার গুনাহের ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবেই পাবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১০-১১৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা এখানে স্বীয় অনুগ্রহ ও করুণার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, কেউ কোন পাপকার্য সম্পাদনের পর তাওবা করলে আল্লাহ তা'আলা দয়া করে তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হন। যে ব্যক্তি পাপ করার পর অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহ তাআলার দিকে ঝুঁকে পড়ে, আল্লাহ পাক তাকে স্বীয় অনুগ্রহ ও সীমাহীন করুণা দ্বারা ঢেকে নেন এবং তার ছোট ও বড় গুনাহ্ ক্ষমা করে দেন। যদিও সে পাপ আকাশ, যমীন ও পর্বত থেকেও বড় হয়। বানী ইসরাঈলের মধ্য যখন কেউ কোন পাপ করতো তখন তার দরজার উপর কুদরতী অক্ষরে ওর কাফফারা লিখা হয়ে যেতো। সে কাফফারা তাকে আদায় করতে হতো।

তাদের কাপড়ে প্রস্রাব লেগে গেলে তাদের উপর ঐ পরিমাণ কাপড় কেটে নেয়ার নির্দেশ ছিল। আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উম্মতের উপর এ সহজ ব্যবস্থা রেখেছেন যে, ঐ কাপড় পানি দ্বারা ধৌত করলেই পবিত্র হয়ে যাবে এবং পাপের জন্য তাওবা করলেই তা মাফ হয়ে যাবে।একটি স্ত্রীলোক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফালকে একটি স্ত্রীলোক সম্বন্ধে ফওয়া জিজ্ঞেস করে যে ব্যভিচার করেছিল এবং এর ফলে একটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছিল, তাকে সে হত্যা করে ফেলেছে। হযরত মুগাফফাল (রাঃ) তখন বলেন যে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। তখন স্ত্রীলোকটি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে। যায়। হযরত মুগাফফাল তখন তাকে ডেকে (আরবী)-এ আয়াতটি পড়ে শুনিয়ে দেন।

অর্থাৎ যে কেউ দুষ্কর্ম করে অথবা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করার পর আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয় সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় প্রাপ্ত হবে। তখন স্ত্রীলোকটি চোখের অশ্রু মুছে ফেলে এবং তথা হতে ফিরে যায়।মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত আবু বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে মুসলমান কোন পাপ করার পর অযু করে দু'রাকআত নামায আদায় করতঃ আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা'আলা তার পাপ মার্জনা করে থাকেন। অতঃপর তিনি (আরবী) (৩:১৩৫)-এ আয়াতটি পাঠ করেন। আমরা মুসনাদ-ই-আবু বকর’-এ এর পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছি এবং কিছু বর্ণনা সূরা আলে ইমরানের তাফসীরে দেয়া হয়েছে।

হযরত আবু দারদা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, তিনি মাঝে মাঝে মজলিস হতে উঠে নিজের কোন কাজের জন্য যেতেন এবং ফিরে আসার ইচ্ছে থাকলে জুতা বা কাপড় কিছু না কিছু অবশ্যই ছেড়ে যেতেন।একদা তিনি স্বীয় জুতা রেখে এক বরতন পানি নিয়ে গমন করেন। আমিও তার পিছনে চলতে থাকি। কিছু দূর গিয়ে তিনি হাজত পুরো না করেই ফিরে আসেন এবং বলেনঃ ‘আমার প্রভুর পক্ষ হতে আমার নিকট একজন আগন্তুক এসেছিলেন এবং তিনি আমাকে এ পয়গাম দিয়ে গেলেন যে, (আরবী) অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন দুষ্কার্য করে বা স্বীয় জীবনের উপর অত্যাচার করে অতঃপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয় সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় রূপে প্রাপ্ত হবে।

আমি আমার সাহাবীগণকে এ সুসংবাদ দেয়ার জন্যে রাস্তা হতেই ফিরে আসছি।' কেননা এর পূর্বে (আরবী) অর্থাৎ যে খারাপ কাজ করবে তাকে তার পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।'(৪:১২৩) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং ফলে ওটা সাহাবীগণের নিকট খুব কঠিন বলে মনে হয়েছিল। আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে, অতঃপর ক্ষমা প্রার্থনা করে তবুও কি আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করবেন? তিনি বলেনঃ ‘হ্যা। আমি দ্বিতীয়বার এ কথাই বলি। তিনি বলেনঃ হ্যা। তৃতীয়বারও ঐ কথাই আমি বলি। তখন তিনি বলেনঃ যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে অতঃপর ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবুও আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করবেন।

