Al-A'raf
আল-আরাফ: 62
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
أُبَلِّغُكُمْ رِسَـٰلَـٰتِ رَبِّى وَأَنصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
English Translations
I convey to you the messages of my Lord and advise you; and I know from Allāh what you do not know.
"I convey unto you the Messages of my Lord and give sincere advice to you. And I know from Allah what you know not.
I convey to you the messages of my Lord and wish your betterment, and I know from Allah what you do not know.
I convey to you the messages of my Lord, give you sincere advice, and I know from Allah that which you do not know.
I convey unto you the messages of my Lord and give good counsel unto you, and know from Allah that which ye know not.
"I but fulfil towards you the duties of my Lord's mission: Sincere is my advice to you, and I know from Allah something that ye know not.
বাংলা অনুবাদ
আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিচ্ছি আর তোমাদেরকে নাসীহাত করছি, আর আমি আল্লাহর নিকট হতে (এমন সব বিষয়) জানি যা তোমরা জান না।
‘আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি আমার রবের রিসালাতসমূহ এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি। আর আমি আল্লাহর কাছ থেকে এমন কিছু জানি, যা তোমরা জান না’।
আমি আমার রবের বার্তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি। তোমরা যা জাননা আমি তা আল্লাহর নিকট থেকে জেনে থাকি।
‘আমি আমার রবের রিসালাত (যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা) তোমাদের কাছে পৌছাচ্ছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি। আর তোমরা যা জান না আমি তা আল্লাহর কাছ থেকে জানি।’
আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছি ও তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি এবং তোমরা যা জান না আমি তা আল্লাহর নিকট হতে জানি।
৬২. আল্লাহ তা‘আলা আমাকে যে ওহীর বাণী দিয়ে তোমাদের নিকট পাঠিয়েছেন তা আমি তোমাদেরকে পৌঁছিয়ে দিচ্ছি। আর আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আদেশ মানতে, তার সাওয়াবের প্রতি উৎসাহিত করতে, আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত না হতে এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় পেতে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে তোমাদেরই কল্যাণ কামনা করছি। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জানো না। যা আমাকে আল্লাহ তা‘আলা ওহীর মাধ্যমে শিখিয়েছেন।
তাফসীর
7:59
‘আমি আমার রবের রিসালাত (যা নিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা) তোমাদের কাছে পৌছাচ্ছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি। আর তোমরা যা জান না আমি তা আল্লাহর কাছ থেকে জানি।’
[সূরা আল-আ'রাফ (৭): আয়াত ৬০ থেকে ৬২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
পানে কোনো কিছুই তাকে বাধা দেয়নি, কেবল একটি কপোতী দীর্ঘ ও ফলবতী ডুম গাছে ডাকছিল … «১»কিসায়ী বলেন: হাঁ-বাচক বাক্যে 'গাইরুকা' (তুমি ছাড়া) শব্দযোগে "জায়ানি গাইরুকা" (আমার নিকট তুমি ছাড়া আর কেউ আসেনি) বলা বৈধ নয়, কারণ এখানে 'ইল্লা' (إلا) বসানো সম্ভব নয়। নাহহাস বলেন: বসরী ব্যাকরণবিদদের মতে, বাক্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত 'গাইরা' (غَيْرَ) শব্দটিকে নসব (জবর) প্রদান করা বৈধ নয়। তাদের নিকট এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট মানের ব্যাকরণিক ভুল। [সূরা আল-আ'রাফ (৭): আয়াত ৬০ থেকে ৬২]তাঁর সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বলল, 'নিশ্চয় আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি' (৬০)।
তিনি বললেন, 'হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং আমি তো বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল' (৬১)। 'আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিচ্ছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি। আর আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জানো না' (৬২)।"আল-মালাউ" হলো সম্প্রদায়ের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। সূরা আল-বাকারায় এর ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। 'আদ-দলাল' ও 'আদ-দলালাহ' হলো সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং তা থেকে দূরে সরে যাওয়া। অর্থাৎ (তাদের বক্তব্য ছিল): আমরা যখন এক ইলাহের দিকে আহ্বান করি, তখন আমরা তোমাকে সত্য থেকে বিচ্যুত বিভ্রান্তির মধ্যে দেখতে পাই।
'উবাল্লিগুকুম' শব্দটি তাশদীদ সহকারে 'তাবলীগ' ধাতু হতে এবং তাশদীদ ছাড়া 'ইবলাগ' ধাতু হতে গঠিত। বলা হয়েছে যে, এ দুটি একই অর্থের দুটি ভিন্ন রূপ, যেমন 'কাররামা' এবং 'আকরামা'। 'ওয়া আনসাহু লাকুম' এর মূল শব্দ 'আন-নুসহ্' হলো কোনো লেনদেন বা আচরণে মন্দ সংমিশ্রণ থেকে নিয়তকে খাঁটি রাখা, যা প্রতারণার বিপরীত। বলা হয়: 'নাসাহতুহু' এবং 'নাসাহতু লাহু' (আমি তাকে নসীহত করেছি), এর বিভিন্ন রূপ হলো নাসীহাহ, নাসাহাহ এবং নুসহ্। 'লাম' হরফ যোগে ব্যবহারটিই অধিক বিশুদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি"। এর বিশেষ্য হলো নাসীহাহ।
'আন-নাসীহ' অর্থ নাসীহতকারী বা শুভাকাঙ্ক্ষী, এর বহুবচন হলো 'নুসাহাউ'। আর 'নাসিহুল জাইবি' অর্থ হলো স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি। আসমায়ী বলেন: 'আন-নাসিহ' অর্থ মধু বা অন্য কিছুর স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ অংশ। যেমন 'আন-নাসি'। প্রতিটি বস্তু যখন বিশুদ্ধ হয়, তখন তাকে 'নাসাহা' বলা হয়। অমুক ব্যক্তি 'ইনতাসাহা' অর্থ সে নাসীহত গ্রহণ করেছে। বলা হয়: তুমি আমার নাসীহত গ্রহণ করো, নিশ্চয় আমি তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী। 'আন-নাসিহ' দ্বারা দর্জিকেও বোঝানো হয়। 'আন-নিসাহ' হলো সেই সুতা যা দিয়ে সেলাই করা হয়। আবার 'আন-নাসাহাত' অর্থ চামড়াসমূহ। কবি আশা বলেন:তুমি দেখবে মদ্যপায়ীরা সবাই মাতাল … যেন নবজাতক উটের চামড়া প্রসারিত করা হয়েছে'আর-রুবাহ' শব্দটি 'আর-রুবা' শব্দেরই একটি রূপ, যা উটের শাবককে বোঝায়।
'আর-রুবাহ' এক প্রকার পাখির নামও বটে। ইনশাআল্লাহ সূরা আত-তাওবায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।(১). কাব্য পঙক্তিটি আবু কায়েস বিন আল-আসলাত-এর। 'আস-সাহুক' হলো দীর্ঘ ডুম গাছ। আল-খিজানাহ গ্রন্থে 'শাখা-প্রশাখায়' শব্দ এসেছে। 'আওকাল' অর্থ তার ফলসমূহ। খিজানাতুল আদব, ২য় খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।(২). দ্রষ্টব্য: ৩য় খণ্ড, ২৪৩ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য: ৮ম খণ্ড, ২২৬ পৃষ্ঠা।
