Al-A'raf
আল-আরাফ: 167
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
আরবি
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ ۗ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ ٱلْعِقَابِ ۖ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
English Translations
And [mention] when your Lord declared that He would surely [continue to] send upon them until the Day of Resurrection those who would afflict them with the worst torment. Indeed, your Lord is swift in penalty; but indeed, He is Forgiving and Merciful.
And (remember) when your Lord declared that He would certainly keep on sending against them (i.e. the Jews), till the Day of Resurrection, those who would afflict them with a humiliating torment. Verily, your Lord is Quick in Retribution (for the disobedient, wicked) and certainly He is Oft-Forgiving, Most Merciful (for the obedient and those who beg Allah's Forgiveness).
Recall) when your Lord declared that He would surely keep sending, till the Day of Judgment, those who inflict on them evil chastisement. Certainly, your Lord is swift in punishing, and certainly He is the Most-forgiving, Very Merciful.
And recall when Your Lord proclaimed that 'He would continually set in authority over them, till the Day of Judgement, those who would ruthless oppress thern.' Surely, your Lord is swift in chastising; and yet He is All-Forgiving, All-Merciful.
And (remember) when thy Lord proclaimed that He would raise against them till the Day of Resurrection those who would lay on them a cruel torment. Lo! verily thy Lord is swift in prosecution and lo! verily He is Forgiving, Merciful.
Behold! thy Lord did declare that He would send against them, to the Day of Judgment, those who would afflict them with grievous penalty. Thy Lord is quick in retribution, but He is also Oft-forgiving, Most Merciful.
বাংলা অনুবাদ
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করলেন যে, আমি অবশ্যই ক্বিয়ামাত পর্যন্ত বানী ইসরাঈলের উপর এমন লোকদেরকে পাঠাব যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে, তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে খুবই তৎপর, আর তিনি (মন্দ পরিত্যাগকারীদের জন্য) অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আর যখন তোমার রব ঘোষণা দিলেন, অবশ্যই তিনি তাদের উপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত এমন লোকদেরকে পাঠাবেন, যারা তাদেরকে আস্বাদন করাবে নিকৃষ্ট আযাব। নিশ্চয় তোমার রব আযাব প্রদানে খুব দ্রুত এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমার রাব্ব ঘোষণা করলেন যে, তিনি তাদের (ইয়াহুদীদের) উপর কিয়ামাত পর্যন্ত এমন সব লোককে শক্তিশালী করে প্রেরণ করতে থাকবেন যারা তাদেরকে কঠিনতর শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার রাব্ব শাস্তি দানে ক্ষিপ্র হস্ত, আর নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহশীল।
আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ঘোষণা করেন যে অবশ্যই তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদেরকে পাঠাবেন, যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে। আর নিশ্চয় আপনার রব শাস্তি দানে তৎপর এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করেন যে, তিনি অবশ্যই কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ওপর এমন লোকেদেরকে প্রেরণ করবেন যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেবে, আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে তৎপর এবং নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
১৬৭. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন আল্লাহ তা‘আলা সন্দেহাতীত ও পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করে বললেন: আমি অবশ্যই ইহুদিদের উপর এমন লোককে ক্ষমতা দেবো যে তাদেরকে এখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবে। হে রাসূল! নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক পাপীর দ্রুত শাস্তিদাতা। এমনকি তিনি কখনো কখনো তাকে দুনিয়াতেই দ্রুত শাস্তি দিয়ে থাকেন। তবে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যকার তাওবাকারীর পাপসমূহের জন্য অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
তাফসীর
(আরবী) শব্দটি (আরবী) ওযনে (আরবী) শব্দ হতে গৃহীত। অর্থাৎ হুকুম করেছেন বা জানিয়েছেন। আর যেহেতু এই আয়াতে কালামের শক্তির শান’ রয়েছে, সেহেতু (আরবী) শব্দের (আরবী) কসমের ফায়েদা দিচ্ছে। এজন্যে (আরবী)-এর পরেই (আরবী) আনা হয়েছে। (আরবী) সর্বনামটি ইয়াহূদীদের দিকে ফিরছে। অর্থাৎ আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন। বা জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঐ ইয়াহূদীদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত কঠিন শাস্তি নাযিল হতে থাকবে। অর্থাৎ তাদের অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্যপনা এবং প্রতিটি কাজে কর্মে প্রতারণার কারণে তারা লাঞ্ছনা ও অপমানজনক শাস্তি পেতে থাকবে। কথিত আছে যে, হযরত মূসা (আঃ) তাদের উপর সাত বছর বা তেরো বছর পর্যন্ত খেরাজ ধার্য করেছিলেন। আর তিনিই সর্বপ্রথম খেরাজ চালু করেছিলেন। অতঃপর ঐ ইয়াহূদীদের উপর ইউনানী, কশিদানী এবং কালদানীরা আধিপত্য লাভ করে। তারপর তারা খ্রীষ্টানদের ক্রোধের শিকার হয়। তারা তাদেরকে লাঞ্ছিত করতে থাকে। তাদের নিকট থেকে তারা জিযিয়া ও খেরাজ আদায় করতে থাকে। যখন ইসলামের আবির্ভাব ঘটে তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের উপর প্রাধান্য লাভ করেন। তারা যিম্মী ছিল এবং জিযিয়া কর প্রদান করতো। (সাঈদ ইবনে জুবাইর (রঃ), ইবনে জুরাইজ (রঃ), সুদ্দী (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ) এরূপই বলেছেন) সর্বশেষে তারা দাজ্জালের সাহায্যকারী রূপে বের হবে। কিন্তু মুসলমানরা তাদেরকে হত্যা করবে। এই উদ্দেশ্যে হযরত ঈসা (আঃ) মুসলমানদের সাথে সহযোগিতা করবেন। এসব কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঘটবে। আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা সত্বরই পাপীদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (আরবী) কিন্তু তিনি অবশ্যই ক্ষমাশীল ও দয়ালুও বটে। যে তাওবা করে তাকে তিনি ক্ষমা করে থাকেন। এখানেও একই কথা যে, আযাব ও রহমতের বর্ণনা সাথে সাথেই হয়েছে। যেন শাস্তি থেকে ভয় প্রদর্শনের কারণে মানুষ নৈরাশ্যের মধ্যে হাবুডুবু না খায়। তিনি উৎসাহ প্রদান ও ভয় প্রদর্শন একই সাথে করেছেন, যাতে মানুষ ভয় ও আশার মধ্যে থাকতে পারে।
আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ঘোষণা করেন যে [১] অবশ্যই তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদেরকে পাঠাবেন, যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে [২]। আর নিশ্চয় আপনার রব শাস্তি দানে তৎপর এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
[১] ‘তাআযযানা’ বাক্যাংশের দু'টি অর্থ হতে পারে। এক, ঘোষনা দিয়ে জানিয়ে দেয়া। দুই, সুদৃঢ় ইচ্ছা এবং সে অনুসারে নির্দেশ। [ইবন কাসীর]
[২] আলোচ্য আয়াতে পুর্ববর্তী আয়াতে মূসা ‘আলাইহিস সালামের অবশিষ্ট কাহিনী বিবৃত করার পর তার উম্মত অর্থাৎ ইয়াহুদীদের অসৎকর্মশীল লোকদের প্রতি নিন্দাবাদ এবং তাদের নিকৃষ্ট পরিণতির বর্ণনা এসেছে। সে অনুসারে তাদের উপর শাস্তির ঘোষণা খ্ৰীষ্টপূর্ব অষ্টম শতক থেকে প্রায় প্রতিটি গ্রন্থে দেয়া হয়েছে। এমনকি ঈসা আলাইহিসসালামও তাদেরকে এ একই সতর্কবাণী শুনান। বিভিন্ন ইনজীল গ্রন্থে তাঁর একাধিক ভাষণ থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। সবশেষে কুরআনুল কারামেও এ কথাটিকে দৃঢ়ভাবে পূনর্ব্যক্ত করেছে। আর তা হল কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর এমন কোন ব্যক্তিকে অবশ্যই চাপিয়ে রাখতে থাকবেন, যে তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে এবং অপমান ও লাঞ্ছনায় জড়িয়ে রাখবে। সুতরাং তখন থেকে নিয়ে অদ্যাবধি ইয়াহুদীরা সবসময়ই সর্বত্র ঘৃণিত, পরাজিত ও পরাধীন অবস্থায় রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, মূসা আলাইহিস সালাম তাদের উপর সাত বছর বা তেরো বছর খাজনা আরোপ করেছিলেন। তারপর গ্ৰীক, কাশদানী, কালদানী নৃপতিরা তাদের উপর কঠোর শাস্তি নিয়ে আপতিত হয়েছিল। পরে বুখতানাসারের হাতে, তারপর নাসারাদের হাতে, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে। সবশেষে তারা দাজ্জালের সহযোগীরূপে বের হবে, তারপর দাজ্জাল যখন মারা পড়বে, তখন মুসলিমরা ঈসা আলাইহিস সালামকে সাথে নিয়ে তাদের হত্যা করবে। [দেখুন, বুখারীঃ ২৯২৫, ২৯২৬] [ইবন কাসীর]।
