Al-A'raf
আল-আরাফ: 15
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
قَالَ إِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ
English Translations
[Allāh] said, "Indeed, you are of those reprieved."
(Allah) said: "You are of those allowed respite."
He (Allah) said, “You are granted respite’’.
Allah said: 'You are granted respite.'
He said: Lo! thou art of those reprieved.
(Allah) said: "Be thou among those who have respite."
বাংলা অনুবাদ
তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুই নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত
তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’।
আল্লাহ বললেনঃ তোকে অবকাশ দেয়া হল।
তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।’
তিনি বললেন: ‘যাদেরকে অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমি অবশ্যই তাদের অন্তর্ভুক্ত হলে।’
১৫. আল্লাহ তা‘আলা তাকে বললেন: হে ইবলিস! নিশ্চয়ই তোমাকে ওদের ন্যায় সময় দেয়া হবে যাদের মৃত্যু আমি শিঙ্গায় প্রথম ফুৎকারের দিন পর্যন্ত লিখে রেখেছি। যেদিন সকল সৃষ্টি জীব মৃত্যু বরণ করবে। তখন একমাত্র তাদের স্রষ্টাই বাকি থাকবেন।
তাফসীর
7:13
তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত [১]।’
[১] এ আয়াতে ইবলীসকে দেয়া সময় সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। শুধু এটুকু বলা হয়েছে যে, তোমাকে অবকাশ দেয়া হল। কিন্তু অন্যান্য সূরায় এ অবকাশ নির্ধারণ করে বলা হয়েছে,
(اِلٰى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُوْمِ) [সূরা আল-হিজরঃ ৩৮, সোয়াদঃ ৮১]
এ থেকে বাহ্যতঃ বোঝা যায় যে, ইবলীসের প্রার্থিত অবকাশ কেয়ামত পর্যন্ত দেয়া হয়নি, বরং একটি বিশেষ মেয়াদ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ আলেমদের নিকট তার অবকাশের মেয়াদ হচ্ছে শিঙ্গায় প্রথম ফুঁক দেয়া পর্যন্ত। [আদওয়াউল বায়ান] সুদ্দি বলেন, তাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হয়নি। কারণ, যখন শিঙ্গায় প্রথম ফুঁক দেয়া হবে, তখন
(فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِي الْاَرْضِ)
বা আসমান ও যমীনের সবাই মারা পড়বে, আর তখন ইবলীসও মারা যাবে। [তাবারী]
আলোচ্য ইবলিসের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আয়াতসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, কাফেরদের দো’আ কবুল করা হয়। অথচ অন্যত্র আল্লাহর বাণী
(وَمَا دُعَاءُ الْكٰفِرِيْنَ اِلَّا فِيْ ضَلٰلٍ)
“কাফেরদের দো’আ তো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবেই” [সূরা আর-রা’দঃ ১৪] এ আয়াত থেকে বাহ্যতঃ বুঝা যায় যে, কাফেরের দো’আ কবুল হয় না। এর উত্তর এই যে, দুনিয়াতে কাফেরের দো’আও কবুল হতে পারে। ফলে ইবলীসের মত মহা কাফেরের দো’আও কবুল হয়ে গেছে। কিন্তু আখেরাতে কাফেরের দো'আ কবুল হবে না। উল্লেখিত আয়াত আখেরাতের সাথে সম্পর্কযুক্ত। দুনিয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। আর কাফেরের কোন কোন দো’আ কবুল হয় বলে হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মাযলূমের দো’আ থেকে বেঁচে থাক, যদিও সে কাফের হয়; কেননা তার দোআ কবুলের ব্যাপারে কোন পর্দা নেই।‘ [মুসনাদে আহমাদ: ৩/১৫৩; দিয়া আল-মাকদেসী, হাদীস নং ২৭৪৮]
[সূরা আল-আ’রাফ (৭): আয়াত ১৪ থেকে ১৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এর মাধ্যমে বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়। এটিই সেই জামাআতের অভিমত যারা দলীল হিসেবে গণ্য, আর তাদের থেকে বিচ্যুত হওয়া কারো প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। পক্ষান্তরে নিন্দনীয় রায় (অভিমত) এবং কষ্টসাধ্য কিয়াস (১) যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তা হলো যা বর্ণিত এই মূলনীতিসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়; কারণ সেটি হলো কেবল ধারণা ও (২) শয়তানের কুমন্ত্রণা। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না (৩)"। কিয়াসের নিন্দায় বিরোধীরা দুর্বল ও অসার যেসব হাদীস ও বর্ণনা পেশ করে, তা এই প্রকারের নিন্দনীয় কিয়াসের ওপর প্রযোজ্য, শরীয়তে যার কোনো বিদিত মূল ভিত্তি নেই।
এ অধ্যায়ের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা উসূলের কিতাবসমূহে রয়েছে। [সূরা আল-আ’রাফ (৭): আয়াত ১৩]তিনি বললেন, তবে এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোমার নেই। সুতরাং বেরিয়ে যাও, নিশ্চয় তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত। (১৩)মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি বললেন, তবে এখান থেকে নেমে যাও) অর্থাৎ আকাশ থেকে। (এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোমার নেই; কারণ এর অধিবাসী হলো ফেরেশতাগণ যারা বিনয়ী।) (সুতরাং বেরিয়ে যাও, নিশ্চয় তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি তার মওলার (প্রভুর) নাফরমানি করে সে লাঞ্ছিত।
আবু রওক ও আল-বাজালি বলেছেন: "এখান থেকে নেমে যাও" অর্থাৎ তোমার বর্তমান রূপ থেকে (পরিবর্তিত হও), কারণ সে আগুনের তৈরি বলে গর্ব করেছিল, তাই অন্ধকারে তার রূপ বিকৃত করে দেওয়া হলো এবং তার দীপ্তি বিদূরিত হলো। কেউ কেউ বলেছেন: "এখান থেকে নেমে যাও" অর্থাৎ জমিন থেকে সমুদ্রের দ্বীপসমূহে স্থানান্তরিত হও; যেমন বলা হয়: আমরা অমুক জমিনে অবতরণ করেছি অর্থাৎ অন্য স্থান থেকে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছি। যেন তাকে জমিন থেকে বের করে সমুদ্রের দ্বীপসমূহে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে সেখানেই তার আধিপত্য; সে জমিনে কেবল চোরের মতোই প্রবেশ করে (৪), সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ভীত থাকে।
তবে প্রথম অভিমতটিই অধিকতর স্পষ্ট। সূরা আল-বাকারায় এর আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (৫)। [সূরা আল-আ’রাফ (৭): আয়াত ১৪ থেকে ১৫]সে বলল, আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত সময় দিন। (১৪) তিনি বললেন, নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। (১৫)সে পুনরুত্থান ও হিসাবের দিন পর্যন্ত অবকাশ ও সময় প্রার্থনা করল। সে চাইল যেন তার মৃত্যু না হয়, কারণ পুনরুত্থান দিবসের পর আর কোনো মৃত্যু নেই। তখন মহান আল্লাহ বললেন: (নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত)। ইবনে আব্বাস, সুদ্দী ও অন্যান্যরা বলেছেন:(১). 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে: জটিল।(২). 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে: প্রতারণা।
'বা' পাণ্ডুলিপিতে: নুগজ। যার অর্থ প্ররোচনা।(৩). দ্রষ্টব্য: ১০ম খণ্ড, ২৫৭ পৃষ্ঠা।(৪). 'বা' পাণ্ডুলিপিতে: আস-সারী (রাত্রিকালীন যাত্রী) ইয়া-সহ।(৫). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, ৩২৭ পৃষ্ঠা।