যদিও আবুদ্দারদার নাক ধূলায় ধূসরিত হয়। এরপর যখনই হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ) হাদীসটি বর্ণনা করতেন তখনই স্বীয় নাকের উপর হাত মেরে বলতেন। হাদীসটির ইসনাদ দুর্বল এবং এটা গারীবও বটে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন- যে কেউ পাপ অর্জন করে সে নিজের উপরই এর প্রতিক্রিয়া পৌছিয়ে থাকে। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কেউ কারো বোঝা বহন করবে না।” (৬:১৬৫) অর্থাৎ একে অপরের কোন উপকার করতে পারবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কর্মের ফল ভোগ করতে হবে। তার কর্মের ফল অন্য কেউ ভোগ করবে না। এ জন্যে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ ‘তিনি মহাজ্ঞানী; বিজ্ঞানময়।

তাঁর জ্ঞান, তাঁর নিপুণতা, তার ন্যায়নীতি এবং তাঁর করুণা এর উল্টো যে, একের পাপের কারণে তিনি অপরকে ধরবেন।অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন- যে কেউ অপরাধ অথবা পাপ অর্জন করে, তৎপর নিরপরাধের প্রতি দোষারোপ করে, সে নিজেই সেই অপরাধ ও প্রকাশ্য পাপ বহন করবে। যেমন বানূ উবাইরিক হযরত লাবিদ ইবনে সহল (রাঃ)-এর নাম করেছিল- যে ঘটনাটি এ আয়াতের পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। অথবা এর দ্বারা যায়েদ ইবনে সামীনকে বুঝানো হয়েছে, যেমন এটা কোন কোন মুফাস্সীরের ধারণা যে, ঐ ইয়াহুদীর গোত্র একজন নিরপরাধ ব্যক্তির উপর চুরির অপবাদ দিয়েছিল, অথচ স্বয়ং তাদের লোকই ছিল বিশ্বাসঘাতক ও অত্যাচারী।

আয়াতটি শান-ই-নকূল হিসেবে বিশিষ্ট হলেও হুকুমের দিক দিয়ে এটা সাধারণ, যে কেউই এ কাজ করবে সেই আল্লাহ তা'আলার শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। এর পরবর্তী (আরবী)-এ আয়াতের সম্পর্কও এ ঘটনার সঙ্গেই রয়েছে। অর্থাৎ উসাইদ ইবনে উরওয়া এবং তার সঙ্গীরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে বানু উবাইরিকের চোরকে নিরপরাধ সাব্যস্ত করতঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে প্রকৃত রহস্য হতে সরিয়ে দেয়ার সমস্ত কার্যপ্রণালীই শেষ করে ফেলেছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ হচ্ছেন তাঁর প্রকৃত রক্ষক। তাই তিনি স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে এ বিপজ্জনক অবস্থায় বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষপাতি করার দোষ হতে বাঁচিয়ে নেন এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দেন।

এখানে ‘কিতাব’ শব্দ দ্বারা কুরআন কারীমকে বুঝানো হয়েছে এবং (আরবী) শব্দ দ্বারা সুন্নাহকে বুঝানো হয়েছে। অহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সঃ) যা জানতেন না, আল্লাহ তা'আলা অহীর মাধ্যমে তাঁকে তা জানিয়ে দেন। তাই তিনি বলেন, (আরবী) অর্থাৎ তিনি তোমাকে তা শিখিয়ে দিয়েছেন। যা তুমি জানতে না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) (৪২:৫২) হতে সূরার শেষ পর্যন্ত অবতীর্ণ করেন। আর এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) (২৮:৮৬) এজন্যে এখানেও বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ তোমার প্রতি আল্লাহর অসীম করুণা রয়েছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর কেউ কোন মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে [১]।

