Al-A'raf
আল-আরাফ: 107
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
English Translations
So he [i.e., Moses] threw his staff, and suddenly it was a serpent, manifest.
Then [Musa (Moses)] threw his stick and behold! it was a serpent, manifest!
So he threw down his staff, and in no time it was a vivid serpent;
Thereupon Moses threw his rod, and suddenly it was a veritable serpent.
Then he flung down his staff and lo! it was a serpent manifest;
Then (Moses) threw his rod, and behold! it was a serpent, plain (for all to see)!
বাংলা অনুবাদ
সে তার লাঠি নিক্ষেপ করল আর তখন তা একটা প্রকাশ্য অজগর হয়ে গেল।
তখন সে ছেড়ে দিল তার লাঠি। তৎক্ষণাৎ তা এক স্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং সহসাই ওটা এক জীবিত অজগরে পরিণত হল।
অতঃপর মূসা তাঁর হাতের লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং সাথে সাথেই তা এক অজগর সাপে পরিণত হল।
অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং তৎক্ষণাৎ সেটা এক প্রকাশ্য অজগর সাপে পরিণত হল।
১০৭. তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তার লাঠিটিকে হাত থেকে ফেলে দিলে তা একটি বড় সাপে রূপান্তরিত হয় যা সকল দর্শকই দেখতে পায়।
তাফসীর
১০৭-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত মূসা (আঃ) স্বীয় লাঠিখানা সামনে নিক্ষেপ করলেন। তখনই ওটা আল্লাহর কুদরতে একটা বিরাট অজগর সাপে পরিণত হলো এবং ফিরাউনের দিকে বেগে ধাবিত হলো। ফিরাউন তখন সিংহাসন থেকে লাফিয়ে পড়লো এবং চীকার করে হযরত মূসা (আঃ)-কে বলে উঠলোঃ “হে মূসা (আঃ)! ওকে টেনে নাও।' তিনি তখন ওকে টেনে ধরলেন। তৎক্ষণাৎ ওটা লাঠি হায়ে গেলো। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যখন ঐ সাপটি হা করলো তখন ওর নীচের চোয়াল ছিল মাটিতে এবং উপরের চোয়াল ছিল দালানের দেয়ালের উপর। যখন ওটা ফিরাউনের দিকে ধাবিত হলো তখন সে কেঁপে উঠলো ও লাফিয়ে পড়ে পালাতে লাগলো এবং চীকার করে বলে উঠলো- “হে মূসা (আঃ)!
ওকে ধরে নাও। আমি তোমার উপর ঈমান আনছি এবং বানী ইসরাঈলকে তোমার সাথে পাঠিয়ে দিচ্ছি।” হযরত মূসা (আঃ) তখন ওটাকে ধরে নিলেন। তেমনই ওটা পুনরায় লাঠি হয়ে গেল। মূসা (আঃ) যখন ফিরাউনের কাছে এসেছিলেন তখন সে বলেছিলঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমি কে তা আমি বলবো কি?” হযরত মূসা (আঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, বল। সে বললোঃ “তুমি তো ঐ ব্যক্তিই যে আমার কাছেই লালিত পালিত হয়ে বড় হয়েছে” হযরত মূসা (আঃ) তার উত্তর দিয়ে দিলে সে তাঁকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়। মূসা (আঃ) তখন তার লাঠিখানা মাটিতে নিক্ষেপ করেন। তৎক্ষণাৎ ওটা বিরাট এক অজগরে পরিণত হয়ে চলতে শুরু করে এবং জনগণের উপর আক্রমণ করে বসে।
জনগণের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। ঐ হুড় হাঙ্গামার মধ্যে পঁচিশ হাজার লোক প্রাণ হারায়। ফিরাউন পালিয়ে গিয়ে স্বীয় প্রাসাদে প্রবেশ করে। এই বর্ণনাটি খুবই দুর্বল। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী।এখন ইরশাদ হচ্ছে-মূসা (আঃ)-এর দ্বিতীয় মু'জিযা ছিল এই যে, যখন তিনি জামার মধ্যে হাত ভরে তা বের করতেন তখন ওটা সীমাহীন আলোকময় হয়ে উঠতো এবং এমন চাকচিক্যময় ও উজ্জ্বল হতো যে, ওর দিকে চোখ ধরা যেতো না। ওর আলোর মধ্যে কোনই ক্রটি ছিল না। যখন তিনি তাঁর সেই হাতকে আস্তিনের মধ্যে প্রবেশ করাতেন তখন ওটা পূর্বরূপ ধারণ করতো।
অতঃপর মূসা তাঁর হাতের লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং সাথে সাথেই তা এক অজগর সাপে পরিণত হল [১]।
[১] সারকথা, আমার কথার উপর তোমাদের বিশ্বাস এজন্য স্থাপন করা কর্তব্য যে, আমার সত্যতা তোমাদের সবার সামনে ভাস্কর; আমি কখনো মিথ্যা বলিওনি বলতে পারিও না। কারণ নবী-রাসূলগণ খেয়ানত ও যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত নিষ্পাপ। তাছাড়া শুধুমাত্র তাই নয় যে, আমি কখনো মিথ্যা বলিনি; বরং আমার দাবীর সপক্ষে আমার মু'জিযাসমূহ প্রমাণ হিসাবে রয়েছে। সুতরাং এসব বিষয়ের প্রেক্ষিতে তোমরা আমার কথা শুন এবং আমার কথা মান। বনী-ইসরাঈলকে অন্যায় দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে আমার সাথে দিয়ে দাও। কিন্তু ফিরআউন অন্য কোন কথাই লক্ষ্য করল না; মু'জিযা দেখবার দাবী করতে লাগল এবং বললঃ বাস্তবিকই যদি তুমি কোন মু'জিযা নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থাপন কর যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক।
