Al-A'raf
আল-আরাফ: 111
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَـٰشِرِينَ
English Translations
They said, "Postpone [the matter of] him and his brother and send among the cities gatherers
They said: "Put him and his brother off (for a time), and send callers (men) to the cities to collect (and) -
They said, “leave him and his brother alone for a while, and send (your) men to the cities to collect
Then they advised Pharaoh: 'Put off Moses and his brother for a while, and send forth heralds to your cities
They said (unto Pharaoh): Put him off (a while) - him and his brother - and send into the cities summoners,
They said: "Keep him and his brother in suspense (for a while); and send to the cities men to collect-
বাংলা অনুবাদ
তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দাও, আর নগরে নগরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দাও’।
তারা বলল, ‘আপনি তাকে ও তার ভাইকে সুযোগ দিন এবং শহরগুলোতে সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিন।’
তারা বললঃ তাকে এবং তার ভাইকে (হারুন) কিছু দিনের জন্য অবকাশ দিন, আর শহরে শহরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিন,
তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,’
তারা বলল: ‘তাঁকে ও তাঁর ভ্রাতাকে কিঞ্চিত অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে (জাদুকর) সংগ্রহকারীদেরকে পাঠাও,
১১১. তারা ফিরআউনকে বললো: আপনি মূসা ও তার ভাইকে সময় দিন এবং যাদুকরদেরকে একত্রিত করার জন্য মিশরের শহরগুলোতে লোক পাঠান।
তাফসীর
১১১-১১২ নং আয়াতের তাফসীর: সভাষদরা ফিরাউনকে পরামর্শ দিলো যে, মূসা (আঃ) এবং তাঁর ভাই হারূন (আঃ)-কে বন্দী রাখা হাক এবং রাজ্যের সমস্ত শহরে লোক পাঠিয়ে প্রসিদ্ধ যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হাক। সেই যুগে যাদুর খুবই প্রচলন ছিল। সবারই এটা ধারণা হয়ে গেল যে, মূসা (আঃ)-এর এই মুজিযা ছিল যাদু ও প্রতারণা। সুতরাং সে (ফিরাউন) এ বিষয়ে মূসা (আঃ)-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে সমস্ত যাদুকরকে একত্রিত করলো। যেমন আল্লাহ পাক ফিরাউনের কথা নকল করে বলেনঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমি তোমার যাদুবলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার ইচ্ছা করছে।
আমরাও তোমারই মত যাদু দ্বারা তোমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। সুতরাং এখন যাদু পরীক্ষার একটা দিন ধার্য কর। তুমিও এর বাইরে যাবে না, আমরাও না।” তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ “ঈদের দিন সকালে সমস্ত লোককে একত্রিত করা হাক।” তখন ফিরাউন প্রতারণামূলক তদবীর শুরু করে দিলো। শেষ পর্যন্ত সেই নির্ধারিত দিন এসে পড়লো। তাই আল্লাহ পাক নিম্নে ইরশাদ করছেন-
তারা বলল, ‘ তাকে ও ভাইকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও [১],’
[১] সম্প্রদায়ের লোকেরা পরামর্শ দিল যে, ইনি যদি জাদুকর হয়ে থাকেন এবং জাদুর দ্বারাই আমাদের দেশ দখল করতে চান, তবে তার মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে মোটেই কঠিন নয়। আমাদের দেশেও বহু বড় বড় অভিজ্ঞ জাদুকর রয়েছে; যারা স্থানে পাঠিয়ে দিন। তারা সব শহর থেকে জাদুকরদেরকে ডেকে নিয়ে আসবে। তখন জাদু মন্ত্রের বহুল প্রচলন ছিল এবং সাধারণ লোকদের উপর জাদুকরদের প্রচুর প্রভাব ছিল। আর মূসা আলাইহিস সালামকেও লাঠি এবং উজ্জ্বল হাতের মু'জিযা এজন্যই দেয়া হয়েছিল যাতে জাদুকরদের সাথে তার প্রতিদ্বন্দিতা হয় এবং মু'জিযার মোকাবেলায় জাদুর পরাজয় সবাই দেখে নিতে পারে।
