An-Nisa

আন-নিসা: 65

4:65
টেক্সট কপি

মূল আরবি

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًا

English Translations

Sahih International

But no, by your Lord, they will not [truly] believe until they make you, [O Muḥammad], judge concerning that over which they dispute among themselves and then find within themselves no discomfort from what you have judged and submit in [full, willing] submission.

Muhsin Khan

But no, by your Lord, they can have no Faith, until they make you (O Muhammad SAW) judge in all disputes between them, and find in themselves no resistance against your decisions, and accept (them) with full submission.

Taqi Usmani

So, never by your Lord! Never shall they become believers, unless they make you the judge in the disputes that arise between them, then find no discomfort in their hearts against what you have decided, and surrender to it in total submission.

Abul Ala Maududi

But no, by your Lord, they cannot become true be-lievers until they seek your arbitration in all matters on which they disagree among themselves, and then find not the least vexation in their hearts over what you have decided, and accept it in willing submission.

Pickthall

But nay, by thy Lord, they will not believe (in truth) until they make thee judge of what is in dispute between them and find within themselves no dislike of that which thou decidest, and submit with full submission.

Yusuf Ali

But no, by the Lord, they can have no (real) Faith, until they make thee judge in all disputes between them, and find in their souls no resistance against Thy decisions, but accept them with the fullest conviction.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসার ভার তোমার উপর ন্যস্ত না করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কিছু মাত্র কুণ্ঠাবোধ না থাকে, আর তারা তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করে।

রাওয়াই আল-বায়ান

অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।

শাইখ মুজিবুর রহমান

অতএব তোমার রবের শপথ! তারা কখনই বিশ্বাস স্থাপনকারী হতে পারবেনা, যে পর্যন্ত তোমাকে তাদের সৃষ্ট বিরোধের বিচারক না করে, অতঃপর তুমি যে বিচার করবে তা দ্বিধাহীন অন্তরে গ্রহণ না করে এবং ওটা সন্তষ্ট চিত্তে কবূল না করে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়।

ফাতহুল মাজীদ

কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারভার তোমার ওপর অর্পণ না করে; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সম্পূর্ণরূপে তা মেনে না নেয়।

মুখতাসার

৬৫. ব্যাপারটি তেমন নয় যা এ মুনাফিকরা ধারণা করেছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তার কসম খেয়ে বলেন, নিশ্চয়ই তারা সত্যিকার বিশ্বাসী হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের সকল মতপার্থক্যের বিষয়ে রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর নিকট এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শরীয়তের নিকট ফায়সালা কামনা করে। এরপর তারা রাসূলের ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকে। উপরন্তু তাদের অন্তরে এ ব্যাপারে কোন সংশয় ও সঙ্কীর্ণতা না থাকে এবং তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আনুগত্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে তার সামনে আত্মসমর্পণ করে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

4:64

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের [১] বিচার ভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে [২] এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয় [৩]।

[১] আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের বলেন, আনসারী এক ব্যক্তির সাথে খেজুর গাছে পানি দেয়া নিয়ে তার ঝগড়া হয়। আনসারী বলল, পানির পথ পরিস্কার করে দাও যাতে তা আমার জমির উপর যায়। যুবায়ের তা দিতে অস্বীকার করলে তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শালিসের জন্য আসলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব শুনে বললেনঃ যুবায়ের তুমি তোমার জমিতে পানি দেয়ার পর তোমার পড়শীর জমিতে পানি দিয়ে দিও। লোকটি তা শুনে বলল, আপনার ফুফাত ভাই তো তাই। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা রক্তবর্ণ ধারণ করল এবং তিনি বললেন, যুবায়ের তুমি তোমার জমিতে পানি দেয়ার পর তা দেয়াল পর্যন্ত আটকে রাখ। যুবায়ের বলেন, আল্লাহর শপথ, আমার মনে হয় এ আয়াতটি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নাযিল হয়েছে। [বুখারীঃ ২৩৫৯, ২৩৬০, মুসলিমঃ ২৩৫৭]

এ দ্বারা এ বিষয়ও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূলের আদেশ-নিষেধ নির্দ্বিধায় মেনে নেয়া শুধু আচার অনুষ্ঠান কিংবা অধিকারের সাথেই সম্পৃক্ত নয়; আকীদা এবং অপরাপর বৈষয়িক বিষয়েও ব্যাপক। অতএব, কোন সময় কোন বিষয়ে পারস্পারিক মতবিরোধ দেখা দিলে বিবাদ পরিহার করে উভয় পক্ষকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এবং তার অবর্তমানে তার প্রবর্তিত শরীআতের আশ্রয়ে গিয়ে মীমাংসা অন্বেষণ করা প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরয।

[২] এতে এ কথাও জানা গেল যে, যে কাজ বা বিষয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কথা বা কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত, তা সম্পাদন করতে গিয়ে মনে কোন রকম সংকীর্ণতা অনুভব করাও ঈমানের দূর্বলতার লক্ষণ। উদাহারণতঃ যে ক্ষেত্রে শরীআত তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করার অনুমতি দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে যদি কেউ সম্মত না হয় তবে একে পরহেযগারী বলে মনে করা যাবে না, বরং এটা একান্তই মানসিক ব্যাধি। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা কেউ বেশী পরহেযগার হতে পারে না। যে অবস্থায় মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং নিজেও বসে সালাত আদায় করেছেন, কারো মন যদি এতে সম্মত না হয় এবং অসহনীয় পরিশ্রম ও কষ্ট সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তবে তার জেনে রাখা উচিত যে, তার মন ব্যাধিগ্রস্ত।

