An-Nisa

আন-নিসা: 130

4:130
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغْنِ ٱللَّهُ كُلًّا مِّن سَعَتِهِۦ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ وَٰسِعًا حَكِيمًا

English Translations

Sahih International

But if they separate [by divorce], Allāh will enrich each [of them] from His abundance. And ever is Allāh Encompassing and Wise.

Muhsin Khan

But if they separate (by divorce), Allah will provide abundance for everyone of them from His Bounty. And Allah is Ever All-Sufficient for His creatures' need, All-Wise.

Taqi Usmani

If they separate, Allah shall, through His capacity, make each of them need-free (of the other). Allah is All-Embracing, All-Wise.

Abul Ala Maududi

But if the two separate, out of His plenty Allah will make each dispense with the other. Indeed Allah is All-Bounteous, All-Wise.

Pickthall

But if they separate, Allah will compensate each out of His abundance. Allah is ever All-Embracing, All-Knowing.

Yusuf Ali

But if they disagree (and must part), Allah will provide abundance for all from His all-reaching bounty: for Allah is He that careth for all and is Wise.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারা যদি উভয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে আল্লাহ আপন প্রাচুর্য দিয়ে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাকুশলী।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যদি তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে আল্লাহ প্রত্যেককে নিজ প্রাচুর্য দ্বারা অভাবমুক্ত করবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাবান।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং যদি তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয় তাহলে আল্লাহ স্বীয় প্রাচুর্য হতে তাদের প্রত্যেককে সম্পদশালী করবেন এবং আল্লাহ সুপ্রশস্ত মহাজ্ঞানী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যদি তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায় তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য দ্বারা প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।

ফাতহুল মাজীদ

যদি তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য দ্বারা তাদের প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।

মুখতাসার

১৩০. যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তালাক অথবা খোলার মাধ্যমে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যেককে তাঁর প্রশস্ত করুণায় অন্যের প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। পুরুষকে তার আগের স্ত্রী থেকে আরো উত্তম স্ত্রী দিয়ে তার আগের স্ত্রীর প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। তেমনিভাবে মহিলাকে তার আগের স্বামী থেকে আরো উত্তম স্বামী দিয়ে তার আগের স্বামীর প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা প্রশস্ত করুণা ও দয়ার মালিক। তাঁর তাকদীর ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

4:128

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যদি তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায় তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য দ্বারা প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময় [১]।

[১] পূর্বে উল্লেখিত তিনটি আয়াতে আল্লাহ তা’আলা মানুষের দাম্পত্য জীবনের এমন একটি জটিল দিক সম্পর্কে পথ-নির্দেশ করেছেন, সুদীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রত্যেকটি দম্পতিকেই যার সম্মুখীন হতে হয়। তা হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পারিক মনোমালিন্য ও মন কষাকষি। আর এটি এমন একটি জটিল সমস্যা, যার সুষ্ঠু সমাধান যথাসময়ে না হলে শুধু স্বামী-স্ত্রীর জীবনই দুৰ্বিসহ হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে এহেন পারিবারিক মনোমালিন্যই গোত্র ও বংশগত বিবাদ তথা হানাহানি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কুরআনুল কারীম নর ও নারীর যাবতীয় অনুভূতি ও প্রেরণার প্রতি লক্ষ্য রেখে উভয় শ্রেণীকে এমন এক সার্থক পদ্ধতি বাতলে দেয়ার জন্য নাযিল হয়েছে, যার ফলে মানুষের পারিবারিক জীবন সুখী-সমৃদ্ধ হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

এর অনুসরণে পারস্পারিক তিক্ততা ও মর্মপীড়া, ভালবাসা ও প্রশাস্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। আর যদি অনিবার্য কারণে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হয়, তবে তা করা হবে সম্মানজনক ও সৌজন্যমূলক পস্থায় যেন তার পেছনে শক্রতা, বিদ্বেষ ও উৎপীড়নের মনোভাব না থাকে। এ আয়াতে শেষ চিকিৎসা তালাক ও বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার ব্যাপারে হেদায়াত দিয়ে বলা হয়েছে যে, এটা মনে করার কোন সংগত কারণ নেই যে, সার্বিক সমঝোতা সম্ভব না হলে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলে আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি দয়াশীল হবেন না। বরং আল্লাহ তা’আলা তাদের উভয়েরই রব। তিনি তাদের প্রত্যেককেই তাদের প্রয়োজনীয় জীবিকা নির্বাহ করবেন।

