An-Nisa

আন-নিসা: 26

4:26

আরবি

يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

English Translations

Sahih International

Allāh wants to make clear to you [the lawful from the unlawful] and guide you to the [good] practices of those before you and to accept your repentance. And Allāh is Knowing and Wise.

Muhsin Khan

Allah wishes to make clear (what is lawful and what is unlawful) to you, and to show you the ways of those before you, and accept your repentance, and Allah is All-Knower, All-Wise.

Taqi Usmani

Allah intends (through this Qur’ān) to explain to you (the rules) and to guide you to the ways of those (prophets who passed) before you, and to turn graciously towards you. Allah is All-Knowing, All-Wise.

Abul Ala Maududi

Allah wants to make all this clear to you, and to guide you to the ways which the righteous have followed in the past. He will turn graciously towards you. Allah is All-Knowing, All-Wise.

Pickthall

Allah would explain to you and guide you by the examples of those who were before you, and would turn to you in mercy. Allah is Knower, Wise.

Yusuf Ali

Allah doth wish to make clear to you and to show you the ordinances of those before you; and (He doth wish to) turn to you (In Mercy): And Allah is All-knowing, All-wise.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের নিকট সবিস্তারে বর্ণনা করতে তোমাদের আগেকার লোকেদের নিয়মনীতি তোমাদের দেখানোর গ্রহণের জন্য, আর তোমাদেরকে ক্ষমা করার জন্য; বস্তুতঃ আল্লাহ সুপরিজ্ঞাত, পরম কুশলী।

রাওয়াই আল-বায়ান

আল্লাহ চান তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের আদর্শ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তাওবা কবূল করতে। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আল্লাহ তোমাদের জন্য সবকিছু পরিস্কার বর্ণনা করতে এবং তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের আদর্শসমূহ প্রদর্শন করতে ও তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের কাছে বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি তোমাদেরকে অবহিত করতে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

ফাতহুল মাজীদ

আল্লাহ চান তোমাদের নিকট বিশদভাবে (বিধি-বিধান) বর্ণনা করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে সঠিকপথ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের ক্ষমা করতে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

মুখতাসার

২৬. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য এ বিধানগুলো চালু করার মাধ্যমে তাঁর দ্বীন ও শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী এবং তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর বিষয় তোমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চান। তেমনিভাবে তিনি চান তোমাদেরকে হালাল-হারাম, সম্মানজনক বৈশিষ্ট্যাবলী ও প্রশংসনীয় চরিত্রের ক্ষেত্রে তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের পথ দেখাতে। তিনি আরো চান তোমাদেরকে গুনাহ থেকে তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাতে তাঁর বান্দাদের নিহিত কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত হন। তাই তিনি তাদের জন্য সেই বিধানগুলোই রচনা করেছেন। তিনি তাঁর শরীয়ত ও তাঁর বান্দাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৬-২৮ নং আয়াতের তাফসীর: কুরআন ঘোষণা করে- হে মুমিনগণ! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর হালাল ও হারাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে চান, যেমন এ সূরায় এবং অন্যান্য সূরাসমূহে তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রশংসনীয় পথে চালাতে চান, যেন তোমরা তাঁর শরীয়তের উপর আমল করতে থাক যে কাজ তাঁর নিকট প্রিয় ও যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান। যে পাপ ও অন্যায়কার্য হতে তোমরা তাওবা করে থাক সে তাওবা তিনি সতুর কবুল করে থাকেন। তিনি মহাজ্ঞানী ও মহা বিজ্ঞানময়। স্বীয় শরীয়তে, স্বীয় অনুমানে, স্বীয় কার্যে ও স্বীয় ঘঘাষণায় তিনি সঠিক জ্ঞান ও পর্ণ নিপুণতার অধিকারী। প্রবত্তি পূজারীরা অর্থাৎ শয়তানের দাস ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানেরা এবং অসৎ লোকেরা তোমাদের পদস্খলন ঘটিয়ে তোমাদেরকে সত্য ও সরল পথ হতে সরিয়ে দিয়ে অন্যায় ও অসত্যের পথে চালাতে চায়। আল্লাহ তা'আলা শরীয়তের আহকাম নির্ধাণের ব্যাপারে তোমাদের পথ সহজ করতে চান এবং এর উপর ভিত্তি করেই কতগুলো শর্ত আরোপ করতঃ দাসীদেরকে বিয়ে করে নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন। মানুষ জন্মগত দুর্বল বলে মহান আল্লাহ স্বীয় আহকামের মধ্যে কোন কাঠিন্য রাখেননি। মানুষ সৃষ্টিগতই দুর্বল বলে তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তি দুর্বল। তারা স্ত্রীদের ব্যাপারে দুর্বল। তারা এখানে এসে একেবারে বোকা বনে যায়।তাই রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন মিরাজের রাত্রে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ হতে ফিরে আসেন এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় তখন তিনি রাসূল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনার উপর কি ফরয করা হয়েছে?' তিনি বলেনঃ “প্রত্যহ দিন রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায। তখন হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ 'আপনি ফিরে যান এবং মহান আল্লাহর নিকট লঘুকরণের জন্যে প্রার্থনা করুন। আপনার উম্মতের মধ্যে এটা পালনের শক্তি নেই। আপনার পূর্ববর্তী লোকদেরকে আমি পরীক্ষা করেছি। তারা এর চেয়ে বহু কমেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আর আপনার উম্মত তো কর্ণের, চক্ষুর এবং অন্তরের দুর্বলতায় তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।'অতএব রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফিরে যান এবং দশ ওয়াক্ত কমিয়ে আনেন। পুনরায় হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে একই আলোচনা হয়। তিনি পুনরায় ফিরে যান এবং আবার দশ ওয়াক্ত কম করিয়ে আনেন। অবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত থেকে যায়।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের কাছে বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে অবহিত করতে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে [১]। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

পঞ্চম রুকূ‘

[১] অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের মা ও কন্যাদের হারাম হওয়ার ব্যাপারটি বিস্তারিত বর্ণনা করতে চান। আর এটাও জানিয়ে দিতে চান যে, এটা পূর্বে কখনও হালাল ছিল না। সব শরী’আতেই মা ও মেয়ে হারাম ছিল। [আত-তাফসীরুস সহীহ] অনুরূপভাবে তিনি চান তোমাদেরকে হিদায়াত দিতে বা মিল্লাতে ইবরাহীমীর প্রতি দিকনির্দেশ করতে এবং বর্ণনা আসার পূর্বে তোমাদের কৃত এ জাতীয় গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিতে। [বাগভী]