Al-A'raf

আল-আরাফ: 17

7:17
টেক্সট কপি

মূল আরবি

ثُمَّ لَـَٔاتِيَنَّهُم مِّنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَـٰنِهِمْ وَعَن شَمَآئِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَـٰكِرِينَ

English Translations

Sahih International

Then I will come to them from before them and from behind them and on their right and on their left, and You will not find most of them grateful [to You]."

Muhsin Khan

Then I will come to them from before them and behind them, from their right and from their left, and You will not find most of them as thankful ones (i.e. they will not be dutiful to You)."

Taqi Usmani

Then I will come upon them from their front side and from their behind, and from their right and from their left. You will not find most of them grateful.

Abul Ala Maududi

Then I will come upon them from the front and from the rear, and from their right and from their left. And You will not find most of them thankful.'

Pickthall

Then I shall come upon them from before them and from behind them and from their right hands and from their left hands, and Thou wilt not find most of them beholden (unto Thee).

Yusuf Ali

"Then will I assault them from before them and behind them, from their right and their left: Nor wilt thou find, in most of them, gratitude (for thy mercies)."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারপর আমি তাদের সামনে দিয়ে, তাদের পেছন দিয়ে, তাদের ডান দিয়ে, তাদের বাম দিয়ে, তাদের কাছে অবশ্যই আসব, তুমি তাদের অধিকাংশকেই শোকর আদায়কারী পাবে না।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

অতঃপর আমি তাদের সম্মুখ দিয়ে, পিছন দিয়ে, ডান দিক দিয়ে এবং বাম দিক দিয়ে তাদের কাছে আসব, আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেননা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘তারপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে আসব তাদের সামনে থেকে ও তাদের পিছন থেকে, ‘তাদের ডানদিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’

ফাতহুল মাজীদ

‘অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, ডান ও বাম দিক হতে এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’

মুখতাসার

১৭. অতঃপর আমি তাদের নিকট সর্ব দিক থেকে এসে তাদেরকে আখিরাতের প্রতি নিরুৎসাহিত ও দুনিয়ার প্রতি উৎসাহিত করবো। উপরন্তু তাদের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি ও তাদের সামনে কুপ্রবৃত্তিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবো। হে আমার প্রতিপালক! আমি তাদেরকে কুফরি শিখানোর দরুন আপনি তাদের অধিকাংশকেই আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ পাবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

7:16

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘তারপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে আসব তাদের সামনে থেকে ও তাদের পিছন থেকে, ‘তাদের ডানদিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে [১] এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না [২]।’

[১] মানুষের উপর শয়তানের হামলা শুধু চতুর্দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আরো ব্যাপক। আলোচ্য আয়াতে ইবলীস আদম সন্তানদের উপর আক্রমণ করার জন্য চারটি দিক বর্ণনা করেছে- অগ্র, পশ্চাৎ, ডান ও বাম। এখানে প্রকৃতপক্ষে কোন সীমাবদ্ধতা উদ্দেশ্য নয়; বরং এর অর্থ হল প্রত্যেক দিক ও প্রত্যেক কোণ থেকে। এভাবে হাদীসের এ বর্ণনাও এর পরিপন্থী নয় যে, শয়তান মানবদেহে প্রবেশ করে রক্তবাহী রগের মাধ্যমে। তারপর সমগ্র দেহে হস্তক্ষেপ করে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এখানে সামনে থেকে আসার অর্থ, দুনিয়ায়। পশ্চাৎ দিক থেকে আসার অর্থ আখেরাতে। ডানদিক থেকে আসার অর্থ, নেককাজের মাধ্যমে আসা।

আর বামদিক থেকে আসার অর্থ, গুনাহের দিক থেকে আসা। [তাবারী; আত-তাফসীরুস সহীহ] কাতাদাহ বলেন, ‘ইবলীস মানুষের সামনে থেকে এসে বলে, পুনরুত্থান নেই, জান্নাত নেই, জাহান্নাম নেই। মানুষের পিছন দিক থেকে দুনিয়াকে তার কাছে চাকচিক্যময় করে তোলে এবং দুনিয়ার প্রতি লোভ লাগিয়ে সেদিক আহবান করতে থাকে। তার ডানদিক থেকে আসার অর্থ নেক কাজ করার সময় সেটা করতে দেরী করায়, আর বাম দিক থেকে আসার অর্থ, গোনাহ ও অপরাধমূলক কাজকে সুশোভিত করে দেয়, সেদিকে আহবান করে, সেটার প্রতি নির্দেশ দেয়।” হে বনী আদম! শয়তান তোমার সবদিক থেকেই আসছে, তবে সে তোমার উপর দিক থেকে আসে না, কারণ, সে তোমার ও আল্লাহর রহমতের মধ্যে বাধা হতে পারে না।

[তাবারী]

