An-Nisa
আন-নিসা: 148
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
মূল আরবি
۞ لَّا يُحِبُّ ٱللَّهُ ٱلْجَهْرَ بِٱلسُّوٓءِ مِنَ ٱلْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا
English Translations
Allāh does not like the public mention of evil except by one who has been wronged. And ever is Allāh Hearing and Knowing.
Allah does not like that the evil should be uttered in public except by him who has been wronged. And Allah is Ever All-Hearer, All-Knower.
Allah does not like the evil words to be said openly except from anyone wronged. Allah is All-Hearing, All-Knowing.
Allah does not like speaking evil publicly unless one has been wronged. Allah is All-Hearing, All-Knowing.
Allah loveth not the utterance of harsh speech save by one who hath been wronged. Allah is ever Hearer, Knower.
Allah loveth not that evil should be noised abroad in public speech, except where injustice hath been done; for Allah is He who heareth and knoweth all things.
বাংলা অনুবাদ
খারাপ কথার প্রচার প্রপাগান্ডা আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে যার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে (তার কথা আলাদা), আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর যুলম করা হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
আল্লাহ কোন মন্দ কথার প্রচারণা ভালবাসেন না, তবে কেহ অত্যাচারিত হয়ে থাকলে তার কথা স্বতন্ত্র; এবং আল্লাহ শ্রবণকারী মহাজ্ঞানী।
মন্দ কথার প্রচারণা আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার উপর যুলুম করা হয়েছে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
মন্দ কথার প্রচারণা আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে সে ব্যতীত। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
১৪৮. আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্যে খারাপ কথা বলা পছন্দ করেন না। বরং অপছন্দ করেন ও সে ব্যাপারে শাস্তির হুমকি দেন। যালিমের ব্যাপারে বিচার চাইতে গিয়ে ও তার ব্যাপারে বদদু‘আ করতে গিয়ে এবং তার সমপর্যায়ের কথার প্রতিদান দিতে গিয়ে অত্যাচারিত হলে তার জন্য জায়িয খারাপ কথাটি প্রকাশ্যে বলা। তবে এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণই উত্তম। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কথাগুলো শুনেন এবং তোমাদের নিয়্যাতসমূহ জানেন। তাই তোমরা খারাপ কথা বলা ও তার ইচ্ছা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
তাফসীর
১৪৮-১৪৯ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন যে, কোন মুসলমানের জন্য বদ দু'আ করা বৈধ নয়। তবে যার উপর অত্যাচার করা হবে সে অত্যাচারীর জন্যে বদ দু'আ করতে পারে। কিন্তু সেও যদি ধৈর্যধারণ করে তবে ফযীলত তাতেই রয়েছে। সুনান-ই-আবি দাউদে রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কোন জিনিস চুরি যায়। তখন তিনি চোরের জন্যে বদ দুআ করতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এটা শুনে বলেনঃ তার বোঝা হালকা করছো কেন? হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, তার জন্যে বদ দু'আ করা উচিত নয়, বরং নিম্নের দু'আটি পাঠ করা উচিতঃ (আরবী) অর্থাৎ হে আল্লাহ!
আপনি আমাকে তার উপর সাহায্য করুন এবং তার নিকট হতে আমার প্রাপ্য বের করে দিন। এ মনীষী হতেই বর্ণিত আছে যে, অত্যাচারীর জন্যে বদ দু'আ করার অনুমতি যদিও অত্যাচারিত ব্যক্তির রয়েছে, কিন্তু সেটা যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়, সেদিকে তাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।হযরত আবদুল করিম ইবনে মালিক জাযারী (রঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন যে, যে ব্যক্তি গালি দেবে অর্থাৎ মন্দ বলবে তাকে মন্দ বলা যাবে, কিন্তু কেউ অপবাদ দিলে তাকে অপবাদ দেয়া যারে না। অন্য একটি আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ যে অত্যাচারিত ব্যক্তি অত্যাচারী হতে তার অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করে তাদের উপর কোন জবাবদিহী নেই।
(৪২:৪১) সুনান-ই-আবি দাউদে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘দু’জন গালিদাতা যা বলে ওর শাস্তি তার উপর রয়েছে যে প্রথমে গালি দিয়েছে যে পর্যন্ত না অত্যাচারিত ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করে। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেনঃ “যদি কোন ব্যক্তি কারও নিকট অতিথি হিসেবে আগমন করে এবং অতিথি সেবক তার আতিথেয়তার হক আদায় না করে তবে অতিথি সেবকের দুর্নাম করতে পারে যে পর্যন্ত না সে জিয়াফতের হক আদায় করে।' সুনান-ই-আবি দাউদ, সুনান-ই-ইবনে মাজা প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে রয়েছে যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!
আপনি আমাদেরকে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। কোন কোন সময় এমনও হয় যে, তথাকার লোক আমাদের মেহমানদারী করে না। এতে আপনার অভিমত কি?' রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাদেরকে বলেনঃ যখন তোমরা কোন সম্প্রদায়ের নিকট গমন করবে তখন যদি তারা মেহমানের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তবে তোমরা তা কবুল করবে। আর যদি তারা তা না করে তবে তোমরা তাদের সাধ্য অনুপাতে তাদের নিকট হতে অতিথির উপযুক্ত প্রাপ্য আদায় করবে।'মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে মুসলমান। কোন এক লোকের বাড়ীতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়, রাত্রি অতিবাহিত হয়ে যায় অথচ তারা তার আতিথ্যের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না, সে সময় প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্যকর্তব্য হবে ঐ ব্যক্তির মাল হতে ও ক্ষেত হতে ঐ রাত্রির মেহমানদারীর জিনিস আদায় করে দিয়ে অতিথিকে সাহায্য করা।' অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ জিয়াফতের রাত্রি প্রত্যেক মুসলমানের উপর ওয়াজিব।
যদি কোন মুসাফির সকাল পর্যন্ত বঞ্চিত থাকে, তবে এটা ঐ মেজবানের দায়িত্বে কর্জ রূপে থাকবে, এখন সে তা আদায় করুক বা ছেড়ে দিক।' এসব হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ মনীষীর মাযহাব এই যে, নিমন্ত্রণ ওয়াজিব। সুনান-ই-আবি দাউদ প্রভৃতির মধ্যে রয়েছে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করেঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার প্রতিবেশী আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাকে বলেনঃ “তুমি এক কাজ কর, তোমার বাড়ীর সমস্ত আসবাবপত্র বাইরে এনে রেখে দাও। লোকটি ঐ কাজই করে এবং সমস্ত আসবাবপত্র রাস্তার উপর রেখে বসে পড়ে।
রাস্তা দিয়ে যেই গমন করে সেই তাকে জিজ্ঞেস করে-ব্যাপার কি? সে বলে, আমার প্রতিবেশী আমাকে জ্বালাতন করছে। আমি অধৈর্য হয়ে এখানে চলে এসেছি। সবাই তখন তার প্রতিবেশীকে ভাল-মন্দ বলতে থাকে। কেউ বলে যে, তার উপর আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ বর্ষিত হোক। কেউ বলে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করুন, তার প্রতিবেশী যখন এভাবে অপমানিত হওয়ার কথা জানতে পারে, তখন সে অনুরোধ করে তাকে বাড়ী নিয়ে যায় এবং বলে-আল্লাহর শপথ! এখন আর মৃত্যু পর্যন্ত আপনার প্রতি কোন অত্যাচার করবো না। অতঃপর ইরশাদ হচ্ছে-‘হে লোক সকল! যদি তোমরা কোন সৎ কার্য প্রকাশ কর বা গোপন কর, কিংবা তোমার উপর কেউ হয়তো অত্যাচার করেছে, তাকে তুমি ক্ষমা কর তবে আল্লাহ তা'আলার নিকট তোমার জন্যে রয়েছে বড় পুণ্য ও মহা প্রতিদান।
তিনি নিজেও ক্ষমাকারী এবং বান্দার মধ্যেও তিনি এ অভ্যাস পছন্দ করেন। প্রতিশোধ নেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমা করে থাকেন। একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তা'আলার তাসবীহ পাঠ করে থাকেন। কেউ বলেন (আরবী) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি যে, আপনি জানা। সত্ত্বেও সহনশীলতা প্রদর্শন করছেন। আবার কেউ কেউ বলেন- (আরবী) অর্থাৎ ‘হে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমকারী প্রভু! সমস্ত পবিত্রতা আপনার সত্তার জন্যই উপযুক্ত।সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, সাদকা ও খায়রাতের কারণে কারও মাল কমে যায় না। ক্ষমা ও মাফ করে দেয়ার কারণে আল্লাহ তা'আলা সম্মান বৃদ্ধি করে থাকেন।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশক্রমে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করে, আল্লাহ তা'আলা তার সম্মান ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেন।
মন্দ কথার প্রচারণা আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার উপর যুলুম করা হয়েছে [১]। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
[১] এ আয়াতে দুনিয়া হতে জোর-যুলুমের অবসান ঘটানোর এক অপূর্ব বিধান পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে একদিকে ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনের জন্য মযলুমকে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আধিকার দিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আবার যুলুম ও বাড়াবাড়ি করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “যদি তোমরা প্রতিশোধ নিতে চাও, তবে তোমাদের উপর যে পরিমাণ যুলুম করা হয়েছে, তোমরা ঠিক ততটুকুই প্রতিশোধ নিতে পার”। [সূরা আন-নাহল: ১২৬]
সাথে সাথে এ কথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, প্রতিশোধ গ্রহণ করার ক্ষমতা ও অধিকার থাকা সত্বেও যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ক্ষমা করে দাও, তবে নিঃসন্দেহে তা তোমাদের জন্য অতি উত্তম। মোটকথাঃ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, মযলুম ব্যক্তি যদি অত্যাচারীর অন্যায়-অত্যাচারের কাহিনী লোকদের কাছে প্রকাশ করে বা আদালতে অভিযোগ করে, তবে তা হারাম গীবতের আওতায় পড়বে না। কারণ যালিম নিজেই মযলুমকে অভিযোগ উত্থাপন করতে সুযোগ করে দিয়েছে, বরং বাধ্য করেছে।
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৪৮ থেকে ১৪৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ষষ্ঠ খণ্ড[সূরা আন-নিসার তাফসীরের অবশিষ্টাংশ]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে [সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৪৮ থেকে ১৪৯]মন্দ কথার প্রকাশ্য প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে তার কথা ভিন্ন; এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১৪৮) তোমরা যদি ভালো কাজ প্রকাশ করো কিংবা তা গোপন রাখো অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, সর্বশক্তিমান। (১৪৯)এতে তিনটি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে: প্রথমত— মহান আল্লাহর বাণী: (মন্দ কথার প্রকাশ্য প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না) এবং এখানে বাক্যটি পূর্ণ হয়েছে। অতঃপর মহাপরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহ বলেন: "তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে", এটি একটি ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) যা পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে সরাসরি যুক্ত নয় (মুনকাতি’) এবং এটি ‘নাসব’ অবস্থায় রয়েছে।
অর্থাৎ, তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, তার জন্য এটি বলার অধিকার রয়েছে যে, 'অমুক ব্যক্তি আমার ওপর জুলুম করেছে'। আবার এটি ‘রাফউ’ এর স্থলাভিষিক্ত হওয়াও জায়েজ, সেক্ষেত্রে বাক্যটির প্রাক্কলিত অর্থ হবে: আল্লাহ পছন্দ করেন না যে কেউ মন্দ কথা প্রকাশ করুক, তবে যে মাজলুম (যার ওপর জুলুম হয়েছে) সে ব্যতীত। জমহুর বা অধিকাংশের কিরাত হলো "জুলিমা" (ظُلِمَ)— ‘যা’ বর্ণের পেশ এবং ‘লাম’ বর্ণের যের সহযোগে। এতে (লাম বর্ণে) সাকিন করাও জায়েজ। আর যারা "জালামা" (ظَلَمَ)— ‘যা’ ও ‘লাম’ বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে পাঠ করেছেন—যেমন যায়েদ ইবনে আসলাম ও ইবনে আবি ইসহাক এবং অন্যান্যরা, যাদের বিবরণ সামনে আসছে—তাদের জন্য ‘লাম’ বর্ণে সাকিন করা জায়েজ নয় কারণ ফাতহা অত্যন্ত হালকা।
প্রথম কিরাত অনুযায়ী একদল আলেম বলেছেন: এর অর্থ হলো আল্লাহ পছন্দ করেন না যে কেউ মন্দ কথা প্রকাশ করুক, তবে যে মাজলুম তার জন্য এটি প্রকাশ করা অপছন্দনীয় নয়। অতঃপর মন্দ কথা প্রকাশের পদ্ধতি এবং এর মধ্যে কোনটি বৈধ সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। হাসান (বসরি) বলেন: এটি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যাকে অন্য কেউ জুলুম করেছে; সে যেন তার বিরুদ্ধে বদদোয়া না করে, বরং সে বলবে: "হে আল্লাহ! তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন, হে আল্লাহ! আমার অধিকার আদায় করে দিন, হে আল্লাহ! সে যে জুলুম করতে চাচ্ছে তা হতে আমার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান।" এটি হলো আত্মরক্ষামূলক দুআ, যা মন্দ কথা প্রকাশের সর্বনিম্ন পর্যায়।
ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যরা বলেছেন: মাজলুমের জন্য এটি বৈধ যে, সে জালেমের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে; তবে যদি সে ধৈর্য ধারণ করে তবে তা তার জন্য উত্তম। এটি জালেমের বিরুদ্ধে সাধারণ দুআ করার অনুমতি। তিনি (ইবনে আব্বাস) এবং সুদ্দি আরও বলেছেন: মাজলুম ব্যক্তি যদি তার সাথে করা জুলুমের সমপরিমাণ বদলা নেয় এবং জালেমের বিরুদ্ধে মন্দ কথা প্রকাশ করে তবে তাতে কোনো দোষ নেই। ইবনে আল-মুস্তানীর বলেছেন: "তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে" এর অর্থ হলো— যাকে মন্দ কথা প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়েছে, যেমন কুফরি বাক্য বা অনুরূপ কিছু বলা, তবে তা বৈধ। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আয়াতটি জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতার বিষয়ে।
কুতরুবও একই কথা বলেছেন।(১). মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে: 'নিষেধ করা হয়েছে' (নাহা), তবে বাহ্যত 'ওয়াও' যুক্ত হওয়াটিই সঠিক।(২). ‘ওয়াও’ এবং ‘আলিফ’ পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'আমার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান'।