[৩] এ আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহত্ত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার বিষয় প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে কুরআনের অসংখ্য আয়াতের দ্বারা প্রমাণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের অপরিহার্যতার বিষয়টি সবিস্তারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ আয়াতে আল্লাহ তা’আলা শপথ করে বলেছেন যে, কোন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন কিংবা মুসলিম হতে পারে না যতক্ষণ না সে ধীরস্থির মস্তিস্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবে স্বীকার করে নেবে যাতে রাসূলের কোন সিদ্ধান্তেই মনে কোন রকম সংকীর্ণতা না থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল হিসেবে গোটা উম্মতের শাসক এবং যে কোন বিবাদের মীমাংসার যিম্মাদার।

তার শাসন ও সিদ্ধান্ত অপর কাউকে বিচারক সাব্যস্ত করার উপর নির্ভরশীল নয়। তিনি শুধুমাত্র একজন শাসকই নন, বরং তিনি একজন নিষ্পাপ রাসূল, রাহমাতুল্লিল আলামীন এবং উম্মতের জন্য একান্ত দয়ালু ব্যক্তিত্ব। কাজেই শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, যখনই কোন বিষয়ে, কোন সমস্যার ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দেয়, তখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিচারক সাব্যস্ত করে তার মীমাংসা করিয়ে নেয়া উচিত এবং অতঃপর তার মীমাংসাকে স্বীকার করে নিয়ে সেমতে কাজ করা উভয় পক্ষের উপর ফরয।

মনে রাখতে হবে যে, কুরআনের বাণী ও রাসূলের হাদীসসমূহের উপর আমল করা মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের সাথেই সীমিত নয়। তাঁর তিরোধানের পর তাঁর পবিত্র শরীআতের মীমাংসাই হল তাঁর মীমাংসা। কাজেই এ নির্দেশটি কিয়ামত পর্যন্ত তেমনিভাবেই বলবৎ থাকবে, যেমন ছিল তাঁর যুগে। তখন যেমন সরাসরি কোন বিষয়ের সিদ্ধান্তকল্পে তাঁর কাছে উপস্থিত করা হত, তেমনি তাঁর পরে তাঁর প্রবর্তিত শরীআতের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। এটা প্রকৃতপক্ষে তাঁরই অনুসরণ।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৬৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তুমি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। তখন কবর থেকে আওয়ায এল যে, নিশ্চয়ই তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে। আর ‘তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে’ এর অর্থ হলো—তিনি তাদের তওবা কবুল করবেন; আর শব্দ দুটি (তওয়াবান ও রহীমান) এখানে কেবল দুটি কর্মপদ (মাফউল) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। ‌‌[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৬৫]সুতরাং না, আপনার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের বিবাদমান বিষয়ে বিচারক মান্য করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে বিষয়ে তারা তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না পায় এবং তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়। (৬৫)এতে পাঁচটি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে: প্রথম—মুজাহিদ ও অন্যান্যরা বলেন: এই আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাদের কথা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, যারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চেয়েছিল এবং তাদের ব্যাপারেই এটি নাযিল হয়েছে।

তাবারী বলেন: আল্লাহর বাণী ‘সুতরাং না’ (ফা-লা) দ্বারা পূর্বোক্ত আলোচনার প্রতিবাদ করা হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো—বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তারা দাবি করে যে, তারা আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে। এরপর ‘আপনার রবের শপথ, তারা ঈমানদার হবে না’ বলে নতুন করে শপথ শুরু করা হয়েছে। অন্যান্যরা বলেন: শপথের আগে ‘না’ (লা) শব্দটিকে আনা হয়েছে নেতিবাচকতা বা অস্বীকৃতির গুরুত্ব বোঝাতে এবং এর শক্তি প্রকাশ করতে। এরপর শপথের পরে পুনরায় তা ব্যবহার করা হয়েছে সেই অস্বীকৃতির গুরুত্বের তাকিদ স্বরূপ। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ‘না’ বাদ দিলেও চলত এবং প্রথমটির কারণে মূল গুরুত্ব প্রকাশ পেত।

আবার প্রথমটি বাদ দিলেও অস্বীকৃতির অর্থ অবশিষ্ট থাকত কিন্তু সেই গুরুত্বের ভাবটি হারিয়ে যেত। আর ‘শাজারা’ শব্দের অর্থ হলো মতবিরোধ হওয়া ও জট পাকানো। এর থেকেই ‘শাজার’ (গাছ) শব্দের উৎপত্তি, কারণ এর শাখা-প্রশাখা একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকে। উটের হাওদার কাষ্ঠখণ্ডসমূহকেও ‘শিজার’ বলা হয়, কারণ সেগুলো একে অপরের সাথে গেঁথে থাকে। জনৈক কবি বলেন:আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ হোক যখন বর্শাসমূহ জট পাকিয়ে বিদ্ধ হচ্ছে … আর যখন যুদ্ধক্ষেত্রে কওম সংকটাপন্ন অবস্থায় দণ্ডায়মান।তরাফা বলেন:তারা হলো শাসক ও হিদায়াতের দিশারী … এবং জটপাকানো বা কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের কল্যাণকামী।একদল আলিম বলেন: এই আয়াতটি যুবায়ের ও জনৈক আনসারী সাহাবীর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।