মূসা আলাইহিস সালাম তার দাবী মেনে নিয়ে স্বীয় লাঠিখানা মাটিতে ফেলে দিলেন, আর অমনি তা এক বিরাট অজগরে পরিণত হয়ে গেল। ‘সূ’বান’ বলা হয় বিরাটকায় অজগরকে। আর তার গুণবাচক মুবীন’ শব্দ উল্লেখ করে বলে দেয়া হয়েছে যে, সে লাঠির সাপ হয়ে যাওয়াটা এমন কোন ঘটনা ছিল না যা অন্ধকারে কিংবা পর্দার আড়ালে ঘটে থাকবে যা কেউ দেখে থাকবে, কেউ দেখবে না। সাধারণতঃ যা জাদুকরদের বেলায় ঘটে থাকে। বরং এ ঘটনাটি সংঘটিত হল প্রকাশ্য দরবারে সবার সামনে।
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তাদের পরে প্রেরণ করেছি) অর্থাৎ নূহ, হূদ, সালিহ, লূত ও শুআইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরে। (মূসা) অর্থাৎ মূসা ইবনে ইমরানকে (আমাদের নিদর্শনাবলি সহকারে) অর্থাৎ আমাদের মুজিজাসমূহ সহকারে। (অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করল) অর্থাৎ তারা কুফরি করল এবং নিদর্শনগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করল না। আর জুলুম হলো: কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা। মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব লক্ষ্য করো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল) অর্থাৎ তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২]আর মূসা বলল, "হে ফেরাউন!
নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল (১০৪)। আমি এ বিষয়ে সুদৃঢ় যে, আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত কিছু বলব না। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি; সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও (১০৫)। সে বলল, "তুমি যদি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো, তবে তা উপস্থাপন করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও" (১০৬)। অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা এক জলজ্যান্ত অজগরে পরিণত হলো (১০৭)। আর তিনি তার হাত বের করলেন, অমনি তা দর্শকদের কাছে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হলো (১০৮)।ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলল, "নিশ্চয়ই এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর!" (১০৯)।
সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায়; এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও? (১১০)। তারা বলল, "তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠিয়ে দিন (১১১), তারা আপনার কাছে প্রত্যেক সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আসবে" (১১২)।"হাকীকুন আলা" এর অর্থ ওয়াজিব বা অপরিহার্য। আর যারা "আলা আল্লা" পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো: আমি যেন সত্য ব্যতীত কিছু না বলি সে বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নশীল। আব্দুল্লাহর কিরাতে "আলা" বর্জন করে "হাকীকুন আল্লা আকুলা" রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে "আলা" অব্যয়টি "বা" (অনুসর্গ) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ "হাকীকুন বি-আল্লা আকুলা"।
অনুরুপভাবে উবাই ও আমাশের কিরাতে রয়েছে "বি-আল্লা আকুলা"। যেমন বলা হয়: "রামাইতু বিল কাওসি" এবং "আলাল কাওসি" (ধনুক দিয়ে নিক্ষেপ করলাম)। এই মতানুসারে "হাকীক" শব্দটি এখানে "মাহকুক" (যোগ্য বা সাব্যস্ত) অর্থে ব্যবহৃত। আর "সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও" এর অর্থ হলো তাদের মুক্ত করে দাও। সে (ফেরাউন) তাদের দিয়ে কঠিন পরিশ্রমসাধ্য কাজ করাত। (অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন) 'নিক্ষেপ করা' শব্দটি বস্তু ও ভাব উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর "সু'বান" হলো বিশাল আকৃতির পুরুষ সাপ, যা সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
(সুস্পষ্ট/প্রকাশ্য)(১) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে এরূপ রয়েছে। অন্যান্য মূল পাঠে রয়েছে: 'নামূদ'।(২) নাফে'-এর কিরাত।(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তিনি তাদের ব্যস্ত রাখতেন'।(৪) দেখুন: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২। [ ..... ]
