Al-A'raf

আল-আরাফ: 108

7:108
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّـٰظِرِينَ

English Translations

Sahih International

And he drew out his hand; thereupon it was white [with radiance] for the observers.

Muhsin Khan

And he drew out his hand, and behold! it was white (with radiance) for the beholders.

Taqi Usmani

and he drew out his hand, and it was luminous for the onlookers.

Abul Ala Maududi

Then he drew out his hand, and it appeared luminous to all beholders.

Pickthall

And he drew forth his hand (from his bosom), and lo! it was white for the beholders.

Yusuf Ali

And he drew out his hand, and behold! it was white to all beholders!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর সে তার হাত (বগল থেকে) টেনে বের করল, তখন তা দর্শকদের দৃষ্টিতে সাদা উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিল।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর সে বের করল তার হাত, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে ধবধবে সাদা (দেখাচ্ছিল)।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর সে তার হাত বের করল, তৎক্ষণাৎই ওটা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র ও উজ্জ্বল আলোকময় প্রতিভাত হল।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এবং তিনি তাঁর হাত বের করলেন আর সাথে সাথেই তা দর্শকদের কাছে শুভ্র উজ্জ্বল দেখাতে লাগল।

ফাতহুল মাজীদ

এবং সে তার হাত (বগল থেকে) বের করল আর তৎক্ষণাৎ সেটা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হল।

মুখতাসার

১০৮. তেমনিভাবে তিনি তাঁর হাতখানা নিজের বুকের দিককার জামার খোলা জায়গা অথবা নিজের বগলের নিচ থেকে বের করলে তা প্রচণ্ড শুভ্রতায় দর্শকদের সামনে জ্বলজ্বল করতে থাকে। তবে তা নিছক সাদাই ছিলো তাতে কোন শ্বেত রোগ ছিলো না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

7:107

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

এবং তিনি তাঁর হাত বের করলেন [১] আর সাথে সাথেই তা দর্শকদের কাছে

শুভ্র উজ্জ্বল দেখাতে লাগল [২]।

[১] (نزع) অর্থ হচ্ছে কোন একটি বস্তুকে অপর একটি বস্তুর ভেতর থেকে কিছুটা বল প্রয়োগের মাধ্যমে বের করা। অর্থাৎ নিজের হাতটিকে টেনে বের করলেন। এখানে কিসের ভেতর থেকে বের করলেন তা উল্লেখ করা হয়নি। অন্য আয়াতে দু’টি বস্তুর উল্লেখ রয়েছে। এক স্থানে এসেছে স্বীয় হাত গলাবন্ধ কিংবা বগলের নীচ থেকে অর্থাৎ কখনো গলাবন্ধর ভিতরে ঢুকিয়ে তা বের করলে আবার কখনো বগল-তলে দাবিয়ে সেখান থেকে বের করে আনলে এ মু'জিযা প্রকাশ পেত অর্থাৎ সে হাতটি দর্শকদের সামনে প্রদীপ্ত হতে থাকত।

[২] তখন ফির’আউনের দাবীতে মূসা আলাইহিস সালাম দুটি মু'জিযা প্রদর্শন করেছিলেন। একটি হল লাঠির সাপ হয়ে যাওয়া আর অপরটি হল হাত গলাবন্ধ কিংবা বগলের নীচে দাবিয়ে বের করে আনলে তার প্রদীপ্ত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠা। প্রথম মু'জিযাটি ছিল বিরোধীদেরকে ভীতি প্রদর্শন করার জন্য আর দ্বিতীয়টি তাদেরকে আকৃষ্ট করে আনার উদ্দেশ্যে। এতে ইঙ্গিত ছিল যে, মূসা আলাইহিস সালামের শিক্ষায় হেদায়াতের জ্যোতি রয়েছে আর সেটির অনুসরণ ছিল কল্যাণের কারণ।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তাদের পরে প্রেরণ করেছি) অর্থাৎ নূহ, হূদ, সালিহ, লূত ও শুআইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরে। (মূসা) অর্থাৎ মূসা ইবনে ইমরানকে (আমাদের নিদর্শনাবলি সহকারে) অর্থাৎ আমাদের মুজিজাসমূহ সহকারে। (অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করল) অর্থাৎ তারা কুফরি করল এবং নিদর্শনগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করল না। আর জুলুম হলো: কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা। মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব লক্ষ্য করো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল) অর্থাৎ তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল। ‌‌[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২]আর মূসা বলল, "হে ফেরাউন!

নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল (১০৪)। আমি এ বিষয়ে সুদৃঢ় যে, আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত কিছু বলব না। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি; সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও (১০৫)। সে বলল, "তুমি যদি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো, তবে তা উপস্থাপন করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও" (১০৬)। অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা এক জলজ্যান্ত অজগরে পরিণত হলো (১০৭)। আর তিনি তার হাত বের করলেন, অমনি তা দর্শকদের কাছে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হলো (১০৮)।ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলল, "নিশ্চয়ই এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর!" (১০৯)।

সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায়; এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও? (১১০)। তারা বলল, "তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠিয়ে দিন (১১১), তারা আপনার কাছে প্রত্যেক সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আসবে" (১১২)।"হাকীকুন আলা" এর অর্থ ওয়াজিব বা অপরিহার্য। আর যারা "আলা আল্লা" পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো: আমি যেন সত্য ব্যতীত কিছু না বলি সে বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নশীল। আব্দুল্লাহর কিরাতে "আলা" বর্জন করে "হাকীকুন আল্লা আকুলা" রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে "আলা" অব্যয়টি "বা" (অনুসর্গ) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ "হাকীকুন বি-আল্লা আকুলা"।

অনুরুপভাবে উবাই ও আমাশের কিরাতে রয়েছে "বি-আল্লা আকুলা"। যেমন বলা হয়: "রামাইতু বিল কাওসি" এবং "আলাল কাওসি" (ধনুক দিয়ে নিক্ষেপ করলাম)। এই মতানুসারে "হাকীক" শব্দটি এখানে "মাহকুক" (যোগ্য বা সাব্যস্ত) অর্থে ব্যবহৃত। আর "সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও" এর অর্থ হলো তাদের মুক্ত করে দাও। সে (ফেরাউন) তাদের দিয়ে কঠিন পরিশ্রমসাধ্য কাজ করাত। (অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন) 'নিক্ষেপ করা' শব্দটি বস্তু ও ভাব উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর "সু'বান" হলো বিশাল আকৃতির পুরুষ সাপ, যা সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

(সুস্পষ্ট/প্রকাশ্য)(১) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে এরূপ রয়েছে। অন্যান্য মূল পাঠে রয়েছে: 'নামূদ'।(২) নাফে'-এর কিরাত।(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তিনি তাদের ব্যস্ত রাখতেন'।(৪) দেখুন: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২। [ ..... ]