[১] এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, বান্দার হকের সাথে কিংবা আল্লাহর হকের সাথে সম্পর্কযুক্ত সব গোনাহই তাওবা ও ইস্তেগফারের দ্বারা মাফ হতে পারে। তবে তাওবা ও ইস্তেগফারের স্বরূপ জানা জরুরী। শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি’ বলার নাম তাওবা ও ইস্তেগফার নয়। তাই আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তি যদি সে জন্য অনুতপ্ত না হয় এবং তা পরিত্যাগ না করে কিংবা ভবিষ্যতে পরিত্যাগ করতে সংকল্পবদ্ধ না হয়, তবে মুখে মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা তাওবার সাথে উপহাস বৈ কিছু নয়। তাওবার জন্য মোটামুটি তিনটি বিষয় জরুরীঃ (এক) অতীত গোনাহর জন্য অনুতপ্ত হওয়া, (দুই) উপস্থিত গোনাহ অবিলম্বে ত্যাগ করা এবং (তিন) ভবিষ্যতে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে দৃঢ়সংকল্প হওয়া।

তাছাড়া বান্দাহর হকের সাথে যেসব গোনাহর সম্পর্ক, সেগুলো বান্দাহ্‌র কাছ থেকেই মাফ করিয়ে নেয়া কিংবা হক পরিশোধ করে দেয়া তাওবার অন্যতম শর্ত।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১১০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আদ-দাহ্হাক বলেন: যখন সে বর্মটি চুরি করল, তখন সে তার বাড়িতে একটি গর্ত খুঁড়ল এবং বর্মটি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখল। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো— (তারা মানুষের নিকট থেকে লুকিয়ে থাকে কিন্তু আল্লাহর নিকট থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে না)তিনি বলছেন: বর্মটি কোথায় আছে তা আল্লাহর কাছে গোপন নয়। (আর তিনি তাদের সঙ্গেই আছেন)অর্থাৎ, তিনি তাদের ওপর একজন সদা জাগ্রত রক্ষক। কেউ কেউ বলেন: (তারা মানুষের নিকট থেকে লুকিয়ে থাকে)অর্থাৎ তারা নিজেদের গোপন করে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর যে ব্যক্তি রাতে আত্মগোপনকারী—১) অর্থাৎ যে নিজেকে লুকিয়ে রাখে। আবার বলা হয়েছে: তারা মানুষের কাছে লজ্জা পায়; কারণ লজ্জাই হলো নিজেকে লুকিয়ে রাখার কারণ।

আর (তিনি তাদের সঙ্গেই আছেন) এর অর্থ হলো—অর্থাৎ জ্ঞান, দর্শন ও শ্রবণের মাধ্যমে; এটিই আহলুস সুন্নাহর অভিমত। অন্যদিকে জাহমিয়া, কাদারিয়া ও মুতাজিলারা এই আয়াত এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতের ওপর ভিত্তি করে দাবি করে যে, তিনি সর্বস্থানে বিদ্যমান। তারা বলে: যেহেতু আল্লাহ বলেছেন (তিনি তাদের সঙ্গেই আছেন)সেহেতু প্রমাণিত হয় যে তিনি সব জায়গায় আছেন; কারণ তিনি মহান হয়েও তাদের সাথে থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। তাদের এই দাবি থেকে আল্লাহ বহুদূরে ও পবিত্র; কারণ এটি দেহের বৈশিষ্ট্য, আর মহান আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আপনি কি দেখেননি মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বিশরের বিতর্ক: (তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না—২)?

যখন সে বলল: তিনি সত্তাগতভাবে সর্বস্থানে আছেন, তখন তার প্রতিপক্ষ তাকে বলল: তবে কি তিনি তোমার টুপির ভেতর, তোমার কাপড়ের ভাঁজে এবং তোমার গাধার পেটে আছেন? তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি পবিত্র ও মহান! ওয়াকি (রা.) এটি বর্ণনা করেছেন। আর (তারা রাতে ষড়যন্ত্র করে)—এর অর্থ হলোতারা বলে। কালবী আবু সালিহ-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। (যা তিনি পছন্দ করেন না)অর্থাৎ যা আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য পছন্দ করেন না। (কথার মধ্য হতে)অর্থাৎ মতামত ও বিশ্বাসের মধ্য হতে; যেমন আপনি বলে থাকেন: এটি মালিক বা শাফিঈর মাযহাব (মত)।