তাদের বিবাদটি ছিল বাগানে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়েরকে বললেন: ‘তুমি তোমার জমিতে পানি সেচ দাও, এরপর পানি তোমার প্রতিবেশীর জমির দিকে ছেড়ে দাও।’ তখন বিবাদী ব্যক্তিটি বলল: ‘আপনি কি আপনার ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণে তাঁর পক্ষ নিচ্ছেন?’ এতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার রং বদলে গেল এবং তিনি যুবায়েরকে বললেন: ‘তুমি পানি সেচ দাও এবং পানি ততক্ষণ ধরে রাখো যতক্ষণ না তা সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছায়।’ তখন নাযিল হলো: ‘সুতরাং না, আপনার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না...’।

এই হাদীসটি সাব্যস্ত ও সহীহ, যা ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।(১). আল-জাদার: যা ফসলি জমির চারপাশে দেয়ালের মতো উঁচু করে দেওয়া হয়।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে জারীর হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,আনসারদের কিছু লোক বনু নাদীরের নিকট লালন-পালনের জন্য (দুগ্ধপোষ্য হিসেবে) ছিল। যখন তাদের (বনু নাদীরকে) বহিষ্কার করা হলো, তখন তাদের পরিবারবর্গ চাইল তাদের নিজেদের ধর্মে ফিরিয়ে আনতে; তখন অবতীর্ণ হয়: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।"ইবনে ইসহাক এবং ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই" আয়াতটি প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি বনু সালেম ইবনে আউফ গোত্রের হুসাইন নামক এক আনসারী ব্যক্তির বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তার দুই পুত্র ছিল খ্রিষ্টান, আর তিনি নিজে ছিলেন মুসলিম।

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, "আমি কি তাদের বাধ্য করব না? কারণ তারা খ্রিষ্টধর্ম ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে।" তখন আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে উক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।আবদ ইবনে হুমাইদ আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বনু সালেম ইবনে আউফ গোত্রের এক আনসারী ব্যক্তির দুই পুত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির আগেই খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিল। তারা তাদের ধর্মাবলম্বী একদল লোকের সাথে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মদিনায় আসে। তাদের পিতা তাদের দেখতে পেয়ে ধরে ফেলেন এবং বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের ছাড়ব না যতক্ষণ না তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো।" তারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাল।

অতঃপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে গেল। পিতা বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমার কলিজার টুকরো কি জাহান্নামে প্রবেশ করবে আর আমি তাকিয়ে দেখব?" তখন আল্লাহ তাআলা "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই" আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।অতঃপর তিনি তাদের পথ ছেড়ে দিলেন (মুক্ত করে দিলেন)।আবু দাউদ তাঁর 'নাসিখ' গ্রন্থে, ইবনে জারীর এবং ইবনে মুনযির সুদ্দী থেকে "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই" আয়াতটি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি জনৈক আনসারী ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যাকে আবুল হুসাইন বলা হতো। তার দুই পুত্র ছিল।

সিরিয়া থেকে কিছু ব্যবসায়ী তেল নিয়ে মদিনায় আসে। যখন তারা বিক্রি শেষ করে ফিরে যেতে চাইল, তখন আবুল হুসাইনের দুই পুত্র তাদের কাছে গেল। তারা তাদের খ্রিষ্টধর্মের প্রতি আহ্বান করলে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গেল এবং তাদের সাথে সিরিয়ায় চলে গেল। তখন তাদের পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: "আমার দুই পুত্র খ্রিষ্টান হয়ে চলে গেছে, আপনি তাদের সন্ধান করুন।" তিনি বললেন: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।" সে সময় কিতাবধারীদের সাথে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বললেন: "আল্লাহ তাদের দূর করে দিন, তারাই প্রথম কুফরি করল।" আবুল হুসাইন যখন দেখলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন না, তখন তিনি মনে মনে কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেন।

তখন অবতীর্ণ হলো: "না, তোমার রবের কসম! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে। ) (সূরা নিসা, আয়াত ৬৫) শেষ পর্যন্ত।অতঃপর এর পরে "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই" আয়াতটি মানসুখ (রহিত) হয়ে যায় এবং সূরা বারাআতে (তওবা) আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই, সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে" আয়াতটি প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি তখন হয়েছিল যখন মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল এবং আহলে কিতাবরা জিজয়া প্রদান করেছিল।আবদ ইবনে হুমাইদ, আবু দাউদ তাঁর 'নাসিখ' গ্রন্থে এবং ইবনে জারীর কাতাদাহ (রহ.) থেকে উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: