An-Nisa
আন-নিসা: 52
4 আন-নিসা An-Nisa · 176 আয়াত النساء
মূল আরবি
أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ ۖ وَمَن يَلْعَنِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ نَصِيرًا
English Translations
Those are the ones whom Allāh has cursed; and he whom Allāh curses - never will you find for him a helper.
They are those whom Allah has cursed, and he whom Allah curses, you will not find for him (any) helper,
Those are the ones whom Allah has cursed, and the one whom Allah has cursed, for him you shall find no helper.
Such are the ones whom Allah has cursed; and he whom Allah curses has none to come to his help.
Those are they whom Allah hath cursed, and he whom Allah hath cursed, thou (O Muhammad) wilt find for him no helper.
They are (men) whom Allah hath cursed: And those whom Allah Hath cursed, thou wilt find, have no one to help.
বাংলা অনুবাদ
এরা সেই লোক, যাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন এবং যাকে আল্লাহ অভিশাপ দেন, তুমি কক্ষনো তার সাহায্যকারী পাবে না।
এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ লা‘নত করেছেন। আর আল্লাহ যাকে লা‘নত করেন তুমি কখনো তার কোন সাহায্যকারী পাবে না।
এদেরই প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন; এবং আল্লাহ যাকে অভিসম্পাত করেন, তুমি তার জন্য কোনই সাহায্যকারী খুঁজে পাবেনা।
এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ লা’নত করেছেন এবং আল্লাহ যাকে লা’নত করেন আপনি কখনো তার কোনো সাহায্যকারী পাবেন না।
এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ লা’নত করেছেন এবং আল্লাহ যাকে লা‘নত করেন তুমি কখনও তার কোন সাহায্যকারী পাবে না।
৫২. যারা এ নিকৃষ্ট বিশ্বাসে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেন। আর আল্লাহ যাকে বিতাড়িত করেন আপনি তার কোন সাহায্যকারী অভিভাবক কখনোই খুঁজে পাবেন না।
তাফসীর
4:49
এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ লা’নত করেছেন [১] এবং আল্লাহ যাকে লা’নত করেন আপনি কখনো তার কোন সাহায্যকারী পাবেন না [২]।
[১] আল্লাহর অভিসম্পাত দুনিয়া ও আখেরাতের অপমানের কারণ। লা’নত ও অভিসম্পাত এর অর্থ হল, আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকে দূরে সরে পড়া- চরম অপমান, অপদস্থতা। যার উপর আল্লাহর লা’নত পতিত হয় সে কখনো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না। তাদের সম্পর্কে অতি কঠিন ভর্ৎসনার কথা বলা হয়েছে। অন্যত্র বলা হয়েছে, “যাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত হয়েছে, তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই নিহত অথবা ধৃত হবে”। [সূরা আল-আহযাব: ৬১] এটা তাদের পার্থিব অপমান। আখেরাতে তাদের অপমান এর চেয়েও কঠিন হবে।
[২] এ আয়াতের দ্বারা বোঝা যায় যে, যার উপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হয়, তার কোন সাহায্যকারী থাকে না। এখন চিন্তা করার বিষয় এই যে, আল্লাহর লানতের যোগ্য কারা? এক হাদীসে আছে যে, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহীতা এবং সুদ দাতা, সুদ সংক্রান্ত দলীল সম্পাদনকারী এবং সুদের লেনদেনের সাক্ষী সবার প্রতিই অভিসম্পাত করেছেন। এদের সবাই পাপের ক্ষেত্রে সমান’। [মুসলিমঃ ১৫৯৮]
অন্য এক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে লোক লুত ‘আলাইহিস্ সালামের সম্প্রদায়ের অনুরূপ কর্মে লিপ্ত হবে সে অভিশপ্ত হবে।’ [মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৪/৩৯৬]
অতঃপর তিনি বলেছেন, “আল্লাহ্ তাআলা চোরদের প্রতিও অভিসম্পাত করেন। যে ডিম কিংবা রশির মত সাধারণ বস্তুও চুরি থেকে বিরত থাকে না, তারও হাত কাটা হয়। [বুখারীঃ ৬৪০১]
আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, সুদ গ্রহীতা ও দাতার উপর আল্লাহ্ তা’আলার লা’নত এবং সে সমস্ত নারীর উপর যারা নিজেদের শরীর কেটে উল্কি আকে, যে অন্যের শরীর কেটেও উন্ধি একে দেয়, তেমনিভাবে চিত্রকারের উপরও আল্লাহর লা’নত। [বুখারীঃ ১৯৮০]
অপর এক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা লা’নত করেন মদ্যপায়ীর প্রতি, মদ যে ব্যক্তি পান করায় তার প্রতি, তার বিক্রেতা ও ক্রেতার প্রতি, যে মদের নির্যাস বের করে তার প্রতি এবং যারা মদ্য বহন করে তাদের সবার প্রতি। [মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/৩৭]