[২] শয়তান এটা বলেছিল তার ধারণা অনুসারে। সে মনে করেছিল যে, তারা তার আহবানে সাড়া দিবে, তার অনুসরণ করবে। যাতে সে তাদেরকে ধ্বংস করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র শয়তানের এ ধারণার কথা স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আর অবশ্যই তাদের সম্বন্ধে ইবলীস তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল, ফলে তাদের মধ্যে একটি মুমিন দল ছাড়া সবাই তার অনুসরণ করল" [সূরা সাবা: ২০] [আদওয়াউল বায়ান] ইবন আব্বাস বলেন, এখানে মানুষদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ না থাকার কথা বলে, তাওহীদের কথা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আপনি তাদেরকে তাওহীদবাদী পাবেন না। [তাবারী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৬ থেকে ১৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তিনি তাকে প্রথম ফুৎকার পর্যন্ত অবকাশ দিলেন, যখন সমস্ত সৃষ্টি মৃত্যুবরণ করবে। সে দ্বিতীয় ফুৎকার পর্যন্ত অবকাশ চেয়েছিল, যখন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হবে, কিন্তু আল্লাহ তাকে তা দিতে অস্বীকার করলেন। আল্লাহ বললেন: "সেই দিন পর্যন্ত যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।" এখানে কাদের পুনরুত্থিত করা হবে তা আগে উল্লেখ করা হয়নি, কারণ আলোচনাটি আদম ও তাঁর বংশধরদের নিয়ে, তাই প্রাসঙ্গিক সূত্রই নির্দেশ করে যে তারাই পুনরুত্থিত হবে। ‌‌[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৬ থেকে ১৭]সে বলল: "যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব।

(১৬) তারপর আমি তাদের নিকট উপস্থিত হব তাদের সামনের দিক থেকে, তাদের পিছনের দিক থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।" (১৭)এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি- মহান আল্লাহর বাণী: (যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন) 'ইগওয়া' অর্থ হলো অন্তরে ভ্রষ্টতা নিক্ষেপ করা; অর্থাৎ "যেহেতু আপনি আমার অন্তরে ভ্রষ্টতা, অবাধ্যতা ও অহংকার নিক্ষেপ করেছেন।" এর কারণ এই যে, ইবলিসের কুফর অজ্ঞতাজনিত কুফর ছিল না, বরং তা ছিল অবাধ্যতা ও অহংকারজনিত কুফর। এর আলোচনা আগে সূরা আল-বাকারায় (১) অতিবাহিত হয়েছে।

কেউ কেউ বলেছেন: এই বক্তব্যের অর্থ হলো শপথ; অর্থাৎ "আপনার আমাকে ভ্রষ্ট করার শপথ, আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার পথে (বা পথের ওপর) বসে থাকব," এখানে অব্যয়টি উহ্য রয়েছে। এই মতের সপক্ষে প্রমাণ হলো সূরা (সাদ)-এ বর্ণিত তার উক্তি: "আপনার ইজ্জতের শপথ, আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব (২)"। যেন ইবলিস আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ভ্রষ্ট করার বিষয়টিকে অনেক বড় মনে করেছিল, কারণ এতে বান্দাদের ওপর কর্তৃত্ব লাভের সুযোগ ছিল; তাই সে এর গুরুত্বের কারণে এটি দিয়ে শপথ করেছিল। আবার বলা হয়েছে: 'বা' (ب) বর্ণটি 'লাম' (ل) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেন সে বলেছে: "অতএব আমাকে আপনার ভ্রষ্ট করার কারণে।" আরও বলা হয়েছে: এটি 'মা'আ' (সাথে) অর্থে, অর্থাৎ "আপনার আমাকে ভ্রষ্ট করার সাথে সাথে।" আবার বলা হয়েছে: এটি প্রশ্নবোধক, যেন সে জিজ্ঞাসা করছে—কিসের মাধ্যমে তিনি তাকে ভ্রষ্ট করলেন?

এই অর্থে শব্দটির রূপ 'ফাবিমা' (فَبِمَ) হওয়া উচিত ছিল। আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো "যেহেতু আপনি আপনার অভিশাপের মাধ্যমে আমাকে ধ্বংস করেছেন।" আর 'ইগওয়া' মানে হলো ধ্বংস করা; মহান আল্লাহ বলেছেন: "শীঘ্রই তারা 'গাইয়্যা' বা ধ্বংসের সম্মুখীন হবে (৩)"। আরও বলা হয়েছে: "যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, 'ইগওয়া' অর্থ হলো পথভ্রষ্ট করা ও দূরে সরিয়ে দেওয়া। আরও বলা হয়েছে: "আপনি আমাকে আপনার রহমত থেকে বঞ্চিত করেছেন।" এ থেকেই কবির উক্তি (৪):আর যে ব্যক্তি ভ্রষ্ট হয়, সে তার ভ্রষ্টতার জন্য কোনো নিন্দুক হারায় না।(১).

দেখুন ১ম খণ্ড, ২৯৫ পৃষ্ঠা।(২). দেখুন ১৫তম খণ্ড, ২২৮ পৃষ্ঠা।(৩). দেখুন ১১তম খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা।(৪). এটি রাক্শ-এর একটি কবিতার চরণের শেষাংশ, আর এর প্রথমাংশ যেমন লিসানুল আরবে 'গাওয়া' (غوى) পরিচ্ছেদে রয়েছে:যে ব্যক্তি কল্যাণের দেখা পায়, মানুষ তার কাজের প্রশংসা করে।