An-Nisa

আন-নিসা: 144

4:144
টেক্সট কপি

মূল আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ ٱلْكَـٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَـٰنًا مُّبِينًا

English Translations

Sahih International

O you who have believed, do not take the disbelievers as allies instead of the believers. Do you wish to give Allāh against yourselves a clear case?

Muhsin Khan

O you who believe! Take not for Auliya' (protectors or helpers or friends) disbelievers instead of believers. Do you wish to offer Allah a manifest proof against yourselves?

Taqi Usmani

O you who believe, do not take the disbelievers for friends instead of the believers. Do you want to produce before Allah a clear evidence against yourselves?

Abul Ala Maududi

Believers! Do not take the unbelievers as your allies in preference to the believers. Do you wish to offer Allah a clear proof of guilt against yourselves?

Pickthall

O ye who believe! Choose not disbelievers for (your) friends in place of believers. Would ye give Allah a clear warrant against you?

Yusuf Ali

O ye who believe! Take not for friends unbelievers rather than believers: Do ye wish to offer Allah an open proof against yourselves?

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে ঈমানদারগণ! তোমরা মু’মিনদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে তোমাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করতে চাও?

রাওয়াই আল-বায়ান

হে মুমিনগণ, তোমরা মুমিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিপক্ষে কোন স্পষ্ট দলীল সাব্যস্ত করতে চাও?

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে মু’মিনগণ! তোমরা মু’মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করনা, তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও?

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে মুমিনগণ! মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য অভিযোগ কায়েম করতে চাও?

ফাতহুল মাজীদ

হে মু’মিনগণ! তোমরা মু’মিনগণের পরিবর্তে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ কর‎ না। তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও?

মুখতাসার

১৪৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা মু’মিনদের ব্যতিরেকে কাফিরদেরকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা কি চাচ্ছো এ কর্মের মাধ্যমে তোমাদের বিপক্ষে আল্লাহর জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে যা তোমাদের শাস্তির উপযুক্ততা বুঝাবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৪৪-১৪৭ নং আয়াতের তাফসীর: কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে, তাদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা রাখতে, তাদের সাথে সর্বদা উঠাবসা করতে, মুসলমানদের গুপ্তকথা তাদের নিকট প্রকাশ করতে এবং তাদের সাথে গোপন সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে নিষেধ করছেন। অন্য আয়াতে আছে (আরবী) অর্থাৎ 'মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে, আর যে ব্যক্তি এরূপ করে সে আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন মঙ্গলের অধিকারী নয়। হঁ্যা, তবে যদি আত্মরক্ষার জন্যে বাহ্যিক ভালবাসা রাখ সেটা অন্য কথা এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ হতে ভয় প্রদর্শন করছেন।' (৩:২৮) অর্থাৎ তোমরা যদি তাঁর অবাধ্য হও তবে তোমাদের তাঁর হতে ভীত হওয়া উচিত।

মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই এরূপ ইবাদতের মধ্যে (আরবী) শব্দ রয়েছে তথায় তার ভাবার্থ হচ্ছে দলীল। অর্থাৎ তোমরা যদি মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে তোমাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর তবে তোমাদের ঐ কাজ তোমাদের উপর ঐ বিষয়ের দলীল হয়ে যাবে যে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। পূর্বযুগীয় কয়েকজন মুফাসৃসির এ আয়াতের এ তাফসীরই করেছেন।এরপর আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের পরিণাম বর্ণনা করেছেন যে, তারা তাদের কঠিন কুফরীর কারণে জাহান্নামের একেবারে নিম্নস্তরে প্রবেশ করবে।

(আরবী) শব্দটি হচ্ছে (আরবী) শব্দের বিপরীত। জান্নাতের দরজা রয়েছে একটির উপর আরেকটি। পক্ষান্তরে জাহান্নামের দারক’ রয়েছে একটির নীচে অপরটি। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, মুনাফিকদেরকে আগুনের বাক্সে পুরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তারা ওর মধ্যে জ্বলতে পুড়তে থাকবে। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, এ বাক্সটি হবে লোহার, যাতে আগুন দেয়া মাত্রই আগুন হয়ে যাবে এবং তার চার দিক সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। কেউ এমন হবে না যে তাকে কোন প্রকারের সাহায্য করতে পারে বা তাকে জাহান্নাম হতে বের করতে পারে অথবা শাস্তি কিছু কম করাতে পারে। তবে হ্যা, তাদের মধ্যে যারা তাওবা করবে, লজ্জিত হবে এবং ঐ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, অতঃপর সংশোধিত হয়ে যাবে, একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সকার্য সম্পাদন করবে, রিয়াকে আন্তরিকতার সাথে পরিহার করবে এবং আল্লাহ তা'আলার দ্বীনকে দৃঢ়রূপে ধারণ করবে, তিনি তাদের তাওবা কবুল করবেন, তাদেরকে খাঁটি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উত্তম পুণ্যের অধিকারী করবেন।

মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তোমাদের দ্বীনকে খাটি কর তবে অল্প আমলই তোমাদের জন্যে যথেষ্ট হবে।এরপর ইরশাদ হচ্ছে-‘আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন বেনিয়ায, তিনি বান্দাদেরকে শাস্তি দিতে চান না। হ্যাঁ, তবে যদি সে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে পাপ কার্য করতে থাকে তবে অবশ্যই শাস্তি প্রাপ্ত হবে। তাই আল্লাহ তা'আলা বলেন-“যদি তোমরা তোমাদের আমল সুন্দর করে নাও এবং আল্লাহর উপর ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর উপর অন্তরের সাথে বিশ্বাস স্থাপন কর তবে কোন কারণ নেই যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। তিনিতো ছোট ছোট পুণ্যের বেশ মর্যাদা দিয়ে থাকেন।

যে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তাকে সম্মান দিয়ে থাকেন। তিনি পূর্ণ ও সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। কার আমল যে খাটি ও গ্রহণযোগ্য তা তিনি ভালই জানেন। কার অন্তরে যে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে এবং কার অন্তর যে ঈমান শূন্য তিনি সেটাও জানেন। সুতরাং তিনি তাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে মুমিনগণ! মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য অভিযোগ কায়েম করতে চাও? [১]

[১] এ আয়াতের তাফসীরে পূর্ববর্তী ১৩৯ নং আয়াতের তাফসীর ও সূরা আলে ইমরানের ২৮ নং আয়াতের তাফসীর দেখা যেতে পারে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৪৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৪৪]হে মুমিনগণ! তোমরা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর জন্য কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করতে চাও? (১৪৪)মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ! তোমরা কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না) এখানে দুটি কর্মপদ রয়েছে। অর্থাৎ, তোমরা তাদেরকে তোমাদের অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। এই অর্থটি পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। (তোমরা কি নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর জন্য কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করতে চাও?) অর্থাৎ, তোমাদেরকে শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে; কেননা তিনি তোমাদেরকে তা নিষেধ করার মাধ্যমে তোমাদের বিরুদ্ধে তাঁর দলিল বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

‌‌[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৪৫]নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে, আর তুমি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না। (১৪৫)মহান আল্লাহর বাণী: (সর্বনিম্ন স্তরে) কুফাবাসী পাঠগণ ‘রা’ বর্ণটিকে সুকুন দিয়ে ‘আদ-দারক’ পড়েছেন। তবে প্রথমটি (ফাতহা দিয়ে) অধিক শুদ্ধ; কারণ এর বহুবচন হলো ‘আদরাক’, যেমন ‘জামাল’ থেকে ‘আজমাল’। এটি আন-নাহহাস বলেছেন। আবু আলী বলেন: এই দুটিই হলো দুটি ভিন্ন উপভাষা, যেমন ‘শাম্’ ও ‘শামা’; আর এর বহুবচন হলো ‘আদরাক’। কেউ কেউ বলেছেন: ‘আদ-দারক’-এর বহুবচন ‘আদ-রুক’, যেমন ‘ফাল্স’ থেকে ‘আফুলুস’। জাহান্নামের সাতটি স্তর বা ধাপ রয়েছে; অর্থাৎ বিভিন্ন স্তর ও অবস্থান।

তবে আরবরা নিম্নগামী স্তরের ক্ষেত্রে ‘আদরাক’ শব্দ ব্যবহার করে। বলা হয়: কূপের রয়েছে ‘আদরাক’ (নিম্নমুখী ধাপ), আর যা উপরে উঠে তার জন্য ‘দরাজ’। তাই জান্নাতের জন্য রয়েছে ‘দরাজ’ (উচ্চমুখী ধাপ) এবং জাহান্নামের জন্য রয়েছে ‘আদরাক’ (নিম্নমুখী স্তর)। এটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং মুনাফিকরা সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং সেটি হলো ‘হাওয়িয়াহ’। এর কারণ হলো তাদের কুফরির কঠোরতা, তাদের অসংখ্য অনিষ্টতা এবং মুমিনদেরকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগ লাভ। জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তর হলো জাহান্নাম, তারপর লাযা, তারপর আল-হুতামাহ, তারপর আস-সাঈর, তারপর সাকার, তারপর আল-জাহীম এবং সবশেষে আল-হাওয়িয়াহ।

কখনো কখনো প্রথম স্তরের নামানুসারে সবগুলোকে একত্রে নামকরণ করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর করুণা ও দানে আমাদের এই আযাব থেকে রক্ষা করুন। ইবনে মাসউদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী—(নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে)—এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এগুলো হলো আগুনের ভেতরে লোহার তৈরি রুদ্ধ সিন্দুক, যা তাদের ওপর বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইবনে উমর বলেছেন: কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষ সবচাইতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে: মুনাফিকরা, মায়েদাহ বা দস্তরখানের আসহাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং ফেরাউনের অনুসারীরা। আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা পাওয়া যায়; মহান আল্লাহ বলেছেন: (নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে)।

আর মায়েদাহর আসহাবদের সম্পর্কে বলেছেন: (তবে আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দেব না)। আর ফেরাউনের অনুসারীদের সম্পর্কে বলেছেন: (ফেরাউনের অনুসারীদেরকে কঠিনতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও)।(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৮।(২). দ্রষ্টব্য: এই খণ্ডের ৩৪৪ পৃষ্ঠা।(৩). ‘জ’, ‘য’ এবং ‘ওয়াই’ পাণ্ডুলিপি থেকে।(৪). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৯৮।(৫). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ৩১৮।