An-Nisa
আন-নিসা: 64
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
মূল আরবি
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ جَآءُوكَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ ٱللَّهَ وَٱسْتَغْفَرَ لَهُمُ ٱلرَّسُولُ لَوَجَدُوا۟ ٱللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
English Translations
And We did not send any messenger except to be obeyed by permission of Allāh. And if, when they wronged themselves, they had come to you, [O Muḥammad], and asked forgiveness of Allāh and the Messenger had asked forgiveness for them, they would have found Allāh Accepting of Repentance and Merciful.
We sent no Messenger, but to be obeyed by Allah's Leave. If they (hypocrites), when they had been unjust to themselves, had come to you (Muhammad SAW) and begged Allah's Forgiveness, and the Messenger had begged forgiveness for them: indeed, they would have found Allah All-Forgiving (One Who accepts repentance), Most Merciful.
We did not send any Messenger but to be obeyed by the leave of Allah. Had they, after having wronged themselves, come to you and sought forgiveness from Allah, and had the Messenger prayed for their forgiveness, they would certainly have found Allah Most-Relenting, Very-Merciful.
(And tell them that) We never sent a Messenger but that he should be obeyed by the leave of Allah. If whenever they wronged themselves they had come to you praying to Allah for forgiveness, and had the Messenger prayed for their forgiveness, they would indeed have found Allah All-Forgiving, All-Compassionate.
We sent no messenger save that he should be obeyed by Allah's leave. And if, when they had wronged themselves, they had but come unto thee and asked forgiveness of Allah, and asked forgiveness of the messenger, they would have found Allah Forgiving, Merciful.
We sent not a messenger, but to be obeyed, in accordance with the will of Allah. If they had only, when they were unjust to themselves, come unto thee and asked Allah's forgiveness, and the Messenger had asked forgiveness for them, they would have found Allah indeed Oft-returning, Most Merciful.
বাংলা অনুবাদ
আমি রসূল এ উদ্দেশেই প্রেরণ করেছি, যেন আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হয়। যখন তারা নিজেদের উপর যুলম করেছিল, তখন যদি তোমার নিকট চলে আসত আর আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হত এবং রসূলও তাদের পক্ষে ক্ষমা চাইত, তাহলে তারা আল্লাহকে নিরতিশয় তাওবাহ কবূলকারী ও পরম দয়ালুরূপে পেত।
আর আমি যে কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তা কেবল এ জন্য, যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের আনুগত্য করা হয়। আর যদি তারা- যখন নিজদের প্রতি যুলম করেছিল তখন তোমার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত তাহলে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবূলকারী, দয়ালু পেত।
আমি এতদ্ব্যতীত কোনই রাসূল প্রেরণ করিনি যে, আল্লাহর আদেশে তাঁর আনুগত্য স্বীকার করবে, এবং যদি তারা স্বীয় জীবনের উপর অত্যাচার করার পর তোমার নিকট আগমন করত, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইত তাহলে নিশ্চয়ই তারা আল্লাহকে তাওবাহ কবূলকারী, করুণাময় দেখতে পেত।
আল্লাহর অনুমতিক্রমে কেবল আনুগত্য করার জন্যই আমরা রাসূলেদের প্রেরণ করেছি। যখন তারা নিজেদের প্রতি যুলুম করে তখন তারা আপনার কাছে আসলে ও আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইলে তারা অবশ্যই আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালুরূপে পাবে।
রাসূলকে একমাত্র এ উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করেছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তার আনুগত্য করা হবে। যখন তারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল তখন যদি তারা তোমার নিকট আসত আর আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন তাহলে তারা অবশ্যই আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালুরূপে পেত।
৬৪. আমি যে রাসূলই পাঠিয়ে থাকি না কেন তাকে এ জন্যই পাঠিয়েছি যেন আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরের ভিত্তিতে তাঁর আদেশ মান্য করা হয়। তারা যখন গুনাহে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের উপর অত্যাচার করে বসেছে তখন যদি তারা হে রাসূল! আপনার নিকট এসে আপনার জীবদ্দশায় গুনাহের কথা স্বীকার করে লজ্জিত ও তাওবারত অবস্থায় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং আপনিও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তাহলে তারা অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলাকে তাওবা গ্রহণকারী ও দয়ালু হিসাবে পেতো।
তাফসীর
৬৪-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর: ভাবার্থ এই যে, প্রত্যেক যুগের রাসূলের আনুগত্য স্বীকার করা তাঁর উম্মতের উপর আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে ফরয হয়ে থাকে। রিসালাতের পদমর্যাদা এই যে, তাঁর সমস্ত আদেশকে আল্লাহ তা'আলার আদেশ মনে করা হবে। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন: (আরবী)-এর ভাবার্থ হচ্ছে এই যে, এর ক্ষমতা আল্লাহ তা'আলার হাতেই রয়েছে এবং তা তার শক্তি ও ইচ্ছের উপরই নির্ভর করে। অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছে ছাড়া কেউ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করতে পারে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ যখন তুমি তাঁর হুকুমে তাদের উপর জয়যুক্ত হয়েছিলে।' (৩:১৫২) এখানেও (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে তার ক্ষমতা ও ইচ্ছা।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবাধ্য ও পাপীদের প্রতি ইরশাদ করেছেন যে, তারা যেন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করতঃ আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকটও যেন তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করার আবেদন জানায়। তারা যখন এরূপ করবে তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের তাওবা কবুল করবেন এবং তাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।আবু মানসূর আস্সাববাগ্ (রঃ) স্বীয় প্রসিদ্ধ গল্পের পুস্তকে উত্তীর (রঃ) একটি বর্ণনা নকল করেছেন। উত্তী (রঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সমাধির পার্শ্বে বসেছিলাম।
এমন সময় সেখানে এক বেদুঈনের আগমন ঘটে। সে বলে, আস্সালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলাল্লাহ (হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)! আমি আল্লাহ তা'আলার (আরবী) উক্তি শুনেছি। তাই আমি আপনার সামনে স্বীয় পাপের জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও আপনার শাফাআত কামনা করছি। অতঃপর সে নিম্নের কবিতাটি পাঠ করেঃ (আরবী) অর্থাৎ হে ঐ সবের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি! যাদের অস্থিগুলো প্রান্তরে প্রোথিত হয়েছে এবং সেগুলোর সুবাসে পর্বত ও প্রান্তর সুরভিত হয়েছে। সে কবরের জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক, যে কবরে আপনি অবস্থানকারী। এতে রয়েছে পবিত্রতা, দানশীলতা ও ভদ্রতা।
অতঃপর বেদুঈন চলে যায় এবং আমার চোখে দ্রিা চেপে বসে। আমি স্বপ্নে দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে যেন বলছেনঃ 'যাও, ঐ বেদুঈনকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তা'আলা তার পাপ মার্জনা করেছেন।এরপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় পবিত্র ও সম্মানিত সত্তার শপথ করে বলছেনঃ ‘কোন ব্যক্তিই ঈমানের সীমার মধ্যে আসতে পারে না যে পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ে আল্লাহ তাআলার শেষ নবী (সঃ)-কে ন্যায় বিচারক রূপে মেনে না নেবে এবং প্রত্যেক নির্দেশকে, প্রত্যেক মীমাংসাকে, প্রত্যেক সুন্নাতকে, প্রত্যেক হাদীসকে গ্রহণযোগ্য রূপে স্বীকার না করবে। আর অন্তর ও দেহকে একমাত্র ঐ রাসূলেরই (সঃ) অনুগত না করবে।
মোটকথা, যে ব্যক্তি তার প্রকাশ্য, গোপনীয়, ছোট ও বড় প্রতিটি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীসকে সমস্ত নীতির মূল মনে করবে সে হচ্ছে মুমিন। অতএব নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, তারা যেন তোমার মীমাংসাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয় এবং স্বীয় অন্তরে যেন কোন প্রকারের সংকীর্ণতা পোষণ না করে। তারা যেন সমস্ত হাদীসকেই স্বীকার করে নেয়। তারা যেন না হাদীসসমূহকে স্বীকার করা হতে বিরত থাকে, না ঐগুলোকে সরিয়ে দেয়ার উপায় অনুসন্ধান করে, না ওর মত অন্য কোন জিনিসকে মর্যাদা সম্পন্ন মনে করে, না ঐ গুলো খণ্ডন করে এবং না ঐ গুলো মেনে নেয়ার ব্যাপারে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়।
যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঘোষণা করেনঃ যার অধিকারে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্যে কেউ মুমিন হতে পারে না যে পর্যন্ত না সে স্বীয় প্রবৃত্তিকে ঐ জিনিসের অনুগত করে যা আমি আনয়ন করেছি।'সহীহ বুখারী শরীফে হযরত উরওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন যে, নর্দমা দিয়ে বাগানে পানি নেয়ার ব্যাপারে একটি লোকের সঙ্গে হযরত যুবাইর (রাঃ)-এর বিবাদ হয়। নবী (সঃ) তখন বলেনঃ “হে যুবাইর (রাঃ)! তোমার বাগানে পানি নেয়ার পর তুমি আনসারীর বাগানে পানি যেতে দাও। তার একথা শুনে আনসারী বলে, 'হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সে আপনার ফুপাতো ভাই তো!' এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চেহারা মুবারক পরিবর্তিত হয় এবং তিনি বলেনঃ “হে যুবাইর (রাঃ)!
তুমি তোমার বাগানে পানি দেয়ার পর তা বন্ধ রেখো যে পর্যন্ত না সে পানি বাগানের প্রাচীর পর্যন্ত পৌছে যায়। অতঃপর পানি তোমার প্রতিবেশীর দিকে ছেড়ে দাও।' প্রথমে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এমন পন্থা বের করেন যাতে হযরত যুবাইর (রাঃ)-এর কষ্ট না হয় এবং আনসারীরও প্রশস্ততা বেড়ে যায়। কিন্তু আনসারী যখন সেটা তার পক্ষে উত্তম মনে করলো না, তখন তিনি হযরত যুবাইর (রাঃ)-কে তাঁর পূর্ণ হক প্রদান করলেন। হযরত যুবাইর (রাঃ) বলেন, আমি ধারণা করি যে, (আরবী)-এ আয়াতটি এ ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়। মুসনাদ-ই-আহমাদের একটি মুরসাল হাদীসে রয়েছে যে, এ আনসারী বদরী সাহাবী ছিলেন।
অন্য বর্ণনা হিসেবে উভয়ের মধ্যে বিবাদ ছিল এই যে, পানির নালা হতে প্রথমেই ছিল হযরত যুবাইর (রাঃ)-এর বাগান এবং তারপরে ঐ আনসারীর বাগান। আনসারী হযরত যুবাইর (রাঃ)-কে বলতেন, ‘পানি বন্ধ করবেন না। পানি আপনা আপনি এক সাথে দু’ বাগানেই আসবে।'মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমের আর একটি খুব বেশী দুর্বল বর্ণনায় এ আয়াতের শান-ই-নযুল এই বর্ণনা করা হয়েছে যে, দু'ব্যক্তি তাদের বিবাদের মীমাংসার জন্যে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়। তিনি একটা মীমাংসা করে দেন। কিন্তু মীমাংসা যার প্রতিকূল হয়েছিল সে বলে, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! মীমাংসার জন্যে আপনি আমাদেরকে হযরত উমার (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিন।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ঠিক আছে, তোমরা সেখানেই যাও।' তারা এখানে আসলে যার অনুকূলে ফায়সালা হয়েছিল সে সমস্ত ঘটনা হযরত উমারের নিকট বর্ণনা করে। হযরত উমার (রাঃ) অপর ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, এটা সত্যা কি?' সে স্বীকার করে নেয়। হযরত উমার (রাঃ) তখন তাদেরকে বলেন, এখানে তোমরা থাম, আমি এসে ফায়সালা করছি।' তিনি। তরবারী নিয়ে আসলেন এবং যে ব্যক্তি বলেছিল, আমাদেরকে হযরত উমার (রাঃ)এর নিকট পাঠিয়ে দিন তার গর্দান উড়িয়ে দেন। অপর ব্যক্তি এটা দেখেই দৌড়ে পালিয়ে আসে এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে, “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!
আমার সঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে এবং আমি পালিয়ে না আসলে আমার মঙ্গল ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ “আমি উমার (রাঃ)-কে এরূপ জানতাম না যে, তিনি এরূপ বীরত্বপনা দেখিয়ে একজন মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করবেন। সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। ফলে ঐ ব্যক্তির রক্ত বিফলে যায় এবং হযরত উমার (রাঃ)-কে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু এ নিয়ম চালু হয়ে যাওয়া আল্লাহ তা'আলা অপছন্দ করেন। তাই তিনি (আরবী) (৪:৬৬) -এ আয়াতটি অবতীর্ণ। করেন যা পরে আসছে।তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর মধ্যেও এ বর্ণনাটি রয়েছে যা গারীব ও মুরসাল। ইবনে আবি লাহীআহ্ নামক বর্ণনাকারী দুর্বল।
এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে বেশী জানেন। অন্য সনদের মাধ্যমে বর্ণিত আছে যে, দু’ ব্যক্তি তাদের বিবাদ মীমাংসার জন্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়। তিনি হক পন্থীর পক্ষে মীমাংসা করেন। কিন্তু মীমাংসা যার প্রতিকূলে হয়েছিল সে বলে, আমি সম্মত নই।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি চাও?' সে বলে, আমি হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট যেতে চাই।'উভয়ে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট পৌছে। হযরত আবু বকর (রাঃ) ঘটনাটি শুনে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যে ফায়সালা করেছেন তোমাদের জন্যে ওটাই ফায়সালা।' সে তাতেও সম্মত না হয়ে সঙ্গীকে বলে, চল আমরা হযরত উমার (রাঃ)-এর নিকট যাবো।' তথায় তারা গমন করেন।
তথায় যা সংঘটিত হয় তা উপরে বর্ণিত হয়েছে। (তাফসীর-ই-ইবনে হাফিয আবু ইসহাক)
আল্লাহর অনুমতিক্রমে কেবলমাত্র আনুগত্য করার জন্যই আমরা রাসূলেদের প্রেরণ করেছি। যখন তারা নিজেদের প্রতি যুলুম করে তখন তারা আপনার কাছে আসলে ও আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইলে তারা অবশ্যই আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালুরূপে পাবে [১]।
[১] ৬১ নং আয়াত থেকে এ আয়াত পর্যন্ত মুনাফিকদের উদ্দেশ্যে হেদায়াত দেয়া হয়েছে। তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখানে আরও বলা হয়েছে যে, রাসূল যদি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে আল্লাহকে তারা ক্ষমাশীল পাবে। এ আয়াতটি মুনাফিকদের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং রাসূলের জীবদ্দশায়ই তাঁর পক্ষে তাদের কথা শোনা ও তাদের জন্য দো’আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা সম্ভব। রাসূলের মৃত্যুর পর তার কবরের কাছে এসে এ আয়াত তেলাওয়াত করে রাসূলের কাছে দো’আ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও শির্ক।
অনুরূপভাবে রাসূলের মৃত্যুর পর তার কবরের কাছে এসে আল্লাহর কাছে তার জন্য দো’আ করা বা ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আহবান করা বেদ’আত ও শির্কের মাধ্যম। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, হেদায়াতের ইমামগণ যেমন ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ সহ কেউই এ ধরনের কাজ করেন নি। তারা এটাকে জায়েয মনে করতেন না। কোন কোন কবরপুজারী কিছু কাহিনী রটনা করে এর সপক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে চেষ্টা করে মানুষের ঈমান নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান থাকা উচিত।
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৬৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং প্রকৃতপক্ষে, এর সমরূপ আয়াত হলো: (তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে যে, আমরা তো কেবল কল্যাণই চেয়েছি)। অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে বললেন: (তারাই তারা, যাদের অন্তরে যা রয়েছে আল্লাহ তা জানেন)। আয-যাজ্জাজ বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহ জানেন যে তারা মুনাফিক। আর আমাদের জন্য এর শিক্ষা হলো: তোমরা জেনে রাখো যে তারা মুনাফিক। (সুতরাং আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন) বলা হয়েছে এর অর্থ: তাদের শাস্তি দিন। আবার বলা হয়েছে: তাদের ওজর-আপত্তি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। (তাদের উপদেশ দিন) অর্থাৎ তাদের আল্লাহকে ভয় দেখান। বলা হয়েছে: এটি লোকসমক্ষে করুন।
(এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কে মর্মস্পর্শী কথা বলুন) অর্থাৎ নির্জনে ও গোপনে অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের ধমক দিন। আল-হাসান বলেন: তাদের বলুন, যদি তোমরা তোমাদের অন্তরের কুফরি প্রকাশ করো তবে আমি তোমাদের হত্যা করব। আর কোনো কথা তখন 'বালাগাত' (মর্মস্পর্শী) হয় যখন তা প্রভাব বিস্তার করে; আর 'বালিগ' (সুভাষী) সেই ব্যক্তি যে তার জিহ্বা দ্বারা অন্তরের গূঢ় রহস্য পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে। আরবরা বলে থাকে: 'আহমাকু বাল্গুন' বা 'বিলগুন', যার অর্থ হলো চরম পর্যায়ের নির্বোধ। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো সে যা চায় তা অর্জন করে নেয়, যদিও সে নির্বোধ হয়।
এবং বলা হয়ে থাকে যে, মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর কেমন হবে যখন তাদের কৃতকর্মের দরুন তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হবে) - এটি মসজিদ-এ দিরার নির্মাণকারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন আল্লাহ তাদের মুনাফিকি প্রকাশ করে দিলেন এবং মসজিদটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন, তখন তারা নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শপথ করে বলল: আমরা এই মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য এবং কিতাবের অনুকূল হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য রাখিনি। [সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৬৪]আর আমি কোনো রাসূলই প্রেরণ করিনি কেবল এই উদ্দেশ্যে যে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হবে।
আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত। (৬৪)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি কোনো রাসূলই প্রেরণ করিনি) এখানে 'মিন' অব্যয়টি গুরুত্বের (তাকীদ) জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। (কেবল এই উদ্দেশ্যে যে, তাঁর আনুগত্য করা হবে) তাঁর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে। (আল্লাহর নির্দেশে) অর্থাৎ আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী। আবার বলা হয়েছে: আল্লাহর তাওফীকের মাধ্যমে। (আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত) আবু সাদিক আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাফন করার তিন দিন পর এক গ্রাম্য আরব আমাদের কাছে আসল।
সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের ওপর নিজেকে ছুড়ে দিল এবং তাঁর পবিত্র কবরের মাটি নিজের মাথায় ছিটিয়ে দিল। অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলেছেন আর আমরা আপনার কথা শুনেছি, আপনি আল্লাহর কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছেন আমরা তা আপনার থেকে আত্মস্থ করেছি। আল্লাহ আপনার ওপর যা নাজিল করেছেন তার মধ্যে ছিল: (আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল...) - এই আয়াতটি। আর আমি অবশ্যই নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আপনার কাছে এসেছি...(১). অষ্টম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ দেখুন।(২). এটি কুবা-তে অবস্থিত একটি মসজিদ। কুবা হলো মক্কার দিকে গমনকারীর বাম দিকে মদিনা থেকে দুই মাইল দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম।
সাধারণ মানুষ এই মসজিদটি ভেঙে ফেলার কাজে অংশ নেয়। (মুজামুল বুলদান)।(৩). আল-আযদি আল-কুফি, যিনি আলী (রা.) থেকে মুরসাল বর্ণনা করেছেন।
পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা
ইমাম বায়হাকী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে বান্দাই আমার কবরের নিকট আমাকে সালাম প্রদান করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন যিনি তা আমার নিকট পৌঁছে দেন এবং তার দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় বিষয়াদির জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যান; আর কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব।"ইমাম বায়হাকী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যখনই কোনো মুসলিম আমাকে সালাম দেয়, আল্লাহ তাআলা আমার রূহ আমার নিকট ফিরিয়ে দেন যেন আমি তার সালামের উত্তর প্রদান করতে পারি।"ইমাম বায়হাকী ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কবরের নিকট আসতেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সালাম পেশ করতেন কিন্তু কবর স্পর্শ করতেন না; অতঃপর তিনি আবু বকর (রা.)-এর প্রতি এবং এরপর উমর (রা.)-এর প্রতি সালাম পেশ করতেন।ইমাম বায়হাকী মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবরের নিকট কাঁদতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: "এখানেই অশ্রু বিসর্জন দিতে হয়; আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, 'আমার কবর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য হতে একটি বাগান'।"ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকী মুনীব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে নবী করীম (সা.)-এর কবরের নিকট আসতে দেখেছি।
তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে নিজ হাত দুটি উত্তোলন করলেন, এমনকি আমার ধারণা হলো যে তিনি নামাজ শুরু করছেন। অতঃপর তিনি নবী করীম (সা.)-কে সালাম প্রদান করলেন এবং প্রস্থান করলেন।ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকী সুলাইমান ইবনে সুহাইম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী করীম (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেছি। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! যারা আপনার নিকট এসে আপনাকে সালাম দেয়, আপনি কি তাদের সালাম বুঝতে পারেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এবং আমি তাদের উত্তরও প্রদান করি।"ইমাম বায়হাকী হাতিম ইবনে মারওয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মদিনার উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তাবাহক পাঠাতেন যেন তার পক্ষ থেকে নবী করীম (সা.)-কে সালাম পেশ করা হয়।ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকী আবু ফুদাইক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার সমসাময়িক কিছু বিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট শুনেছি, তাঁরা বলতেন: আমাদের নিকট এ মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি নবী করীম (সা.)-এর কবরের নিকট দাঁড়িয়ে এই আয়াতটি পাঠ করবে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।
হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি রহমত ও শান্তির জন্য দোয়া করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম পেশ করো) (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬) এবং সত্তর বার বলবে: "হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক", তখন একজন ফেরেশতা তাকে উত্তর দিয়ে বলবেন: "হে অমুক! তোমার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এবং তোমার কোনো প্রয়োজন অপূর্ণ থাকবে না।"ইমাম বায়হাকী আবু হারব আল-হিলালী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একজন গ্রাম্য ব্যক্তি হজ সমাপন করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদের দরজায় এসে তার উটটি বসালেন এবং সেটিকে বাঁধলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করে কবরের নিকট আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারার সোজাসুজি দাঁড়ালেন।
এরপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চরণে আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন। আমি আপনার নিকট এসেছি পাপ ও অপরাধের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে আপনার রবের নিকট আপনার সুপারিশ কামনায়; কেননা তিনি তাঁর সুদৃঢ় অবতীর্ণ কিতাবে ইরশাদ করেছেন: (আর তারা যখন নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত)" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৪)।
এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না
তিনি বললেন: বরং তাঁর এই বাণীতে এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না
আবু উবাইদ, সাঈদ বিন মনসুর তাঁর 'ফাদায়েল' গ্রন্থে, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, তাবারানি, হাকিম এবং বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সূরা নিসার মধ্যে এমন পাঁচটি আয়াত রয়েছে যার বিনিময়ে দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছু পাওয়াও আমাকে ততোটা আনন্দিত করবে না। আমি জানি যে, আলেমগণ যখন এগুলোর ওপর দিয়ে যান, তখন তাঁরা তা চিনতে পারেন। মহান আল্লাহর বাণী: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো...
(আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না ) (সূরা নিসা, আয়াত: ৪০) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করা ক্ষমা করেন না ) (সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা তোমার কাছে আসত...
) (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৪) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)এবং তাঁর বাণী (আর যে কেউ মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে... ) (সূরা নিসা, আয়াত: ১১০) (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)ইবনে আবি শায়বা, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারির আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের রব্ব আযযা ওয়া জাল্লা-এর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তার মতো আর কিছুই আমরা দেখিনি, তবুও আমরা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের সকল পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ বিসর্জন দিইনি; অথচ তিনি আমাদের জন্য কবীরা গুনাহ ব্যতীত অন্য সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অতএব কবীরা গুনাহের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক?আল্লাহ তাআলা বলেন: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।
আবদ বিন হুমাইদ আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের রব্ব তোমাদের কাছে যা চেয়েছেন তা অত্যন্ত সহজ: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব।
আবদুল্লাহ বিন আহমদ 'যাওয়ায়েদুয যুহদ' গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "জেনে রেখো, আমার উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্যই আমার শাফায়াত।" এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব...
(আয়াতের শেষ পর্যন্ত)নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির, ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, হাকেম (যিনি একে সহিহ বলেছেন) এবং বাইহাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, জাকাত প্রদান করে এবং সাতটি ধ্বংসাত্মক কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, কিয়ামতের দিন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে, এমনকি সেগুলো (আনন্দে) ঝনঝন শব্দ করতে থাকবে।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ তা যদি তোমরা পরিহার করো...
(আয়াতের শেষ পর্যন্ত)ইবনুল মুনজির আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কবীরা গুনাহের সাথে তোমাদের কী কাজ?
অথচ তোমাদের জন্য কবীরা গুনাহ ব্যতীত অন্য গুনাহগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।ইবনে জারির একটি হাসান সনদে হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদল লোক মিসরে আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন।
...নিজেদের (প্রতি জুলুম করে) তারা আপনার নিকট আসত ) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬৪) আয়াতের শেষ পর্যন্ত এবং তাঁর বাণী: (আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে) (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১০) আয়াতের শেষ পর্যন্ত আয়াতদ্বয় ৪৯ - ৫০