আবার বলা হয়েছে: (কথা) বা قول এখানে ‘মাকুল’ বা যা বলা হয়েছে সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ স্বয়ং বলা বা কথা বলার কাজটিকে তো আর রাতে লুকিয়ে রাখা যায় না। মহান আল্লাহর বাণী: (দেখো, তোমরাই তো তারা)এখানে চোর বুশায়রের কওমকে বোঝানো হয়েছে, যখন তারা তাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তার পক্ষ হয়ে বিতর্ক করেছিল। আয-যাজ্জাজ বলেন: (এরা)এখানে ‘যারা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (তোমরা বিতর্ক করেছ)তোমরা হঠকারিতা করেছ। (পার্থিব জীবনে, কিন্তু কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে কে বিতর্ক করবে?)এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য যার উদ্দেশ্য হলো অস্বীকৃতি ও তিরস্কার জ্ঞাপন করা।

(অথবা কে তাদের উকিল হবে?)উকিল হলেন তিনি যিনি বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। আর এর অর্থ হলো: আল্লাহ যখন তাদের শাস্তিতে পাকড়াও করবেন এবং জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন তাদের হয়ে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকবে না। ‌‌[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১১০]আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে। (১১০)(১). দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৯০।(২). দেখুন খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ২৮৯।(৩). পাণ্ডুলিপি ‘ত’, ‘য’ ও ‘য়’-তে রয়েছে: হাশক।

আর ‘জ’-তে রয়েছে: ‘জায়বিকা’ বা তোমার পকেটে।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে তেমন প্রশ্ন করতে চাও যেমন পূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? আর যে ব্যক্তি ঈমানের পরিবর্তে কুফরকে গ্রহণ করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। কিতাবীদের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফেরে পরিণত করতে পারত! সত্য তাদের কাছে স্পষ্ট হওয়ার পরও কেবল নিজেদের মনের হিংসার বশবর্তী হয়ে তারা এটি কামনা করে। সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ পাঠিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রিম যে সৎকর্ম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।

নিশ্চয়ই তোমরা যা করছো, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।ইবনে ইসহাক, ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাফে ইবনে হুরাইমিলা এবং ওয়াহাব ইবনে যায়েদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলল, ‘হে মুহাম্মদ! আমাদের কাছে আকাশ থেকে অবতীর্ণ কোনো কিতাব নিয়ে আসুন যা আমরা পাঠ করব, অথবা আমাদের জন্য কিছু নদী প্রবাহিত করে দিন, তবে আমরা আপনার অনুসরণ করব এবং আপনাকে সত্য বলে স্বীকার করব।’ তখন আল্লাহ তাআলা এই প্রসঙ্গে অবতীর্ণ করেন— তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে প্রশ্ন করতে চাও... থেকে সরল পথ... পর্যন্ত।

আর হুয়াই ইবনে আখতাব এবং আবু ইয়াসির ইবনে আখতাব ছিল ইহুদিদের মধ্যে আরবদের প্রতি সবচেয়ে বেশি হিংসাপরায়ণ, যেহেতু আল্লাহ তাদেরকে তাঁর রাসূলের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তারা সাধ্যমতো মানুষকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করত। তখন তাদের বিষয়ে আল্লাহ অবতীর্ণ করেন— কিতাবীদের অনেকেই চায়...।ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাফফারা (পাপের প্রায়শ্চিত্ত) যদি বনী ইসরাঈলের কাফফারার মতো হতো!তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমাদের যা দান করা হয়েছে তা-ই উত্তম।

বনী ইসরাঈলের কেউ কোনো পাপ করলে তা তার দরজায় লিখিত পাওয়া যেত এবং সাথে তার কাফফারাও নির্দিষ্ট থাকত। যদি সে সেই কাফফারা আদায় করত তবে দুনিয়াতে তা তার জন্য ছিল লাঞ্ছনাদায়ক, আর যদি সে তা আদায় না করত তবে আখিরাতে তা তার জন্য হতো লাঞ্ছনাদায়ক। অথচ আল্লাহ তোমাদের এর চেয়েও উত্তম বিষয় দান করেছেন। তিনি বলেছেন: (আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে... - সূরা আন-নিসা: আয়াত ১১০) এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও এক জুমুআ থেকে অন্য জুমুআ এর মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ।অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে প্রশ্ন করতে চাও... আয়াতটি।

