Al-A'raf
আল-আরাফ: 96
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
আরবি
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ ٱلْقُرَىٰٓ ءَامَنُوا۟ وَٱتَّقَوْا۟ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَـٰتٍ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ وَلَـٰكِن كَذَّبُوا۟ فَأَخَذْنَـٰهُم بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ
English Translations
And if only the people of the cities had believed and feared Allāh, We would have opened [i.e., bestowed] upon them blessings from the heaven and the earth; but they denied [the messengers], so We seized them for what they were earning.
And if the people of the towns had believed and had the Taqwa (piety), certainly, We should have opened for them blessings from the heaven and the earth, but they belied (the Messengers). So We took them (with punishment) for what they used to earn (polytheism and crimes, etc.).
If the people of the towns believed and feared Allah, We would have opened for them blessings from the heavens and the earth, but they disbelieved. So, We seized them because of what they used to earn for themselves.
Had the people of those towns believed and been God-fearing, We would certainly have opened up to them blessings from the heavens and the earth; but they gave the lie [to their Prophets] and so We seized them for their deeds. so.
And if the people of the townships had believed and kept from evil, surely We should have opened for them blessings from the sky and from the earth. But (unto every messenger) they gave the lie, and so We seized them on account of what they used to earn.
If the people of the towns had but believed and feared Allah, We should indeed have opened out to them (All kinds of) blessings from heaven and earth; but they rejected (the truth), and We brought them to book for their misdeeds.
বাংলা অনুবাদ
জনপদগুলোর লোকেরা যদি ঈমান আনত আর তাক্বওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি তাদের জন্য আসমান আর যমীনের কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম কিন্তু তারা (সত্যকে) প্রত্যাখ্যান করল। কাজেই তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
জনপদের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনত এবং আল্লাহভীতি অবলম্বন করত তাহলে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের দ্বারসমূহ খুলে দিতাম, কিন্তু তারা নাবী রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, ফলে তাদের কৃতকর্মের জন্য আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
আর যদি সে সব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমরা তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা মিথারোপ করেছিল; কাজেই আমারা তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছি।
যদি সে সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল; সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি।
৯৬. যদি এ এলাকাগুলোর অধিবাসীরা যাদের নিকট আমি রাসূলদেরকে পাঠিয়েছি তারা যদি রাসূলদের আনীত বিধানকে সত্য মনে করে গুনাহ ও কুফরি ছেড়ে তাদের প্রতিপালকের আদেশ মেনে তাঁকে ভয় করতো তাহলে আমি চতুর্দিক থেকে তাদের উপর কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিতাম। কিন্তু তারা রাসূলদেরকে সত্য না জেনে এবং আল্লাহকে ভয় না করে বরং রাসূলদের আনীত বিধানকে মিথ্যা বলেছে। তাই আমি তাদেরকে গুনাহ ও পাপের দরুন হঠাৎ শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করলাম।
তাফসীর
৯৬-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা এখানে জনপদবাসীদের ঈমানের স্বল্পতার বর্ণনা দিচ্ছেন যাদের কাছে রাসূলদেরকে প্রেরণ করা হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তাআলার উক্তিঃ “জনপদবাসী কেন ঈমান আনলো না যে, তাদের ঈমান দ্বারা তারা উপকৃত হতো? ইউনুসের কওম এর ব্যতিক্রম ছিল।” অর্থাৎ ইউনুস (আঃ)-এর কওম ছাড়া অন্য কোন জনপদের সমস্ত লোক ঈমান আনেনি। হযরত ইউনুস (আঃ)-এর কওমের সমস্ত লোকই ঈমান এনেছিল এবং ওটা ছিল তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তারা ঈমান আনলো, তখন আমি তাদেরকে সাময়িকভাবে পার্থিব সুখ শান্তি দান করলাম।” যেমন তিনি বলেনঃ “আমি তাকে এক লক্ষ বা তারও বেশী লোকের কাছে নবীরূপে প্রেরণ করেছিলাম।” ইরশাদ হচ্ছে-যদি এই জনপদবাসী ঈমান আনতে এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো তবে আমি তাদের উপর আকাশ ও যমীনের বরকত নাযিল করতাম । অর্থাৎ আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করতাম এবং যমীন হতে ফসল উৎপাদন করতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। এর শাস্তি স্বরূপ আমি তাদেরকে আযাবের স্বাদ গ্রহণ করিয়েছি। অর্থাৎ তারা রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তখন আমি তাদের দুষ্কার্যের কারণে তাদেরকে শাস্তির যাঁতাকলে পিষ্ট করেছি। এর পর আল্লাহ পাক স্বীয় আদেশের বিরোধিতা এবং পাপকার্যে সাহসিকতা প্রদর্শন করা হতে ভীতি প্রদর্শন করছেন। তিনি বলেনঃ “এই জনপদবাসী কাফিররা কি আমার শাস্তি হতে নিরাপত্তা লাভ করেছে? তারা শুয়েই থাকবে এমতাবস্থায় রাত্রিকালেই আমি তাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত করবো। অথবা তারা কি এ থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে যে, দিবাভাগের কোন এক সময় শাস্তি তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে এবং সেই সময় তারা নিজেদের কাজ কারবারে লিপ্ত থাকবে ও সম্পূর্ণ উদাসীন থাকবে? তারা কি এতটুকুও ভয় করে না যে, আমার প্রতিশোধ তাদেরকে যে কোন সময় পাকড়াও করবে এবং সেই সময় তারা খেল তামাশায় মগ্ন থাকবে? মনে রাখবে যে, হতভাগ্য সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। এ জন্যেই হাসান বসরী (রঃ) বলেছেনঃ “মুমিন বান্দা আল্লাহর আনুগত্য করে এবং ভাল কাজ করতে থাকে, এর পরেও সে সদা আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে। পক্ষান্তরে পাপী ব্যক্তি পাপকার্যে লিপ্ত থাকে আবার এর পরেও সে নিজেকে মাহফুয ও নিরাপদ মনে করে।
আর যদি সে সব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমরা তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম [১], কিন্তু তারা মিথারোপ করেছিল; কাজেই আমারা তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছি।
[১] বরকতের শাব্দিক অর্থ প্রবৃদ্ধি। আর বরকতের মূল হচ্ছে, কোন কিছু নিয়মিত থাকা। [বাগভী] আসমান ও যমীনের সমস্ত বরকত খুলে দেয়া' বলতে উদ্দেশ্য হল সব রকম কল্যাণ সবদিক থেকে খুলে দেয়া। অর্থাৎ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হত আর যমীন থেকে যে কোন বস্তু তাদের মনমত উৎপাদিত হত এবং অতঃপর সেসব বস্তু দ্বারা তাদের লাভবান হওয়ার এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করে দেয়া হত। [ফিাতহুল কাদীর] তাতে তাদেরকে এমন কোন চিন্তা-ভাবনা কিংবা টানাপোড়নের সম্মুখীন হতে হত না যার দরুন বড় বড় নেয়ামতও পঙ্কিলতাপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে তাদের প্রতিটি বিষয়ে বরকত বা প্রবৃদ্ধি ঘটত।
পৃথিবীতে বরকতের বিকাশ ঘটে দু'রকমে। কখনো মুল বস্তুটি প্রকৃতভাবেই বেড়ে যায়। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মু'জিযাসমূহের মধ্যে রয়েছে একটা সাধারণ পাত্রের পানি দ্বারা গোটা কাফেলার পরিতৃপ্ত হওয়া। কিংবা সামান্য খাদ্য দ্রব্যে বিরাট সমাবেশের পেটভরে খাওয়া যা সঠিক ও বিশুদ্ধ রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে। আবার কোন কোন সময় মূল বস্তুতে বাহ্যতঃ কোন বরকত বা প্রবৃদ্ধি যদিও হয় না, পরিমাণে যা ছিল তাই থেকে যায় কিন্তু তার দ্বারা এতবেশী কাজ হয় যা এমন দ্বিগুণ, চতুগুণ বস্তুর দ্বারাও সাধারণতঃ সম্ভব হয় না। তাছাড়া সাধারণভাবেও দেখা যায় যে, কোন একটা পাত্র কাপড়-চোপড় কিংবা ঘরদুয়ার অথবা ঘরের অন্য কোন আসবাবপত্র এমন বরকতময় হয় যে মানুষ তাতে আজীবন উপকৃত হওয়ার পরেও তা তেমনি বিদ্যমান থেকে যায়। পক্ষান্তরে অনেক জিনিস তৈরী করার সময়ই ভেঙ্গে বিনষ্ট হয়ে যায় কিংবা অটুট থাকলেও তার দ্বারা উপকার লাভের কোন সুযোগ আসে না। অথবা উপকারে আসলেও তাতে পরিপূর্ণ উপকৃত হওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। এই বরকত মানুষের ধন সম্পদে হতে পারে, মন মস্তিস্কে হতে পারে আবার কাজ কর্মেও হতে পারে। কোন কোন সময় মাত্র এক গ্রাস খাদ্যও মানুষের জন্য পূর্ণ শক্তি-সামর্থ্যের কারণ হয়। আবার কোন কোন সময় অতি উত্তম পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য বা ঔষধও কোন কাজে আসে না। তেমনিভাবে কোন সময়ের মধ্যে বরকত হলে মাত্র এক ঘন্টা সময়ে এত অধিক কাজ করা যায়, যা অন্য সময় চার ঘন্টায়ও করা যায় না। এসব ক্ষেত্রে পরিমাণের দিক দিয়ে সম্পদ বা সময় বাড়ে না সত্য, কিন্তু এমনি বরকত তাতে প্রকাশ পায় যাতে কাজ হয় বহুগুণ বেশী।
