Al-A'raf
আল-আরাফ: 184
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا۟ ۗ مَا بِصَاحِبِهِم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
English Translations
Then do they not give thought? There is in their companion [i.e., Muḥammad (ﷺ)] no madness. He is not but a clear warner.
Do they not reflect? There is no madness in their companion (Muhammad SAW). He is but a plain warner.
Have they not reflected that their fellow (i.e. the Holy Prophet) does not suffer from any madness? He is but a plain warner.
Have they not pondered that their companion [i.e. the Prophet Muhammad] is not afflicted with insanity? He is only a plain warner.
Have they not bethought them (that) there is no madness in their comrade? He is but a plain warner.
Do they not reflect? Their companion is not seized with madness: he is but a perspicuous warner.
বাংলা অনুবাদ
তারা কি চিন্তা-ভাবনা করে না সে তাদের সঙ্গী (আমার রসূল) তো উম্মাদ নয়, সে তো প্রকাশ্য এক সতর্ককারী।
তারা কি চিন্তা করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই; সে তো স্পষ্ট সতর্ককারী।
তারা কি এটা চিন্তা করেনা যে, তাদের সঙ্গী পাগল নয়? সে নিছক একজন সুস্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী!
তারা কি চিত্তা করে না যে, তাদের সাথী মোটেই উন্মাদ নন; তিনি তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদের সঙ্গী তো উন্মাদ নয়, সে তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
১৮৪. যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে মিথ্যা মনে করে তারা কি নিজেদের মেধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে একটু চিন্তা করে দেখে না? যাতে তাদের নিকট এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাগল নন। বরং তিনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তা‘আলা নিজ আযাব থেকে সুস্পষ্ট ভীতি প্রদর্শনের জন্য তাঁকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন।
তাফসীর
এই মিথ্যা প্রতিপন্নকারীরা এটাও চিন্তা করেনি যে, তাদের বন্ধু ও সঙ্গী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) মোটেই পাগল নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল। যিনি মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করে থাকেন। যে ব্যক্তির স্থির বুদ্ধি রয়েছে এবং তা সে কাজে লাগিয়ে থাকে সেই পরিষ্কারভাবে এটা বুঝতে পারবে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “আমি তোমাদেরকে একটি কথার নসীহত করছি যে, তোমরা। আল্লাহরই ইবাদত করবে এবং এর তাবলীগের জন্যে এক একজন ও দুজন দু’জন মিলিত হয়ে দাড়িয়ে যাও। অতঃপর গভীরভাবে চিন্তা করে দেখো যে, তোমাদের সঙ্গী (হযরত মুহাম্মাদ সঃ) পাগল নয়। বরং তিনি তো তোমাদেরকে আল্লাহর ভীষণ শাস্তি থেকে ভয় প্রদর্শনকারী।” খাটি অন্তরে আল্লাহকে ডাকতে থাকো।
গোঁড়ামি ও একগুয়েমি পরিত্যাগ কর। যদি তোমরা এরূপ কর তবে হাকীকত তোমাদের কাছে খুলে যাবে যে, এই রাসূল (সঃ) সত্য এবং তোমাদের শুভাকাঙ্খী।রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা ‘সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করেন। সেখানে তিনি কুরায়েশদেরকে একত্রিত করেন এবং এক এক গোত্রের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি এবং আকস্মিক দুর্ঘটনা থেকে ভয় প্রদর্শন করেন। তখন কোন কোন নির্বোধ ব্যক্তি বলতে শুরু করে যে, তাঁকে তো পাগল বলে মনে হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত তিনি বক্তৃতা করতে থাকেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন।
তারা কি চিত্তা করে না যে, তাদের সাথী মোটেই উন্মাদ নন [১]; তিনি তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
[১] সাথী বলতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতেও আল্লাহ তা'আলা এ ঘোষণা দিয়েছেন, “আর তোমাদের সার্থী উন্মাদ নন” [ আত-তাকওয়ীর: ২২] আরও বলেন, “বলুন, ‘আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু-দুজন অথবা এক-একজন করে দাঁড়াও, তারপর তোমরা চিন্তা করে দেখ---তোমাদের সার্থীর মধ্যে কোন উন্মাদনা নেই। আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তিনি তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্র" [সাবা: ৪৬] অর্থাৎ তিনি তাদের মধ্যেই জন্মলাভ করেন। তাদের মধ্যে বসবাস করেন। শৈশব থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্যে পদার্পন করেন।
নবুওয়াত লাভের পূর্বে সমগ্র জাতি তাকে একজন অত্যন্ত শান্ত-শিষ্ট-ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাব প্রকৃতি ও সুস্থ মন-মগজধারী মানুষ বলে জানতো। নবুওয়াত লাভের পর যে-ই তিনি মানুষের কাছে আল্লাহর দাওয়াত পৌছাতে শুরু করলেন, অমনি তাকে পাগল বলা আরম্ভ হয়ে গেল। একথা সুস্পষ্ট, নবী হওয়ার আগে তিনি যেসব কথা বলতেন সেগুলোর জন্য তাকে পাগল বলা হয়নি বরং নবী হওয়ার পর তিনি যেসব কথা প্রচার করতে থাকেন সেগুলোর জন্য তাকে পাগল বলা হতে থাকে। তাই এখানে বলা হচ্ছে, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে, যে কথাগুলো তিনি বলছেন তার মধ্যে কোনটি পাগলামির কথা? কোন কথাটি অর্থহীন, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক?