ইবনে জারীর, ইবনুল আবিদ দুনইয়া 'আত-তাওবাহ' গ্রন্থে এবং বায়হাকী 'আশ-শুআব' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: সূরা আন-নিসায় এমন আটটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা এই উম্মতের জন্য সূর্য উদিত ও অস্তমিত হওয়ার মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম। তার প্রথমটি হলো: আল্লাহ চান তোমাদের কাছে পরিষ্কার করে বর্ণনা করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের ক্ষমা করতে; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। দ্বিতীয়টি হলো: আল্লাহ চান তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে, আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে তোমরা ভীষণভাবে সত্যপথ বিচ্যুত হও। তৃতীয়টি হলো: আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান, কেননা মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। চতুর্থটি হলো: (তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩১) এবং পঞ্চমটি হলো: (নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না ) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪০) - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ষষ্ঠটি হলো: (আর কেউ যদি মন্দ কাজ করে বা নিজের প্রতি জুলুম করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১০) - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।সপ্তমটি হলো: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এ ছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন ) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।এবং অষ্টমটি হলো: (আর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁদের রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি, শীঘ্রই আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁদের পুরস্কার দেবেন; আর যারা পাপ করেছিল আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৫২)।ইবনে আবি হাতিম মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ চান তোমাদের কাছে পরিষ্কার করে বর্ণনা করতে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে এর অর্থ হলো মা ও কন্যাদের বিবাহ হারাম করা, যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের বিধান ছিল।

এবং তাঁর বাণী তোমরা ভীষণভাবে সত্যপথ বিচ্যুত হও সম্পর্কে তিনি বলেন: 'ভীষণ বিচ্যুতি' হলো— ইহুদিরা দাবি করত যে পিতার দিক থেকে আপন বোনকে বিবাহ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে হালাল।ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম সুদ্দি থেকে বর্ণনা করেছেন: আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় তিনি বলেন: তারা হলো ইহুদি ও নাসারা।আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় তিনি বলেন: ব্যভিচার; যে তোমরা ভীষণভাবে সত্যপথ বিচ্যুত হও তিনি বলেন: তারা চায় যেন তোমরা তাদের মতো হয়ে যাও এবং তারা যেমন ব্যভিচার করে তোমরাও তেমনি ব্যভিচার করো।ইবনুল মুনযির অন্য সূত্রে মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন: আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় তিনি বলেন: ব্যভিচার।

এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না তিনি বললেন: বরং তাঁর এই বাণীতে এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না আবু উবাইদ, সাঈদ বিন মনসুর তাঁর 'ফাদায়েল' গ্রন্থে, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, তাবারানি, হাকিম এবং বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সূরা নিসার মধ্যে এমন পাঁচটি আয়াত রয়েছে যার বিনিময়ে দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছু পাওয়াও আমাকে ততোটা আনন্দিত করবে না। আমি জানি যে, আলেমগণ যখন এগুলোর ওপর দিয়ে যান, তখন তাঁরা তা চিনতে পারেন। মহান আল্লাহর বাণী: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না ) (সূরা নিসা, আয়াত: ৪০) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করা ক্ষমা করেন না ) (সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা তোমার কাছে আসত...

) (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৪) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (আর যে কেউ মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে... ) (সূরা নিসা, আয়াত: ১১০) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)ইবনে আবি শায়বা, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারির আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের রব্ব আযযা ওয়া জাল্লা-এর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তার মতো আর কিছুই আমরা দেখিনি, তবুও আমরা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের সকল পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ বিসর্জন দিইনি; অথচ তিনি আমাদের জন্য কবীরা গুনাহ ব্যতীত অন্য সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অতএব কবীরা গুনাহের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক?আল্লাহ তাআলা বলেন: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।আবদ বিন হুমাইদ আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের রব্ব তোমাদের কাছে যা চেয়েছেন তা অত্যন্ত সহজ: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব।আবদুল্লাহ বিন আহমদ 'যাওয়ায়েদুয যুহদ' গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "জেনে রেখো, আমার উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্যই আমার শাফায়াত।" এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির, ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, হাকেম (যিনি একে সহিহ বলেছেন) এবং বাইহাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, জাকাত প্রদান করে এবং সাতটি ধ্বংসাত্মক কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, কিয়ামতের দিন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে, এমনকি সেগুলো (আনন্দে) ঝনঝন শব্দ করতে থাকবে।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)ইবনুল মুনজির আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কবীরা গুনাহের সাথে তোমাদের কী কাজ?

অথচ তোমাদের জন্য কবীরা গুনাহ ব্যতীত অন্য গুনাহগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।ইবনে জারির একটি হাসান সনদে হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদল লোক মিসরে আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন।