An-Nisa
আন-নিসা: 86
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
মূল আরবি
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا۟ بِأَحْسَنَ مِنْهَآ أَوْ رُدُّوهَآ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ حَسِيبًا
English Translations
And when you are greeted with a greeting, greet [in return] with one better than it or [at least] return it [in a like manner]. Indeed Allāh is ever, over all things, an Accountant.
When you are greeted with a greeting, greet in return with what is better than it, or (at least) return it equally. Certainly, Allah is Ever a Careful Account Taker of all things.
When you are greeted with a salutation, greet with one better than it, or return the same. Surely, Allah is the One who takes account of everything.
When you are greeted with a salutation then return it with a better one, or at least the same. Surely Allah takes good count of everything.
When ye are greeted with a greeting, greet ye with a better than it or return it. Lo! Allah taketh count of all things.
When a (courteous) greeting is offered you, meet it with a greeting still more courteous, or (at least) of equal courtesy. Allah takes careful account of all things.
বাংলা অনুবাদ
যখন তোমাদেরকে সসম্মানে সালাম প্রদান করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমরূপে জওয়াবী সালাম দাও কিংবা (কমপক্ষে) অনুরূপভাবে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ (ক্ষুদ্র-বৃহৎ) সকল বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।
আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হবে তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে। অথবা জবাবে তাই দেবে। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে পূর্ণ হিসাবকারী।
আর যখন তোমরা শুভাশীষে সম্ভাষিত হও তখন তোমরাও তা হতে শ্রেষ্ঠতর শুভ সম্ভাষণ কর অথবা ওটাই প্রত্যর্পণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।
আর তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা সেটারই অনুরূপ করবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর হিসেব গ্রহণকারী।
তোমাদেরকে যখন (সালাম) অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা তারই অনুরূপ করবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ের হিসেব গ্রহণকারী।
৮৬. কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে তোমরা তার চেয়ে আরো উৎকৃষ্ট পন্থায় অথবা তার সমপর্যায়ের উত্তর দাও। তবে উত্তম পন্থায় উত্তর দেয়াই উত্তম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাণ্ডের সংরক্ষক। তাই তিনি অচিরেই প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
তাফসীর
4:84
আর তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা সেটারই অনুরূপ করবে [১]; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর হিসেব গ্রহণকারী [২]।
[১] এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা সালাম ও তার জবাবের আদব বর্ণনা করেছেন। মূলত: ‘আস-সালাম’ শব্দটি আল্লাহ্ তা’আলার উত্তম নামসমূহের অন্যতম। যার অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তার আধার। বান্দা যখন এ কথা বলে তখন সে তার ভাইয়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও হেফাযত কামনা করে। সে হিসেবে ‘আস-সালামু আলাইকুম’ এর অর্থ, ‘আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সংরক্ষক’। সালামের উৎপত্তি সম্পর্কে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন আদম ‘আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেন তখন তার উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ্ তা’আলা তাকে সৃষ্টি করে বললেন, যাও, ফেরেশ্তাদের অবস্থানরত দলকে সালাম করো এবং মন দিয়ে শুনবে, তারা তোমার সালামের কি জবাব দেয়।
এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালাম। সুতরাং আদম ‘আলাইহিস সালাম গিয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকুম। ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন- ওয়া আলাইকুমুসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। ফেরেশতাগণ ওয়া রাহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করলেন। তারপর যারা জন্নাতে যাবে তারা প্রত্যেকেই আদম ‘আলাইহিস সালাম-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত মানুষের উচ্চতা ক্রমাগত হ্রাস পেয়েই আসছে। [বুখারীঃ ৬২২৭]
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক লোক এসে বললেন, আস্সালামুআলাইকুম, রাসূল তার সালামের জবাব দিলেন। তারপর লোকটি বসল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দশ। তারপর আরেকজন এসে বললঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ বিশ। তারপর আরও একজন এসে বললেনঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ ত্রিশ। [আবু দাউদঃ ৫১৯৫, তিরমিযীঃ ২৬৮৯]
এখানে এটা জানা আবশ্যক যে, ইসলামী অভিবাদন অন্যান্য জাতির অভিবাদন থেকে উত্তম। জগতের প্রত্যেক সভ্য জাতির মধ্যে পারস্পারিক দেখা-সাক্ষাতের সময় ভালবাসা ও সম্প্রীতি প্রকাশার্থে কোন কোন বাক্য আদান-প্রদান করার প্রথা প্রচলিত আছে। কিন্তু তুলনা করলে দেখা যাবে যে, ইসলামী সালাম যতটুকু ব্যাপক অর্থবোধক, অন্য কোন জাতির অভিবাদন ততটুকু নয়। কেননা, এতে শুধু ভালবাসাই প্রকাশ করা হয় না, বরং সাথে সাথে ভালবাসার যথার্থ হকও আদায় করা হয়। অর্থাৎ আল্লাহর কাছে দোআ করা হয় যে, আল্লাহ আপনাকে সর্ববিধ বিপদাপদ থেকে নিরাপদে রাখুন। এতে এ বিষয়েরও অভিব্যক্তি রয়েছে যে, আমরা ও তোমরা - সবাই আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী।
তাঁর অনুমতি ছাড়া আমরা একে অপরের উপকার করতে পারি না। এ অর্থের দিক দিয়ে বাক্যটি একাধারে একটি ইবাদাত এবং মুসলিম ভাইকে আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দেয়ার উপায়ও বটে। মোট কথা এই যে, ইসলামী সালামে বিরাট অর্থগত ব্যাপ্তি রয়েছে। যথা, [১] এটি আল্লাহর একটি নাম । তাছাড়া এতে রয়েছে আল্লাহ তা'আলার যিকর, [২] আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দেয়া, [৩] মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ভালবাসা ও সম্প্রীতি প্রকাশ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না পরস্পরকে ভালবাসবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের ঈমান পূর্ণ হবে না।
আমি কি তোমাদেরকে একটা বিষয় শিক্ষা দিব, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালবাসবে ? তোমরা তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও” [মুসলিমঃ ৫৪]
[৪] মুসলিম ভাইয়ের জন্য সর্বোত্তম দো'আ এবং [৫] মুসলিম ভাইয়ের সাথে এ চুক্তি যে, আমার হাত ও মুখ দ্বারা আপনার কোন কষ্ট হবে না। সহীহ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার হাত ও জিহবা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ সে-ই প্রকৃত মুসলিম। [বুখারী ১৫ মুসলিম: ৪১]
অমুসলিমরা কেউ যদি মুসলিমদেরকে সালাম দেয় তবে তার উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম’ পর্যন্ত বলতে হবে। কারণ, তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। যদি সে ভালো উদ্দেশ্যে বলে থাকে, তবে ভালো পাবে, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে বলে, তবে এটা তার জন্য বদ দোআর কাজ করবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইয়াহুদীরা যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা প্রত্তোত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম’ বা তোমাদের উপরও অনুরূপ হোক এ কথাটি বলবে, কেননা তারা তোমাদের মৃত্যুর দো’আ করে থাকে। [বুখারী: ৬২৫৭; মুসলিম: ২১৬৪]
তাছাড়া সালাম যেহেতু মুসলিমদের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার, সেহেতু অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য তা প্রয়োগ করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে সালাম দিও না; যদি তাদের কারো সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হয়, তবে তাকে সংকীর্ণ পথে চলে যেতে বাধ্য করবে’। [মুসলিম: ২১৬৭]
[২] অর্থাৎ মানুষ এবং ইসলামী অধিকার; যথা সালাম ও সালামের জবাব ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ তা’আলা এগুলোরও হিসাব নেবেন।
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৮৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৮৬]আর যখন তোমাদেরকে কোনো অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উৎকৃষ্টতর অভিবাদন জানাও অথবা সেটিই ফিরিয়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী। (৮৬)এতে বারোটি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে: প্রথমত— মহান আল্লাহর বাণী: (আর যখন তোমাদেরকে কোনো অভিবাদন জানানো হয়) 'তাহিয়্যাহ' (অভিবাদন) শব্দটি 'হায়য়াইতু' থেকে উদ্ভূত 'তাফ’ইলাহ' ওজনের শব্দ। এর মূল রূপ ছিল 'তাহইয়িয়াহ', যেমন 'তারদিয়াহ' ও 'তাসমিয়াহ' শব্দগুলো গঠিত হয়। অতঃপর এখানে দুটি 'ইয়া' বর্ণকে একত্রে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে। আর 'তাহিয়্যাহ' বলতে সালামকে বুঝায়।
অভিবাদনের মূল অর্থ হলো জীবনের জন্য প্রার্থনা করা। 'আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহ' (সকল অভিবাদন আল্লাহর জন্য) এর অর্থ হলো সকল আপদ-বিপদ থেকে নিরাপত্তা আল্লাহর জন্য। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো রাজত্ব। আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-ইজলি বলেন: আমি আল-কিসায়ীকে 'আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহ' এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: 'তাহিয়্যাত' হলো 'বারাকাত' (বরকতসমূহ)-এর মতো। আমি বললাম: 'বারাকাত'-এর অর্থ কী? তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমি কোনো বর্ণনা শুনিনি। আমি এ সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনুল হাসানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অতঃপর আমি কুফায় এসে আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিসের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আমি কিসায়ী ও মুহাম্মদকে 'আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহ' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তাঁরা আমাকে এই এই উত্তর দিয়েছেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস বললেন: কবিতা এবং এই জাতীয় ভাষাতাত্ত্বিক বিষয় সম্পর্কে তাঁদের কোনো জ্ঞান নেই! 'তাহিয়্যাহ' অর্থ হলো রাজত্ব। অতঃপর তিনি এই কবিতাটি পাঠ করলেন:আমি এটি নিয়ে আবু কাবুসের দিকে অগ্রসর হই যতক্ষণ না … আমি আমার বাহিনী নিয়ে তাঁর রাজত্বের সামনে অবস্থান গ্রহণ করি।ইবনে খুওয়াইয মানদাদ এই কবিতাটি পাঠ করেছেন:আমি এটি নিয়ে নুমানের দিকে যাত্রা করি যতক্ষণ না … আমি আমার বাহিনী নিয়ে তাঁর রাজত্বের সামনে অবস্থান গ্রহণ করি।এখানে 'তাহিয়্যাহ' দ্বারা তিনি তাঁর রাজত্ব বুঝিয়েছেন।
অন্য একজন কবি বলেছেন:একজন যুবক যা কিছু অর্জন করতে পারে … আমি তার সবই পেয়েছি শুধু রাজত্ব (তাহিয়্যাহ) ছাড়া।আল-কুতায়বী বলেন: এখানে 'আত-তাহিয়্যাতু' শব্দটি বহুবচনে ব্যবহার করা হয়েছে কারণ পৃথিবীতে এমন অনেক রাজা ছিল যাদেরকে বিভিন্ন ধরণের অভিবাদন জানানো হতো। তাদের কাউকে বলা হতো: 'অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকুন', কাউকে বলা হতো: 'নিরাপদে ও সুখে থাকুন', আবার কাউকে বলা হতো: 'হাজার বছর বেঁচে থাকুন'। তাই আমাদের বলা হয়েছে: তোমরা বলো 'সকল অভিবাদন আল্লাহর জন্য'; অর্থাৎ সেই সকল শব্দ যা রাজত্ব বা সার্বভৌমত্ব নির্দেশ করে এবং যা মহান আল্লাহর শানে ব্যবহৃত হয়।(১).
কবিতাটি আমর ইবনে মা’দী কারিবের, এর আগের পংক্তিটি হলো:এবং প্রতিটি প্রশস্ত সাদা বর্ম … এবং প্রতিটি রণনিপুণ সাহসী ব্যক্তি। (২). তিনি হলেন যুহায়ের ইবনে জানাব আল-কালবী।