আল্লাহ্ তা'আলার রীতিও ছিল তাই। প্রত্যেক যুগের নবী-রাসূলকেই তিনি সে যুগের জনগণের কাছে বহুল প্রচলিত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত মু'জিযা দান করেছেন। ঈসা আলাইহিসসালামের যামানায় চিকিৎসা বিজ্ঞান যেহেতু উৎকর্ষের চরম শিখরে ছিল, সেহেতু তাকে মু'জিযা দেয়া হয়েছিল জন্মান্ধকে দৃষ্টিসম্পন্ন করে দেয়া এবং কুষ্ঠরোগগ্রস্তকে সুস্থ করে তোলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আরবে অলংকার শাস্ত্র ও বাগীতার চরম উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছিল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড় মু'জিযা হল কুরআন, যার মোকাবেলায় গোটা আরব-আজম অসমর্থ হয়ে পড়ে।
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তাদের পরে প্রেরণ করেছি) অর্থাৎ নূহ, হূদ, সালিহ, লূত ও শুআইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরে। (মূসা) অর্থাৎ মূসা ইবনে ইমরানকে (আমাদের নিদর্শনাবলি সহকারে) অর্থাৎ আমাদের মুজিজাসমূহ সহকারে। (অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করল) অর্থাৎ তারা কুফরি করল এবং নিদর্শনগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করল না। আর জুলুম হলো: কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা। মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব লক্ষ্য করো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল) অর্থাৎ তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২]আর মূসা বলল, "হে ফেরাউন!
নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল (১০৪)। আমি এ বিষয়ে সুদৃঢ় যে, আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত কিছু বলব না। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি; সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও (১০৫)। সে বলল, "তুমি যদি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো, তবে তা উপস্থাপন করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও" (১০৬)। অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা এক জলজ্যান্ত অজগরে পরিণত হলো (১০৭)। আর তিনি তার হাত বের করলেন, অমনি তা দর্শকদের কাছে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হলো (১০৮)।ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলল, "নিশ্চয়ই এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর!" (১০৯)।
সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায়; এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও? (১১০)। তারা বলল, "তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠিয়ে দিন (১১১), তারা আপনার কাছে প্রত্যেক সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আসবে" (১১২)।"হাকীকুন আলা" এর অর্থ ওয়াজিব বা অপরিহার্য। আর যারা "আলা আল্লা" পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো: আমি যেন সত্য ব্যতীত কিছু না বলি সে বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নশীল। আব্দুল্লাহর কিরাতে "আলা" বর্জন করে "হাকীকুন আল্লা আকুলা" রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে "আলা" অব্যয়টি "বা" (অনুসর্গ) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ "হাকীকুন বি-আল্লা আকুলা"।
অনুরুপভাবে উবাই ও আমাশের কিরাতে রয়েছে "বি-আল্লা আকুলা"। যেমন বলা হয়: "রামাইতু বিল কাওসি" এবং "আলাল কাওসি" (ধনুক দিয়ে নিক্ষেপ করলাম)। এই মতানুসারে "হাকীক" শব্দটি এখানে "মাহকুক" (যোগ্য বা সাব্যস্ত) অর্থে ব্যবহৃত। আর "সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও" এর অর্থ হলো তাদের মুক্ত করে দাও। সে (ফেরাউন) তাদের দিয়ে কঠিন পরিশ্রমসাধ্য কাজ করাত। (অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন) 'নিক্ষেপ করা' শব্দটি বস্তু ও ভাব উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর "সু'বান" হলো বিশাল আকৃতির পুরুষ সাপ, যা সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
(সুস্পষ্ট/প্রকাশ্য)(১) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে এরূপ রয়েছে। অন্যান্য মূল পাঠে রয়েছে: 'নামূদ'।(২) নাফে'-এর কিরাত।(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তিনি তাদের ব্যস্ত রাখতেন'।(৪) দেখুন: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২। [ ..... ]
