Al-A'raf

আল-আরাফ: 159

7:159

আরবি

وَمِن قَوْمِ مُوسَىٰٓ أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِٱلْحَقِّ وَبِهِۦ يَعْدِلُونَ

English Translations

Sahih International

And among the people of Moses is a community which guides by truth and by it establishes justice.

Muhsin Khan

And of the people of Musa (Moses) there is a community who lead (the men) with truth and establish justice therewith (i.e. judge men with truth and justice).

Taqi Usmani

Among the community of Mūsā there are people who guide with truth and do justice thereby.

Abul Ala Maududi

Among the people of Moses' there was a party who guided others in the way of the truth and established justice in its light.

Pickthall

And of Moses' folk there is a community who lead with truth and establish justice therewith.

Yusuf Ali

Of the people of Moses there is a section who guide and do justice in the light of truth.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এক দল লোক আছে যারা সত্য বিধান অনুযায়ী (অন্যকে) পথ দেখায় আর সত্য বিধান অনুযায়ী ইনসাফ করে।

রাওয়াই আল-বায়ান

মূসার কওম থেকে এমন এক দল রয়েছে যারা সঠিকভাবে পথ প্রদর্শন করে এবং তা দ্বারা ইনসাফ করে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা সঠিক ও নির্ভুল পথ প্রদর্শন করে এবং ন্যায় বিচার করে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ দেখায় ও সে অনুযায়ীই (বিচারে) ইনসাফ করে।

ফাতহুল মাজীদ

মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ দেখায় ও সে মতেই বিচার করে।

মুখতাসার

১৫৯. মূসা (আলিাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক দলও রয়েছে যারা সত্য দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত। তারা মানুষকে সত্য পথ দেখায় এবং ইনসাফ ভিত্তিক ফায়সালা করে। কারো উপর কোন ধরনের যুলুম করে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

সংবাদ দেয়া হচ্ছে যে, বানী ইসরাঈলের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা সঠিক ও সত্য কাজের অনুসরণ করে, নির্ভুল পথ প্রদর্শন করে এবং বিচার-আচার সত্য ও ন্যায়কে সামনে রেখে করে থাকে। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ “আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা রাত্রিকালে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে থাকে ও সেজদায় পতিত হয়। অন্যত্র বলেনঃ “আহলে কিতাবের মধ্যে এমনও লোক আছে যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে, আর তোমাদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তাদের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে সবগুলোর উপরই বিশ্বাস স্থাপন করে, আর তারা আল্লাহর সামনে বিনয় প্রকাশ করে থাকে। অন্যান্য আহলে কিতাবের মত তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে টাকা পয়সার লোভে বিক্রী করে না। আল্লাহর কাছে তাদের প্রতিদান রয়েছে। আল্লাহ শীঘ্রই হিসাব গ্রহণকারী।” আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ “যাদেরকে আমি ইতিপূর্বে কিতাব দিয়েছিলাম তারা ওর উপর ঈমান আনে, যখন তাদের সামনে আমার আয়াতগুলো পাঠ করা হয় তখন তারা বলেআমরা এখনও মুসলমান এবং এর পূর্বেও মুসলমান ছিলাম। তাদেরকে তাদের সবরের দু’বার প্রতিদান দেয়া হবে।” মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ “যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, ওকে ওরা যথাযযাগ্য পাঠ করে, ওরাই হচ্ছে মুমিন।” আরও বলেনঃ “যাদেরকে ইতিপূর্বে ইলম অর্থাৎ কিতাব দেয়া হয়েছে, যখন এই কিতাব তাদেরকে পাঠ করে শুনানো হয় তখন তারা মাথার ভারে সিজদায় পড়ে যায় এবং সিজদায় তাদের বিনয় ও নম্রতা বহুগুণে বেড়ে যায়।” বানী ইসরাঈল যখন নবীদেরকে হত্যা করে ফেলে এবং কুফরী অবলম্বন করে তখন তাদের বারোটি দল ছিল। ওগুলোর মধ্যে একটি দল অবশিষ্ট এগারোটি দলের আকীদায় অসন্তুষ্ট ছিল এবং তারা তাদের প্রতি সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ছিল। তারা আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করেছিল, “হে আল্লাহ! আমাদের ও তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা আনয়ন করুন।” তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে যমীনের মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ করে দেন। তারা তার ভিতর চলা ফেরা করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তারা ঐ সুড়ঙ্গ পথে চীনে প্রবেশ করে, সেখানে একত্ববাদী মুসলমান বিদ্যমান ছিল, যারা আমাদেরই কিবলার দিকে মুখ করে নামায পড়তো। ইরশাদ হচ্ছে-এরপর আমি বানী ইসরাঈলকে বললামঃ “এখন যমীনে বসবাস কর। অতঃপর যখন আখিরাতের ওয়াদা এসে পড়বে তখন আমি তোমাদেরকে হাজির করবো। কথিত আছে যে, সুড়ঙ্গের মধ্যে তারা দেড় বছর ধরে বসবাস করেছিল।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ দেখায় ও সে অনুযায়ীই (বিচারে) ইনসাফ করে [১]।

[১] এ আয়াতে সত্যনিষ্ঠ দল বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে, এ ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে-

এক. অধিকাংশ অনুবাদক এ আয়াতের অনুবাদ এভাবে করেছেন- “মূসার জাতির মধ্যে এমন একটি দল আছে যারা সত্য অনুযায়ী পথনির্দেশ দেয় এবং ইনসাফ করে”। অর্থাৎ তাদের মতে কুরআন নাযিল হবার সময় বনী-ইসরাঈলীদের যে নৈতিক ও মানসিক অবস্থা বিরাজমান ছিল তারই কথা এ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিগত আয়াতসমূহে মূসা আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের অসদাচরণ, কুটতর্ক এবং গোমরাহীর বর্ণনা ছিল। কিন্তু এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, গোটা জাতিটাই এমন নয়; বরং তাদের মধ্যে কিছু লোক ভালও রয়েছে যারা সত্যানুসরণ করে এবং ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করে। এরা হল সেসব লোক, যারা তাওরাত ও ইঞ্জীলের যুগে সেগুলোর হেদায়াত অনুযায়ী আমল করত এবং যখন খাতামুন্নাবিয়ীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব হয়, তখন তাওরাত ও ইঞ্জলের সুসংবাদ অনুসারে তার উপর ঈমান আনে এবং তার যথাযথ অনুসরণও করে। বনী-ইসরাঈলদের এই সত্যনিষ্ঠ দলটির উল্লেখও কুরআনুল কারীমে বারংবার করা হয়েছে। যেমন, সূরা আলে-ইমরানঃ ১১৩, ১৯৯, সূরা আল-বাকারাহঃ ১২১, সূরা আল-ইস্‌রা ১০৭-১০৯, সূরা আল-কাসাসঃ ৫২৫৪। [ ইবন কাসীর]

দুই. পূর্বাপর আলোচনা বিশ্লেষণ করে কোন কোন মুফাসসির এ মত দিয়েছেন যে, এখানে মূসার সময় তথা বনী-ইসরাঈলীদের যে অবস্থা ছিল তারই কথা বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে যে, এ জাতির মধ্যে যখন বাছুর পূজার অপরাধ অনুষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপর পাকড়াও করা হয় তখন সমগ্র জাতি গোমরাহ ছিল না; বরং তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তখনো সৎ ছিল। [তাবারী; ইবন কাসীর] মোটকথা, আয়াতের মর্ম দাঁড়াল এই যে, মূসা আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি দল রয়েছে যারা সব সময়ই সত্যে সুদৃঢ় ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের সংবাদ শুনে যারা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল তারাই হোক অথবা মূসার যুগে যারা হকপন্থী ছিল তারা। যারা গো-বাছুর পূজা করেনি বা নবীদেরকে হত্যা করেনি।