Al-A'raf

আল-আরাফ: 111

7:111

আরবি

قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَـٰشِرِينَ

English Translations

Sahih International

They said, "Postpone [the matter of] him and his brother and send among the cities gatherers

Muhsin Khan

They said: "Put him and his brother off (for a time), and send callers (men) to the cities to collect (and) -

Taqi Usmani

They said, “leave him and his brother alone for a while, and send (your) men to the cities to collect

Abul Ala Maududi

Then they advised Pharaoh: 'Put off Moses and his brother for a while, and send forth heralds to your cities

Pickthall

They said (unto Pharaoh): Put him off (a while) - him and his brother - and send into the cities summoners,

Yusuf Ali

They said: "Keep him and his brother in suspense (for a while); and send to the cities men to collect-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দাও, আর নগরে নগরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দাও’।

রাওয়াই আল-বায়ান

তারা বলল, ‘আপনি তাকে ও তার ভাইকে সুযোগ দিন এবং শহরগুলোতে সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিন।’

শাইখ মুজিবুর রহমান

তারা বললঃ তাকে এবং তার ভাইকে (হারুন) কিছু দিনের জন্য অবকাশ দিন, আর শহরে শহরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিন,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,’

ফাতহুল মাজীদ

তারা বলল: ‘তাঁকে ও তাঁর ভ্রাতাকে কিঞ্চিত অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে (জাদুকর) সংগ্রহকারীদেরকে পাঠাও,

মুখতাসার

১১১. তারা ফিরআউনকে বললো: আপনি মূসা ও তার ভাইকে সময় দিন এবং যাদুকরদেরকে একত্রিত করার জন্য মিশরের শহরগুলোতে লোক পাঠান।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১১-১১২ নং আয়াতের তাফসীর: সভাষদরা ফিরাউনকে পরামর্শ দিলো যে, মূসা (আঃ) এবং তাঁর ভাই হারূন (আঃ)-কে বন্দী রাখা হাক এবং রাজ্যের সমস্ত শহরে লোক পাঠিয়ে প্রসিদ্ধ যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হাক। সেই যুগে যাদুর খুবই প্রচলন ছিল। সবারই এটা ধারণা হয়ে গেল যে, মূসা (আঃ)-এর এই মুজিযা ছিল যাদু ও প্রতারণা। সুতরাং সে (ফিরাউন) এ বিষয়ে মূসা (আঃ)-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে সমস্ত যাদুকরকে একত্রিত করলো। যেমন আল্লাহ পাক ফিরাউনের কথা নকল করে বলেনঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমি তোমার যাদুবলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার ইচ্ছা করছে। আমরাও তোমারই মত যাদু দ্বারা তোমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। সুতরাং এখন যাদু পরীক্ষার একটা দিন ধার্য কর। তুমিও এর বাইরে যাবে না, আমরাও না।” তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ “ঈদের দিন সকালে সমস্ত লোককে একত্রিত করা হাক।” তখন ফিরাউন প্রতারণামূলক তদবীর শুরু করে দিলো। শেষ পর্যন্ত সেই নির্ধারিত দিন এসে পড়লো। তাই আল্লাহ পাক নিম্নে ইরশাদ করছেন-

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারা বলল, ‘ তাকে ও ভাইকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও [১],’

[১] সম্প্রদায়ের লোকেরা পরামর্শ দিল যে, ইনি যদি জাদুকর হয়ে থাকেন এবং জাদুর দ্বারাই আমাদের দেশ দখল করতে চান, তবে তার মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে মোটেই কঠিন নয়। আমাদের দেশেও বহু বড় বড় অভিজ্ঞ জাদুকর রয়েছে; যারা স্থানে পাঠিয়ে দিন। তারা সব শহর থেকে জাদুকরদেরকে ডেকে নিয়ে আসবে। তখন জাদু মন্ত্রের বহুল প্রচলন ছিল এবং সাধারণ লোকদের উপর জাদুকরদের প্রচুর প্রভাব ছিল। আর মূসা আলাইহিস সালামকেও লাঠি এবং উজ্জ্বল হাতের মু'জিযা এজন্যই দেয়া হয়েছিল যাতে জাদুকরদের সাথে তার প্রতিদ্বন্দিতা হয় এবং মু'জিযার মোকাবেলায় জাদুর পরাজয় সবাই দেখে নিতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলার রীতিও ছিল তাই। প্রত্যেক যুগের নবী-রাসূলকেই তিনি সে যুগের জনগণের কাছে বহুল প্রচলিত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত মু'জিযা দান করেছেন। ঈসা আলাইহিসসালামের যামানায় চিকিৎসা বিজ্ঞান যেহেতু উৎকর্ষের চরম শিখরে ছিল, সেহেতু তাকে মু'জিযা দেয়া হয়েছিল জন্মান্ধকে দৃষ্টিসম্পন্ন করে দেয়া এবং কুষ্ঠরোগগ্রস্তকে সুস্থ করে তোলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আরবে অলংকার শাস্ত্র ও বাগীতার চরম উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছিল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড় মু'জিযা হল কুরআন, যার মোকাবেলায় গোটা আরব-আজম অসমর্থ হয়ে পড়ে।