Al-A'raf
আল-আরাফ: 10
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
وَلَقَدْ مَكَّنَّـٰكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَـٰيِشَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ
English Translations
And We have certainly established you upon the earth and made for you therein ways of livelihood. Little are you grateful.
And surely, We gave you authority on the earth and appointed for you therein provisions (for your life). Little thanks do you give.
We established you on earth, and created in it means of living for you. Little you appreciate.
We assuredly established you in the earth and arranged for your livelihood in it. Little do you give thanks.
And We have given you (mankind) power in the earth, and appointed for you therein livelihoods. Little give ye thanks!
It is We Who have placed you with authority on earth, and provided you therein with means for the fulfilment of your life: small are the thanks that ye give!
বাংলা অনুবাদ
আমি তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি; আর সেখানে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
আর অবশ্যই আমি তো তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য তাতে রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞ হও।
আর নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং আমি তোমাদের জন্য ওতে জীবিকা নির্বাহের উপকরণসমূহ সৃষ্টি করেছি, তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।
আর অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যাবস্থাও করেছি; তোমারা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
আমি তো তোমাদেরকে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি; তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
১০. হে আদম সন্তান! আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে অধিষ্ঠিত করেছি এবং সেখানে তোমাদের জীবন ধারণের জন্য উপকরণসমূহ তৈরি করেছি। তাই এ জন্য তোমাদেরকে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিৎ। অথচ তোমাদের কৃতজ্ঞতাবোধ খুবই কম।
তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের উপর নিজের অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেনঃ আমি তোমাদেরকে এতো ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দান করেছি যে, তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে শাসন কায়েম করেছো এবং দুনিয়ায় নিজেদের মূল শক্ত করে নিয়েছো । সেখানে তোমরা নদী-নালা প্রবাহিত করেছে, ঘর ও চাকচিক্যময় অট্টালিকা বনিয়েছে এবং নিজেদের জন্যে সমুদয় উপকারী জিনিস উৎপাদন করেছে । আমি আমার বান্দাদের জন্যে মেঘমালাকে কাজে লাগিয়ে রেখেছি, উদ্দেশ্য হচ্ছে তার থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে তাদের জন্যে ফসল উৎপন্ন করা। যমীনে আমি তাদের জীবিকা লাভের বিভিন্ন মাধ্যম রেখেছি। সেখানে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে এবং নিজেদের জন্যে নানা প্রকারের সুখের সামগ্রী তৈরী করছে।
তথাপি তারা এসব নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছে না। যেমন তিনি এক জায়গায় বলেনঃ “ যদি তোমরা আমার নিয়ামতরাজি গণনা করার ইচ্ছা কর তবে সেগুলো গণনা করতে পারবে না। মানুষ বড়ই অত্যাচারী ও অকৃতজ্ঞ।” (আরবী) শব্দটিকে সবাই (আরবী)-এর সাথে পড়ে থাকেন অর্থাৎ (আরবী) এর সাথে পড়েন না। কিন্তু আবদুর রহমান ইবনে হরমু একে (আরবী) দিয়ে পড়েন। অধিকাংশ লোক যেভাবে পড়েন সেটাই বিশুদ্ধতম (আরবী) অর্থাৎ দিয়ে না পড়া। কেননা, (আরবী) শব্দটি (আরবী) এর বহুবচন। এটা হচ্ছে (আরবী) এবং এটা (আরবী) হবে। এই (আরবী)-এর মূল হচ্ছে মায়ূইশাতুন অর্থাৎ (আরবী)- তে (আরবী) দিয়ে।
(আরবী)- তে (আরবী) ভারী হওয়ায় (আরবী) টি (আরবী)-এ দেয়া হয়েছে এবং এভাবে মায়ূইশাতুন শব্দটি মায়ীশাতুন হয়েছে। তারপর এর একবচনকে যখন বহুবচন বানানো হলো তখন (আরবী)-এর (আরবী) টি আবার তাতে ফিরে আসলো। কেননা, কাঠিন্য আর অবশিষ্ট থাকলো না। বলা হয়েছে যে, (আরবী)-এর ওযন হচ্ছে (আরবী) কেননা এই শব্দে (আরবী) টি মূলে রয়েছে। এটা (আরবী) এবং (আরবী)-এর মত নয়। এগুলো হচ্ছে যথাক্রমে (আরবী) এবং (আরবী)-এর বহুবচন। কেননা, (আরবী) অক্ষরটি হচ্ছে এখানে অতিরিক্ত। সুতরাং এগুলোর বহুবচন (আরবী)-এর ওযনে হবে। আর এখানে (আরবী) অক্ষরটিও আসবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
আর অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যাবস্থাও করেছি; তোমারা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর [১]।