যদি তারা চিন্তা করতো তাহলে তারা নিজেরাই বুঝতে পারতো যে, শিরকের মতবাদ খণ্ডন, তাওহীদের প্রমাণ, রবের বন্দেগীর দাওয়াত এবং মানুষের দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহি সম্পর্কে তাদের সার্থী তাদেরকে যা কিছু বুঝাচ্ছেন তা কোন পাগলের কথা নয়। তাঁর স্বভাব ও চরিত্র সবচেয়ে উন্নত। তার কথা সবচেয়ে সুন্দর। তিনি তো শুধু কল্যাণের দিকেই আহবান করেন। অন্যায় ও অকল্যাণ থেকেই শুধু নিষেধ করেন। [ সা'দী]
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৮৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
দৃঢ় ভিত্তি বা মেরুদণ্ড। বলা হয়েছে: এটি কুরাইশদের সেই বিদ্রূপকারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ একটি নির্দিষ্ট সময় অবকাশ দেওয়ার পর এক রাতেই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। এর সমান্তরাল হলো (আল্লাহর বাণী): "অবশেষে যখন তারা যা তাদের দেওয়া হয়েছিল তাতে উল্লসিত হলো, তখন আমি হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম (১)।" এবং এটি ইতিপূর্বেও অতিক্রান্ত হয়েছে। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৮৪]তারা কি চিন্তা করে দেখেনি যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই? তিনি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। (১৮৪)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা কি চিন্তা করে দেখেনি) অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে।
'তারা চিন্তা করে দেখেনি' অংশে থামা বা ওয়াকফ করা উত্তম। এরপর তিনি বলেন: "তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই"—এটি তাদের এই উক্তির প্রতিবাদ: "হে ঐ ব্যক্তি যার প্রতি উপদেশ অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো নিশ্চিতভাবেই পাগল (২)।" আর বলা হয়েছে: এটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কুরাইশদের প্রত্যেক গোত্রকে এক এক করে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন: "হে অমুক বংশের সন্তানরা!" তিনি তাদের আল্লাহর কঠোর শাস্তি ও আযাব সম্পর্কে সতর্ক করছিলেন। তখন তাদের মধ্যকার একজন বলল: নিশ্চয়ই তাদের এই সঙ্গী তো পাগল, সে ভোররাত পর্যন্ত চিৎকার করছে।
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৮৫]তারা কি আসমান ও যমীনের সার্বভৌম রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সবের প্রতি লক্ষ্য করেনি? আর এই যে, সম্ভবত তাদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে; সুতরাং এরপর তারা আর কোন কথায় বিশ্বাস করবে? (১৮৫)এর মধ্যে চারটি মাসআলা বা আলোচনা রয়েছে: প্রথমত—আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা কি লক্ষ্য করেনি) এটি তাঁর নিদর্শনাবলি পর্যবেক্ষণ থেকে তাদের বিমুখ হওয়ার কারণে বিস্ময় প্রকাশ, যাতে তারা তাঁর অসীম কুদরতের পূর্ণতা অনুধাবন করতে পারে, যেমনটি আমরা সূরা আল-বাকারায় (৩) বর্ণনা করেছি। আর 'মালাকুত' শব্দটি আধিক্য বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দকাঠামো এবং এর অর্থ হলো সুমহান রাজত্ব।
এটি ইতিপূর্বেও (৪) অতিক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত—এই আয়াত এবং এর সদৃশ আল্লাহ তাআলার বাণী দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে: "বলো, তোমরা আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার প্রতি লক্ষ্য করো (৫)।" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "তারা কি তাদের উপরের আকাশের দিকে তাকায় না যে, আমি তা কীভাবে নির্মাণ করেছি (৬)?" এবং তাঁর বাণী:(১). দেখুন: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৫।(২). দেখুন: ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪।(৩). দেখুন: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৫।(৪). দেখুন: এই খণ্ডের ২৩ পৃষ্ঠা।(৫). দেখুন: ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৬।(৬). দেখুন: ১৭শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫।