[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৪৪ থেকে ৫৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আবু লায়লা ও হাসান ইবনে হাইয়্যি বলেন: (তায়াম্মুম হচ্ছে) দুই আঘাত; এর প্রতিটি আঘাতের মাধ্যমে তিনি তাঁর মুখমন্ডল, দুই হাত এবং দুই কনুই মাসাহ করবেন। তাঁদের দু’জন ব্যতীত ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে অন্য কেউ এ কথা বলেননি। আবু উমর বলেন: যখন তায়াম্মুমের পদ্ধতির ব্যাপারে বর্ণিত আসারসমূহের (রেওয়ায়েত) মধ্যে মতভেদ দেখা দিল এবং তা পরস্পরবিরোধী হলো, তখন এ বিষয়ে কিতাবের (কুরআনের) বাহ্যিক বিধানের দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। আর তা নির্দেশ করে দু’টি আঘাতের প্রতি—একটি আঘাত মুখমন্ডলের জন্য এবং অপরটি দুই হাতের জন্য কনুই পর্যন্ত; এটি ওযুর ওপর কিয়াস করে এবং ইবনে উমরের কর্মের অনুসরণে, কারণ তিনি এমন একজন ব্যক্তি যাঁর আল্লাহর কিতাব বিষয়ক জ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
আর যদি এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো কিছু সাব্যস্ত হতো, তবে সেখানেই থামা (তা অনুসরণ করা) আবশ্যক হতো। আর আল্লাহর তৌফিকই কাম্য। মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী ও ক্ষমাশীল) অর্থাৎ তিনি সর্বদা মার্জনা কবুলকারী—আর তা হলো সহজতা—এবং তিনি পাপ মোচন করেন অর্থাৎ এর শাস্তি ঢেকে রাখেন, ফলে তিনি আর শাস্তি দেন না। [সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ৪৪ থেকে ৫৩]৪৪. আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের এক অংশ দেওয়া হয়েছে? তারা পথভ্রষ্টতা ক্রয় করে এবং চায় যে আপনারাও পথ হারিয়ে ফেলেন। ৪৫. আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে অধিক অবগত; অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।
৪৬. ইয়াহুদিদের মধ্যে কিছু লোক কথার মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং বলে: ‘আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম’ এবং ‘শুনুন, না শোনার মতো’ এবং নিজেদের জিহবা কুঁচকিয়ে ও দ্বীনের ওপর অপবাদ দিয়ে বলে ‘রায়িনা’। অথচ তারা যদি বলত: ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম’ এবং ‘শুনুন ও আমাদের প্রতি নজর দিন’, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর ও সংগত হতো। কিন্তু তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাদের লানত করেছেন, তাই তাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে। ৪৭. হে কিতাবপ্রাপ্তগণ! আমরা যা অবতীর্ণ করেছি (কুরআন) তার ওপর ঈমান আনো, যা তোমাদের কাছে বিদ্যমান কিতাবের সত্যায়নকারী; আমাদের পক্ষ থেকে কিছু চেহারাকে বিকৃত করে সেগুলোকে তাদের পিছন দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে কিংবা তাদের লানত করার আগে যেমন লানত করেছিলাম আসহাবুস্ সাবত বা শনিবারওয়ালাদের।
আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকরী হয়ে থাকে। ৪৮. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এর নিম্নপর্যায়ের সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে এক মহাপাপের অপবাদ দেয়। ৪৯. আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি করে? বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন এবং তাদের ওপর সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না। ৫০. দেখুন, তারা আল্লাহর ওপর কেমন মিথ্যা অপবাদ দেয়! আর প্রকাশ্য পাপ হিসেবে এটিই যথেষ্ট। ৫১. আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একটি অংশ দেওয়া হয়েছে? তারা জিবত (মূর্তি/জাদু) ও তাগুতের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং কাফিরদের সম্পর্কে বলে যে, ‘এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথে রয়েছে’।
৫২. ওরাই তারা যাদের প্রতি আল্লাহ লানত করেছেন। আর আল্লাহ যাকে লানত করেন, আপনি কখনো তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না। ৫৩. নাকি রাজত্বে তাদের কোনো অংশ রয়েছে? যদি তাই হতো, তবে তারা মানুষকে তিল পরিমাণও দিত না।(১). পাণ্ডুলিপি ‘জ’ ও ‘ত’-তে রয়েছে: ফলে তিনি শাস্তি দেননি।