[১] মানুষের যাবতীয় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র আল্লাহ্ তা'আলা ভূ-পৃষ্ঠে সঞ্চিত রেখেছেন। কাজেই সর্বদা সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ তা’আলার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করাই মানুষের কর্তব্য। কিন্তু মানুষ গাফেল হয়ে স্রষ্টার অনুগ্রহরাজি বিস্মৃত হয়ে যায় এবং পার্থিব দ্রব্যসামগ্রীর মধ্যেই নিজেকে হারিয়ে ফেলে। তাই আয়াতের শেষে অভিযোগের সুরে বলা হয়েছে “তোমার খুব কম লোকই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।”
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর অভিমতও ইতঃপূর্বে যা বলা হয়েছে তার কাছাকাছি। তাহলো: মহান আল্লাহ বান্দার প্রতিটি আমলকে এক একটি মৌলিক সত্তা বা বস্তুরূপ দান করবেন এবং সেই বস্তুগুলোর ওজন করা হবে। ইবনে ফুরাক এবং অন্যান্যরা এই অভিমতটিকে খণ্ডন করেছেন। একটি হাদিসে বর্ণিত আছে: "যখন মুমিনের নেক আমলসমূহ হালকা হয়ে যাবে, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি ছোট চিরকুট বের করবেন যা আঙ্গুলের অগ্রভাগের ন্যায় ক্ষুদ্র, অতঃপর তিনি তা মিজানের ডান পাল্লায় নিক্ষেপ করবেন যেখানে মুমিনের নেক আমলগুলো রয়েছে। এতে নেক আমলের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে।
তখন সেই মুমিন বান্দা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলবেন: আপনার জন্য আমার পিতামাতা উৎসর্গ হোক! আপনার চেহারা কত সুন্দর এবং আপনার অবয়ব কত চমৎকার! আপনি কে? তখন তিনি বলবেন: আমি তোমার নবী মুহাম্মদ, আর এটি হলো তোমার সেই দরুদ যা তুমি আমার ওপর পাঠ করতে। তোমার চরম অভাবের মুহূর্তে আমি তা তোমাকে পরিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে দিলাম।" ইমাম কুশাইরী তাঁর তাফসিরে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, 'বিতা-ক্বাহ' (বা বর্ণে কাসরা সহযোগে) হলো এমন এক টুকরো কাগজ বা চিরকুট যাতে পণ্যের চিহ্ন বা নম্বর লেখা থাকে, যা মিশরীয়দের ভাষা।
ইবনে মাজাহ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেছেন, 'বিতা-ক্বাহ' অর্থ চিরকুট; আর মিশরবাসীরা চিরকুটকে 'বিতা-ক্বাহ' বলে থাকে। হযরত হুযাইফা (রাযি.) বলেন: কিয়ামতের দিন পাল্লার দায়িত্বে থাকবেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)। মহান আল্লাহ বলবেন: "হে জিবরাঈল! তাদের মাঝে ওজন করো এবং একজনের পাওনা অন্যজনকে ফিরিয়ে দাও।" তিনি বলেন: সেখানে কোনো সোনা বা রূপা থাকবে না। সুতরাং যদি জালেমের কোনো নেক আমল থাকে, তবে তার নেক আমল থেকে নিয়ে মজলুমকে দিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি জালেমের কোনো নেক আমল না থাকে, তবে মজলুমের গুনাহসমূহ নিয়ে জালেমের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
ফলে লোকটি পাহাড়সম গুনাহ নিয়ে ফিরে আসবে। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন: হে আদম! পাল্লার কাছে কুরসীর পাশে এসে দাঁড়াও এবং তোমার সন্তানদের আমলসমূহ যা তোমার সামনে পেশ করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করো। যার নেক আমল তার বদ আমলের চেয়ে তিল পরিমাণও বেশি হবে, সে জান্নাতী। আর যার বদ আমল তার নেক আমলের চেয়ে তিল পরিমাণও বেশি হবে, সে জাহান্নামী। যাতে তুমি জানতে পারো যে, আমি জালেম ছাড়া কাউকেও শাস্তি প্রদান করি না।" [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০]নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য তাতে জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করেছি।
তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (১০)অর্থাৎ আমি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য আবাসস্থল ও বিশ্রামস্থল বানিয়েছি এবং তোমাদের জন্য তাতে জীবনধারণের উপায়-উপকরণ প্রস্তুত করেছি। 'মাআ-য়িশ' শব্দটি 'মাঈ-শাহ' এর বহুবচন, যার অর্থ পানাহার ও জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ। বলা হয়ে থাকে: 'আ-শা ইয়াঈ-শু আইশান ওয়া মাআ-শান ওয়া মাঈ-শান ওয়া মাঈ-শাতান ওয়া ঈ-শাতান'। ইমাম যাজ্জাজ বলেন: 'মাঈ-শাহ' হলো এমন মাধ্যম যার দ্বারা জীবনধারণ সম্ভব হয়। আখফাশ এবং অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে 'মাঈ-শাহ' শব্দটি 'মাফআলাহ' ওজনে গঠিত। আল-আরাজ 'মাআ-য়িশ' শব্দটি 'হামযা' সহযোগে পাঠ করেছেন।
খারিজাহ ইবনে মুসআব নাফে' থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ইবনে নাহহাস বলেন: এখানে হামযা সহযোগে পাঠ করা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ, কারণ এর একবচন হলো 'মাঈ-শাহ', যার মূল রূপ ছিল 'মাঈ-ইশাহ'। অতঃপর এতে 'আলিফে ওয়াসল' যুক্ত করা হয়েছে যা সাকিন এবং 'ইয়া' বর্ণটিও সাকিন, ফলে তাতে হরকত প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যেহেতু অন্য কোনো উপায় নেই।