সুতরাং বিবাহ-বিচ্ছেদ পদ্ধতির ব্যাপারে কারও আপত্তি করা উচিত নয়।

মোটকথা, কুরআনুল কারীম উভয় পক্ষকে একদিকে স্বীয় অভাব অভিযোগ দূর করা ও ন্যায্য অধিকার লাভ করার আইনতঃ অধিকার দিয়েছে। অপরদিকে ত্যাগ, ধৈর্য, সংযম ও উন্নত চরিত্র আয়ত্ব করার উপদেশ দিয়েছে। এখানে শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ হতে যথাসাধ্য বিরত থাকা কর্তব্য । বরং উভয় পক্ষেই কিছু কিছু ত্যাগ স্বীকার করে সমঝোতায় আসা বাঞ্ছনীয়। তারপরও যদি বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তবে জীবন সম্পর্কে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ প্রত্যেককেই তাঁর রহমতে স্থান দিবেন।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৩০ থেকে ১৩২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

ক্রিয়ার। আর এরই উদাহরণ উম্মে যার' এর হাদীসে ওই নারীর বক্তব্যে পাওয়া যায়: "আমার স্বামী দীর্ঘদেহী (আশানাঙ্ক), যদি আমি কথা বলি তবে আমাকে তালাক দেওয়া হবে, আর যদি চুপ থাকি তবে ঝুলিয়ে রাখা হবে।" কাতাদাহ বলেন: বন্দীনীর ন্যায়। উবাই (রা.)-ও একইভাবে তিলাওয়াত করেছেন: (অতঃপর তোমরা তাকে বন্দীনীর ন্যায় ছেড়ে দাও)। ইবনে মাসউদ (রা.) তিলাওয়াত করেছেন: (অতঃপর তোমরা তাকে এমনভাবে ছেড়ে দাও যেন সে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে)। 'ফাতাযারুহা' শব্দটি নসব-এর অবস্থায় রয়েছে, কারণ এটি নিষেধাজ্ঞার উত্তর হিসেবে এসেছে। আর 'কাল-মুয়াল্লাকাহ' শব্দের 'কাফ' অক্ষরটিও নসবের অবস্থায় আছে।

‌‌[সূরা আন-নিসা (৪): আয়াত ১৩০ থেকে ১৩২]আর যদি তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রশস্ততা দিয়ে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন; এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময় (১৩০)। আর আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের এবং তোমাদেরকে আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর যদি তোমরা কুফরি করো তবে নিশ্চয় আসমানসমূহে যা আছে এবং যমীনে যা আছে সব আল্লাহরই; এবং আল্লাহ অভাবমুক্ত, চির প্রশংসিত (১৩১)। আর আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই।

আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট (১৩২)।মহান আল্লাহর বাণী: (আর যদি তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রশস্ততা দিয়ে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন)—অর্থাৎ যদি তারা আপস না করে বরং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তাদের উচিত আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা। কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরুষের জন্য এমন স্ত্রী নির্ধারিত হতে পারে যাকে দেখে তার চোখ জুড়িয়ে যায়, আর নারীর জন্য এমন স্বামী জুটতে পারে যে তার প্রতি প্রশস্ততা প্রদর্শন করবে। জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে দারিদ্র্যের অভিযোগ করল। তিনি তাকে বিবাহের নির্দেশ দিলেন।

লোকটি গিয়ে বিবাহ করল। এরপর সে পুনরায় তাঁর কাছে এসে দারিদ্র্যের অভিযোগ করল। তখন তিনি তাকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি তাকে বিবাহের নির্দেশ দিয়েছিলাম এই আশায় যে সে সম্ভবত এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে: (তারা যদি অভাবী হয় তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন)। যখন সে ওই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো না, তখন তাকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলাম এবং মনে করলাম যে সম্ভবত সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে: (আর যদি তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রশস্ততা দিয়ে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন)।

মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের নির্দেশ দিয়েছি)—অর্থাৎ তাকওয়ার নির্দেশ সকল উম্মতের জন্য সাধারণ ছিল। আর তাকওয়া সম্পর্কিত আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (ওয়া ইয়্যাকুম) শব্দটি (আল্লাযিনা) এর সাথে সংযুক্ত। (আনি-ত্তাকুল্লাহ) বাক্যটি নসবের স্থানে রয়েছে। আখফাশ বলেন: অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করার নির্দেশের মাধ্যমে। জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু জ্ঞানী) বলেন: এই আয়াতটি কুরআনের আয়াতসমূহের চাকা সদৃশ, কারণ সমগ্র কুরআন এরই চারদিকে আবর্তিত হয়।(১). আল-আশানাঙ্ক: দীর্ঘ ও সুঠাম দেহের অধিকারী। নারীটি বুঝাতে চেয়েছেন যে তার বাহ্যিক অবয়ব আকর্ষণীয় হলেও তার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।(২).

দেখুন: ১২ খণ্ড, ২৪১ পৃষ্ঠা।(৩). দেখুন: ১ খণ্ড, ১৬১ পৃষ্ঠা।